ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার পারদ ক্রমেই বাড়ছে। নতুন কোনো সংঘাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। তারপরও হুমকি দিতে ছাড়ছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি রণতরীর বহর মোতায়েন করা রয়েছে। এমতাবস্থায় সেখানে আরেকটি রণতরী মোতায়েনের কথা ভাবছেন বলে চ্যানেল ১২-কে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ায় মোতায়েন থাকা ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন ও যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে মোতায়েন থাকা ইউএসএস এইচ ডব্লিউ বুশকে মধ্যপ্রাচ্যে আনা হতে পারে। তবে সেগুলো ইরানের কাছাকাছি পৌঁছাতে অন্তত এক সপ্তাহ লাগতে পারে। এ ছাড়া ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড মোতায়েন রয়েছে। সেটিও মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হতে পারে।
চলমান উত্তেজনার মধ্যে কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের আল-উদেইদ ঘাঁটিতেও তৎপরতা শুরু হয়েছে। স্যাটেলাইট থেকে ধারণ করা ছবিতে দেখা গেছে, ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে সক্ষম ট্রাকগুলোয় প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ভরা হচ্ছে। এর অর্থ হলো ইরানের হামলার সময় সেগুলো যেন দ্রুত প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানে নেওয়া যায়। অর্থাৎ ওয়াশিংটনও ইরানের হামলার বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছে না।
এর আগে গত বছরে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সময় ইসরায়েলের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তখন ইরানের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় বোমারু বিমান দিয়ে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। ওই হামলায় স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর পরপরই কাতারে আল-উদেইদ ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান।
ওই ঘটনার পর প্রথমবারের মতো ওমানের মধ্যস্থতায় গত সপ্তাহে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক হয়েছে। সেখানে ইরানের পরমাণু ইস্যু, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলাপ হয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তখন কূটনৈতিক এই আলাপ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন।
এই আলোচনা শুরু হয় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সেনা মোতায়েনের পর। পরের ধাপে কবে আলোচনা হবে, তা জানা যায়নি। প্রধান ধাপের আলোচনা সংঘাত এড়াতে কিছুটা আশার আলো দেখালেও সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের হয় একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে, না হলে আমাদের কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট, রয়টার্স
মন্তব্য করুন








