ঢাকা, বাংলাদেশ ||
মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ||

দেশ ছেড়ে পালানোর সময় ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী গ্রেপ্তার

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক, আন্তর্জাতিক

  ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩০
ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী গালুশচেঙ্কো। ছবি: সংগৃহীত

দেশ ছেড়ে পালানোর সময় ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী গেরমান গালুশচেঙ্কো গ্রেপ্তার হয়েছেন। দেশটির জাতীয় দুর্নীতি দমন ব্যুরো এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে আলজাজিরা।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

এর আগে নভেম্বরে এক দুর্নীতি কেলেঙ্কারির মধ্যে তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর ইউক্রেনের সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করা সময় তিনি গ্রেপ্তার হন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ ইউক্রেনের সীমান্ত অতিক্রম করার সময় জাতীয় দুর্নীতি দমন ব্যুরোর গোয়েন্দারা ‘মিডাস’ মামলার অংশ হিসেবে সাবেক এ জ্বালানিমন্ত্রীকে আটক করেছে। এ মামলাটি মূলত জ্বালানি খাতে অবৈধ আর্থিক লেনদেনে সহায়তা সংক্রান্ত মামলা। তবে দেশটির দুর্নীতি দমন ব্যুরো তাদের বিবৃতিতে গালুশচেঙ্কোর নাম উল্লেখ করেনি। এর আগে তিনি গত বছর দেশের জ্বালানিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং নভেম্বরে পদত্যাগ করেছিলেন।

ইউক্রেনের জাতীয় দুর্নীতি দমন ব্যুরো জানিয়েছে, আইন ও আদালতের বিধি অনুসারে প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এর আগে ২০২৫ সালে তার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের জ্বালানি খাতে অর্থ পাচারের একটি কথিত ষড়যন্ত্র উন্মোচন করা হয়। তখন গালুশচেঙ্কো পদত্যাগ করেন।

ইউক্রেনের বিশেষায়িত দুর্নীতি দমন প্রসিকিউটরের দপ্তরের (এসএপিও) তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি খাতে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের লেনদেন ব্যবসায়ী তৈমুর মিনদিচের মাধ্যমে হয়েছিল।

এসএপিওর তদন্তকারীরা বলেছেন, মিনদিচকে জ্বালানি খাতে অবৈধ আর্থিক প্রবাহ পরিচালনা করতে সহায়তা করেছিলেন গালুশচেঙ্কো । এ ছাড়া তার মন্ত্রিত্বের সময় এনারগোটমের সঙ্গে কাজ করা ঠিকাদারদের চুক্তি হারানো বা অর্থ প্রদানের বিলম্ব এড়াতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।

মন্তব্য করুন

২০২৫ সালে ইউক্রেনে বেসামরিক হতাহত বেড়েছে ২৬ শতাংশ
টানা তিন বছর ধরে চলা রাশিয়া ও ইউক্রেন সংঘাত বন্ধের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইতোমধ্যেই দুপক্ষের হাজার হাজার সেনাসহ বেসামরিক নিহত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কয়েক বিলিয়ন ডলার। বিশ্ব অর্থনীতিতেও এই সংঘাতের প্রভাব স্পষ্ট। এর মধ্যেই হতাশাজনক এক গবেষণা প্রতিবেদন সামনে এলো। খবর দ্য গার্ডিয়ানের। ২০২৫ সালে ইউক্রেনে বোমা হামলার ফলে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিশ্বব্যাপী সংঘাত পর্যবেক্ষণ গ্রুপ অ্যাকশন অন আর্মড ভায়োলেন্স (এওএভি) জানিয়েছে। দেশটির শহর ও অবকাঠামো আস্তে আস্তে রাশিয়ার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। এওএভি জানিয়েছে, এ সময়ে ইউক্রেনে বোমা হামলায় ২ হাজার ২৪৮ জন বেসামরিক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৪৯৩ জন ২০২৫ সালে হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ প্রতি হামলায় গড়ে ৪ দশমিক ৮ জন ইউক্রেনীয় বেসামরিক নিহত বা আহতের খবর পাওয়া গেছে। এই সংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি। গত বছরের ২৪ জুন সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হয়। রাশিয়ান ক্ষেপণাস্ত্র একটি যাত্রীবাহী ট্রেন, অ্যাপার্টমেন্ট ও স্কুলগুলোতে আঘাত হানে। এতে করে ২১ জন নিহত হয়। আহত ৩১৪ জনের ৩৮ জনই শিশু। এওএভির নির্বাহী পরিচালক ইয়ান ওভারটন বলেছেন, বর্তমান পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে যে ‘ইউক্রেনসহ একাধিক যুদ্ধে সংযম কমে যাচ্ছে’ এবং যুদ্ধে আনুপাতিকতা বা সীমা মানার যে নীতি আছে, ‘তা ভেঙে পড়ছে’। সামরিক সুবিধা পেতে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষ বা অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানানো আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজা, সুদান, কঙ্গো ও ইউক্রেনসহ বিভিন্ন সংঘাতে এই নীতি লঙ্ঘনের ঘটনা বাড়ছে। ওভারটন বলেন, ‘হোমস, আলেপ্পো, মারিউপোল থেকে গাজা; বছরের পর বছর আমরা এই ধ্বংস দেখছি। এখন পার্থক্য হলো, দায়ীদের জবাবদিহি করানোর মতো কার্যকর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রায় নেই।’ ২০২৫ সালে ইউক্রেনজুড়ে প্রায় প্রতি রাতেই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। একই রকম আক্রমণ ২০২৬ সালের এখন অবধি চলছে। অব্যাহত হামলার ধরন দেখে বলাই যায়, যদি যুদ্ধবিরতি বা আপস না হয় তাহলে বছরের বাকি সময়টাও হামলা চলবে। এতে লাখো মানুষ বিদ্যুৎ, তাপ ও পানির সংকটে পড়েন। গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে ইউক্রেনে ৮০৫টি ড্রোন ও ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়, যা ছিল যুদ্ধের সবচেয়ে বড় বিমান হামলা। এওএভি বিশ্বজুড়ে বিস্ফোরক সহিংসতায় বেসামরিক হতাহতের তথ্য ইংরেজি ভাষার সংবাদ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংগ্রহ করে। তবে ভাষাগত সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে তারা জানায়। ২০২৪ সালের তুলনায় কমেছে বেসামরিক হতাহত বিশ্বব্যাপী ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা ২৬ শতাংশ কমেছে। এর বড় কারণ ছিল অক্টোবরে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি। ২০২৫ সালে গাজায় এওএভি ১৪ হাজার ২৪ জন বেসামরিক হতাহতের তথ্য নথিভুক্ত করেছে। এটি ২০২৪ সালের তুলনায় ৪০ শতাংশ কম। গত মাসে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, গাজার কর্তৃপক্ষ যে মৃতের সংখ্যা প্রকাশ করেছে তা মোটামুটি সঠিক। একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী নিহত ৭২ হাজার ৬১ জন এবং আহত ১ লাখ ৭১ হাজার ৭১৫ জন। ২০২৫ সালেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২৫ হাজার ৭১৮ জন নিহত ও ৬২ হাজার ৮৫৪ জন আহতের তথ্য দিয়েছে। কেবল ইংরেজি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রকৃত সংখ্যা পুরোপুরি উঠে আসছে না। এওএভির হিসাবে, ২০২৫ সালে বিশ্বে ৪৫ হাজার ৩৫৮ জন বেসামরিক হতাহত হয়েছেন। এর মধ্যে নিহত ১৭ হাজার ৫৮৯ জন এবং আহত ২৭ হাজার ৭৬৯ জন। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ৬১ হাজার ৩৫৩। বিস্ফোরক সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে ইসরায়েলের সঙ্গে জড়িত সংঘাতে, যা সামান্য ব্যবধানে রাশিয়ার চেয়ে বেশি। ২০২৫ সালে মোট হতাহতের ৩৫ শতাংশ ইসরায়েল-সম্পর্কিত এবং ৩২ শতাংশ রাশিয়া-সম্পর্কিত সংঘাতে হয়েছে। এরপর সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে সুদান (৫ হাজার ৪৩৮) ও মিয়ানমারে (৩ হাজার ১৭৮)।
২০২৫ সালে ইউক্রেনে বেসামরিক হতাহত বেড়েছে ২৬ শতাংশ
হাইকোর্টের রায় / প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের ওপর যুক্তরাজ্য সরকারের নিষেধাজ্ঞা বেআইনি
যুক্তরাজ্যের ফিলিস্তিনিপন্থি সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের’ ওপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা বেআইনি বলে রায় দিয়েছে ইংল্যান্ডের হাইকোর্ট। টানা এক মাসের আইনি লড়াই শেষে সংগঠনটির ওপর ব্রিটিশ সরকারের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে রায় দিল আদালত। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে ভোটাভুটির মাধ্যমে ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনকারী এই সংগঠনকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে নিষিদ্ধ করা হয়। খবর দ্য গার্ডিয়ানের। ইংল্যান্ড হাইকোর্টের বিচারপতি ভিক্টোরিয়া শার্প বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা বাকস্বাধীনতা ও সমাবেশের স্বাধীনতার ওপর গুরুতর হস্তক্ষেপ করেছে। আদালত মনে করেছে, সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত ছিল বৈষম্যমূলক। তবে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। রায়ে আরও বলা হয়, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মানদণ্ড অনুযায়ী ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর খুব অল্প কিছু কর্মকাণ্ডই ‘সন্ত্রাসী’ কার্যক্রমের মধ্যে পড়তে পারে। এই রায় আসে সংগঠনটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা হুদা আম্মোরির করা বিচারিক পর্যালোচনার আবেদনের পর। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তিনি নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় হুদা আম্মোরি একে ব্রিটেনে মৌলিক স্বাধীনতা ও ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য একটি স্মরণীয় বিজয় বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এটি সাম্প্রতিক ব্রিটিশ ইতিহাসে বাকস্বাধীনতার ওপর সবচেয়ে কঠোর আক্রমণের একটি সিদ্ধান্তকে বাতিল করেছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে জারি করা এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ব্রিটেনের সন্ত্রাসবাদ আইনের অধীনে সংগঠনটির সদস্য হওয়া, প্রকাশ্যে সমর্থন জানানো বা প্রতীক প্রদর্শন করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এর শাস্তি সর্বোচ্চ ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড। নিষেধাজ্ঞার পর থেকে যুক্তরাজ্যজুড়ে শত শত মানুষ সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত হন। সরকার এই সিদ্ধান্ত নেয়, যখন গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে কর্মীরা দক্ষিণ ইংল্যান্ডের একটি বিমানঘাঁটিতে ঢুকে দুটি বিমানের প্রায় ৭ মিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতি করেন। লিখিত দাখিলে স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানায়, কারও প্রাণহানি বা সহিংসতা না ঘটলেও বড় ধরনের সম্পত্তির ক্ষতি হলে তা সন্ত্রাসবাদ হিসেবে ধরা যেতে পারে। তারা আরও বলে, নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোকে প্রচার ও অর্থ সহায়তা থেকে বঞ্চিত করাই এ সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের আইনজীবী নাতাশা বার্নস বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা ফিলিস্তিনের পক্ষে বা গাজায় ইসরায়েলের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ থেকে মানুষকে বিরত রাখেনি।
প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের ওপর যুক্তরাজ্য সরকারের নিষেধাজ্ঞা বেআইনি
এরদোয়ানের মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল
তুরস্কের মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল করেছে দেশটির সরকার। দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে স্বরাষ্ট্র ও বিচারমন্ত্রীকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইয়রলিকায়ার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন মুস্তফা সিফতসি। আর বিচারমন্ত্রী ইলমাজ টুনচের পরিবর্তে দায়িত্ব পেয়েছেন আকিন গুরলেক। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ডেইলি সাবাহ ও তুর্কি টুডের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আগের দিন ডিক্রি জারি করেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। এ সংক্রান্ত গেজেটও প্রকাশ করেছে তুর্কি সরকার। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির অনুরোধ জানানোর পর টুনচ পদত্যাগ করেন। অন্যদিকে, আলী ইয়ারলিকায়ার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন মুস্তাফা সিফতসি। এক বিবৃতিতে ইয়রলিকায়া জানান, তিনি তার ‘প্রিয় ভাই’ মুস্তফা সিফতসির কাছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হস্তান্তর করছেন। দায়িত্ব পালনের সময় প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থনের জন্যও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিদায়ী বিচারমন্ত্রী টুনচও আলাদা এক বিবৃতিতে জাতির ভবিষ্যতের জন্য ‘প্রথম দিনের মতো একই উৎসাহ নিয়ে’ কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি নতুন বিচারমন্ত্রী গুরলেককে অভিনন্দন জানিয়ে নতুন দায়িত্বে তার ‘অসাধারণ সাফল্য’ কামনা করেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তুরস্কের মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে জোরালো আলোচনা চলছিল। সদ্য বিদায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইয়রলিকায়াকে ঘিরে ক্ষমতাসীন একে পার্টি ও তাদের জাতীয়তাবাদী মিত্র ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টির (এমএইচপি) মধ্যে রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে গুঞ্জন ওঠে। তবে এসব দাবি মূলত বিরোধীপন্থি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে; শাসক দল বা তাদের মিত্ররা আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিশ্চিত করেনি। অন্যদিকে, অর্থমন্ত্রী মেহমেত সিমসেক তার কড়াকড়ি অর্থনৈতিক নীতির কারণে একে পার্টির কিছু মহলের সমালোচনা ও অপসারণের দাবি সত্ত্বেও পদে বহাল রয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, তার বহাল থাকা বর্তমান অর্থনৈতিক নীতির প্রতি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সমর্থন ও আস্থারই ইঙ্গিত দেয়।
এরদোয়ানের মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল
আলজাজিরার অনুসন্ধান / অবৈধ ইসরায়েলি বসতি বাঁচাতে কাজ করছে জায়ান্ট শিপিং কোম্পানি
