ঢাকা, বাংলাদেশ ||
সোমবার
০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ||

জোকোভিচ-আলকারাজ ফাইনালে ভাঙতে পারে ৬ রেকর্ড

এপি স্পোর্টস

  ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩১
কার্লোস আলকারাজ ও নোভাক জোকোভিচ। ছবি : সংগৃহীত

মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পুরুষ এককের ফাইনাল শুধু একটি শিরোপা নির্ধারণের লড়াই নয়—এটি টেনিস ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বৈরথ হতে যাচ্ছে। এক পাশে ‘কিং অব মেলবোর্ন’ নোভাক জোকোভিচ, অন্য পাশে শীর্ষ বাছাই তরুণ কার্লোস আলকারাজ। দুজনের সামনেই ইতিহাস গড়ার বিরল সুযোগ।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

৩৮ বছর বয়সী জোকোভিচ সেমিফাইনালে ইয়ানিক সিনারকে হারিয়ে প্রমাণ করেছেন, অভিজ্ঞতা ও মানসিক দৃঢ়তা এখনও তরুণ শক্তির বিরুদ্ধে বড় অস্ত্র। অন্যদিকে ২২ বছর বয়সী আলকারাজও আলেকজান্ডার জভেরেভকে পাঁচ সেটের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে হারিয়ে ফাইনালে উঠে দেখিয়েছেন তার মানসিক দৃঢ়তা ও লড়াকু মনোভাব।

এই ফাইনাল ঘিরে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ দুই তারকার অসংখ্য রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা। ফল যাই হোক, একাধিক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করার দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন দুজনই।

জোকোভিচের সামনে ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যামের হাতছানি

নোভাক জোকোভিচের জন্য এই ফাইনাল কেবল আরেকটি শিরোপা নয়, বরং টেনিস ইতিহাসে এককভাবে সর্বাধিক গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের রেকর্ড গড়ার সুযোগ।

  • জিতলে এটি হবে তার ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম, যা তাকে মার্গারেট কোর্টের ২৪ শিরোপার রেকর্ড ছাড়িয়ে একক শীর্ষে নিয়ে যাবে।
  • অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে আগেই সর্বাধিক শিরোপার মালিক জোকোভিচের জন্য এটি হবে ১১তম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ট্রফি, যা তার আধিপত্য আরও দৃঢ় করবে।
  • ফাইনালে জিতলে ওপেন যুগে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সবচেয়ে বয়স্ক চ্যাম্পিয়ন হবেন তিনি, ১৯৭২ সালে ৩৭ বছর বয়সে কেন রোজওয়ালের গড়া রেকর্ড ভেঙে।

আলকারাজের সামনে ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যামের সুযোগ

কার্লোস আলকারাজের জন্য এই ম্যাচ হতে পারে তার ট্রফি ক্যাবিনেটের শেষ অনুপস্থিত টুকরো।

  • ইতোমধ্যে উইম্বলডন, ফ্রেঞ্চ ওপেন ও ইউএস ওপেন জেতা আলকারাজ জিতলে হবেন ওপেন যুগে ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম সম্পন্ন করা মাত্র ষষ্ঠ খেলোয়াড়।
  • মাত্র ২২ বছর বয়সে এই কীর্তি গড়লে তিনি হবেন ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী, রাফায়েল নাদালের ২৪ বছর বয়সের রেকর্ড ভেঙে।
  • জিতলে আলকারাজ যোগ দেবেন পিট সাম্প্রাস ও নাদালের পাশে—র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর থাকা অবস্থায় প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতা খেলোয়াড়দের তালিকায়।

এই ফাইনাল আরও এক দিক থেকে বিশেষ—এটি ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকের স্বর্ণপদক ম্যাচের পুনরাবৃত্তি, যেখানে জোকোভিচ টাইব্রেকে জয় পেয়েছিলেন। তবে সর্বশেষ মুখোমুখিতে ২০২৫ ইউএস ওপেন সেমিফাইনালে জয় ছিল আলকারাজের, যা তরুণ স্প্যানিশ তারকার পক্ষে মানসিক সুবিধা তৈরি করতে পারে।

সব মিলিয়ে মেলবোর্নের এই মহারণ কেবল একটি ট্রফির লড়াই নয়—এটি টেনিস ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লেখার মঞ্চ।

