ঢাকা, বাংলাদেশ ||
সোমবার
০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ||

রসুনের যত স্বাস্থ্য উপকারিতা

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক

  ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:১৯
ছবি : সংগৃহীত

রসুন শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ায় না, এটি আমাদের শরীরের জন্যও নানাভাবে উপকারী। গবেষণা দেখিয়েছে যে, রসুন নিয়মিত খেলে সাধারণ সর্দি-কাশি প্রতিরোধে সাহায্য হতে পারে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে এবং কোলেস্টেরল কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের জন্য রসুন ব্যবহার করত। প্রাচীন গ্রিক চিকিৎসক হিপোক্রেটিস। যাকে প্রায়ই পশ্চিমা চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক বলা হয়। তিনি বলেছেন, খাদ্য হোক তোমার ওষুধ এবং ওষুধ হোক তোমার খাদ্য (Let food be thy medicine, and medicine be thy food.)। তিনি বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার জন্য রসুন ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। আধুনিক বিজ্ঞানও অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা নিশ্চিত করেছে।

রসুনে আছে শক্তিশালী ঔষধি উপাদান

প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ রসুনকে এর ঔষধি ও স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য ব্যবহার করেছে। রসুন কেটে, চূর্ণ করে বা চাবানোর পর সালফারযুক্ত যৌগ তৈরি হয়, যা এর স্বাস্থ্য উপকারিতার মূল কারণ। সবচেয়ে পরিচিত যৌগ হলো অ্যালিসিন। তবে অ্যালিসিন অস্থায়ী এবং কেটে বা চূর্ণ করার পর কিছুক্ষণের জন্যই থাকে।

অন্যান্য যৌগ যেমন ডায়ালিল ডাইসালফাইড এবং এস-অ্যালিল সিস্টেইনও রসুনের স্বাস্থ্য উপকারিতায় ভূমিকা রাখতে পারে।

রসুন পুষ্টিকর কিন্তু কম ক্যালরি সম্পন্ন

প্রতি ক্যালরিতে রসুন অত্যন্ত পুষ্টিকর। একটি রসুনের কোয়া (প্রায় ৩ গ্রাম) মাত্র ৪.৫ ক্যালরি, ০.২ গ্রাম প্রোটিন এবং ১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট দেয়।

রসুনে আছে ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন সি, সেলেনিয়াম ও ফাইবার। এছাড়াও এতে অল্প পরিমাণে অন্যান্য পুষ্টি উপাদানও থাকে।

রসুন অসুস্থতা প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে

২০১৬ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী, এজড রসুন নির্যাস (AGE) আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে।

গবেষণার সময় যারা ঠাণ্ডা ও ফ্লুর মরসুমে তিন মাস AGE সাপ্লিমেন্ট নিয়েছিলেন, তারা কম সময় অসুস্থ ছিলেন। গবেষণায় দেখা গেছে যে, রসুনের যৌগে ভাইরাস প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে।

অর্থাৎ, রসুন বা রসুন সাপ্লিমেন্ট সর্দি-ফ্লু এবং অন্যান্য সাধারণ অসুস্থতা প্রতিরোধ ও কমাতে সাহায্য করতে পারে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে রসুন

উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের অন্যতম কারণ। গবেষণায় দেখা গেছে, রসুন সাপ্লিমেন্ট উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের রক্তচাপ কমাতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এর প্রভাব কিছু প্রেসার নিয়ন্ত্রণ ওষুধের মতোই, কিন্তু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম।

উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা রসুন সাপ্লিমেন্ট নিয়েও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পেতে পারেন।

রসুন কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে

গবেষণা দেখায় যে, রসুন মোট কোলেস্টেরল ও LDL (খারাপ কোলেস্টেরল) কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে HDL (ভালো কোলেস্টেরল) বা ট্রাইগ্লিসারাইডের ওপর এর কোনো প্রভাব পাওয়া যায়নি।

রসুন বিশেষ করে যারা সামান্য উচ্চ কোলেস্টেরল সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য উপকারী হতে পারে।

