মাঠের লড়াই নয়, অস্ট্রেলিয়া সফরের শেষ দিনে পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায় আবাসন সংকট। শেষ ম্যাচের প্রস্তুতির পাশাপাশি হোটেল ছাড়ার তাড়া—এই দুই চাপ একসঙ্গেই সামলাতে হয়েছে খেলোয়াড়দের। সফরের শেষভাগে এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় দলটির অস্ট্রেলিয়া অধ্যায় শেষ হয়েছে বিতর্ক আর হতাশার ছায়ায়।
দলের একাধিক সূত্র জানায়, শেষ দিনের ম্যাচের আগেই সকাল ১০টার মধ্যে বুক করা আবাসন ছাড়ার নির্দেশ পান খেলোয়াড়রা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, মাঠে নামার প্রস্তুতির পাশাপাশি নিজেদের লাগেজ গোছাতে ব্যস্ত পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা।
পাকিস্তান হকি ফেডারেশন (পিএইচএফ) শুরুতে হোবার্টে সাত দিনের আবাসনের জন্য অর্থ পরিশোধ করেছিল। তবে দলকে শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা দূরের একটি সীমিত সুবিধাসম্পন্ন স্থানে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সফরের বিভিন্ন লজিস্টিক জটিলতার কারণে খেলোয়াড়দের এমন পরিস্থিতি মেনে নিতে হয়েছে বলেও জানা গেছে।
পরবর্তীতে স্থানীয় কমিউনিটির সহায়তায় দল ব্যবস্থাপনা বিকল্প আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা করে। শুরুতে অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় হোটেলের বুকিং বাতিল হয়ে যায় বলে জানা যায়। পরে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নতুন করে কক্ষ বুক করা হলেও সেখানে চার থেকে পাঁচজন খেলোয়াড়কে একটি কক্ষে থাকতে হয় এবং বুকিং পুরো সময়ের জন্য ছিল না।
মাঠের পারফরম্যান্সও সফরটিকে হতাশায় ঢেকে দেয় পাকিস্তানের জন্য। এফআইএইচ প্রো লিগের অস্ট্রেলিয়া পর্বে চার ম্যাচের একটিতেও জয় পায়নি দলটি। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩-২ ও ৩-০ ব্যবধানে এবং জার্মানির বিপক্ষে ৫-২ ও ৬-১ ব্যবধানে হারে তারা।
আগামী জুনে ইউরোপ পর্বে বেলজিয়াম ও স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান। এরপর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের পাশাপাশি ইংল্যান্ডের সঙ্গেও রয়েছে দ্বৈরথ। তবে অস্ট্রেলিয়া সফরের এই আবাসন সংকট দলের প্রস্তুতি ও মনোবলে কতটা প্রভাব ফেলেছে, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
মন্তব্য করুন