বিশ্বের বৃহত্তম কনটেইনার শিপিং কোম্পানি ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের অবৈধ দখলদার ইসরায়েলিদের পণ্য পরিবহনে সহায়তা করছে—এমন তথ্য উঠে এসেছে আলজাজিরা ও ফিলিস্তিনি যুব আন্দোলনের (প্যালেস্টিনিয়ান ইয়ুথ মুভমেন্ট-পিওয়াইএম) যৌথ অনুসন্ধানে। আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট দায়বদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ যখন ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখছে, তখন এই ভূমিকা আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, সুইজারল্যান্ডভিত্তিক মেডিটেরেনিয়ান শিপিং কোম্পানি (এমএসসি) নিয়মিতভাবে অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবস্থিত ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য পরিবহন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি সংক্রান্ত বাণিজ্যিক ডেটাবেস থেকে সংগৃহীত নথিতে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত এমএসসি অন্তত ৯৫৭টি চালান যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছে, যেগুলোর উৎস ছিল পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরায়েলি বসতি। এর মধ্যে ৫২৯টি চালান ইউরোপের বিভিন্ন বন্দরের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়েছে। এসব বন্দরের মধ্যে স্পেনের ৩৯০, পর্তুগালের ১১৫, নেদারল্যান্ডসের ২২ ও বেলজিয়ামের দুটি বন্দর হয়ে এসব চালান যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। এমএসসি একটি বেসরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। এর মালিক ইতালীয় ধনকুবের জিয়ানলুইজি আপন্তে ও তার স্ত্রী রাফায়েলা আপন্তে-দিয়ামান্ত। রাফায়েলা ১৯৪৫ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ শাসিত ফিলিস্তিনের হাইফা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক নিকোলা পেরুজিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হয়। কারণ এগুলো অধিকৃত ভূখণ্ডে নির্মিত। যা চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের সরাসরি লঙ্ঘন। এসব বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্যিকীকরণ কার্যত এই অবৈধ ব্যবস্থাকেই সমর্থন করে।’ আলজাজিরার অনুসন্ধানে এসব অবৈধ বসতি–ভিত্তিক বাণিজ্যের একটি সীমিত অংশই উঠে এসেছে। কারণ ইসরায়েল ও ইউরোপের অধিকাংশ দেশের আমদানি–রপ্তানি তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় না। তবু এসব নথিতে স্পষ্ট হয়েছে, খাদ্যপণ্য, বস্ত্র, প্রসাধনী ও প্রাকৃতিক পাথরসহ নানান পণ্য পরিবহনে ইউরোপীয় বন্দর ও আন্তর্জাতিক কার্গো শিপিং কোম্পানির ওপর ইসরায়েলের এসব অবৈধ বসতির অর্থনীতি কতটা নির্ভরশীল। পেরুজিনি বলেন, ‘অবৈধ বসতির সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করা উচিত। একটি অবৈধ দখলদারিত্ব থেকে অর্জিত মুনাফাকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক বা বৈধ করা যায় না।’ অবৈধ বসতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অবস্থান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালে ইসরায়েলি বসতি বিষয়ে দীর্ঘদিনের অবস্থান বিপরীতমুখী রূপ নেয়। ওয়াশিংটন ঘোষণা করে, এসব বসতি আন্তর্জাতিক আইনে ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবৈধ নয়’। ট্রাম্প ২০২৫ সালে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পরও এই নীতি বহাল রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন পশ্চিম তীরের বসতির ওপর ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব স্বীকার না করলেও এবং এগুলোকে ‘শান্তির পথে অন্তরায়’ বললেও, অনুসন্ধানে দেখা গেছে ইউরোপীয় বন্দর থেকেই সরাসরি অবৈধ বসতিতে পণ্য পাঠানো হয়েছে। ইতালির রপ্তানি তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫ সালে এমএসসি অন্তত ১৪টি চালান ইতালি থেকে অবৈধ বসতিতে পাঠিয়েছে। সব চালানই মধ্য ইতালির আদ্রিয়াতিক উপকূলবর্তী রাভেনা বন্দর থেকে পাঠানো হয়েছে। যেখানে প্রকাশ্যেই এসব ইসরায়েলি অবৈধ বসতির নাম ও পোস্টকোড উল্লেখ ছিল। এই বাণিজ্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক মতামতের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ওই মতামতে বলা হয়, তৃতীয় রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব হলো—ইসরায়েলের অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সৃষ্ট অবৈধ পরিস্থিতি বজায় রাখতে সহায়তাকারী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক প্রতিরোধ করা। যদিও এই মতামতে এমএসসির মতো বেসরকারি করপোরেশনের