ক্রিকেটে ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচে খেলোয়াড়দের মধ্যে হ্যান্ডশেক না করার দৃশ্য গত বছরে বেশ কয়েকবার দেখা গেছে। কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পর থেকেই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ক্রিকেটের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে এমন পরিস্থিতি এখন বেশ স্বাভাবিক। এবার সেই একই চিত্র দেখা গেল টেনিস কোর্টেও। ইউক্রেন ও রাশিয়ার চলমান রাজনৈতিক সংকটের প্রভাব পড়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে, যেখানে ম্যাচ শেষে একে অপরের সঙ্গে হাত মেলাননি রাশিয়ার মিত্র দেশ বেলারুশের আরিনা সাবালেঙ্কা ও ইউক্রেনের এলিনা সভিতোলিনা।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের নারী এককে সেমিফাইনালে বৃহস্পতিবার রড লেভার অ্যারেনায় ইউক্রেনের এলিনা সভিতোলিনাকে ৬-২, ৬-৩ গেমে হারিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো ফাইনালে উঠেছেন বেলারুশের বিশ্ব এক নম্বর আরিনা সাবালেঙ্কা। তবে ম্যাচের ফলাফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে ম্যাচ-পরবর্তী ‘নো হ্যান্ডশেক’ ঘটনা।
ম্যাচ শুরুর আগেই দর্শকদের জানিয়ে দেওয়া হয় যে, দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে ম্যাচ শেষে কোনো হ্যান্ডশেক হবে না। টেনিস অস্ট্রেলিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে, ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়রা একে অপরের সঙ্গে হাত মেলাবেন না এবং দর্শকদের এ বিষয়ে সম্মান দেখানোর অনুরোধ জানানো হয়।
ম্যাচ জয়ের পর সাবালেঙ্কা সরাসরি চেয়ার আম্পায়ারের সঙ্গে হাত মেলান এবং দর্শকদের উদ্দেশে করতালি দেন। অপরদিকে সভিতোলিনাও আম্পায়ারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কোর্ট ত্যাগ করেন, কিন্তু প্রতিপক্ষের দিকে এগিয়ে যাননি।
ইউক্রেন ও রাশিয়া-বেলারুশের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইউক্রেনীয় খেলোয়াড়রা রাশিয়ান ও বেলারুশিয়ান প্রতিপক্ষের সঙ্গে হ্যান্ডশেক এড়িয়ে চলছেন। এর আগেও একাধিক টুর্নামেন্টে সভিতোলিনাকে এমন অবস্থান নিতে দেখা গেছে। ২০২৩ ফ্রেঞ্চ ওপেনেও সাবালেঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে হ্যান্ডশেক করেননি তিনি।
এবারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেও ম্যাচ শুরুর আগে প্রচলিত নেটের সামনে একসঙ্গে ছবি তোলার রীতিতেও অংশ নেননি সভিতোলিনা। দুজন খেলোয়াড় আলাদাভাবে ছবি তোলেন।
যদিও সাবালেঙ্কা অতীতে ইউক্রেন যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি বলেন, তিনি শান্তি চান এবং পরিস্থিতি বদলানোর ক্ষমতা থাকলে তা অবশ্যই করতেন।
কোর্টের পারফরম্যান্সে অবশ্য সাবালেঙ্কা ছিলেন পুরোপুরি আধিপত্যশীল। ম্যাচে তিনি ২৮টি উইনার মারেন এবং একপর্যায়ে ‘হাইন্ড্রেন্স’ কল নিয়ে বিতর্কে জড়ান। একটি পয়েন্টে বল মারার পর গর্জনের কারণে তার বিপক্ষে হাইন্ড্রেন্স দেওয়া হয়। ভিডিও রিভিউয়ের পর সিদ্ধান্ত বহাল থাকে, যা নিয়ে সাবালেঙ্কাকে বিরক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতেও দেখা যায়। তবে এতে তার দাপট কমেনি।
এই জয়ের মাধ্যমে সাবালেঙ্কা অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে টানা চারটি ফাইনালে উঠলেন, যা এর আগে কেবল এভন গুলাগং কাওলি ও মার্টিনা হিঙ্গিস করতে পেরেছিলেন। তিনি এখন ফাইনালে মুখোমুখি হবেন জেসিকা পেগুলা অথবা এলেনা রিবাকিনার।
মন্তব্য করুন