মন্তব্য করুন

গোলপোস্ট ছেড়ে এবার মন্ত্রিসভায় আমিনুল
দেশের ক্রীড়াক্ষেত্র থেকে অতীতে বহু তারকা সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হয়েছেন, কিন্তু টেকনোক্র্যাট কোটায় কোনো সাবেক ক্রীড়াবিদের মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ার নজির ছিল না। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে যাচ্ছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। নবগঠিত সংসদের সদস্যরা সকালে শপথ নেওয়ার পর বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথের প্রস্তুতি শুরু হয়। এ সময় সম্ভাব্য মন্ত্রীদের সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ যোগাযোগ করে। সেই তালিকায় আমিনুল হকের নামও রয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছে এশিয়া পোস্ট। সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আমিনুল। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর তিনি জয় পাননি, তবে সংবিধানে থাকা টেকনোক্র্যাট কোটা তাকে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। মন্ত্রিসভার সর্বোচ্চ দশ শতাংশ সদস্য সংসদের বাইরে থেকে নেওয়ার বিধান রয়েছে, যেখানে বিশেষ দক্ষতা বা অবদানের ভিত্তিতে ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ক্রীড়াবিদ হিসেবে এই কোটায় মন্ত্রী হওয়ার দৃষ্টান্ত আগে দেখা যায়নি। খেলোয়াড়ি জীবনে আমিনুল হক ছিলেন দেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক। নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় আবাহনী, মোহামেডান, মুক্তিযোদ্ধাসহ শীর্ষ ক্লাবগুলোতে খেলেছেন। জাতীয় দলে তার উপস্থিতি ছিল দীর্ঘদিনের। ২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং ২০১০ দক্ষিণ এশীয় গেমসে দলের নেতৃত্ব দেন। পেনাল্টি ঠেকানোর দক্ষতার কারণে সমর্থকদের কাছে তিনি বিশেষভাবে জনপ্রিয় ছিলেন। মাঠ ছাড়ার পর তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং দীর্ঘ সময় দলীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকেন। ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদান ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা—দুই দিক বিবেচনায় তাকে মন্ত্রিসভায় আনার দাবি আগেই উঠেছিল বিভিন্ন মহল থেকে। স্বাধীনতার পর কয়েকজন সাবেক ফুটবলার মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন বটে, তবে তারা সবাই নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে। টেকনোক্র্যাট হিসেবে ক্রীড়াঙ্গনের কারও মন্ত্রী হওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম হতে যাচ্ছে। জানা গেছে, আমিনুল হক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন। সাধারণত যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে একজন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেন—সে বিবেচনায় ক্রীড়ামহলের ধারণা, এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বই তার হাতে যেতে পারে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
গোলপোস্ট ছেড়ে এবার মন্ত্রিসভায় আমিনুল
অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে আবাসন সংকটে পাকিস্তান হকি দল
মাঠের লড়াই নয়, অস্ট্রেলিয়া সফরের শেষ দিনে পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায় আবাসন সংকট। শেষ ম্যাচের প্রস্তুতির পাশাপাশি হোটেল ছাড়ার তাড়া—এই দুই চাপ একসঙ্গেই সামলাতে হয়েছে খেলোয়াড়দের। সফরের শেষভাগে এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় দলটির অস্ট্রেলিয়া অধ্যায় শেষ হয়েছে বিতর্ক আর হতাশার ছায়ায়। দলের একাধিক সূত্র জানায়, শেষ দিনের ম্যাচের আগেই সকাল ১০টার মধ্যে বুক করা আবাসন ছাড়ার নির্দেশ পান খেলোয়াড়রা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, মাঠে নামার প্রস্তুতির পাশাপাশি নিজেদের লাগেজ গোছাতে ব্যস্ত পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা। পাকিস্তান হকি ফেডারেশন (পিএইচএফ) শুরুতে হোবার্টে সাত দিনের আবাসনের জন্য অর্থ পরিশোধ করেছিল। তবে দলকে শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা দূরের একটি সীমিত সুবিধাসম্পন্ন স্থানে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সফরের বিভিন্ন লজিস্টিক জটিলতার কারণে খেলোয়াড়দের এমন পরিস্থিতি মেনে নিতে হয়েছে বলেও জানা গেছে। পরবর্তীতে স্থানীয় কমিউনিটির সহায়তায় দল ব্যবস্থাপনা বিকল্প আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা করে। শুরুতে অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় হোটেলের বুকিং বাতিল হয়ে যায় বলে জানা যায়। পরে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নতুন করে কক্ষ বুক করা হলেও সেখানে চার থেকে পাঁচজন খেলোয়াড়কে একটি কক্ষে থাকতে হয় এবং বুকিং পুরো সময়ের জন্য ছিল না। মাঠের পারফরম্যান্সও সফরটিকে হতাশায় ঢেকে দেয় পাকিস্তানের জন্য। এফআইএইচ প্রো লিগের অস্ট্রেলিয়া পর্বে চার ম্যাচের একটিতেও জয় পায়নি দলটি। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩-২ ও ৩-০ ব্যবধানে এবং জার্মানির বিপক্ষে ৫-২ ও ৬-১ ব্যবধানে হারে তারা। আগামী জুনে ইউরোপ পর্বে বেলজিয়াম ও স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান। এরপর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের পাশাপাশি ইংল্যান্ডের সঙ্গেও রয়েছে দ্বৈরথ। তবে অস্ট্রেলিয়া সফরের এই আবাসন সংকট দলের প্রস্তুতি ও মনোবলে কতটা প্রভাব ফেলেছে, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে আবাসন সংকটে পাকিস্তান হকি দল
