মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত ইরানের তিনটি ট্যাংকার জাহাজ আটক করেছে ভারত। চলতি মাসেই এসব ট্যাংকার আটক করা হয়। অবৈধ তেল বাণিজ্য ঠেকাতে নয়াদিল্লি নজরদারি বাড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স।
সূত্রটির মতে, ভারত চায় না যে তার সামুদ্রিক অঞ্চল জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের জন্য ব্যবহার হোক। এ ধরনের স্থানান্তরের মাধ্যমে তেলের প্রকৃত উৎস গোপন করা হয়, যা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত একটি পরিচিত কৌশল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির পর এই পদক্ষেপ নিল ভারত।
চলতি মাসের শুরুতে ওয়াশিংটন ঘোষণা দেয়, তারা ভারতীয় পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করবে। এর আগে নয়াদিল্লি রাশিয়ার তেল আমদানি বন্ধে সম্মত হয়েছিল বলে জানানো হয়।
আটক জাহাজ তিনটি হলো স্টেলার রুবি, অ্যাসফাল্ট স্টার ও আল জাফজিয়া। সূত্র জানায়, এসব জাহাজ প্রায়ই তাদের পরিচয় বদলায়, যাতে উপকূলীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ফাঁকি দেওয়া যায়। জাহাজগুলোর মালিকরা বিদেশে অবস্থান করছেন বলেও জানা গেছে।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া পোস্টে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ভারতের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত করার পর মুম্বাই থেকে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে তিনটি জাহাজ আটক করা হয়েছে। যদিও পোস্টটি পরে মুছে ফেলা হয়, সূত্র নিশ্চিত করেছে যে তদন্তের জন্য জাহাজগুলোকে মুম্বাইয়ে আনা হয়েছে।
সূত্র জানায়, ভারতীয় কোস্ট গার্ড এখন সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য প্রায় ৫৫টি জাহাজ ও ১০ থেকে ১২টি বিমান মোতায়েন করেছে।
এদিকে, মার্কিন বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ অফিস (ওএফএসি) গত বছর গ্লোবাল পিস, চিল-১ এবং গ্লোরি স্টার-১ নামের জাহাজগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়, যেগুলোর আইএমও নম্বর ভারত কর্তৃক আটক জাহাজগুলোর সঙ্গে মিল রয়েছে।
তথ্য সংস্থা লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (এলএসইজি) তথ্য অনুযায়ী, আটক তিন ট্যাংকারের মধ্যে দুটি ইরানের সঙ্গে যুক্ত। আল জাফজিয়া ২০২৫ সালে ইরান থেকে জিবুতিতে জ্বালানি তেল বহন করেছিল এবং স্টেলার রুবি ইরানের পতাকাবাহী ছিল। অ্যাসফাল্ট স্টার মূলত চীনের আশপাশে চলাচল করত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকির কারণে অনুমোদনহীন তেল ও জ্বালানি সাধারণত বড় ছাড়ে বিক্রি করা হয়। এ ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীরা জটিল মালিকানা কাঠামো, ভুয়া নথি এবং সমুদ্রে পণ্য স্থানান্তরের মতো কৌশল ব্যবহার করে, যা আইন প্রয়োগকে আরও কঠিন করে তোলে।
মন্তব্য করুন








