পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শুক্রবার পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে। এই আলোচনা ওমানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) আলোচনা প্রক্রিয়ার শুরুতে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ বদর হামাদ আল বুসাইদি পৃথকভাবে বৈঠক করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গেও আলাদা বৈঠক করেন। খবর আনাদোলু এজেন্সি
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল দুটি আলাদা কক্ষে অবস্থান করছে। ওমানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের পর দুই পক্ষ লিখিত বার্তা বা নোটের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান আদান-প্রদান করবে। পুরো প্রক্রিয়াটি ওমানের মধ্যস্থতায় পরিচালিত হচ্ছে।
এ ধরনের পরোক্ষ আলোচনা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংলাপ সীমিত থাকায় তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আলোচনা হয়ে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান অতীতেও এই দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের সেতুবন্ধ হিসেবে ভূমিকা রেখেছে।
তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ওমানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
পারস্য উপসাগরে আমেরিকান সামরিক ঘাঁটি গড়ে তোলা এবং ট্রাম্পের বারবার সামরিক পদক্ষেপের হুমকির কারণে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে চরম অবনতি হয়েছে। এরপর ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে এই আলোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এ পরোক্ষ আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধিত্ব করছেন আরাগচির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। ইরনা জানিয়েছে, তার সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক বিষয়ক সহকারী মজিদ তখত-রাভানচি; মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই; অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপপরিচালক হামিদ ঘানবারি এবং অন্য ইরানি কূটনীতিকরা।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের জন্য মার্কিন রাষ্ট্রপতির বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা ও অনানুষ্ঠানিক সহকারী জ্যারেড কুশনার আলোচনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধানও আলোচনায় যোগ দেবেন।
মন্তব্য করুন








