বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এক্সের (সাবেক টুইটার) ফ্রান্স কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে প্যারিসের সরকারি কৌঁসুলির সাইবার ক্রাইম ইউনিট। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া একটি তদন্তের অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়েছে।
অবৈধভাবে তথ্য আহরণ এবং শিশু পর্নোগ্রাফি সংরক্ষণে এই প্ল্যাটফর্মের সহায়তার সন্দেহে এর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
এক বিবৃতিতে কৌঁসুলির কার্যালয় জানিয়েছে, ইলন মাস্ক এবং এক্সের সাবেক প্রধান নির্বাহী লিন্ডা ইয়াকারিনোকে এপ্রিল মাসে শুনানিতে হাজির হওয়ার জন্য তলব করা হয়েছে।
এদিকে এক্স এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে এর আগে প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিরুদ্ধে তদন্তকে বাকস্বাধীনতার ওপর আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেছিল।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তদন্ত শুরুর সময় ফ্রান্সের কৌঁসুলিরা এক্স প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদমের মাধ্যমে সুপারিশ করা কনটেন্ট খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। পরে জুলাইয়ে তদন্তের পরিধি বাড়িয়ে এতে বিতর্কিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট গ্রোককেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এক্স ওই সময় দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ উল্লেখ করে এবং অ্যালগরিদম কারসাজির অভিযোগ অস্বীকার করে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এক্সের কার্যালায়ে তল্লাশির পর কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, তারা এখন একাধিক ক্ষেত্রে এক্স আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।
এক্স যেসব অপরাধ করেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, শিশুদের পর্নোগ্রাফিক ছবি সংরক্ষণ বা সংগঠিতভাবে বিতরণে সহায়তা করা, ডিপফেক পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে ব্যক্তির ভাবমূর্তি লঙ্ঘন এবং সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর মাধ্যমে প্রতারণামূলক তথ্য আহরণ।
অন্যদিকে ভিন্ন আরেক ঘটনায় যুক্তরাজ্যের তথ্য কমিশনারের কার্যালয় (আইসিও) ইলন মাস্কের এআইভিত্তিক চ্যাটবট গ্রোকের বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। গ্রোকের ক্ষতিকারণ যৌনতামূলক ছবি ও ভিডিও কন্টেন্ট বানানোর আশঙ্কার কারণে নেওয়া হয়েছে এ পদক্ষেপ।
মন্তব্য করুন