বদলে যাচ্ছে শীত, আতঙ্কের কথা জানালেন জেসি ডিগিন্স
জেসি ডিগিন্স একজন সহনশীলতার ক্রীড়াবিদ। অলিম্পিক ক্রস কান্ট্রি স্কিয়ার হিসেবে তিনি জানেন তার খেলায় কতটা শারীরিক কষ্ট সহ্য করতে হয়। তিনি এই চরম পরিশ্রমকে বলেন পেইন কেভ। এই কষ্ট তাকে ভয় দেখায় না, কারণ এটি তার নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু যেটি তাকে সত্যিই আতঙ্কিত করে, সেটি হলো জলবায়ু পরিবর্তন। কারণ এর প্রভাব তার খেলাকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে, আর এটি পুরোপুরি তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ডিগিন্স দেখছেন, পরিস্থিতি চোখের সামনে বদলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এমন বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছি যেখানে টানা বৃষ্টি হয়েছে, স্কি করার মতো বরফের সরু একটি ফিতাও ঠিকমতো ছিল না। পুরো মৌসুম রাতারাতি বদলে গেছে। তিনি তার ব্লগে লিখেছেন, কৃত্রিম বরফ ছাড়া এখন শীতকালীন ক্রীড়া আয়োজন করা প্রায় অসম্ভব। ইতালির আল্পস পর্বতমালায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মিলান কোর্তিনা শীতকালীন অলিম্পিক, যা ডিগিন্সের শেষ অলিম্পিক হবে, সেখানেও সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে তুষার তৈরির মেশিন চালিয়ে বরফ তৈরি করা হয়েছে। বদলে যাচ্ছে শীত মানুষ এখনও ব্যাপক হারে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়াচ্ছে, যার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে শীতের ওপর। অনেক এলাকায় তুষারপাত কমছে, বরফের স্তর পাতলা হচ্ছে, তাপমাত্রা বাড়ছে। এক সময় যেসব পাহাড় মোটা সাদা বরফে ঢেকে থাকত, এখন শীতের বড় একটি সময়জুড়েই সেগুলো প্রায় খালি পড়ে থাকে। যারা জীবিকার জন্য তুষারের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য প্রতিটি স্কি মৌসুম এখন অনিশ্চয়তায় ভরা। শীতকালীন অলিম্পিকের মতো বড় আয়োজনের ক্ষেত্রে এটি হয়ে উঠছে ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির এক মুখপাত্রের ভাষায়, জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের পরিচিত শীতকালীন ক্রীড়াকে নতুনভাবে রূপ দিচ্ছে। অ্যাথলেটরা ইতালিতে প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত থাকলেও, শীতকালীন অলিম্পিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শুধু কীভাবে এই আয়োজন টিকিয়ে রাখা যাবে তা নয়, আদৌ রাখা উচিত কি না, সেই বিতর্কও জোরালো হচ্ছে। অলিম্পিক যেন গলে যাচ্ছে ১৯২৪ সালে ফ্রান্সে প্রথম শীতকালীন অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়। তখন প্রায় সব ইভেন্টই ছিল খোলা মাঠে। কিন্তু ১৯৮০-এর দশক থেকে আইস স্কেটিং, হকি, কার্লিংয়ের মতো অনেক খেলা ইনডোর রিঙ্কে চলে যায়, যেখানে বরফের মান নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবুও তুষার ও ঠান্ডা আবহাওয়া দিন দিন অনির্ভরযোগ্য হয়ে উঠছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লাইমেট সেন্ট্রালের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫০ সালের পর থেকে প্রতিটি অলিম্পিক আয়োজক শহরে ফেব্রুয়ারির গড় তাপমাত্রা প্রায় ২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। ইতালির কোর্তিনা দ’আমপেজ্জো শহর, যেখানে ১৯৫৬ সালেও অলিম্পিক হয়েছিল, সেখানে গত ৭০ বছরে ফেব্রুয়ারির তাপমাত্রা বেড়েছে প্রায় ৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর ফলে বছরে প্রায় ৪১ দিন কম সময় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে থাকে। ঠান্ডা কম থাকলে বরফ হয় ভেজা ও পাতলা, বৃষ্টিপাত বাড়ে, যা অ্যাথলেটদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ২০১৪ সালে রাশিয়ার সোচি অলিম্পিকে অস্বাভাবিক উষ্ণতার কারণে দুর্ঘটনা ও চোটের হার বেড়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেজা ও নরম বরফে অ্যাথলেটরা প্রত্যাশিত গতি পায়নি, ল্যান্ডিং সঠিকভাবে করতে পারেনি। কমে আসছে আয়োজক শহর ২০২৪ সালে প্রকাশিত এক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে অতীত ও সম্ভাব্য ৯৩টি আয়োজক স্থান নিয়ে গবেষণা করা হয়। দেখা গেছে, দেশগুলো তাদের বর্তমান জলবায়ু প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেও ২০৫০ সালের মধ্যে মাত্র ৫২টি স্থান শীতকালীন অলিম্পিক আয়োজনের উপযোগী থাকবে। প্যারালিম্পিকের জন্য পরিস্থিতি আরও সংকটজনক। মৌসুমের পরে হওয়ায় ২০৫০ সালের মধ্যে নির্ভরযোগ্য