জম্মু ও কাশ্মীরে বেনামি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দিয়ে টাকা পাচারচক্রের পর্দা ফাঁস করল ভারতের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা। এই বেনামি অ্যাকাউন্টগুলো আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের অন্যতম ‘অস্ত্র’ বলে জানা গেছে। মূলত সাইবার প্রতারণার কাজে এই অ্যাকাউন্টগুলো ব্যবহার করা হচ্ছিল।
তবে বিভিন্ন সন্ত্রাসীগোষ্ঠী রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে আর্থিক মদদ দেওয়ার জন্যও এই অ্যাকাউন্টগুলো ব্যবহার করতে পারে বরৈ আশঙ্কা করা হচ্ছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত তিন বছরে জম্মু ও কাশ্মীরে এমন আট হাজার বেনামি অ্যাকাউন্টের সন্ধান পেয়েছেন কর্মকর্তারা। ইতোমধ্যেই এসব অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে।
কর্মকর্তাদের বরাতে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, এই বেনামি অ্যাকাউন্টগুলো সাইবার প্রতারণার জগতে ‘সবচেয়ে দুর্বল, কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লিংক’। কারণ এই অ্যাকাউন্টগুলোর সাহায্য না নিয়ে অপরাধের অর্থকে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বদলে ফেলা প্রায় অসম্ভব। এই ধরনের বেনামি ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোকে বলা হয় ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’।
সাইবার প্রতারকরা সাধারণত নিজেদের নামে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন না। তারা অন্য কোনও তৃতীয় ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অপরাধের টাকা বিভিন্ন জায়গায় সরান। ধরা পড়ার ঝুঁকি এড়াতেই এই বেনামি অ্যাকাউন্টগুলো ব্যবহার করেন তারা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তিকে কিছু সুবিধা বা কমিশনের প্রলোভন দিয়ে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টকে এই অপরাধের কাজে ব্যবহার করেন প্রতারকেরা।
জানা গেছে, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং অন্য বাহিনীগুলোকে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা। বেনামি অ্যাকাউন্টের বৃদ্ধি আটকাতে ও যাদের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করার জন্য ব্যাংকগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে।
২০১৭ সাল থেকে জম্মু ও কাশ্মীরে বেআইনি আর্থিক লেনদেন রুখতে ব্যাপক অভিযান শুরু করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। তার ফলে হাওয়ালার মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন অনেকটাই আটকানো গেছে। তবে কর্মকর্তাদের শঙ্কা, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে ‘ডিজিটাল হাওয়ালা’র মতো কোনও নতুন মডেল চালু হয়ে থাকতে পারে।