টেনিস ইতিহাসে নিজের কিংবদন্তি মর্যাদা আরও একবার প্রমাণ করলেন নোভাক জোকোভিচ। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইতালির ইয়ানিক সিনারকে পাঁচ সেটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছেন সার্বিয়ান মহাতারকা। চার ঘণ্টা নয় মিনিটের এই ম্যারাথন ম্যাচে জোকোভিচ জয় পান ৩-৬, ৬-৩, ৪-৬, ৬-৪, ৬-৪ ব্যবধানে।
এই জয়ের মাধ্যমে জোকোভিচ ক্যারিয়ারের ৩৮তম গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালে উঠলেন। ১৪ বছর কম বয়সী সিনারের বিপক্ষে এই পারফরম্যান্স আবারও প্রমাণ করল—বয়সের ভার অন্যদের জন্য বড় বাধা হলেও জোকোভিচের ক্ষেত্রে তা এখনো প্রযোজ্য নয়। রড লেভার অ্যারেনার নীল কোর্টে এটি হতে যাচ্ছে তার ১১তম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ফাইনাল।
রোববারের ফাইনালে জোকোভিচ লড়বেন নিজের ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপার জন্য। সেই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি মার্গারেট কোর্টের সঙ্গে যৌথভাবে থাকা সর্বোচ্চ গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের রেকর্ড ভাঙার সুযোগও থাকছে তার সামনে।
এই জয়ের মাধ্যমে প্রায় আড়াই বছর পর আবার গ্র্যান্ড স্লাম ট্রফির খুব কাছে পৌঁছালেন জোকোভিচ। তার সর্বশেষ মেজর শিরোপা ছিল ২০২৩ ইউএস ওপেনে। প্রায় ৮৭৫ দিন পর আবারও বড় মঞ্চে শিরোপার লড়াইয়ে নামতে যাচ্ছেন তিনি।
ম্যাচে সিনারের বিপক্ষে আগের পাঁচ দেখায় টানা হারের পর এবার ঘুরে দাড়ালেন জোকোভিচ। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ব্রেক পয়েন্ট কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন সিনার—১৮টি সুযোগের মধ্যে মাত্র দুইটি ব্রেক পয়েন্ট নিতে পারেন তিনি, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
ম্যাচ শেষে জোকোভিচ বলেন, ‘রোববারের জন্য যেন যথেষ্ট শক্তি থাকে, সেটাই আশা করি। আর শেষ পর্যন্ত কে জিতবে, সেটি ঈশ্বরই ঠিক করবেন।’
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনকে ঘিরে প্রস্তুতির জন্য গত দুই বছর এটিপি ফাইনালস না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন জোকোভিচ। তার লক্ষ্য ছিল মেলবোর্নের জন্য শরীর ও মন দুটোই পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা। সেই পরিকল্পনার ফল এবার আবার দেখা যাচ্ছে।
ফাইনালে জোকোভিচের প্রতিপক্ষ হচ্ছেন কার্লোস আলকারাজ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বর্তমান টপ-১০ খেলোয়াড়দের মধ্যে আলকারাজের বিপক্ষে জোকোভিচই একমাত্র খেলোয়াড়, যার হেড-টু-হেড রেকর্ড ইতিবাচক (৫-৪)।
মন্তব্য করুন








