মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলা উত্তেজনার মধ্যে গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুউক শহরে হঠাৎ বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা জানিয়েছে, তীব্র ঝোড়ো বাতাসের কারণে বিদ্যুৎ লাইনে ত্রুটি দেখা দেয়, ফলে পুরো শহরের বিদ্যুৎ চলে যায়। গ্রিনল্যান্ডিক সংবাদপত্র সার্মিটসিয়াকের বরাতে এ খবর জানিয়েছে আল-জাজিরা।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একসঙ্গে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কথা জানাতে শুরু করে। পরে বিদ্যুৎ কোম্পানি ফেসবুকে জানায়, বুকসেফজর্ড নামের প্রধান জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ট্রান্সমিশন লাইনে সমস্যা হয়েছে, তাই বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে গেছে।
তারা জরুরি ব্যবস্থা নিয়ে বিকল্প কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে। সার্মিটসিয়াক জানিয়েছে, কিছু এলাকায় পানি সরবরাহের পাশাপাশি ইন্টারনেট সংযোগও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্থাৎ, ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ লাইনে সমস্যা হওয়ায় নুউকে বড় ব্ল্যাকআউট হয়েছে।
রোববার ভোর সাড়ে তিনটা নাগাদ শহরের প্রায় ২০ হাজার জনসংখ্যার মধ্যে ৭৫ শতাংশ আবার বিদ্যুৎ পেয়েছে বলে বিদ্যুৎ সংস্থা জানিয়েছে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি কম ব্যবহার করতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটটি এমন সময় ঘটল যখন সরকার দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি নিয়ে একটি ব্রোশিওর প্রকাশ করেছে। সেখানে মানুষকে অন্তত পাঁচ দিনের খাবার, পানি, ওষুধ, গরম কাপড় এবং বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছিল। সরকার জোর দিয়ে বলেছে, এটি কোনো আসন্ন সংকটের ইঙ্গিত ছিল না, শুধু সাধারণ প্রস্তুতির নির্দেশনা।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির কারণে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। এই কারণে আধা-স্বায়ত্তশাসিত ডেনিশ অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড কয়েক সপ্তাহ ধরে বিশ্ব রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ট্রাম্প কিছুটা পিছু হটে বলেছেন, তিনি জোর করে গ্রিনল্যান্ড দখল করবেন না। দাবি করেন, তিনি ও ন্যাটোপ্রধান মার্ক রুট ভবিষ্যতে গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির একটি কাঠামোতে একমত হয়েছেন।
কিন্তু গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডরিক নিলসেন বলেছেন, এই কথিত চুক্তির অনেক বিষয়ই অস্পষ্ট। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্র কি মার্কিন সামরিক ঘাঁটির কাছাকাছি এলাকার নিয়ন্ত্রণ চাইবে কিনা এটা পরিষ্কার নয়। তিনি বলেন, ‘আমি জানি না, চুক্তিতে বা সম্ভাব্য চুক্তিতে আমার দেশের বিষয়ে কী আছে।’
মন্তব্য করুন