আবহাওয়া থাকবে মাত্র ২২টি স্থানে। যদি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ আরও বাড়ে, সেই সংখ্যা নেমে আসতে পারে মাত্র ৪টিতে। ২০৫০ সালের মধ্যে প্রাকৃতিক তুষারের ওপর ভর করে আয়োজন করতে পারবে সম্ভবত মাত্র চারটি স্থান, যার মধ্যে জাপানের নিসেকো এবং ফ্রান্সের ভ্যাল দিজেয়ার ও কুরশেভেল উল্লেখযোগ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শীতকালীন অলিম্পিক আয়োজনের সম্ভাবনা সত্যিই গলে যেতে পারে। তুষার কমার বিপজ্জনক প্রবণতা শীতের দ্রুত পরিবর্তনের সবচেয়ে দৃশ্যমান চিহ্ন হলো তুষার কমে যাওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে এ বছর অস্বাভাবিক উষ্ণতার কারণে তুষার খরা দেখা গেছে। ২০৩৪ সালের অলিম্পিক আয়োজক সল্ট লেক সিটিতে জানুয়ারিতে তুষারপাত হয়েছে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। ২০২৪ সালে নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, গত ৪০ বছরে উত্তর গোলার্ধের বেশিরভাগ এলাকায় তুষারের স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দক্ষিণ-পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বড় অংশে প্রতি দশকে ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। গবেষকরা বলছেন, তাপমাত্রা একটি নির্দিষ্ট সীমা পার হলে তুষার দ্রুত কমতে শুরু করে। অর্থাৎ এক সময় পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও হঠাৎ করেই পরিস্থিতি অবনতির দিকে যেতে পারে। কৃত্রিম তুষার কি সমাধান প্রাকৃতিক তুষার না হলে প্রযুক্তির সহায়তায় কৃত্রিম তুষার তৈরি করা হয়। ১৯৮০ সালে প্রথম অলিম্পিকে এটি ব্যবহার হয়। ২০২২ সালের বেইজিং অলিম্পিকে প্রায় পুরোপুরি কৃত্রিম তুষারের ওপর নির্ভর করা হয়েছিল। ইতালিতে চলতি অলিম্পিকের জন্য প্রায় ২৪ লাখ ঘনমিটার তুষার তৈরি করা হয়েছে, যার জন্য প্রয়োজন হয়েছে বিপুল পরিমাণ পানি। তবে কৃত্রিম তুষার তৈরিরও সীমাবদ্ধতা আছে। কম তাপমাত্রা ও শুষ্ক বাতাস দরকার হয়, যা উষ্ণায়নের কারণে কমে যাচ্ছে। এছাড়া এতে পানি ও বিদ্যুতের বড় ব্যবহার রয়েছে, যা পরিবেশের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, কৃত্রিম তুষার একটি সাময়িক সমাধান হলেও এটি মূল সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। বরং প্রশ্ন উঠছে, জলবায়ু সংকটের সময় এত বড় আয়োজন কতটা যৌক্তিক। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ সমাধান হিসেবে অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক একসঙ্গে আয়োজন বা ক্যালেন্ডার এগিয়ে আনার প্রস্তাব এসেছে। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও নমনীয় পদ্ধতিতে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ২০৩০ সাল থেকে আয়োজক দেশগুলোর জন্য জলবায়ু সংক্রান্ত পদক্ষেপ বাধ্যতামূলক করার কথাও বলা হয়েছে। তবে বিষয়টি শুধু অলিম্পিকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তুষার হলো প্রাকৃতিক পানির ভাণ্ডার। শীতে এটি পানি ধরে রাখে এবং গ্রীষ্মে ধীরে ধীরে গলে পানীয় জল, কৃষি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে সহায়তা করে। বিশ্বে কোটি কোটি মানুষ এই প্রাকৃতিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। শীতকালীন অলিম্পিক একটি বড় বৈশ্বিক মঞ্চ। এই মঞ্চ জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তব প্রভাবকে সামনে আনতে পারে। ক্রীড়াবিদরা বলছেন, এটি তাত্ত্বিক কোনো বিষয় নয়। তারা প্রতিদিন অনুশীলন ও প্রতিযোগিতায় এর প্রভাব অনুভব করছেন। শীতকালীন অলিম্পিক কেবল একটি ক্রীড়া আসর নয়, এটি শীতের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মানবিক অভিজ্ঞতার অংশ। কিন্তু বৈশ্বিক উষ্ণায়ন যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে আগামী কয়েক দশকের মধ্যেই অনেক ঐতিহ্যবাহী ভেন্যু এই আয়োজনের জন্য অনুপযুক্ত হয়ে পড়তে পারে। বাংলাদেশের মতো উষ্ণ দেশেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, অনিয়মিত বৃষ্টি আমাদের জন্য যেমন বাস্তবতা, তেমনি ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার জন্য তুষার কমে যাওয়া আরেক বাস্তবতা। খেলাধুলার ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে হলে পরিবেশ রক্ষার লড়াইও সমান গুরুত্ব পেতে হবে। শীতকে বাঁচানো মানে শুধু একটি অলিম্পিক আয়োজন বাঁচানো নয়, বরং একটি প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা। এখন সিদ্ধান্ত মানবজাতির। সূত্র: সিএনএন
বদলে যাচ্ছে শীত, আতঙ্কের কথা জানালেন জেসি ডিগিন্স
কেন প্রতি চার বছরে একবার অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়
আপনি কি কখনও ভেবেছেন, প্রতি চার বছর পরপর কেন অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়? চার বছর তো অনেক দীর্ঘ সময়! ক্রীড়াবিদরা প্রশিক্ষণ নেয়, শহরগুলো প্রস্তুত হয়, আর দর্শকরা অপেক্ষায় থাকে। কিন্তু এই দীর্ঘ বিরতির পেছনে শুধু সময়ের হিসাব নয়, আছে ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং বিশেষ পরিকল্পনা। এবার ২০২৬ সালের শীতকালীন অলিম্পিক গেমস মিলানো-কোরটিনায় শুরু হতে যাচ্ছে ৬ ফেব্রুয়ারি। আর তা মনে করিয়ে দিচ্ছে, চার বছরের এই অপেক্ষা কতটা বিশেষ। প্রাচীন গ্রিস থেকেই এই ধারার শুরু। তবে তখন শুধু এটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ছিল না, ধর্মীয় উৎসব হিসেবেই বেশি প্রচলিত ছিল। আধুনিক অলিম্পিকও সেই ঐতিহ্যকে অনুসরণ করে, তাই প্রতি চার বছর পর আমরা আবার জ্বলন্ত মশাল, নতুন প্রতিভা এবং উত্তেজনায় ভরা গেমসের সাক্ষী হই। রিডার্স ডাইজেস্টের প্রতিবেদন থেকে এশিয়া পোস্টের পাঠকদের জন্য অলিম্পিকের ইতিহাস তুলে ধরা হলো। প্রথম অলিম্পিক এবং চার বছরের রীতি প্রথম অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রাচীন গ্রিসের পবিত্র শহর অলিম্পিয়ায় ৭৭৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। সেই সময় অলিম্পিয়ার গুরুত্ব ছিল খুবই বেশি। বিশ্বাস করা হত যে ‘ঈশ্বর জিউস’ এখানে বাস করেন এবং তার প্রধান মন্দিরও এখানেই ছিল। প্রাচীন গ্রিসের মানুষেরা চার বছরের চক্রে (যাকে কোয়াড্রেনিয়াল বলা হয়) এই গেমসের আয়োজন শুরু করেছিল। তখন থেকে এই চক্রকে অলিম্পিয়াড বলা হতো এবং সময়ও অলিম্পিয়াডের হিসাব দিয়ে গণনা করা হতো। চার বছরের চক্রের কারণে ক্রীড়াবিদদের পর্যাপ্ত সময় পেত প্রশিক্ষণের জন্য, দর্শকরাও খেলা দেখতে আসার ব্যবস্থা করতে পারত, এবং সেই সময়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে এটি মানানসইও হতো। ১৮৯০-এর দশকে অলিম্পিককে পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেন পিয়েরে দে কুর্বেতিন। প্রথম আধুনিক গেমস অনুষ্ঠিত হয় সেই গ্রীসের এখেন্সেই ১৮৯৬ সালে। এরপর ১৯০০ এবং ১৯০৪ সালের গেমস পারিস ও সেন্ট লুইসে বিশ্বমেলার সঙ্গে একসঙ্গে হয়। কিন্তু গবেষকরা বলছেন, বিশ্বমেলার সঙ্গে গেমস মিশিয়ে দেওয়া বড় ভুল ছিল। সেসব গেমসকে আলাদা কোনো স্বতন্ত্র প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখা যায়নি। এরপর আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) গেমসকে আলাদাভাবে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেই চার বছরের চক্র চালু হয়। শীতকালীন এবং গ্রীষ্মকালীন গেমস একই বছরে কেন হয় না শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন গেমস আলাদা বছরের ধারণা অনেক নতুন। ১৯৮৬ সালে সুইজারল্যান্ডের লসান শহরে আইওসি এ সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে একসঙ্গে দুই গেমসের খরচ ও ব্যবস্থাপনা সহজ হয়। একই সঙ্গে বিজ্ঞাপন ও প্রচারের সুবিধাও এতে বৃদ্ধি পায়। ফলে, ১৯৯২ সালে শেষবার দুটি গেমস একই বছরে অনুষ্ঠিত হয়, তবে ভিন্ন শহরে এবং ভিন্ন সময়ে। শীতকালীন গেমসের দর্শক সংখ্যা কম হলেও ধীরে ধীরে বাড়ছে। প্রথম শীতকালীন অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯২৪ সালে ফ্রান্সের চ্যামোনিক্সে। প্রথমে এটিকে কেবল আন্তর্জাতিক শীতকালীন ক্রীড়া সপ্তাহ বলা হতো, পরে ১৯২৬ সালে আইওসি এটিকে প্রথম শীতকালীন অলিম্পিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। শীতকালীন ক্রীড়ার ধারণা অনেক আগে থেকেই ছিল। ১৯০১ সালে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলো তাদের নিজস্ব নর্ডিক গেমস করতো। ১৯২০ সালের অ্যান্টওয়ার্প গেমসেও ফিগার স্কেটিং এবং আইস হকি অনুষ্ঠিত হয়। এই ধারাবাহিকতা শেষ হয়ে ১৯২৪ সালের চ্যামোনিক্স শীতকালীন গেমস দিয়ে আধুনিক শীতকালীন অলিম্পিকের সূচনা হয়। কখন অলিম্পিক বাতিল বা স্থগিত হয়েছে প্রাচীন অলিম্পিক ৭৭৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে চতুর্থ শতকে রোমান শাসনের সময় পর্যন্ত চলেছিল। আধুনিক অলিম্পিক শুরু হয় ১৮৯৬ সালে। তবে কয়েকটি বিশ্বজুড়ে ঘটনা এই চার বছরের চক্রকে বাধাগ্রস্ত করেছে। ১৯১৬: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে বার্লিন অলিম্পিক বাতিল হয়। ১৯৪০ ও ১৯৪৪: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে গেমস স্থগিত বা বাতিল হয়। ২০২০: টোকিও অলিম্পিক করোনা মহামারির কারণে এক বছর স্থগিত হয়। আইওসির নথি হতে টোকিও অলিম্পিকই একমাত্র সময়মাত্র যেখানে আসর স্থগিত করা হয়, বাতিল নয়।  তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট
কেন প্রতি চার বছরে একবার অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়
পারলেন না জোকোভিচ, অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে আলকারাজের ইতিহাস
