চলতি বছরের শুরু থেকেই ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা ক্রমবর্ধমান। দুই দেশই পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়েছে এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে উভয় পক্ষের সামরিক উপস্থিতি বাড়লেও আঞ্চলিক শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো বারবার সংযত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। তবুও ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান হুমকি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের সম্ভাবনা আরও ঘনীভূত করেছে।
এ পরিস্থিতিতে সম্প্রতি কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনী ট্রাকভিত্তিক মোবাইল লঞ্চারে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে। স্যাটেলাইট চিত্রে এ দৃশ্য ধরা পড়েছে, এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্স ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, আধা স্বয়ংক্রিয় গ্রেনেড লঞ্চারের বদলে মোবাইল ট্রাকে ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনের ফলে সেগুলো দ্রুত স্থানান্তর, পুনর্মোতায়েন কিংবা প্রতিরক্ষামূলকভাবে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকিও বেড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্যে মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন এবং অভ্যন্তরীণ দমনপীড়নের অভিযোগ তুলে হামলার হুমকি দিলেও যুদ্ধ এড়াতে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে হামলা হলে তারা এ অঞ্চলে অবস্থিত যে কোনো মার্কিন ঘাঁটির বিরুদ্ধে পাল্টা আঘাত হানতে পারে।
কনটেস্টেড গ্রাউন্ডের ফরেনসিক ইমেজ বিশ্লেষক উইলিয়াম গুডহিন্ড বলেন, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির শুরুর স্যাটেলাইট চিত্র তুলনা করলে আল-উদেইদসহ বিভিন্ন ঘাঁটিতে বিমান ও সামরিক সরঞ্জামের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যায়।
তিনি আরও বলেন, ফেব্রুয়ারির শুরুতে আল-উদেইদ ঘাঁটিতে এম৯৮৩ হেভি এক্সপ্যান্ডেড মোবিলিটি ট্যাকটিক্যাল ট্রাকে (এইচইএমটিটি) প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন ছিল, যা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করেছে। তবে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত সেগুলো এখনও ওই ট্রাকে রয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগনের কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্যাটেলাইট চিত্রে আল-উদেইদ ঘাঁটিতে ১ ফেব্রুয়ারির অবস্থানে একটি আরসি-১৩৫ নজরদারি বিমান, তিনটি সি-১৩০ হারকিউলিস, ১৮টি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার ও সাতটি সি-১৭ পরিবহন বিমান দেখা গেছে। ১৭ জানুয়ারিতে সেখানে ছিল ১৪টি স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার ও দুটি সি-১৭। একই সময়ে এইচইএমটিটি ট্রাকে সর্বোচ্চ ১০টি এমআইএম-১০৪ প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পার্ক করা ছিল।
জর্ডানের মুয়াফাক ঘাঁটিতে ২ ফেব্রুয়ারির ছবিতে ১৭টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক বিমান, ৮টি এ-১০ থান্ডারবোল্ট, চারটি সি-১৩০ এবং চারটি অজ্ঞাত হেলিকপ্টার শনাক্ত হয়েছে। একই ঘাঁটির আরেক স্থানে একটি সি-১৭, একটি সি-১৩০ এবং চারটি ইএ-১৮জি গ্রোলার ইলেকট্রনিক যুদ্ধ বিমান দেখা গেছে, যেখানে ২৫ জানুয়ারির ছবিতে কোনো বিমান ছিল না।

এ ছাড়া সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিতে একটি সি-৫ গ্যালাক্সি ও একটি সি-১৭, ভারত মহাসাগরের দিয়াগো গার্সিয়ায় আগের তুলনায় সাতটি বেশি বিমান এবং ওমানের দুখান ঘাঁটিতেও জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে বিমানের সংখ্যা বাড়তে দেখা গেছে।
অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে গত গ্রীষ্মে ইসরায়েলের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলার পর তারা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার পুনরায় পূরণ করেছে। তেহরানের আশপাশ, কেরমানশাহ, সেমনান এবং উপসাগরীয় উপকূলজুড়ে তাদের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র কমপ্লেক্স রয়েছে। ২৭ জানুয়ারি ও ১০ ফেব্রুয়ারির স্যাটেলাইট চিত্রে বন্দর আব্বাসের কাছে সমুদ্রে ইরানি নৌবাহিনীর ড্রোনবাহী রণতরী আইআরআইএস শহীদ বাঘেরিকেও দেখা গেছে।
বর্তমানে ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, তুরস্ক এবং দিয়াগো গার্সিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি সক্রিয় রয়েছে, যা সম্ভাব্য সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন








