ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি। তবে নজর কাড়ে এক অস্বাভাবিক বিষয়। বৈঠকের কোনো ছবি তোলা হয়নি, এমনকি হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ছবি প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রোটোকলে এ ধরনের ঘটনা বিরল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে ঘিরে শুরু থেকেই ছিল বাড়তি কৌতূহল।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, বৈঠকটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিকল্পনা করা হয়। দুই ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশের শীর্ষ নেতাদের এই সাক্ষাৎ এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন ইরান ইস্যুতে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ছে। সে প্রেক্ষাপটে বৈঠকের গুরুত্ব যেমন ছিল, তেমনি ছবি বা দৃশ্যমান বার্তা না থাকা বিষয়টিকে করেছে আরও তাৎপর্যপূর্ণ।
হোয়াইট হাউস অবশ্য জোর দিয়ে বলছে, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার দৃঢ় ইচ্ছা রয়েছে ওয়াশিংটনের। তাদের বক্তব্য, কূটনৈতিক পথ এখনো খোলা রয়েছে।
নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের আগে ট্রাম্প কাতারের আমিরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। কিন্তু ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে তখন কোনো যৌথ ঘোষণা, দৃশ্যমান অঙ্গীকার বা কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত সামনে আসেনি। সাধারণত এ ধরনের সংবেদনশীল ইস্যুতে ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগ স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয় মার্কিন বক্তব্যে। এবার সে রকম জোরালো প্রতিফলন দেখা যায়নি।
এরপর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন। সেখানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সরাসরি উল্লেখ ছিল না। বরং তিনি একটি সম্ভাব্য চুক্তির প্রতি নিজের অঙ্গীকারের কথা বলেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরেন। ভাষাটি ছিল কৌশলগত।
এর ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, আসলে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে? আদৌ কোনো সমঝোতার ভিত্তি তৈরি হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। এমনও হতে পারে, ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তিনি হয়তো কূটনৈতিক পথকে একটি সুযোগ দিতে চাইছেন। তবে সেই সঙ্গে বজায় রাখছেন কৌশলগত অস্পষ্টতা, যা একদিকে আলোচনায় চাপ সৃষ্টির উপায়। অন্যদিকে ভবিষ্যৎে অবস্থান নির্ধারণে নমনীয়তার ইঙ্গিত।
মন্তব্য করুন








