পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সাংবিধানিক পরিবর্তন ও সামরিক নেতৃত্বের ক্ষমতা সম্প্রসারণের কড়া সমালোচনা করেছে ভারত। বিশ্ব মঞ্চে ইসলামাবাদকে লক্ষ্য করে নয়াদিল্লি পরামর্শ দিয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা ও আইনের শাসন নিয়ে পাকিস্তানের উচিত ‘আত্মসমীক্ষা’ করা। একই সঙ্গে পাকিস্তানের এই ধরনের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে ভারত।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এ খবর জানিয়েছে এনডিটিভি।
জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পার্বথানেনী হরিশ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের নেতৃত্বাধীন সরকার সাম্প্রতিক ২৭তম সংশোধনীর মাধ্যমে সামরিক বাহিনীকে কার্যত ‘একটি সাংবিধানিক অভ্যুত্থান ঘটানোর’ সুযোগ করে দিয়েছে।
তার অভিযোগ, এই সংশোধনীর ফলে প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধানকে আজীবন দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক উন্মুক্ত বিতর্কে বক্তব্য দিতে গিয়ে হরিশ বলেন, ‘পাকিস্তান আত্মসমালোচনা দিয়ে শুরু করতে পারে কীভাবে ২৭তম সংশোধনীর মাধ্যমে তারা তাদের সশস্ত্র বাহিনীকে সাংবিধানিক অভ্যুত্থান ঘটানোর সুযোগ দিয়েছে এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধানকে আজীবন দায়মুক্তি দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, আইনের শাসনের প্রশ্নে পাকিস্তানের আত্মসমালোচনা করা জরুরি।
অসিম মুনিরের ক্ষমতা বৃদ্ধি
২০২৫ সালের নভেম্বরে পাকিস্তান সংবিধানের ২৭তম সংশোধনী কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে দেশটির রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর প্রভাব আরও দৃঢ় হয়। সংশোধনীটি কার্যত সামরিক আধিপত্যকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয় বলে সমালোচকদের দাবি।
এর এক মাস পরই শাহবাজ শরীফ সরকার ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনিরকে পাকিস্তানের প্রথম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান বা চিফ অব ডিফেন্স ফোর্স (সিডিএফ) হিসেবে নিয়োগ দেয়। এটি একটি নতুন ও অত্যন্ত ক্ষমতাধর সামরিক পদ, বিশেষ করে একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশের প্রেক্ষাপটে। এই নিয়োগের মাধ্যমে অসিম মুনির তিন বাহিনীর সর্বোচ্চ কমান্ডার হন।
পাঁচ বছরের মেয়াদে তিনি জাতীয় কৌশলগত কমান্ডের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বও পালন করবেন, যা পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পরিচালনা করে। এর ফলে তিনি দেশটির সবচেয়ে ক্ষমতাধর সামরিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।
নতুন পদটি অসিম মুনিরকে রাষ্ট্রপতির সমতুল্য আইনি সুরক্ষা দেয়। রাষ্ট্রপতির মতোই ফিল্ড মার্শালকেও যেকোনো আইনি কার্যক্রম থেকে আজীবন দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। একই ধরনের সুরক্ষা বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর প্রধানদেরও প্রদান করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন








