যুক্তরাজ্য ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের ইঙ্গিত মিলেছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বেইজিং সফরে। সফর চলাকালেই চীনে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণা লন্ডন–বেইজিং সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর রয়টার্সের।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) স্টারমারের চীন সফরের সময় অ্যাস্ট্রাজেনেকা এই বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। এটিকে সফরের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চুক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক চাপের মধ্যেই বেইজিংয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী ব্রিটেন।
অ্যাস্ট্রাজেনেকার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেন, ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটির এই বিনিয়োগ যুক্তরাজ্যের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক। তার ভাষায়, ‘চীনে অ্যাস্ট্রাজেনেকার সম্প্রসারণ ও নেতৃত্ব ব্রিটিশ কোম্পানিটিকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে এবং এর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে হাজার হাজার কর্মসংস্থান সমর্থন পাবে।’
যদিও গত বছর ৫০ বিলিয়ন ডলারের উৎপাদন চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা, তবু বিভিন্ন কেলেঙ্কারি সত্ত্বেও দেশটি তাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার চীনে ব্যবসা সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে। এই কেলেঙ্কারির মধ্যে ২০২৪ সালে চীনে কোম্পানির এক শীর্ষ কর্মকর্তার গ্রেপ্তারও রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী পাস্কাল সোরিওট জানান, এটি চীনে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বিনিয়োগ। গত ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে চীনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে কোম্পানিটি।
২০১২ সালে সোরিওট সিইও হওয়ার পর থেকে চীনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা। এর মধ্যে গত বছরের মার্চে বেইজিংয়ে একটি গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্রে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য। এর আগে ২০২৪ সালে সাংহাইয়ে একটি গবেষণা কেন্দ্র চালু করা হয়, যা চীনে প্রতিষ্ঠানটির দ্বিতীয় বড় আরএন্ডডি সাইট।
চলতি মাসের শুরুতে জেপি মরগান হেলথকেয়ার সম্মেলনে ওষুধশিল্পের শীর্ষ নির্বাহীরা জানান, নতুন ওষুধ সম্পদের উৎস হিসেবে চীনের ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রাথমিক পর্যায়ের পরীক্ষামূলক ওষুধ উন্নয়নের জন্য চীনের বিভিন্ন বায়োটেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ইতোমধ্যে এক ডজনের বেশি চুক্তি করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা আরাধনা সারিন গত নভেম্বরে বলেন, চীনে অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রবৃদ্ধি ‘সারা বছরজুড়েই শক্তিশালী’ ছিল। তবে সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত, অর্থনৈতিক মন্দা এবং কেন্দ্রীভূত ওষুধ সংগ্রহ কর্মসূচিতে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে কিছু প্রতিদ্বন্দ্বী ওষুধ প্রস্তুতকারক চীন থেকে তাদের সম্পদ প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
মন্তব্য করুন