দায়বদ্ধতা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। ইউরোপের যেসব বন্দর দিয়ে ইসরায়েলি অবৈধ বসতির পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠায় এমএসসি। ছবি: আলজাজিরা ২০২৫ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বান জানায়, তারা যেন অবৈধ ইসরায়েলি বসতির প্রতিষ্ঠা, সম্প্রসারণ বা সেখানে প্রাকৃতিক সম্পদের শোষণে অবদান রাখা থেকে বিরত থাকে। একই সঙ্গে, ২০২৪ সালে গৃহীত ইউরোপীয় ইউনিয়নের করপোরেট সাসটেইনেবিলিটি নির্দেশিকায় বড় কোম্পানিগুলোকে তাদের কার্যক্রমে মানবাধিকার ও পরিবেশগত ক্ষতির ঝুঁকি শনাক্ত ও প্রতিরোধের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। ফিলিস্তিনি-পন্থী তৃণমূল সংস্থা পিওয়াইএম আগের বছর জানিয়েছিল, ডেনমার্কের শিপিং কোম্পানি মায়ার্স্কও অবৈধ বসতির বাণিজ্যে জড়িত ছিল। এমএসসি ২০২২ সালে মায়ার্স্ককে ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কনটেইনার কোম্পানিতে পরিণত হয়। এমএসসি আলজাজিরাকে দেওয়া বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা যেখানেই কার্যক্রম চালায়, সেখানকার বৈশ্বিক আইনি কাঠামো ও বিধিবিধান সম্মান করে এবং এই নীতি ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অবৈধ বসতির অর্থনীতি জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীরের এরিয়া ‘সি’, যা মোট ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশেরও বেশি এবং ইসরায়েলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে গড়ে ওঠা ইসরায়েলি বসতিগুলো প্রতিবছর ইসরায়েলের অর্থনীতিতে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার অবদান রাখছে। এর বিপরীতে, ইসরায়েলের আরোপিত প্রশাসনিক ও শারীরিক বাধার কারণে ফিলিস্তিনি ব্যবসা কার্যত পঙ্গু হয়ে পড়েছে। এর ফলে ২০০০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পশ্চিম তীরের অর্থনীতি সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৭০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে ধারণা করা হয়। সম্প্রতি ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরের কেন্দ্রভাগে অবৈধ বসতি নির্মাণ আরও জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বহুল আলোচিত ই-১ প্রকল্প, যা বাস্তবায়িত হলে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং পূর্ব জেরুজালেম আরও একঘরে হয়ে পড়বে। এই প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান মাআলে আদুমিম বসতির পাশে প্রায় ৩ হাজার ৫০০টি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইসরায়েলের চরম ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ প্রকাশ্যে বলেছেন, এই প্রকল্প কার্যত একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণাকে ‘কবর দেবে’। গত আগস্টে ইতালি ও স্পেনসহ ২১টি দেশ এই পরিকল্পনাকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানায়। দেশগুলো সতর্ক করে বলেছে, এ উদ্যোগ আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। আলজাজিরা ও প্যালেস্টিনিয়ান ইয়ুথ মুভমেন্ট (পিওয়াইএম)-এর হাতে আসা বিল অব লেডিং নথিতে দেখা গেছে, এমএসসি অন্তত দুটি কোম্পানির পক্ষে পণ্য পরিবহন করেছে, যাদের ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ ছিল মাআলে আদুমিম এবং মিশোর আদুমিম সংলগ্ন শিল্পাঞ্চল। কনফেকশনারি পণ্যের পাইকারি সরবরাহকারী ‘মায়া’ ১৪টি চালানের মধ্যে ১৩টিতেই ঠিকানায় মিশোর আদুমিম উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘এক্সটাল’, যার সঙ্গে ইসরায়েলি অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (আইএআই) ও রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমসের অংশীদারিত্ব রয়েছে। তাদের মোট ৩৮টি চালানেই মিশোর আদুমিম শিল্পাঞ্চলকে ঠিকানা হিসেবে দেখিয়েছে। এক্সটাল জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) সেই ১৫৮টি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, যেগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পরিচালিত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও অন্তত তিনটি ক্ষেত্রে এমএসসি এমন অবৈধ বসতিভিত্তিক কোম্পানির পক্ষে পণ্য পরিবহন করেছে, যেগুলোর নাম ওএইচসিএইচআরের ডেটাবেসে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বজুড়ে পরিচিত প্রসাধনী ব্র্যান্ড আহাভা ডেড সি ল্যাবরেটরিজের ১৭টি চালান। প্রতিষ্ঠানটি ফিলিস্তিনি প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠনের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র সমালোচনার মুখে। নথিতে তালিকাভুক্ত বসতিভিত্তিক কোম্পানিগুলোর একটি বড় অংশের অবস্থান বারকান শিল্পাঞ্চলে, যা অধিকৃত পশ্চিম তীরের অন্যতম বৃহৎ শিল্প এলাকা। এই অঞ্চলটি ব্যক্তি মালিকানাধীন ফিলিস্তিনি কৃষিজমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে। গত দুই দশকে এর ধারাবাহিক সম্প্রসারণের ফলে আশপাশের ফিলিস্তিনি গ্রামগুলো খণ্ডিত, বিচ্ছিন্ন ও অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