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পুরুষ এককের ফাইনালে হাতছানি ছিল জোকোভিচের সামনে ইতিহাস গড়ার। তবে উল্টো সেই ইতিহাস গড়লেন কার্লোস আলকারাজ। সার্বিয়ান কিংবদন্তি নোভাক জোকোভিচকে চার সেটে হারিয়ে ক্যারিয়ারের সপ্তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জিতলেন স্প্যানিশ এই তরুণ তারকা। একই সঙ্গে সর্বকনিষ্ট হিসেবে টেনিসের চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের পূর্ণতা এনে নিজের নাম লেখালেন অনন্য এক কীর্তিতে। মেলবোর্নের রড লেভার অ্যারেনায় রোববারের ফাইনালে প্রথম সেট হারিয়েও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান আলকারাজ। ২–৬, ৬–২, ৬–৩, ৭–৫ গেমে তিন ঘণ্টা দুই মিনিটের লড়াইয়ে জয় নিশ্চিত করেন ২২ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়। শেষ পয়েন্টে জোকোভিচের একটি লম্বা ফোরহ্যান্ড কোর্টের বাইরে চলে গেলে উল্লাসে মেতে ওঠেন আলকারাজ। এই জয়ের মধ্য দিয়ে মাত্র ২২ বছর ২৭২ দিন বয়সে সাতটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতে নতুন ইতিহাস গড়লেন আলকারাজ। এত অল্প বয়সে সাত মেজর জয়ের নজির এর আগে ছিল না। টেনিসের ‘বিগ থ্রি’—নোভাক জোকোভিচ, রজার ফেদেরার ও রাফায়েল নাদালের চেয়েও ২৩ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বেশি শিরোপা জিতে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন তিনি। ফাইনালে আলকারাজের সামনে বসে খেলা উপভোগ করছিলেন তার শৈশবের আইডল রাফায়েল নাদালও। জয়ের পর নাদালের সঙ্গে একই তালিকায় নাম লেখানোয় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্প্যানিশ তরুণ। অন্যদিকে জোকোভিচের জন্য এটি ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষার আরেকটি ব্যর্থ সমাপ্তি। সর্বশেষ ৮৭৫ দিন আগে ইউএস ওপেনে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছিলেন তিনি। ফাইনালের শুরুতে দারুণ ছন্দে থাকা সার্বিয়ান প্রথম সেট জিতলেও পরের সেটগুলোতে ধীরে ধীরে গতি হারান। সেমিফাইনালের কঠিন ম্যাচের পর ডান উরুতে ব্যান্ডেজ নিয়েই কোর্টে নামেন আলকারাজ। শুরুতে কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন তিনি। দ্বিতীয় সেটে ব্রেক পয়েন্ট আদায় করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পান, আর তৃতীয় সেটে এসে পুরোপুরি ছন্দে চলে যান। মাঝে বৃষ্টির আশঙ্কা ও ঠান্ডা আবহাওয়া ম্যাচে বিঘ্ন ঘটালেও শেষ পর্যন্ত খেলা অব্যাহত থাকে। দর্শকভর্তি স্টেডিয়ামে উত্তেজনা চরমে ওঠে চতুর্থ সেটে, যখন জোকোভিচ সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েও একাধিক ব্রেক পয়েন্ট কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত তরুণ শক্তির সামনে অভিজ্ঞতার দেয়াল ভেঙে পড়ে। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের এই জয়ে আলকারাজ শুধু আরেকটি শিরোপাই জেতেননি—টেনিস ইতিহাসে নিজের জায়গা আরও সুদৃঢ় করে নিলেন।
পারলেন না জোকোভিচ, অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে আলকারাজের ইতিহাস
গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ / বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনে ভারতের অলিম্পিক বিডে শঙ্কার ঘণ্টা
বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বকাপের নিরাপত্তা ইস্যুতে ক্রিকেট কূটনীতিতে অবনতি ভারতের অলিম্পিক আয়োজনের স্বপ্নে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ব্রিটিশ প্রভাবশালী পত্রিকা গার্ডিয়ান তাদের করা বিশ্লেষণে জানায়, আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) ক্রীড়াক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করায় বিষয়টি এখন কেবল ক্রিকেটের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই—বরং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া রাজনীতির বড় আলোচনায় পরিণত হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত সম্প্রতি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর থেকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বাংলাদেশের গ্রুপ ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করার পরই এই সিদ্ধান্ত আসে। এ ছাড়া দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সের দলে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। বাংলাদেশের এই বয়কটের ফলে বিশ্বকাপে তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানও সংহতি প্রকাশ করে বিশ্বকাপ বয়কটের কথা বিবেচনা করছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। আইসিসির দাবি, তারা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে; তবে ক্রীড়া মহলে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিসিসিআইয়ের সঙ্গে ভারত সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং আইসিসির শীর্ষ পর্যায়ে ভারত–ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের উপস্থিতি এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। এই পরিস্থিতি ভারতের জন্য বিব্রতকর সময়ে সামনে আসছে বলে মনে করে ইংলিশ প্রভাবশালী পত্রিকা ‘গার্ডিয়ান’। গত মাসেই দিল্লিতে ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের স্বীকৃতি পাওয়ার পর দেশটি এখন আহমেদাবাদকে কেন্দ্র করে ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের বিডে রয়েছে। এই প্রতিযোগিতায় কাতারকে ভারতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আইওসি ক্রীড়াক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে আছে। অলিম্পিক চার্টার অনুযায়ী, ক্রীড়া সংগঠনগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে পরিচালিত হতে হয় এবং অলিম্পিক মঞ্চে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় মতপ্রকাশও নিষিদ্ধ। একাধিক সূত্রের মতে, যদি কোনো দেশের আয়োজনে অন্য দেশগুলো বয়কটের ঝুঁকি থাকে, তাহলে সেই দেশকে অলিম্পিক আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়াকে অলিম্পিক সংলাপ থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার উদাহরণ টেনে বিশ্লেষকরা বলছেন, আইওসি এ ধরনের ইস্যুতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে। ক্রিকেট ১৯০০ সালের পর প্রথমবারের মতো আবার অলিম্পিকে ফিরছে—২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস ও ২০৩২ ব্রিসবেন গেমসে এই খেলাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভারতীয় বাজারকে আকর্ষণ করতেই আইওসি ক্রিকেটকে অলিম্পিকে যুক্ত করেছে বলে ধারণা করা হলেও, রাজনৈতিক ঝুঁকি থাকলে তারা কোনো আপস করবে না—এমন বার্তাই স্পষ্ট। এদিকে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের সিদ্ধান্তও ভারত–পাকিস্তান ক্রিকেট সম্পর্কের অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। আইওসি–সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে গার্ডিয়ান জানায়, ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের যোগ্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হতে চাইলে ভারতকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রীড়া সম্পর্ক উন্নয়নের স্পষ্ট অগ্রগতি দেখাতে হবে। অন্যথায় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মঞ্চে এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন ভারতের অলিম্পিক স্বপ্নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।  তথ্যসূত্র : গার্ডিয়ান
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনে ভারতের অলিম্পিক বিডে শঙ্কার ঘণ্টা
সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের নতুন রাণী রিবাকিনা
এলেনা রিবাকিনা আবারও প্রমাণ করলেন তিনি নারী টেনিসের শীর্ষে ফিরে এসেছেন। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে শীর্ষ বাছাই আরিনা সাবালেঙ্কাকে ৬–৪, ৪–৬, ৬–৪ সেটে হারিয়ে নিজের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জিতলেন এই কাজাকিস্তান তারকা।  দারুন এই জয় রিবাকিনার জন্যও বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ২০২৩ সালের ফাইনালে সাবালেঙ্কার কাছে হারের বদলা নিলেন তিনি একই মঞ্চে। ২০২২ সালে উইম্বলডন জয়ের চার মৌসুম পর অস্ট্রেলিয়ায় শিরোপা তুলে নিয়ে ২৬ বছর বয়সী কাজাখ তারকা বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে পাঁচ থেকে উঠে যাবেন তিন নম্বরে। রিবাকিনার এই সাফল্য কাকতালীয় নয়। টপ-১০ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে টানা ১০ ম্যাচ জিতেছেন তিনি, যার মধ্যে মেলবোর্নে ইগা সোয়াতেক, জেসিকা পেগুলা ও সাবালেঙ্কার বিপক্ষে জয় রয়েছে। বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড়দের বিপক্ষে তার জয়ের হার ৬০ শতাংশ—ইতিহাসে সেরা। ম্যাচ শেষে রিবাকিনা বলেন, এটি তার ক্যারিয়ারের বড় অর্জনগুলোর একটি। দর্শকদের সমর্থন ও দলের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। অন্যদিকে সাবালেঙ্কা সৌহার্দ্য বজায় রেখে প্রতিপক্ষকে অভিনন্দন জানান। ৩৫টি উইনার মারলেও শেষ পর্যন্ত এক ব্রেক পয়েন্ট ও শেষের একটি এসেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। এটি নারী টেনিসের অন্যতম উত্তেজনাপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার আরেক অধ্যায়। ১৫ বারের মুখোমুখিতে সাবালেঙ্কা এগিয়ে আছেন ৮–৭ ব্যবধানে—এই লড়াই যে সামনে আরও দেখা যাবে, তা বলাই যায়।
সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের নতুন রাণী রিবাকিনা
সিনারকে হারিয়ে আবারও ইতিহাসের পথে জোকোভিচ
টেনিস ইতিহাসে নিজের কিংবদন্তি মর্যাদা আরও একবার প্রমাণ করলেন নোভাক জোকোভিচ। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইতালির ইয়ানিক সিনারকে পাঁচ সেটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছেন সার্বিয়ান মহাতারকা। চার ঘণ্টা নয় মিনিটের এই ম্যারাথন ম্যাচে জোকোভিচ জয় পান ৩-৬, ৬-৩, ৪-৬, ৬-৪, ৬-৪ ব্যবধানে। এই জয়ের মাধ্যমে জোকোভিচ ক্যারিয়ারের ৩৮তম গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালে উঠলেন। ১৪ বছর কম বয়সী সিনারের বিপক্ষে এই পারফরম্যান্স আবারও প্রমাণ করল—বয়সের ভার অন্যদের জন্য বড় বাধা হলেও জোকোভিচের ক্ষেত্রে তা এখনো প্রযোজ্য নয়। রড লেভার অ্যারেনার নীল কোর্টে এটি হতে যাচ্ছে তার ১১তম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ফাইনাল। রোববারের ফাইনালে জোকোভিচ লড়বেন নিজের ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপার জন্য। সেই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি মার্গারেট কোর্টের সঙ্গে যৌথভাবে থাকা সর্বোচ্চ গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের রেকর্ড ভাঙার সুযোগও থাকছে তার সামনে। এই জয়ের মাধ্যমে প্রায় আড়াই বছর পর আবার গ্র্যান্ড স্লাম ট্রফির খুব কাছে পৌঁছালেন জোকোভিচ। তার সর্বশেষ মেজর শিরোপা ছিল ২০২৩ ইউএস ওপেনে। প্রায় ৮৭৫ দিন পর আবারও বড় মঞ্চে শিরোপার লড়াইয়ে নামতে যাচ্ছেন তিনি। ম্যাচে সিনারের বিপক্ষে আগের পাঁচ দেখায় টানা হারের পর এবার ঘুরে দাড়ালেন জোকোভিচ। