ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
কিশোরী তাজমিন হ'ত্যা নিয়ে এখনও যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি
‘ওই নারী আমার সৎ মা, আমার আপন মা মারা গেছেন’
তাজমিন হ'ত্যা: যে ‘ছোট্ট ভুলে’ ধরা পড়ে সিএনজিচালক সুমন
মশিউর অর্ণব
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে (১৫) ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মামলার একমাত্র আসামি সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিজের কাছে কোনো মোবাইল ফোন বা ডিজিটাল ডিভাইস না রেখেও শেষ পর্যন্ত একটি ছোট্ট ভুলে তিনি গোয়েন্দা পুলিশের জালে ধরা পড়লেন। সেই চাঞ্চল্যকর তথ্যই সামনে এসেছে। পুলিশ জানায়, বুধবার গভীর রাতে তাজমিনকে (১৫) ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন সুমন। এরপর পাশের একটি মসজিদের পুকুরে গোসল করে চট্টগ্রামের দিকে চলে যান তিনি। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তে নামে গোয়েন্দা পুলিশ। সুমনের সঙ্গে মোবাইল ফোন বা কোনো ডিজিটাল ডিভাইস না থাকায় তাকে শনাক্ত করে অবস্থান নিশ্চিত করতে কিছুটা বেগ পেতে হয় গোয়েন্দাদের। পুলিশ জানায়, কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের শ্বশুরবাড়ির স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদে সুমনের এক ভাই চট্টগ্রামে থাকেন বলে জানতে পারেন গোয়েন্দারা। গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে নিজস্ব গোয়েন্দা কৌশলে তারা নিশ্চিত হন, সুমন চট্টগ্রামের দিকে গেছেন। এরপরই চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয় গোয়েন্দা পুলিশের দল। সেখানে পৌঁছেও তার অবস্থান নিশ্চিত করতে সমস্যায় পড়েন তারা। পরে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লালমাইয়ের জগতপুর এলাকার শ্বশুরবাড়ির এক আত্মীয়ের কাছে ফোন করেন সুমন। বিপদে পড়েছেন জানিয়ে বিকাশে ৫০০ টাকা পাঠাতে বলেন তিনি। চট্টগ্রাম নগরের অলংকার এলাকার এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন ব্যবহার করে এ কল করেন সুমন। ওই ফোনকলের সূত্র ধরেই তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর শুক্রবার (৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরের অলংকার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এর আগে সুমনের শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়-স্বজনের মোবাইল নম্বরের ওপর নজরদারি বাড়ান গোয়েন্দারা। কে কখন তাদের ফোন করছেন তা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে তাজমিনকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে অটোরিকশাটি ধানক্ষেতে কাত হয়ে পড়ে যায়। এ সময় পালানোর চেষ্টা করে তাজমিন। ধানক্ষেতের ওপর দিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত পেরে উঠেনি সে। একটি ধানক্ষেতের আইলের পাশে তাকে ধরে ফেলেন সুমন। এরপর তাজমিনকে ধর্ষণ করে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন তিনি। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার মাথার ওপর পা দিয়ে চেপে ধরে রাখা হয় বলে জানায় পুলিশ। পরে অটোরিকশাটি ঘটনাস্থলে ফেলে চলে যান সুমন।
সুমনের জবানিতে জানা গেল কিশোরী তাজমিনকে ধ'র্ষণের লোমহর্ষক বিবরণ!
তাজমীনকে ‘ফুঁসলিয়ে’ কক্সবাজারে নেওয়া সেই বান্ধবী কে? অবশেষে জানালেন মা
কিশোরী তাজমীনের ঘা'তক কয়জন, যা জানালেন তদন্ত কর্মকর্তা!
‘আমার পাখিটাকে ওরা কেড়ে নিল, এই দেশে দুধের বাচ্চাও তো নিরাপদ না’
‘আমার মেয়ের বান্ধবীটা অনেক খারাপ ছিল, ফুঁসলিয়ে তাজমীনকে...’

কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী জান্নাতুত তাজমীন হত্যাকাণ্ড নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন তার মা কেয়া আক্তার। আজ শুক্রবার মেয়ের দাফন সম্পন্ন করার পর সাংবাদিকদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি। আহাজারি করে কেয়া আক্তার বলেন, আমার মেয়ের বান্ধবীটা অত্যন্ত খারাপ ছিল। সে ফুঁসলিয়ে আমার মেয়েকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেত। মেয়েকে বাঁচাতে অনেক বাধা দিয়েছি, অনেক চেষ্টা করেছি; এমনকি এ কারণে ছয় মাস তাকে স্কুলেও যেতে দিইনি। ঘরে আটকে রেখেছিলাম; কিন্তু শেষপর্যন্ত ওই বান্ধবীই তাকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে কক্সবাজারে নিয়ে গেল। কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফিরে আসার পরও আর বাসায় পৌঁছতে পারল না আমার মেয়ে। হায়েনার দল তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করেছে। তিনি আরও বলেন, গত ৪ অক্টোবর বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাকে ফোনে বলেছিলাম—তুই কোথায় আছিস বল, আমি নিজে এসে তোকে বাড়ি নিয়ে যাব। আজ আমার কলিজার ধনটাকে হারিয়ে ফেললাম, এখন আমি তাকে ছাড়া কিভাবে বাঁচব! উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার একটি ধানখেত থেকে স্কুলছাত্রী জান্নাতুত তাজমীনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে বুধবার রাতে কক্সবাজার থেকে বাসে ফিরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের হোটেল নুরজাহানের সামনে থেকে সে নিখোঁজ হয়।

মৃত্যুর ঠিক আগে কী ঘটেছিল তাজমিনের ভাগ্যে, রহস্য আরও ঘনীভূত!

লালমাইয়ে নৃশংস হত্যার শিকার হয়েছেন জান্নাতুল তাজমিন (১৪) নামে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী। সময় যত গড়াচ্ছে এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে ততই ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। গত বুধবার রাতে বাবার মোবাইলে নিজের অবস্থানের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছিল সে। কিন্তু এরপর কী ঘটেছিল, কীভাবে নির্জন ধানক্ষেতে পৌঁছাল সে—সেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছেন তদন্তকারীরা। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার জগতপুর গ্রামের যে ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, তার কাছেই মিলেছে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা; তার ভেতরে পাওয়া গেছে একটি ভ্যানিটি ব্যাগও। জব্দ করা অটোরিকশাটির নিবন্ধন রয়েছে। এখন সেই গাড়ির সূত্র ধরেই এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে তদন্ত; সেইসঙ্গে বিশ্লেষণ চলছে সিসিটিভি ফুটেজও। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশের একাধিক ইউনিট। নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে। কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল সে। তার বাবা আবদুল আলীম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করেন। পরিবারের সদস্যরা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। চার দিন আগে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে সে কক্সবাজারে গিয়েছিল বলে জানা গেছে। ফেরার পথে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় নেমেছিল সে। সিটিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, ঘড়ির কাঁটায় রাত তখন ১১টা ৪০ মিনিট। কক্সবাজার থেকে ফেরা বাস থেকে নেমে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে দাঁড়ায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন। পরনে গোলাপি কামিজ ও জিন্স প্যান্ট। হাতে মুঠোফোন, বাঁ হাতে ঝোলানো ভ্যানিটি ব্যাগ। সেখানে একটি কনফেকশনারির দোকানির সঙ্গে কথা বলে সে; এরপর দোকান থেকে বেরিয়ে এগিয়ে যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দিকে। নৃশংস ঘটনার শিকার হওয়ার আগে হোটেল নুরজাহানের সামনে জীবিত জান্নাতুল তাজমিনকে শেষবারের মতো এভাবেই ধারণ করে সিসিটিভি। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানায়, চারদিন আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে তাজনিম প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। পরদিন কুমিল্লায় ফিরে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয় তাজমিন। রাতে পদুয়ার বাজারে পৌঁছে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে সে। সিসিটিভি ফুটেজে ওই এলাকায় তার অবস্থান ও দোকানির সঙ্গে কথা বলার দৃশ্য দেখা গেলেও সেখান থেকে চলে যাওয়ার পরদিন তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম জানান, বুধবার গভীর রাতে মেয়ের কাছ থেকে একটি বার্তা ও লাইভ লোকেশন পান তিনি। মেয়েটি তাকে সেখানে গিয়ে নিয়ে আসতে বলেছিল। তবে তখন ঘুমিয়ে থাকায় সঙ্গে সঙ্গে বার্তাটি দেখতে পারেননি তিনি। পরে লোকেশন দেখে সেখানে গিয়ে দেখতে পান তাজমিনের নিথর মরদেহ।

