আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বিতর্কিত পররাষ্ট্রনীতি ও ভূরাজনৈতিক অবস্থানের কারণে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের রাজনীতিক ও ফুটবল কর্মকর্তাদের মধ্যে বিশ্বকাপ বয়কটের আলোচনা পুরো দমেই শুরু হয়েছে।
ফোর্বসে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত মন্তব্য, ভেনেজুয়েলা ইস্যু, শুল্কনীতি এবং ন্যাটো-সম্পর্কিত অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এরই প্রেক্ষিতে ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে একাধিক দেশে রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীন চাপ বাড়ছে।
জার্মানি ও যুক্তরাজ্যে বয়কটের ডাক
জার্মানির খ্রিস্টিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নের (CDU) রাজনীতিবীদ ইয়ুর্গেন হার্ট বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থানের প্রতিবাদ হিসেবে প্রয়োজনে জার্মানি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ভাবতে পারে। যদিও তিনি এটিকে “শেষ বিকল্প” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
যুক্তরাজ্যে কনজারভেটিভ এমপি সাইমন হোয়ার এবং লেবার এমপি কেট অসবোর্নও বয়কটের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ও ক্রীড়াক্ষেত্রের সব ধরনের চাপ প্রয়োগ করা উচিত।
জার্মান ফুটবল কর্মকর্তার মন্তব্য
জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি এবং সেন্ট পাউলি ক্লাবের সভাপতি ওকে গ্যোটলিশ বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপ বয়কট নিয়ে “গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা” করা দরকার। তিনি ১৯৮০-এর দশকের অলিম্পিক বয়কটের উদাহরণ টেনে বলেন, এখনকার সম্ভাব্য হুমকি আরও বড় হতে পারে।
ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডস: খেলায় থাকছে
অন্যদিকে, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডস জানিয়েছে, তারা আপাতত বিশ্বকাপ বয়কটের কোনো পরিকল্পনা করছে না। ফ্রান্সের ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি বলেন, “খেলাধুলাকে রাজনীতি থেকে আলাদা রাখা উচিত।” নেদারল্যান্ডস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (KNVB)ও জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেও খেলায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি চালিয়ে যাবে।
ফিফার নীরবতা
এই বিতর্কের মধ্যেও ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেননি। যদিও তিনি সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার হোয়াইট হাউস সফর করেছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হওয়ার কথা মেক্সিকো সিটিতে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা যৌথভাবে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক চাপের কারণে বয়কট আলোচনা আগামী মাসগুলোতেও শিরোনামে থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
মন্তব্য করুন








