২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে ব্রাজিল জাতীয় দলে কারা থাকছেন—এই প্রশ্নে এখনও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেননি কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তবু ইএসপিএন ব্রাজিলের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রাথমিক পরিকল্পনায় অন্তত ১১ জন ফুটবলারের জায়গা প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। আনচেলত্তি নিজে সম্প্রতি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘বিশ্বকাপের তালিকা এখনো বন্ধ হয়নি’—তবে ভেতরে ভেতরে একটি মূল কাঠামো তৈরি হয়ে গেছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
ইএসপিএনের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য ২৬ সদস্যের স্কোয়াড থেকে ১১ জন ফুটবলারকে কোচিং স্টাফ প্রায় নিশ্চিত ধরে এগোচ্ছে—যদি না হঠাৎ কোনো ইনজুরি বা অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে। এই তালিকায় আছেন গোলরক্ষক আলিসন বেকার; রক্ষণভাগে মারকুইনিয়োস ও গ্যাব্রিয়েল মাগালহাঁয়েস; মাঝমাঠে কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারাইস; আর আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, এস্তেভাঁও, রাফিনিয়া, রদ্রিগো, ম্যাথিউস কুনিয়া ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি।
এদের বাইরে আরও কয়েকজন ফুটবলারকে ‘এক ধাপ নিচে’ রাখা হয়েছে—যাদের বিশ্বকাপে যাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল, তবে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। এই তালিকায় রয়েছেন গোলরক্ষক বেনতো ও হুগো সৌজা, ডিফেন্ডার মিলিতাও (মূলত ফিটনেস বিবেচনায় সতর্কতা), অ্যালেক্সসান্দ্রো, লেফট ব্যাক অ্যালেক্স সান্দ্রো, মিডফিল্ডার আন্দ্রে সান্তোস ও লুকাস পাকেতা। অর্থাৎ চূড়ান্ত দলে অন্তত পাঁচটি জায়গা এখনো খোলা থাকছে।
বিশেষ করে ফুল-ব্যাক পজিশনেই সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তা। ডানদিকে মিলিতাওয়ের পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠা নিয়ে অপেক্ষা করছেন আনচেলত্তি, পাশাপাশি মোনাকোর ভ্যান্ডারসনকেও সুযোগ দিতে চান তিনি। বামদিকে অ্যালেক্স সান্দ্রো এখনো প্রথম পছন্দ হলেও জেনিতের ডগলাস সান্তোস ও মোনাকোর কাইও হেনরিকের পারফরম্যান্সও নজরে রাখা হচ্ছে।
আক্রমণভাগে নম্বর নাইন পজিশন নিয়েও চলছে হিসাব-নিকাশ। ম্যাথিউস কুনিয়া এগিয়ে থাকলেও গ্যাব্রিয়েল জেসুস, এন্দ্রিক ও জোয়াও পেদ্রো—এই তিনজনও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। জেনিতের লুইজ হেনরিকের নামও আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে নেইমারের বিষয়টি এখনো পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। সান্তোসে ফেরার প্রস্তুতি নেওয়া এই তারকা ২০২৬ বিশ্বকাপকে ব্যক্তিগত লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন, তবে শারীরিক সক্ষমতা দিয়ে কোচিং স্টাফকে সন্তুষ্ট করতে হবে তাকে।
মার্চ মাসে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচগুলোকে শেষ বড় পরীক্ষামঞ্চ হিসেবে দেখছেন আনচেলত্তি। সেখানকার পারফরম্যান্সই অনেক অনিশ্চিত নামের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। সব মিলিয়ে, আনুষ্ঠানিক তালিকা এখনো দূরের বিষয় হলেও ব্রাজিল শিবিরে একটি শক্ত ‘কোর’ দল তৈরি হয়ে গেছে এমন ইঙ্গিতই দিচ্ছে ইএসপিএনের প্রতিবেদন।
সূত্র : ইএসপিএন ব্রাজিল
মন্তব্য করুন








