যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টাইনের তদন্ত সম্পর্কিত ৩০ লাখের বেশি নথি প্রকাশ করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। প্রকাশিত নথির মধ্যে ২ হাজারের বেশি ভিডিও ও ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি রয়েছে। এটাই এপস্টাইন সংক্রান্ত এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় নথি প্রকাশের ঘটনা।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) মার্কিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ এসব উপকরণে ‘ব্যাপক সংশোধন’ বা রিড্যাকশন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এপস্টাইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট অনুসরণ করতে গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় সাড়ে তিন লাখ পৃষ্ঠার নথি প্রস্তুত করেছে।
ব্লাঞ্চ আরও বলেন, এসব নথির মধ্যে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক পর্নোগ্রাফি এবং ‘এপস্টাইনের ব্যক্তিগত ডিভাইস থেকে জব্দ করা ছবি রয়েছে’।
তিনি জানান, ‘বিভাগের সংগ্রহ কার্যক্রমের ফলে সম্ভাব্যভাবে প্রাসঙ্গিক হিসেবে ৬০ লাখেরও বেশি পৃষ্ঠা শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিচার বিভাগ ও এফবিআইয়ের ই-মেইল, সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপ, ছবি, ভিডিও এবং আইনের আওতায় বিভিন্ন তদন্ত ও মামলার সময় সংগৃহীত ও তৈরি করা নানা উপকরণ।’
যদিও নথিগুলোর বিশ্লেষণ এখনো চলমান, প্রকাশিত ফাইলগুলোতে জেফ্রি এপস্টাইনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের পূর্বে অজানা আর্থিক সম্পর্ক এবং সামাজিক যোগাযোগের তথ্য সামনে এসেছে।
নথিতে থাকা ২০১২ সালের একাধিক ই-মেইল আদান-প্রদান থেকে জানা যায়, এপস্টাইন ও টেসলার প্রধান নির্বাহী এবং বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্কের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। ওই ই-মেইল চেইনে এপস্টাইনের ‘হেলিকপ্টারে দ্বীপে আপনি কতজন লোক আনবেন?’ প্রশ্নের জবাবে মাস্ক লেখেন, ‘আমাদের দ্বীপে কোনো দিন বা রাতে সবচেয়ে বন্য পার্টি হবে?’
নথিপত্রে আরও উঠে এসেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক ২০১২ সালের ডিসেম্বরে স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে এপস্টাইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে মধ্যাহ্নভোজে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। অথচ এর আগের বছরই তিনি দাবি করেছিলেন, ২০০৫ সালের দিকে তিনি ও তার স্ত্রী এপস্টাইনের আচরণে এতটাই ‘বিরক্ত’ হয়েছিলেন যে তারা সিদ্ধান্ত নেন, ‘এই ঘৃণ্য ব্যক্তির সঙ্গে আর কখনো একই ঘরে থাকবেন না।’
ই-মেইলগুলোতে আরও দেখা যায়, নির্ধারিত বৈঠকের একদিন পর এপস্টাইনের সহকারী লুটনিককে এপস্টাইনের একটি বার্তা ফরোয়ার্ড করেন, যেখানে লেখা ছিল ‘তোমাকে দেখে ভালো লাগলো।’ সংবাদ সম্মেলন চলাকালেই বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে বিপুলসংখ্যক নথি উন্মুক্ত করা হয়।
নতুন নথিতে নতুন কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম আছে কি না— এমন প্রশ্নে ব্ল্যাঞ্চ বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে আলাদা করে জানানোর মতো কিছু নেই। ভুক্তভোগীরা যেন কোনো সম্পাদনা নিয়ে আপত্তি জানাতে পারেন, সেজন্য বিচার বিভাগ একটি বিশেষ ই-মেইল ঠিকানাও চালু করেছে। পাশাপাশি কংগ্রেস সদস্যরা গোপনীয়তা চুক্তির আওতায় সম্পাদনাবিহীন অংশ দেখতে পারবেন।
এর আগে গত ৫ জানুয়ারির এক চিঠিতে বিচার বিভাগ স্বীকার করেছিল, তখন পর্যন্ত মাত্র ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৭৫ পৃষ্ঠার ১২ হাজার ২৮৫টি নথি প্রকাশ করা হয়েছে, যা আইনে নির্ধারিত ১৯ ডিসেম্বরের সময়সীমার তুলনায় অনেক কম ছিল। তখন জানানো হয়, ২০ লাখের বেশি নথি পর্যালোচনার বিভিন্ন ধাপে রয়েছে।
এর আগে প্রকাশিত নথিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতার চিত্র উঠে আসে এবং কীভাবে কিশোরীদের ফাঁদে ফেলা হতো তার বিস্তারিত সাক্ষ্য পাওয়া যায়।
একটি গ্র্যান্ড জুরি সাক্ষ্যে অভিযোগ করা হয়েছিল, গিলেইন ম্যাক্সওয়েল এক ভুক্তভোগীকে অন্য মেয়েদের আনতে বলেছিলেন এবং বলেছিলেন, ‘তাদের দেখতে যেন কম বয়সী লাগে।’ তবে ওই ভুক্তভোগী এতে রাজি হননি। তিনি উত্তর দেন, আর কাউকে এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে দিতে চান না।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
মন্তব্য করুন