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ব্রেক পয়েন্ট কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন সিনার—১৮টি সুযোগের মধ্যে মাত্র দুইটি ব্রেক পয়েন্ট নিতে পারেন তিনি, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ম্যাচ শেষে জোকোভিচ বলেন, ‘রোববারের জন্য যেন যথেষ্ট শক্তি থাকে, সেটাই আশা করি। আর শেষ পর্যন্ত কে জিতবে, সেটি ঈশ্বরই ঠিক করবেন।’ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনকে ঘিরে প্রস্তুতির জন্য গত দুই বছর এটিপি ফাইনালস না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন জোকোভিচ। তার লক্ষ্য ছিল মেলবোর্নের জন্য শরীর ও মন দুটোই পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা। সেই পরিকল্পনার ফল এবার আবার দেখা যাচ্ছে। ফাইনালে জোকোভিচের প্রতিপক্ষ হচ্ছেন কার্লোস আলকারাজ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বর্তমান টপ-১০ খেলোয়াড়দের মধ্যে আলকারাজের বিপক্ষে জোকোভিচই একমাত্র খেলোয়াড়, যার হেড-টু-হেড রেকর্ড ইতিবাচক (৫-৪)।
সিনারকে হারিয়ে আবারও ইতিহাসের পথে জোকোভিচ
এবার টেনিসেও ‘নো হ্যান্ডশেক’
ক্রিকেটে ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচে খেলোয়াড়দের মধ্যে হ্যান্ডশেক না করার দৃশ্য গত বছরে বেশ কয়েকবার দেখা গেছে। কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পর থেকেই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ক্রিকেটের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে এমন পরিস্থিতি এখন বেশ স্বাভাবিক। এবার সেই একই চিত্র দেখা গেল টেনিস কোর্টেও। ইউক্রেন ও রাশিয়ার চলমান রাজনৈতিক সংকটের প্রভাব পড়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে, যেখানে ম্যাচ শেষে একে অপরের সঙ্গে হাত মেলাননি রাশিয়ার মিত্র দেশ বেলারুশের আরিনা সাবালেঙ্কা ও ইউক্রেনের এলিনা সভিতোলিনা। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের নারী এককে সেমিফাইনালে বৃহস্পতিবার রড লেভার অ্যারেনায় ইউক্রেনের এলিনা সভিতোলিনাকে ৬-২, ৬-৩ গেমে হারিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো ফাইনালে উঠেছেন বেলারুশের বিশ্ব এক নম্বর আরিনা সাবালেঙ্কা। তবে ম্যাচের ফলাফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে ম্যাচ-পরবর্তী ‘নো হ্যান্ডশেক’ ঘটনা। ম্যাচ শুরুর আগেই দর্শকদের জানিয়ে দেওয়া হয় যে, দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে ম্যাচ শেষে কোনো হ্যান্ডশেক হবে না। টেনিস অস্ট্রেলিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে, ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়রা একে অপরের সঙ্গে হাত মেলাবেন না এবং দর্শকদের এ বিষয়ে সম্মান দেখানোর অনুরোধ জানানো হয়। ম্যাচ জয়ের পর সাবালেঙ্কা সরাসরি চেয়ার আম্পায়ারের সঙ্গে হাত মেলান এবং দর্শকদের উদ্দেশে করতালি দেন। অপরদিকে সভিতোলিনাও আম্পায়ারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কোর্ট ত্যাগ করেন, কিন্তু প্রতিপক্ষের দিকে এগিয়ে যাননি। ইউক্রেন ও রাশিয়া-বেলারুশের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইউক্রেনীয় খেলোয়াড়রা রাশিয়ান ও বেলারুশিয়ান প্রতিপক্ষের সঙ্গে হ্যান্ডশেক এড়িয়ে চলছেন। এর আগেও একাধিক টুর্নামেন্টে সভিতোলিনাকে এমন অবস্থান নিতে দেখা গেছে। ২০২৩ ফ্রেঞ্চ ওপেনেও সাবালেঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে হ্যান্ডশেক করেননি তিনি। এবারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেও ম্যাচ শুরুর আগে প্রচলিত নেটের সামনে একসঙ্গে ছবি তোলার রীতিতেও অংশ নেননি সভিতোলিনা। দুজন খেলোয়াড় আলাদাভাবে ছবি তোলেন। যদিও সাবালেঙ্কা অতীতে ইউক্রেন যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি বলেন, তিনি শান্তি চান এবং পরিস্থিতি বদলানোর ক্ষমতা থাকলে তা অবশ্যই করতেন। কোর্টের পারফরম্যান্সে অবশ্য সাবালেঙ্কা ছিলেন পুরোপুরি আধিপত্যশীল। ম্যাচে তিনি ২৮টি উইনার মারেন এবং একপর্যায়ে ‘হাইন্ড্রেন্স’ কল নিয়ে বিতর্কে জড়ান। একটি পয়েন্টে বল মারার পর গর্জনের কারণে তার বিপক্ষে হাইন্ড্রেন্স দেওয়া হয়। ভিডিও রিভিউয়ের পর সিদ্ধান্ত বহাল থাকে, যা নিয়ে সাবালেঙ্কাকে বিরক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতেও দেখা যায়। তবে এতে তার দাপট কমেনি। এই জয়ের মাধ্যমে সাবালেঙ্কা অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে টানা চারটি ফাইনালে উঠলেন, যা এর আগে কেবল এভন গুলাগং কাওলি ও মার্টিনা হিঙ্গিস করতে পেরেছিলেন। তিনি এখন ফাইনালে মুখোমুখি হবেন জেসিকা পেগুলা অথবা এলেনা রিবাকিনার।
এবার টেনিসেও ‘নো হ্যান্ডশেক’