অবৈধ ইসরায়েলি বসতি বাঁচাতে কাজ করছে জায়ান্ট শিপিং কোম্পানি
সাজা পুনর্বিবেচনা চান নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলাকারী
নিউজিল্যান্ডে ২০১৯ সালে দুটি মসজিদে গুলি চালিয়ে ৫১ জনকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত ব্রেন্টন ট্যারান্ট তার শাস্তি বাতিল চেয়ে আপিল করেছেন। এপির খবরে জানানো হয়, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত এই হত্যাকারী সম্প্রতি আদালতে দাবি করেছেন, বিচার চলাকালে ‘অমানবিক’ ও ‘নির্যাতনমূলকভাবে’ আটক রাখার কারণে তার যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবস্থা ছিল না। আর এ কারণে তিনি দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। তবে এখন আগের দেওয়া সেই জবানবন্দি বাতিল করতে চান তিনি। উল্লেখ্য, প্যারোল ছাড়া যাবজ্জীবন নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ শাস্তি। অস্ট্রেলীয় নাগরিক ও সাবেক জিম প্রশিক্ষক ট্যারান্ট ভয়াবহ ওই গণহত্যার দায় স্বীকার করার পর ২০২০ সালের আগস্টে তাকে এ শাস্তি দেওয়া হয়। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) তিনি শাস্তি বাতিল চেয়ে আদালতে আপিল করেছেন। আপিল শুনানিতে আদালতে উপস্থিতির ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।  কেবল আইনজীবী, গণমাধ্যমকর্মী ও আদালতের কর্মকর্তাদেরই সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। হামলায় নিহত বা আহতদের পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের ক্রাইস্টচার্চে এক ঘণ্টা পরে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে শুনানি দেখার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যম জানায়, নির্ধারিত সময়ের বাইরে আপিল করায় মামলাটি এগিয়ে নিতে ট্যারান্টকে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। ওয়েলিংটনে কোর্ট অব আপিল যদি তার দণ্ড বহাল রাখে, তবে চলতি বছরের শেষের দিকে তার সাজা নিয়ে আলাদা শুনানি হতে পারে। ২০১৯ সালের ১৫ মার্চ আধা-স্বয়ংক্রিয় বেশ কয়েকটি অস্ত্র নিয়ে ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর বন্দুক হামলা চালান ট্যারান্ট। হামলার আগে তিনি অনলাইনে একটি বার্তা প্রকাশ করেন এবং ১৭ মিনিট ধরে ওই হত্যাযজ্ঞ লাইভস্ট্রিম করেন। নির্মম ওই হত্যাযজ্ঞে নিহতদের মধ্যে শিশু, নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিরাও ছিলেন। লিনউড মসজিদে ট্যারান্টের গুলিতে নিহত হুসেইনের বোন আয়া আল-উমারি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘সাজা ঘোষণার সময় আমি ভেবেছিলেন, এটাই শেষ। কিন্তু ছয় বছর পর এমনটা করা যায়, তা জানা ছিল না। আমি এর জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না।’
সাজা পুনর্বিবেচনা চান নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলাকারী
ইউক্রেনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় শিশুসহ নিহত ৪
ইউক্রেনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এক নারী এবং তার শিশুসহ কমপক্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। দেশটির স্থানীয় কর্মকর্তারা এসব তথ্য দিয়েছেন। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়ান সেনারা ইউক্রেনজুড়ে ১১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৪৯ ড্রোন হামলা করেছে। খবর আলজাজিরা ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় বোহোদুখিভ শহরের একটি আবাসিক এলাকায় রুশ হামলায় এক নারী ও তার ১০ বছর বয়সি ছেলে এবং উত্তর চেরনিহিভ অঞ্চলের ৭১ বছর বয়সি এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। আঞ্চলিক গভর্নর ওলেহ কিপারের মতে, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর শহর ওডেসায় আরও একজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন। কিপার বলেন, এলাকার একটি ভবনে চালানো হামলায় আবাসিক অবকাঠামো এবং গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এভাবে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে হামলা করে রুশরা যুদ্ধাপরাধ করছে।  গভর্নর ওলেক্সান্ডার হানজার মতে, দক্ষিণ-পূর্ব ডিনিপ্রোপেট্রোভস্ক অঞ্চলে ড্রোন হামলায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীসহ কমপক্ষে ৯ জন আহত হয়েছেন। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে দেশটি ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার কথা অস্বীকার করেছে। হিম শীতল আবহাওয়ার মধ্যে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে রুশরা মূলত শীতকালীন অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