আলঝেইমারসহ জ্ঞানশক্তি ক্ষয় কমাতে সাহায্য করতে পারে

ফ্রি রেডিক্যালস থেকে সৃষ্ট অক্সিডেটিভ ক্ষয় বার্ধক্য ও মস্তিষ্কের জ্ঞানশক্তি হ্রাসে ভূমিকা রাখে। রসুনের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এই ক্ষয় কমাতে সাহায্য করে। কিছু গবেষণা নির্দেশ করে যে, এটি আলঝেইমারসহ অন্যান্য ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে।

রসুন মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষা ও বার্ধক্যজনিত ক্ষয় ধীর করতে সাহায্য করতে পারে।

রসুন জীবনকাল বাড়াতে সাহায্য করতে পারে

যদিও মানবদেহে এটি প্রমাণ করা কঠিন, রসুনের রক্তচাপ ও সংক্রমণ প্রতিরোধ ক্ষমতার সুবিধার কারণে দীর্ঘজীবন সম্ভাবনা আছে।

অর্থাৎ, রসুন দীর্ঘজীবন ও রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।

রসুন শারীরিক কর্মক্ষমতা উন্নত করতে পারে

প্রাচীনকাল থেকে শ্রমিকদের ক্লান্তি কমাতে ও কর্মক্ষমতা বাড়াতে রসুন ব্যবহার করা হতো। বর্তমান মানুষের ওপর গবেষণা সীমিত। কিছু প্রাণী গবেষণায় দেখা গেছে, এটি শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস (oxidative stress হলো শরীরের ফ্রি র‍্যাডিক্যাল এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের মধ্যে ভারসাম্যের অভাব। এর ফলে কোষের ক্ষতি হয় এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি অসুখের ঝুঁকি বাড়ে।) কমাতে সাহায্য করে।

রসুন শারীরিক কর্মক্ষমতা বাড়াতে পারে, তবে খেয়াল রাখবেন মানবদেহে এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন।

রসুন শরীর থেকে ভারী ধাতু নির্গমন করতে সাহায্য করতে পারে

উচ্চ মাত্রায় রসুনের সালফার যৌগ রক্ত ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ধাতু বিষক্রিয়া কমাতে সাহায্য করে। রসুন লেড ও অন্যান্য ভারী ধাতুর ক্ষতি কমাতে সক্ষম।

রসুন হাড়ের স্বাস্থ্য উন্নত করতে পারে

গবেষণা দেখায় যে, বিশেষ করে মেনোপজ পরবর্তী মহিলাদের জন্য, রসুন oxidative stress কমাতে সাহায্য করে যা অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে সহায়ক।

সংক্ষেপে, হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় রসুন কিছুটা উপকার দিতে পারে।

রসুন ব্যবহার সহজ এবং খাবারে স্বাদ যোগ করে

রসুন সহজেই আপনার খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়। এটি স্যুভি খাবার, স্যুপ, সস এবং ড্রেসিংয়ে ব্যবহার করা যায়।

অর্থাৎ, রসুন সুস্বাদু এবং সহজে ব্যবহৃত হয়।

রসুনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

- মুখের দুর্গন্ধ

- কিছু মানুষের জন্য অ্যালার্জি

- রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা থাকলে সাবধান

- রক্ত পাতলা করার ঔষধ নিলে রসুন বেশি না খাওয়াই ভালো

হাজার বছরের বেশি সময় ধরে মানুষ রসুনকে ঔষধি গুণের জন্য বিশ্বাস করে আসছে। আধুনিক গবেষণা অনেক ক্ষেত্রে এটিকে নিশ্চিত করছে।

রসুন বেশিরভাগ মানুষের জন্য নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর। তবে যদি আপনি রক্ত পাতলা করার ওষুধ গ্রহণ করেন, রসুন বেশি খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সূত্র: হেল্থ লাইন

