কয়েক বছর আগে ইউরোপিয়ান ফুটবলের কাঠামো নিজস্ব গতিতে বদলে দিতে পরিকল্পনা হয়েছিল ‘ইউরোপিয়ান সুপার লিগ’, যা চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো পুরাতন প্রতিযোগিতার জায়গা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েই এসেছিল। কিন্তু সেই উচ্চাশা আজ প্রায় শেষের পথে। কারণ, ২০২১ সালে ১২টি বিশাল ক্লাব ওই প্রকল্পে নাম লেখালেও তা তীব্র সমালোচনা, অনিশ্চয়তা ও সরাসরি বিরোধিতায় পড়ে। শেষে এখন সুপার লিগে থাকা শেষ দুই ক্লাবের একটি বার্সেলোনা সেই প্রকল্প থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়িয়েছে, ফলে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ আরও অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে।
ইউরোপিয়ান সুপার লিগ প্রকল্প থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করেছে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা। ক্লাবটির এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বহু বিতর্কিত ও দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তায় থাকা প্রকল্পটি বিশেষজ্ঞদের মতে শেষ বড় ধাক্কা খেল।
শনিবার এক বিবৃতিতে লা লিগার শীর্ষে থাকা কাতালান ক্লাবটি জানায়, ইউরোপিয়ান সুপার লিগ কোম্পানি এবং সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে।
২০২১ সালে ইউরোপের ১২টি বড় ক্লাবের সমর্থনে প্রথমবার যাত্রা শুরু করেছিল ইউরোপিয়ান সুপার লিগ। তবে ইংল্যান্ডে সমর্থকদের তীব্র বিরোধিতার মুখে দ্রুতই প্রিমিয়ার লিগের ছয় ক্লাব—আর্সেনাল, চেলসি, লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও টটেনহ্যাম প্রকল্প থেকে সরে যায়। এরপর ধীরে ধীরে আতলেতিকো মাদ্রিদ, ইন্টার মিলান, এসি মিলান ও জুভেন্টাসও সরে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত শুধু রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনাই প্রকল্পটির মুখ হয়ে ছিল।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি এবং ক্লাব সভাপতি জোয়ান লাপোর্তার ইউরোপিয়ান ফুটবল সংস্থা উয়েফা ও ইউরোপিয়ান ফুটবল ক্লাবসের (ইএফসি) সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ—এই দুই কারণেই বার্সেলোনার অবস্থান বদলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সুপার লিগ প্রকল্পটি প্রথম ধাক্কার পর ২০২৪ সালে ‘ইউনিফাই লিগ’ নামে পুনরায় চালুর চেষ্টা করা হয়। আয়োজক প্রতিষ্ঠান এ২২ স্পোর্টস তখন উয়েফা ও ফিফার কাছে নতুন ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতা আয়োজনের স্বীকৃতি চেয়ে প্রস্তাবও জমা দেয়। এর আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ইউরোপিয়ান কোর্ট অব জাস্টিস এক রায়ে বলেছিল, নতুন প্রতিযোগিতা অনুমোদনের ক্ষেত্রে উয়েফা ও ফিফার নীতিমালা ‘একচেটিয়া ও স্বেচ্ছাচারী’ ছিল।
তবে বাস্তবে ইউরোপজুড়ে এই প্রকল্পের প্রতি আগ্রহ তেমন দেখা যায়নি। এরই মধ্যে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফরম্যাটে বড় পরিবর্তন আনে। ৮টি গ্রুপের বদলে ৩৬ দলের সুইস মডেল চালু হয় এবং আয়ের বণ্টন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়, যা বেশির ভাগ ক্লাব ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে।
অন্যদিকে, সুপার লিগ ইস্যুতে একসময় মিত্র থাকলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের সম্পর্কও তিক্ত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে স্প্যানিশ রেফারি কমিশনের সাবেক এক কর্মকর্তাকে অর্থ প্রদানের অভিযোগে চলমান ‘নেগ্রেইরা কেলেঙ্কারি’ নিয়ে দুই ক্লাব সভাপতির মধ্যে দূরত্ব আরও বেড়েছে।
সব মিলিয়ে বার্সেলোনার সরে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে ইউরোপিয়ান সুপার লিগ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এখন আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
মন্তব্য করুন