ইউক্রেনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় শিশুসহ নিহত ৪
পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভূমিধস জয় বামপন্থি সেগুরোর
পর্তুগালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় দফায় ভূমিধস জয় পেয়েছেন সোশ্যালিস্ট পার্টির প্রার্থী অ্যান্তোনিও হোসে সেগুরো। এবারের নির্বাচনে সেগুরোর বিজয়কে মধ্যপন্থি ও বামপন্থি শক্তির বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর আল-জাজিরার। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অতি-ডানপন্থি আন্দ্রে ভেনচুরাকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন তিনি। আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশটির মসনদে বসতে যাচ্ছেন সেগুরো। আংশিক ফলাফল অনুযায়ী, ৯৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষে ৬৩ বছর বয়সি সেগুরো পেয়েছেন প্রায় ৬৬ শতাংশ ভোট। বিপরীতে ভেনচুরা পেয়েছেন ৩৪ শতাংশ ভোট। যদিও তিনি হেরে গেছেন, তবু আগের নির্বাচনের তুলনায় তার সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত বছরের সাধারণ নির্বাচনে তার দল চেগা পেয়েছিল ২২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট। দুটি এক্সিট পোলে দেখা গেছে, সেগুরোর ভোট পাওয়ার হার ৬৭-৭৩ শতাংশের মধ্যে এবং ভেনচুরার ২৭-৩৩ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। লিসবন ও পোর্তোর মতো বড় শহরগুলোর ভোট গণনা শেষে এই ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়েছে। পর্তুগালের রাজনীতিতে গত ৪০ বছরের মধ্যে এটিই প্রথম কোনো নির্বাচন, যা দ্বিতীয় দফায় গড়িয়েছে। প্রথম দফার নির্বাচনে কোনো প্রার্থীই এককভাবে ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় এই রান-অফ বা দ্বিতীয় দফার ভোটের আয়োজন করা হয়।  প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনিগ্রো অবশ্য দ্বিতীয় দফায় কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেননি। তার নেতৃত্বাধীন সংখ্যালঘু সরকার সংসদে আইন পাসের ক্ষেত্রে সমাজতান্ত্রিক বা অতি ডানপন্থিদের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল। আগামী মার্চের শুরুতে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে অ্যান্তোনিও হোসে সেগুরো বিদায়ী প্রেসিডেন্ট মার্সেলো রেবেলো ডি সুসার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভূমিধস জয় বামপন্থি সেগুরোর
প্রিন্স উইলিয়ামের সৌদি সফর কেন কূটনৈতিক গোলকধাঁধা?
যুক্তরাজ্য সরকারের অনুরোধে সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন প্রিন্স উইলিয়াম। রাজকীয় সূত্র বলছে, এই সফর নিয়ে তার কোনো দ্বিধা ছিল না। ‘প্রিন্স অব ওয়েলস’ হিসেবে দায়িত্বকে তিনি গুরুত্বের সঙ্গে নেন, আর সরকার চাইলে তিনি প্রতিনিধিত্ব করতেই প্রস্তুত থাকেন। খবর বিবিসির। তবে এই সফরটি বেশ সংবেদনশীল। এস্তোনিয়া বা ব্রাজিলের মতো আগের সফরগুলোর চেয়ে সৌদি আরবের প্রেক্ষাপট অনেক বেশি জটিল। দেশটি একদিকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের পথে হাঁটছে, অন্যদিকে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র সমালোচনার মুখে। সফরে সৌদি আরবের শক্তি রূপান্তর, তরুণ সমাজ ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। প্রিন্স উইলিয়াম এমন এক সৌদি আরব দেখছেন, যা তার দাদি রানি এলিজাবেথের সময়কার সৌদি আরবের চেয়ে অনেকটাই আলাদা, যদিও দেশটিতে এখনও কর্তৃত্ববাদী রাজতন্ত্র বিদ্যমান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরবে বড় বড় বিনোদন ও ক্রীড়া আয়োজন বেড়েছে। কমেডি ফেস্টিভ্যাল, চলচ্চিত্র উৎসব, ফর্মুলা ওয়ান রেস এবং ২০৩৪ ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে দেশটি। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এসব আয়োজনের মাধ্যমে সৌদি নেতৃত্ব নিজেদের মানবাধিকার রেকর্ড আড়াল করার চেষ্টা করছে। এই সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে প্রিন্স উইলিয়ামের সাক্ষাৎ। যুবরাজ দেশটির কার্যত শাসক হলেও তিনি বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব। ২০১৮ সালে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা রয়েছে, যদিও সৌদি আরব এসব অভিযোগ অস্বীকার করে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবে যেসব বিশ্বনেতা গেছেন, তা দেখলেই দেশটির আন্তর্জাতিক প্রভাব বোঝা যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার সবাই সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করেছেন। এমনকি জো বাইডেনও ২০২২ সালের সমালোচনার মুখে জেদ্দায় গিয়ে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। অথচ একসময় সৌদি আরবকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য ‘অসভ্য রাষ্ট্র’ বানানোর কথা বলেছিলেন বাইডেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতে তিনি সৌদি যুবরাজের সঙ্গে কথা বলতেই রাজি হননি। কিন্তু দেড় বছর পর নিজেই জেদ্দায় যুবরাজের প্রাসাদে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন। সফরের আগে প্রিন্স উইলিয়ামকে সৌদি আরবের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিশেষ করে নারী অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সমকামী সম্পর্ক অপরাধীকরণের মতো বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কূটনৈতিক সীমার মধ্যেই তিনি এসব সংবেদনশীল বিষয় আলোচনায় আনতে পারেন। এই সফর এমন একসময়ে হচ্ছে, যখন ব্রিটিশ রাজপরিবার নিজেও নানা বিতর্কে চাপে রয়েছে। তবু যুক্তরাজ্য সরকার সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারকে কৌশলগতভাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। সে কারণেই প্রভাবশালী প্রতিনিধি হিসেবে প্রিন্স উইলিয়ামকে পাঠানো হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে আগ্রহী, আর প্রিন্স উইলিয়ামের উপস্থিতি তাদের কাছে সেই গুরুত্বের বার্তা দেয়। তবে মানবাধিকারকর্মীদের অনেকের কাছেই যুবরাজের সঙ্গে উইলিয়ামের ছবি দেখা অস্বস্তিকর হবে। ব্রিটিশ রাজপরিবার দীর্ঘদিন ধরেই ‘নরম কূটনীতি’র মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে তোলার কৌশলে বিশ্বাসী। ধারণা করা হচ্ছে, এই সফরও সেই ধারাবাহিকতার অংশ যেখানে ব্যক্তিগত সম্পর্কের মাধ্যমে কঠিন বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার পথ তৈরি করা। প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তিদের মতে, এই সফর তাকে একজন বৈশ্বিক রাষ্ট্রনেতা হিসেবে গড়ে ওঠার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে। সফরে তার মূল দায়িত্ব হবে যুক্তরাজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলে সম্পর্ক আরও শক্ত করা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার পথ সুগম করা।
প্রিন্স উইলিয়ামের সৌদি সফর কেন কূটনৈতিক গোলকধাঁধা?
এবার মস্কোতে রুশ জেনারেল গুলিবিদ্ধ
রাজধানী মস্কোতে এক রুশ জেনারেলকে হত্যাচেষ্টায় পর পর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন হামলাকারী। গুলিবিদ্ধ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভ্লাদিমির আলেকসেয়েভকে হাসপাতলে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) মস্কোর ভোলোকোলামস্কয় হাইওয়ের একটি আবাসিক ভবনে হামলার শিকার হন এই রুশ কর্মকর্তা। বিবিসি জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ আলেকসেয়েভ রাশিয়ার সামরিক জেনারেল স্টাফের প্রধান গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (জিআরইউ) একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর মস্কোতে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি কর্তৃপক্ষ। গত বছর মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের প্রতিবেদনের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, আলেকসেয়েভ জিআরইউর প্রথম উপ-প্রধান। তার ওপর হামলার ঘটনায় ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি বলছে, তাদের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছে। জেনারেলকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ২০১৮ সালে যুক্তরাজ্যের স্যালিসবারিতে সংঘটিত নার্ভ এজেন্ট হামলায় জিআরইউর জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। এর পর আলেকসেয়েভের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এর আগে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মস্কোয় গাড়ি বিস্ফোরণে ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফানিল সারভারভের নিহত হন। এপ্রিল মাসে মস্কোর কাছে জেনারেল স্টাফের উপ-প্রধান জেনারেল ইয়ারোস্লাভ মোস্কালিক গাড়ি বিস্ফোরণে নিহত হন।
এবার মস্কোতে রুশ জেনারেল গুলিবিদ্ধ