মুসলমানদের দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র মাহে রমজান। রমজান উপলক্ষে গোটা মুসলিম বিশ্বে আনন্দ বিরাজ করে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু রজমান আসার ঠিক আগমুহূর্তে পবিত্র ভূমি জেরুজালেমে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করছে দখলদার ইসরায়েল। পবিত্র মসজিদ আল-আকসায় রজমান মাসে মুসলিমদের প্রবেশাধিকার সীমিত করা হচ্ছে। এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই অভিযোগ করেছেন আল-আকসার সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি শেখ একরিমা সাবরি।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করেছে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু।
শেখ সাবরি বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য গত জানুয়ারিতে পূর্ব জেরুজালেমে পুলিশ কমান্ডার হিসেবে মেজর জেনারেল আভশালোম পেলেডকে নিয়োগ দেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। রমজানের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এ ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি বলেন, মুসলমানরা সবসময় আশা ও আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে রমজানকে স্বাগত জানায়। কিন্তু জেরুজালেমের পরিস্থিতি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। ইতোমধ্যে কয়েক ডজন তরুণকে আল-আকসায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে আসা মুসল্লিদের জন্যও বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে না বলে জানানো হয়েছে। এতে ২০২৫ সালের তুলনায় মুসল্লির সংখ্যা কমে যাবে, যা ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থি।
শেখ সাবরি অভিযোগ করেন, সরকার আল-আকসার ওপর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা ও ইসলামিক ওয়াকফের কর্তৃত্ব কমিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। তিনি আরও বলেন, পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি পাড়াগুলোতে ঘরবাড়ি ধ্বংসের ঘটনাও বেড়েছে, বিশেষ করে মসজিদের আশপাশের এলাকায়। এই নীতিকে অন্যায্য ও অমানবিক আখ্যা দিয়ে তিনি মুসলিম বিশ্বকে জেরুজালেম এবং আল-আকসা মসজিদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
আনাদোলু বলছে, রমজান মাসে সাধারণত পশ্চিম তীর থেকে বহু ফিলিস্তিনি পূর্ব জেরুজালেমে গিয়ে আল-আকসায় নামাজ আদায় করেন। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সামরিক চেকপয়েন্টে বিধিনিষেধ আরও কড়াকড়ি করা হয়েছে। ফলে জেরুজালেমে প্রবেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খুব অল্পসংখ্যক মানুষই ইসরায়েলি বাহিনীর বিশেষ অনুমতিপত্র পেয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে পূর্ব জেরুজালেমের শত শত ফিলিস্তিনি বাসিন্দার বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, যাতে তারা রমজান মাসে আল-আকসায় প্রবেশ করতে না পারেন। কিছু নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ছয় মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন উগ্রবাদী সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা আল-আকসা প্রাঙ্গণের দীর্ঘদিনের ‘স্থিতাবস্থা’ পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। ২০০৩ সাল থেকে স্থানীয় পুলিশ ইসরায়েলি উগ্রপন্থিদের মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে আসছে। যদিও ইসলামিক ওয়াকফ বিভাগ বারবার এর বিরোধিতা করেছে।
মন্তব্য করুন








