মূত্রথলি বা ব্লাডার হলো বেলুনের মতো একটি অঙ্গ, যা আমাদের পেলভিক হাড়ের পেছনে অবস্থান করে। এটি মূত্রতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং শরীর থেকে বের হওয়ার আগে প্রস্রাব এখানে জমা থাকে।
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমরা যা খাই বা পান করি, তার একটি অংশ কিডনির মাধ্যমে ছেঁকে প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে আসে। তাই খাবার ও পানীয়ের প্রভাব সরাসরি প্রস্রাব এবং মূত্রথলির ওপর পড়তে পারে।
কিছু খাবার বা পানীয়ের প্রতি সংবেদনশীল হলে প্রস্রাব মূত্রথলিতে জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে। তখন মূত্রথলি স্বাভাবিকভাবে কাজ না করে নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন-
- হঠাৎ তীব্র প্রস্রাবের চাপ অনুভব করা
- ঘন ঘন প্রস্রাব লাগা
- প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা
- তলপেটে ব্যথা বা অস্বস্তি
বেশিরভাগ সময় মূত্রথলির জ্বালা কোনো জরুরি সমস্যা নয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি মূত্রনালির সংক্রমণ, দীর্ঘমেয়াদি ইন্টারস্টিশিয়াল সিস্টাইটিস বা খুব বিরল ক্ষেত্রে মূত্রনালি বা মূত্রথলির টিউমারের লক্ষণ হতে পারে।
যদি জ্বর, কাঁপুনি, কোমরের নিচে বা পাশে ব্যথা কিংবা প্রস্রাবে রক্ত দেখা যায়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
অনেক সময় প্রতিদিনের পরিচিত কিছু খাবার ও পানীয়ই মূত্রথলির সমস্যার কারণ হয়। তবে কোনটি কার জন্য সমস্যা তৈরি করবে, তা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।
সাধারণত যেসব খাবার ও পানীয় মূত্রথলির জ্বালা বাড়াতে পারে সেগুলো হলো-
- ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়, যেমন কফি, চা ও এনার্জি ড্রিংক
- কার্বনেটেড পানীয় বা সফট ড্রিংক
- কৃত্রিম সুইটনারযুক্ত খাবার ও পানীয়
- মদ্যপ পানীয়
- অতিরিক্ত টক খাবার, যেমন লেবু, কমলা, টমেটো
কিছু খাবার কাঁচা অবস্থায় সমস্যা করলেও রান্না করা হলে ততটা সমস্যা নাও করতে পারে।
মূত্রথলিতে জ্বালা সৃষ্টি করা খাবার শনাক্ত করার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো খাদ্য তালিকা বা ফুড ডায়েরি রাখা।
যেভাবে করবেন
- টানা তিন দিন আপনি কী খাচ্ছেন ও পান করছেন তা লিখে রাখুন
- একই সঙ্গে প্রস্রাব সংক্রান্ত উপসর্গগুলো নোট করুন
- কোনো খাবার খাওয়ার পর সমস্যা বাড়ছে কিনা মিলিয়ে দেখুন
- নির্দিষ্ট কোনো খাবারের সঙ্গে সমস্যা মিললে সেটি কিছুদিন বাদ দিন
এতে উপকার হলে সেটিই আপনার সমস্যার মূল কারণ হতে পারে। তবুও যদি সমস্যা বোঝা না যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন, তবে অতিরিক্ত নয়
- মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন
- পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত ব্যায়াম করুন
- সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন
- প্রয়োজনে পুষ্টিবিদের সহায়তা নিন
কলা, নাশপাতি, তরমুজ, ব্লুবেরি, শাকসবজি, ডাল, বাদাম, ভাত, ওটস, কুইনোয়া, ডিম, মাছ, মুরগি, দুধ ও হালকা চিজ, হারবাল চা ও স্বাভাবিক পানি। চিনি বা কৃত্রিম সুইটনার ছাড়া টকদই অনেক সময় উপকারী, কারণ এতে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালির স্বাস্থ্যে সাহায্য করে।
মূত্রথলির জ্বালা একটি সাধারণ কিন্তু অস্বস্তিকর সমস্যা, যা অনেক সময় আমাদের দৈনন্দিন খাবার ও পানীয়ের সঙ্গে জড়িত। সবার শরীর এক রকম নয়, তাই একই খাবার একজনের জন্য ক্ষতিকর হলেও অন্যজনের জন্য নাও হতে পারে। নিজের শরীরের সংকেত বুঝে খাদ্যাভ্যাসে সচেতন পরিবর্তন আনাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। নিয়মিত পানি পান, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে মূত্রথলির সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
মন্তব্য করুন