কিশোরী তাজমীনের খু'নি কে এই সুমন? অবশেষে জানা গেল

চাঞ্চল্যকর জান্নাতুল তাজমীন (১৩) হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।  আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকাল ৪টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস। একইদিন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর অলংকার শিল্প এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।  সুমন মিয়া (৩৮) চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার বাসিন্দা। তিনি কুমিল্লার বাগমারা দক্ষিণের জয়নগর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। প্রায় এক মাস আগে সেখান থেকে চলে যান সুমন। তিনি মাদকাসক্ত ও বখাটে প্রকৃতির লোক বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তাজমীনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া যায়। অটোরিকশাটি জব্দ করে সেটির সূত্র ধরে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। ওই অটোরিকশার চালক সুমন। তাকে চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা ডিবি পুলিশের কার্যালয়ে আনা হচ্ছে।  জান্নাতুল তাজমীন (১৩) যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা আবদুল আলীম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করেন। পরিবারের সদস্যরা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। মৃত্যুর আগে বাবার মোবাইলে নিজের অবস্থানের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছিল তাজমীন। এ ঘটনায় তাজমীনের বাবা আবদুল আলীম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

‘বাবা তুমি আমাকে নিয়ে যাও, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে’

‘বাবা, তারা আমাকে আটকে রেখেছে। তুমি এসে আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাও। না হয় ওরা আমাকে মেরে ফেলবে বাবা...’— মোবাইল ফোনে জান্নাতুত তাজমীনের এটাই ছিল বাবার সঙ্গে শেষ কথা। আকুতিভরা সেই শেষ ফোনের কয়েক ঘণ্টা পরই লালমাইয়ে মিলল তার নিথর দেহ। কুমিল্লায় নিখোঁজের চার দিন পর লালমাই উপজেলায় ফসলি জমি থেকে স্কুলছাত্রী জান্নাতুত তাজমীনের (১৫) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর (মানুমুড়া) এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত জান্নাতুত তাজমীন রেনাটা পিএলসি কুমিল্লায় কর্মরত আবদুল আলীম ও কেয়া আক্তার দম্পতির মেয়ে। তাদের গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামে। বাবার চাকরির সুবাদে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত তাজমীন। সে কুমিল্লার ফরিদা বিদ্যায়তনে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চার দিন আগে বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় তাজমীন। পরে ওই বান্ধবীর সঙ্গে সে কক্সবাজারে বেড়াতে যায়। সেখান থেকে বুধবার রাতে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয়। পথিমধ্যে রাতে বাবা আবদুল আলীমকে ফোন করে তাজমীন কাঁদতে কাঁদতে বলে, দুর্বৃত্তরা তাকে আটকে রেখেছে এবং দ্রুত উদ্ধার না করলে মেরে ফেলবে। তবে ঠিক কোন স্থানে তাকে আটকে রাখা হয়েছে, সেই তথ্য সে দিতে পারেনি। এর কিছুক্ষণ পর বাবা মেয়ের ফোনে একাধিকবার কল করলেও তা আর রিসিভ হয়নি। এতে পরিবারের সদস্যরা চরম উৎকণ্ঠায় পড়েন। মেয়ের সন্ধানে ব্যাকুল বাবা রাতেই খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং বৃহস্পতিবার ভোরে লালমাই থানায় গিয়ে মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন। স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ধানখেতে এক তরুণীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশে খবর দেন। লাশের অদূরেই একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। খবর পেয়ে লালমাই থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। জান্নাতুত তাজমীনের বাবা আবদুল আলীম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মেয়েটি রাতে ফোনে কেঁদে কেঁদে উদ্ধারের আকুতি জানিয়েছিল। কিন্তু কোথায় আছে বলতে পারেনি। সকালে এসে থানায় আমাকে মেয়ের লাশ দেখতে হলো।

মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল তাজমিনের সঙ্গে, ধরা পড়ল সিসিটিভি ফুটেজে!

ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে মৃত্যুর আগে তাজমিনের চলাচলের দৃশ্য  পাওয়া গেছে। ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেলের সামনে আইকনিক পরিবহনের একটি বাস থেকে নামে তাজমিন। এরপর হোটেলের পশ্চিম পাশে কয়েকটি স্টেশনারি দোকানের দিকে যায় সে। একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দোকানির সঙ্গে কথা বলে। এ সময় দোকানিকে তাকে কিছু একটা দেখাতে বা কোনো দিক নির্দেশ করতে দেখা যায়। সিসিটিভি ফুটেজে আরও দেখা যায়, রাত ১২টার দিকে দোকানের সামনে কিছু একটা দেখানোর পর তাজমিন সেখান থেকে সরে অন্য পাশে যায়। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে তাকে নূরজাহান হোটেল এলাকা ছেড়ে যেতে দেখা যায়। তবে এলাকা ছাড়ার পর তাজমীন কোন পথে গিয়েছিল, সে বিষয়ে এখনও কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তার চলাচলের পথ এবং সম্ভাব্য যাতায়াতের মাধ্যম নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে স্কুলছাত্রী তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে। বাবার চাকরির সুবাদে কুমিল্লায় বেড়ে ওঠা তাজমিন কুমিল্লার ফরিদা বিদ্যায়তনে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। পরিবার সূত্রে জানা যায়, চার দিন আগে তাজমিন এক বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে যায়। পরে ওই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে যায়। সেখান থেকে বুধবার রাতে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল তাজমিন।

নিজেকে বাঁচাতে কয়েকটি ধানক্ষেতে প্রাণপণে দৌড়েছিল হতভাগ্য তাজমিন!

৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন হত্যার ঘটনাস্থল জুড়ে তাণ্ডবের চিহ্ন পাওয়া গেছে। হত্যার স্থানটিতে অন্তত ৪ থেকে ৫টি ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ি এবং ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে। কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার ফসলি জমির মাঠে এ চিত্র দেখা গেছে। সেখানকার একটি ধানক্ষেত থেকে স্কুলছাত্রী তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নির্জন পাকা সড়ক। সড়কের দুপাশ জুড়ে বিস্তৃত সবুজ মাঠ। সড়কটির মধ্যবর্তী স্থানের দুপাশে অন্তত ৪ থেকে ৫টি ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ির চিহ্ন দেখা গেছে। ক্ষেতের মধ্যে থাকা মাথা তোলা ধানগাছ এলোমেলো হয়ে আছে। দেখে বোঝা যাচ্ছে তাজমিন জীবন বাঁচাতে হত্যাকারীদের হাত থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। সড়কের একপাশে ধানক্ষেতে পড়েছিল একটি  সিএনজিচালিত অটোরিকশা।  ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, সকালে আশেপাশের মানুষদের কাছে শুনতে পাই ধানক্ষেতে একটি সিএনজি পড়ে আছে। খবর শুনে ঘটনাস্থলে এসে দেখি ঘটনা সত্য। সিএনজিটির ২০ থেকে ৩০ গজ দূরেই দেখতে পাই একটি ভেনেটি ব্যাগ। আশপাশের ধানক্ষেতগুলোতে ধস্তাধস্তি ও দৌড়াদৌড়ির চিহ্ন। সেই চিহ্ন অনুসরণ করে একটু সামনে একটি ধানক্ষেতে গিয়ে দেখি একটি নারীর লাশ পড়ে আছে। লাশের মাথা কাদায় গাড়ানো ছিল। পুরো শরীর বস্ত্রহীন। গলায় গামছা প্যাঁচানো। পরে যখন দেখলাম দলে দলে মানুষ আসছে দেখার জন্য, তখন একটি গামছা দিয়ে নগ্ন শরীর ঢেকে দিই।  মো. মুহিন নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, যারাই মেয়েটিকে মেরেছে, তারা মেয়েটিকে অনেক কষ্ট দিয়ে মেরেছে। সেটি ধানক্ষেতের দিকে তাকালেই বুঝা যায়। মেয়েটি সম্ভবত নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পেরে ওঠেনি।  কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ্ বলেন, সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার ও সিএনজি চালিত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। নিহতের মুখে কাদা এবং গলায় গামছা পেচানো ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধ করেই তাজমিনকে হত্যা করা হয়েছে।  প্রসঙ্গত, গতকাল বৃহস্পতিবার কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ধানক্ষেত থেকে জান্নাতুল তাজমিন (১৪) নামের এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।  নিহত তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে আর স্কুলে যায়নি বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

শিশু অপ্রতিম হত্যায় এবার আরেক যুবক আটক, কে এই আনাস?

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) হত্যার ঘটনায় আরও এক সন্দেহভাজনকে আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এ নিয়ে অপ্রতিম হত্যায় আটকের সংখ্যা দুইজন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এসআরবি ১১, সিপিসি-২ (কুমিল্লা ক্যাম্পের) একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আটক ব্যক্তির নাম মো. আনাস। তবে এর বাইরে তার সম্পর্কে আর কোনো তথ্য জানা যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে এসআরবির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম নামের ১৩ বছরের এক কিশোর। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান অপ্রতিম। শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেনি সে। পরে অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশে লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা গ্রামের ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অপ্রতিম কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকায় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, আইফোনটি নেওয়ার জন্য তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে আটককৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

আরও
X