যুক্তরাজ্যের ফিলিস্তিনিপন্থি সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের’ ওপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা বেআইনি বলে রায় দিয়েছে ইংল্যান্ডের হাইকোর্ট। টানা এক মাসের আইনি লড়াই শেষে সংগঠনটির ওপর ব্রিটিশ সরকারের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে রায় দিল আদালত। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে ভোটাভুটির মাধ্যমে ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনকারী এই সংগঠনকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে নিষিদ্ধ করা হয়। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
ইংল্যান্ড হাইকোর্টের বিচারপতি ভিক্টোরিয়া শার্প বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা বাকস্বাধীনতা ও সমাবেশের স্বাধীনতার ওপর গুরুতর হস্তক্ষেপ করেছে। আদালত মনে করেছে, সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত ছিল বৈষম্যমূলক। তবে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
রায়ে আরও বলা হয়, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মানদণ্ড অনুযায়ী ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর খুব অল্প কিছু কর্মকাণ্ডই ‘সন্ত্রাসী’ কার্যক্রমের মধ্যে পড়তে পারে। এই রায় আসে সংগঠনটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা হুদা আম্মোরির করা বিচারিক পর্যালোচনার আবেদনের পর। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তিনি নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় হুদা আম্মোরি একে ব্রিটেনে মৌলিক স্বাধীনতা ও ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য একটি স্মরণীয় বিজয় বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এটি সাম্প্রতিক ব্রিটিশ ইতিহাসে বাকস্বাধীনতার ওপর সবচেয়ে কঠোর আক্রমণের একটি সিদ্ধান্তকে বাতিল করেছে।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে জারি করা এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ব্রিটেনের সন্ত্রাসবাদ আইনের অধীনে সংগঠনটির সদস্য হওয়া, প্রকাশ্যে সমর্থন জানানো বা প্রতীক প্রদর্শন করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এর শাস্তি সর্বোচ্চ ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড। নিষেধাজ্ঞার পর থেকে যুক্তরাজ্যজুড়ে শত শত মানুষ সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত হন।
সরকার এই সিদ্ধান্ত নেয়, যখন গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে কর্মীরা দক্ষিণ ইংল্যান্ডের একটি বিমানঘাঁটিতে ঢুকে দুটি বিমানের প্রায় ৭ মিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতি করেন।
লিখিত দাখিলে স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানায়, কারও প্রাণহানি বা সহিংসতা না ঘটলেও বড় ধরনের সম্পত্তির ক্ষতি হলে তা সন্ত্রাসবাদ হিসেবে ধরা যেতে পারে। তারা আরও বলে, নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোকে প্রচার ও অর্থ সহায়তা থেকে বঞ্চিত করাই এ সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের আইনজীবী নাতাশা বার্নস বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা ফিলিস্তিনের পক্ষে বা গাজায় ইসরায়েলের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ থেকে মানুষকে বিরত রাখেনি।
মন্তব্য করুন








