সাধারণ নির্বাচনের আগে রাজধানী কাঠমান্ডুতে ফিরেছেন নেপালের ক্ষমতাচ্যুত রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহ। স্বাগত জানাতে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিড় করেন হাজারো মানুষ। আর সেখান থেকে উঠল রাজতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের স্লোগান। ফলে ভোটের আগে নতুন করে রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। আগামী ৫ মার্চ দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। খবর অ্যাসোসিয়েট প্রেসের।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেও সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কাঠমান্ডুর বিভিন্ন এলাকায় সমর্থকরা ভিড় করেন। ঝাপা থেকে হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডু ফিরেছেন জ্ঞানেন্দ্র।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জেন-জি বিক্ষোভের জেরে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সরকারের পতন হয়। তিন দিন পর দেশটির সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
বিভিন্ন স্তরে আলাপ-আলোচনা শেষে দেশটির নির্বাচন কমিশন আগামী ৫ মার্চ (বৃহস্পতিবার) পার্লামেন্ট নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছিল। ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া শুরু হয়। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ছিল ২৩ জানুয়ারি। ২৭৫ আসনে ভোট দেবেন প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটার। এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ৬৫ রাজনৈতিক দল।
গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে রাজতন্ত্র প্রত্যাবর্তনের দাবিতে আন্দোলন ঘিরে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে নেপাল। রাজতন্ত্রের সমর্থক রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টির পাশাপাশি গণতন্ত্রপন্থি নেপালি কংগ্রেসের সমর্থকদের একাংশও ‘প্রতীকী রাজতন্ত্রের’ প্রত্যাবর্তনের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিল। সাধারণ নির্বাচনের আগে নতুন করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, প্রায় দুই দশক আগেও নেপালে রাজতন্ত্রের চল ছিল। শেষ রাজা ছিলেন জ্ঞানেন্দ্র। ২০০৬ সালে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। এর পর ২০০৮ সালের মে মাসে সংবিধান সংশোধন করে ২৪০ বছরের পুরোনো রাজতন্ত্র ভেঙে নেপালে প্রতিষ্ঠিত হয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। ২০১৫ সালে অনুমোদিত হয় নতুন ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর জ্ঞানেন্দ্র শাহ নেপালের সাধারণ নাগরিক হিসেবে বসবাস শুরু করেন। ছিল না কোনো রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ক্ষমতাও। অনুমতি নেই রাজপ্রাসাদে যাওয়ার। এমনকি, সরকারি কোনো সুবিধাও পান না তিনি। তার প্রধান বাসস্থান কাঠমান্ডুর নির্মল নিবাস। ২০২৪ সালের গোড়ার দিকে তিনি শহরের উপকণ্ঠে নাগার্জুন পাহাড়ে, বিশেষ করে হেমন্তবাস নামক একটি কুটিরে খণ্ডকালীন কাজ করার জন্য চলে যান বলে জানা গেছে।
রাজপরিবারের অন্য সদস্যরা বিদেশে থাকেন। প্রাক্তন যুবরাজ পারস ও রাজকুমারী হিমানির কন্যা রাজকুমারী কৃতিকা শাহ ২০০৮ সালের জুলাই মাসে তার পরিবারের সঙ্গে নেপাল ছেড়ে সিঙ্গাপুরে চলে যান। সেখানে তিনি পড়ালেখা করেছেন। তার বড় বোন রাজকুমারী পূর্ণিকা শাহও ২০০৮ সালে নেপাল ছেড়ে এখন সিঙ্গাপুরে আছেন।
মন্তব্য করুন








