ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপ চূড়ান্ত হওয়ার পথে। আগামী মার্চের মাঝামাঝি সময়ে এই চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দুই দেশ একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করবে। পরে নয়াদিল্লির ওপর শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে ওয়াশিংটন। তবে শুল্ক কমাতে ভারতকে শর্ত জুড়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এসব কথা জানান বলে খবর এনডিটিভির।
তিনি জানান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র মার্চের মাঝামাঝি সময়ে বাণিজ্য চুক্তির প্রথম পর্বে স্বাক্ষর করবে। এর আগে আগামী ৪-৫ দিনের মধ্যে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হবে। যৌথ বিবৃতি প্রকাশের পর হোয়াইট হাউসের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে মার্কিন শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি ও প্রযুক্তিপণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দেবে।
ভারতের বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সব বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রেই যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। ভারত-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। যৌথ বিবৃতি কার্যকর হওয়ার পর সেটিকে আইনি চুক্তিতে রূপ দেওয়া হবে এবং মার্চের মাঝামাঝি সময়ে সেই চুক্তিতে স্বাক্ষরের লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। কিন্তু ভারতের শুল্ক কাঠামো মোস্ট-ফেভার্ড-নেশন (এমএফএন) নীতির আওতাভুক্ত।
চুক্তির অংশ হিসেবে ভারত আগামী পাঁচ বছরে প্রতি বছর গড়ে ১০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে থাকবে বিমান, প্রযুক্তিপণ্য, মূল্যবান ধাতু, তেল, পারমাণবিক পণ্য এবং কৃষিপণ্য।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারত বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪৫ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে, বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানির পরিমাণ ৮৬ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার।
গত সোমবার রাতে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, এই চুক্তিকে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাশিত বৃহত্তর বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে।
একই রাতে ট্রাম্প চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দিলে বিরোধীরা দ্রুত কিছু বিষয়ে স্পষ্টতার অভাব নিয়ে নিন্দা জানিয়েছে। এই বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে চুক্তি বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট তারিখ ও তেলের বিকল্প উৎস। বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ভারত প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেল কিনেছিল।
মন্তব্য করুন








