পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রদেশ বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রীতিমতো দেশটির মাথাব্যথার কারণ হয়েছে। সন্ত্রাস দমনে পবর্তময় প্রদেশটিতে প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। আর এসব অভিযানে প্রায়ই সেনা সদস্যসহ সন্ত্রাসীদের বিরাট সংখ্যার মৃত্যুর খবর আসছে। এবার অন্তত ৬৮ জন নিহতের খবর পাওয়া গেল।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ।
নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে খবরে বলা হয়েছে, বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৫৮ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। একযোগে ১২টি স্থানে চালানো হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী। সন্ত্রাসীরা ভারত-মদদপুষ্ট বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র।
নিরাপত্তা বাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার (এলইএ) সময়োপযোগী ও কার্যকর অভিযানের ফলে গত রাতে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর একাধিক হামলা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা সূত্র।
প্রাণঘাতী হামলার নিন্দা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি হামলা প্রতিহত করার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের অশুভ উদ্দেশ্য ব্যর্থ করে দেওয়া আমাদের সাহসী সন্তানদের সালাম জানাই।’
হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে প্রাণ উৎসর্গকারী ১০ জন শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে নিরাপত্তা জার বলেন, জাতি তার বীর সন্তানদের জন্য গর্বিত। তিনি বলেন, ‘যারা দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, তারা আমাদের জাতির গর্ব। শহীদদের এই মহান আত্মত্যাগ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
এদিকে বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি বলেছেন, পুলিশ ও ফ্রন্টিয়ার কর্পসের (এফসি) যৌথ প্রচেষ্টায় এসব হামলা ব্যর্থ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের হামলা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের অটল সংকল্পকে দুর্বল করতে পারবে না।’
এর একদিন আগেই দেশের স্থলভাগের দিক থেকে বৃহত্তম প্রদেশ বেলুচিস্তানে পৃথক দুটি অভিযানে ৪১ জন ভারত-সমর্থিত জঙ্গি নিহত হয়। এ বিষয়ে শুক্রবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ২৯ জানুয়ারি হার্নাই জেলার উপকণ্ঠে ৩০ জন ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসী নিহত হয়।
এ ছাড়া পাঞ্জগুর জেলায় পরিচালিত আরেক অভিযানে আরও ১১ জন জঙ্গিকে হত্যা করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর মিডিয়া শাখা জানায়, নিহতদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদের পাশাপাশি গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর পাঞ্জগুরে সংঘটিত একটি ব্যাংক ডাকাতির সময় লুট হওয়া অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে।
২০২১ সালে তালেবানরা আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসী তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এসব সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী ৬ জানুয়ারি এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৭৫ হাজার ১৭৫টি গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান (আইবিও) পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে খাইবার পাখতুনখোয়ায় ১৪ হাজার ৬৫৮টি, বেলুচিস্তানে ৫৮ হাজার ৭৭৮টি এবং দেশের অন্যান্য অংশে ১ হাজার ৭৩৯টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
সেনাবাহিনীর শীর্ষ মুখপাত্র আরও জানান, গত বছর দেশজুড়ে মোট ৫ হাজার ৩৯৭টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৮১১টি ঘটনা ঘটেছে খাইবার পাখতুনখোয়ায়, ১ হাজার ৫৫৭টি বেলুচিস্তানে এবং দেশের অন্যান্য অংশে ২৯টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, গত বছর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে মোট ২ হাজার ৫৯৭ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি জানান, দেশজুড়ে সংঘটিত ১০টি বড় সন্ত্রাসী হামলায় ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিক ও সফট টার্গেটকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল এবং এসব হামলায় আফগান জঙ্গিদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
মন্তব্য করুন








