আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার জুলিয়ান আলভারেজকে এক সময় প্রায় নিশ্চিতভাবেই রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে দেখা যেতে পারত। তবে শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন বাস্তব হয়নি—আর এর পেছনে ছিল ফুটবলের বাইরের এক অপ্রত্যাশিত প্রশাসনিক জটিলতা। বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন স্প্যানিশ কর বিশেষজ্ঞ ও ফুটবল বাজারের নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে পরিচিত রামোন আলভারেজ দে মন।
যিনি একসময় লিওনেল মেসির বার্সেলোনা ছাড়ার খবর এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার বিষয়টি সবার আগে নিশ্চিত করেছিলেন, সেই রামোন এবার জানালেন—কোভিড-১৯ মহামারির সময় তৈরি হওয়া প্রশাসনিক সমস্যাই রিয়ালের হাতছাড়া করে দেয় আলভারেজকে।
বলাভিপকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রামোন বলেন, ‘জুলিয়ান রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিতে পারেননি মূলত প্রশাসনিক সমস্যার কারণে। তখন দলে তিনজন নন-ইইউ খেলোয়াড় ছিলেন, ফলে আরেকজনকে নিবন্ধন করার সুযোগ ছিল না। মহামারির কারণে নাগরিকত্ব ও কাগজপত্র সংক্রান্ত প্রক্রিয়াগুলো ধীর হয়ে যায়। এতে পুরো বিষয়টি আটকে যায়।’
রিভার প্লেটের হয়ে আলো ছড়ানোর সময়ই রিয়ালের স্কাউটিং নেটওয়ার্কে ছিলেন আলভারেজ। তবে স্পেনের নিবন্ধন সংক্রান্ত জটিলতায় সময়ক্ষেপণ হয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত এগিয়ে আসে ম্যানচেস্টার সিটি—আর সেখানেই চুক্তি চূড়ান্ত হয় আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের।
রামোন আলভারেজ দে মন স্পষ্ট করে বলেন, ‘এটা রিয়াল মাদ্রিদের কোনো ভুল ছিল না। কোভিডের সময় পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থাই ধীর হয়ে গিয়েছিল। জুলিয়ানকে খুব কাছ থেকে অনুসরণ করা হচ্ছিল, কিন্তু চুক্তি শেষ করা সম্ভব হয়নি।’
ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার পর ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেকে প্রমাণ করেন আলভারেজ। এরপর কাতার বিশ্বকাপ ২০২২-এ আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে তার ক্যারিয়ারে নতুন উচ্চতায় পৌঁছান তিনি।
এই অভিজ্ঞতার পর দক্ষিণ আমেরিকার তরুণ প্রতিভা নিয়ে আরও আগ্রাসী কৌশল নেয় রিয়াল মাদ্রিদ। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো, এন্দ্রিক এবং ফ্রাঙ্কো মাসতান্তুয়োনোর মতো তরুণদের দলে টানার পেছনে এই শিক্ষার বড় ভূমিকা রয়েছে বলে জানান রামোন।
তিনি বলেন, ‘একবার যদি এমন কোনো প্রতিভা হাতছাড়া হয়ে যায়, তখন ক্লাবের ভেতরে একটা অনুভূতি তৈরি হয়—পরেরবার আর কাউকে হাতছাড়া করা যাবে না।’
তিনি এই পরিস্থিতিকে নেইমারের ব্যর্থ ট্রান্সফার প্রচেষ্টার সঙ্গেও তুলনা করেন।
রিয়াল মাদ্রিদের জন্য আলভারেজ থেকে যাওয়া আজও এক আফসোসের গল্প—যেখানে একটি মহামারি হয়ে উঠেছিল সবচেয়ে বড় বাধা।
মন্তব্য করুন








