পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে দুটি পৃথক অভিযানে ‘ভারত সমর্থিত’ অন্তত ৪২ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এই অভিযান পরিচালনা করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
বিবৃতি অনুযায়ী, ‘ভারতীয় মদদপুষ্ট খারিজি সন্ত্রাসীদের’ উপস্থিতির খবরের ভিত্তিতে প্রদেশের হারনাই জেলার উপকণ্ঠে একটি অভিযান চালানো হয়। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে তীব্র গুলি বিনিময়ে ৩০ জন নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করে ধ্বংস করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পাঞ্জগুর জেলায় একটি সন্ত্রাসী আস্তানায় অভিযানে ‘ফিতনা-ই-হিন্দুস্তান’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়।
আইএসপিআর জানায়, এসব সন্ত্রাসী ১৫ ডিসেম্বর পাঞ্জগুরে সংঘটিত একটি ব্যাংক ডাকাতিসহ অতীতে একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। অভিযানে লুট করা অর্থ, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
আইএসপিআর আরও জানায়, এলাকায় কোনো সন্ত্রাসী অবশিষ্ট আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি ও নিষ্কাশন অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনার ফেডারেল অ্যাপেক্স কমিটি অনুমোদিত ‘আজম-এ-ইস্তেহকাম’ উদ্যোগের আওতায় সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ হারনাই ও পাঞ্জগুরে সফল অভিযানের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করে বলেন, ‘আজম-এ-ইস্তেহকামের দৃষ্টিভঙ্গির অধীনে আমাদের বাহিনী সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করছে। এই সংগ্রামে পুরো জাতি সশস্ত্র বাহিনীর পাশে রয়েছে।’
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও বেলুচিস্তান ও বান্নুতে পরিচালিত অভিযানের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে অভিনন্দন জানান। প্রেসিডেন্টের মিডিয়া উইং প্রকাশিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ ও ‘ফিতনা-ই-হিন্দুস্তান’-এর মতো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ রাষ্ট্রের দৃঢ় অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।’
এর আগে, ২৫ জানুয়ারি পাঞ্জগুর জেলায় আরেকটি আইবিওতে তিন সন্ত্রাসী নিহত হয়। সেখান থেকেও অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয় এবং জানানো হয় যে তারা ওই অঞ্চলের একাধিক হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল।
চলতি মাসের শুরুতে আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী ২০২৫ সালের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা উপস্থাপন করেন। তিনি বছরটিকে পাকিস্তানের জন্য ‘ঐতিহাসিক ও ফলপ্রসূ’ বলে অভিহিত করেন।
তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশজুড়ে মোট ৭৫ হাজার ১৭৫টি গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে, যা দৈনিক গড়ে ২০৬টি। এর মধ্যে ১৪ হাজার ৬৫৮টি অভিযান খাইবার পাখতুনখোয়ায়, ৫৮ হাজার ৭৭৮টি বেলুচিস্তানে এবং এক হাজার ৭৩৯টি দেশের অন্যান্য অঞ্চলে হয়েছে। এই বিপুল অভিযানের পরও দেশজুড়ে মোট ৫ হাজার ৩৯৭টি সন্ত্রাসী ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। বছরজুড়ে মোট ২ হাজার ৫৯৭ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্তব্য করুন








