রাত মহান আল্লাহর রহস্যময় সৃষ্টি। মানুষের জন্য অনন্য উপহার। কর্মক্লান্ত শরীরকে একটু বিশ্রাম দিতে রাতের জুড়ি নেই। আল্লাহ তায়ালা রাত সৃষ্টি করেছেন বান্দার বিশ্রামের উপযোগী করে। মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি তোমাদের বিশ্রামের জন্য নিদ্রা দিয়েছি, তোমাদের জন্য রাতকে করেছি আবরণস্বরূপ। দিনকে বানিয়েছি তোমাদের কাজের জন্য।’ (সুরা নাবা, আয়াত : ৯-১১)
দিবসের সব কোলাহল থামিয়ে রাতের পৃথিবী হয়ে ওঠে নিবিড়। আকাশে ফোটে তিশিফুলের মতো অসংখ্য তারা। রূপালী জোছনার স্নিগ্ধ চাঁদে রাত হয়ে ওঠে মনোমুগ্ধকর। রাতের বিমোহিত পরিবেশে মুমিন হৃদয় দুলে ওঠে প্রভুর প্রার্থনায়। সিজদায় লুটিয়ে পড়েন তাঁরই কুদরতি পায়।
এখন শীতকাল। প্রচণ্ড গরম নেই। কয়েক দিন ধরে হাড়কাঁপানো শীতের যন্ত্রণা নেই। রাতগুলোও বড়। মহান আল্লাহর কাছে নিজেকে উজাড় করার এই-ই তো সময়। চাইলেই আমরা পরিমাণ মতো ঘুমিয়েও রাতের কিছুটা সময় তাহাজ্জুদে কাটাতে পারি। তাহাজ্জুদের ফজিলত বর্ণনাতীত। মহান আল্লাহ বলেন, ‘রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ নামাজ কায়েম করুন; এটা আপনার জন্য এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায়, আপনার প্রতিপালক আপনাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন মাকামে মাহমুদে।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত : ৭৯)
আমরা এমন সুযোগ হেলায় নষ্ট করছি। রাতকে ইবাদতের জায়নামাজ বানাতে পারছি না। বরং পাপ কাজের নিয়ামক বানিয়ে নিয়েছি। রাত যত গভীর হয়, অনেকের পাপাচার ততই বেগবান হয়। একটিবারও ভেবে দেখি না, আমাদের আবার সেই রবের কাছেই ফিরতে হবে। যিনি নিজ দয়ায় আমাদের পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। আমরা তো কিছুই ছিলাম না। এক ফোঁটা পানি; সেখানে কোটি কোটি প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল আমাদের। মহান আল্লাহ আমাদের বাছাই করেছেন। মায়ের গর্ভে ঠাঁই দিয়েছেন। তারপর মানুষের আকৃতি দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। শুধু কি তাই-ই?
পৃথিবীতে আসার পাঁচশ বছর আগেই আমাদের রিজিক প্রস্তুত করে রেখেছেন। পৃথিবীর পরতে পরতে বিছিয়ে দিয়েছেন অগণিত নেয়ামত। হাত বাড়ালেই যে আমরা গাছের পাতা ধরতে পারি, ফুলের বর্ণিল রঙে মনকে রাঙিয়ে নিই, এসব কি তাঁর অনুদান নয়? তিনিই কি আমাদের জন্য আলো, বাতাস, পানিকে সৃষ্টি করেননি?
এত সব নেয়ামত পেয়ে, ভোগ করেও কি উচিত নয়; সেই আল্লাহর বন্দনায় কিছুটা সময় ব্যয় করার? তার ইবাদত করার? এই দীর্ঘ রাত কি শুধু ঘুমেই কেটে যাবে? মুক্তির মহাক্ষণ কি অন্তর্জালেই আটকে থাকবে?
অহেতুক গল্প, ঘুম আর পাপ কাজে রাতের মহামূল্যবান সময়কে আর নষ্ট না করি। একটু সময় আল্লাহর জন্য, তাঁরই ইবাদতে ব্যয় করি। তাঁর প্রেমপ্রার্থনায় মশগুল হই। নির্জন রাতের এই ইবাদত আমাদের এনে দেবে বিজয়ীর সম্মান। যেমন এনে দিয়েছিল বদরের মুজাহিদদের। বদরের ময়দানে সত্যের ফুল ফোটাতে মুজাহিদরা রাতের শেষ প্রহরে জেগে উঠতেন। চোখের পানি ফেলে কাঁদতেন আর আল্লাহর দরবারে গুনাহ মাফ চাইতেন। কোরআনে আছে, ‘এসব লোক অগ্নি পরীক্ষায় অটল ও অবিচল, সত্যের অনুরাগী, পরম অনুগত, আল্লাহর পথে সম্পদ উৎসর্গকারী এবং রাতের শেষ প্রহরে আল্লাহর কাছে ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনাকারী।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৭)
মন্তব্য করুন