মন্তব্য করুন

সাধারণ যে ৩ অভ্যাসেই ক্ষতি হচ্ছে কিডনির, জানালেন চিকিৎসক
আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হলো কিডনি। পেটের দুই পাশে থাকা এই ছোট অঙ্গ প্রতিদিন নীরবে শরীরের জন্য বিশাল কাজ করে যায়। রক্ত থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত পানি ছেঁকে মূত্র তৈরি করা, শরীরের লবণ ও খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করা এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ হরমোন উৎপাদনে ভূমিকা রাখা; সবই কিডনির দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, আমরা না বুঝেই এমন কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস গড়ে তুলি, যা ধীরে ধীরে কিডনির ক্ষতি করে। সমস্যা হলো, কিডনির রোগ অনেক সময় প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনো লক্ষণ দেখায় না। ফলে যখন ধরা পড়ে, তখন পরিস্থিতি জটিল হয়ে যেতে পারে। তাই আগে থেকেই সতর্ক হওয়া জরুরি। ভারতের রুবি হল ক্লিনিকের ইউরোলজিস্ট ডা. ক্ষিতিজ রঘুবংশী জানিয়েছেন, আমাদের তিনটি সাধারণ অভ্যাস কিডনির ওপর নীরব ক্ষতি ডেকে আনছে। বিষয়গুলো জেনে রাখা প্রয়োজন। নিয়মিত পেইনকিলার খাওয়া মাথাব্যথা, কোমর বা শরীর ব্যথা, কিংবা মাসিকের সময়ের অস্বস্তিতে অনেকেই ইবুপ্রোফেন বা ন্যাপ্রোক্সেনের মতো ওষুধ খেয়ে থাকেন। এই ধরনের ওষুধকে বলা হয় নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগস, সংক্ষেপে (এনএসএআইডিএস)। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বা দীর্ঘদিন নিয়মিত এসব ওষুধ সেবন কিডনির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এনএসএআইডিএস কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে। এতে কিডনির স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়। যাদের আগে থেকেই কিডনি সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগ আছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত পেইনকিলার খেলে কিডনিতে প্রদাহ তৈরি হতে পারে, যা পরে স্থায়ী কিডনি বিকলের কারণ হতে পারে। একইসঙ্গে একাধিক ব্যথানাশক একসঙ্গে খাওয়া বা নির্ধারিত মাত্রার বেশি গ্রহণ করলে ক্ষতির সম্ভাবনা আরও বাড়ে। অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার অভ্যাস অনেকে মনে করেন, সাধারণ লবণের বদলে সি সল্ট বা হিমালয়ান লবণ ব্যবহার করলে তা স্বাস্থ্যকর। কিন্তু বাস্তবে সব ধরনের লবণেই মূল উপাদান সোডিয়াম ক্লোরাইড। তাই অতিরিক্ত পরিমাণে যেকোনো লবণই ক্ষতিকর। শরীরে বেশি সোডিয়াম গেলে রক্তচাপ বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কিডনির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়। কিডনিকে তখন অতিরিক্ত কাজ করতে হয়, যা ধীরে ধীরে তার কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লবণের ধরন বদলানোর চেয়ে প্রতিদিনের মোট লবণ গ্রহণ কমানোই বেশি জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে ৫ গ্রামের বেশি লবণ খাওয়া উচিত নয়। আমাদের দেশে অনেকেই অজান্তেই এর চেয়ে বেশি লবণ খেয়ে ফেলেন, বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিপস, আচার, ফাস্টফুড বা ভর্তা জাতীয় খাবারের মাধ্যমে। প্রয়োজনের বেশি পানি খাওয়া পানি শরীরের জন্য অপরিহার্য। তবে অনেকেই মনে করেন, যত বেশি পানি খাবেন তত ভালো। এই ধারণা সবসময় সঠিক নয়। দিনে ৬ থেকে ৭ লিটার পানি খাওয়া অধিকাংশ মানুষের জন্য প্রয়োজন নেই। বরং অতিরিক্ত পানি খেলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে যেতে পারে, যাকে বলা হয় হাইপোনাট্রিমিয়া। এতে মাথা ঘোরা, বমি ভাব, খিঁচুনি এমনকি গুরুতর জটিলতাও দেখা দিতে পারে। সাধারণভাবে একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে ২ থেকে ৩ লিটার তরল গ্রহণ যথেষ্ট। তবে গরম আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম, গর্ভাবস্থা বা অসুস্থতার ক্ষেত্রে প্রয়োজন বাড়তে পারে। তাই জোর করে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি না খেয়ে শরীরের তেষ্টা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী পানি পান করাই ভালো। পেইনকিলার নেওয়ার আগে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন - চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত ব্যথানাশক ওষুধ খাবেন না - কিডনি, লিভার, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগ থাকলে বিশেষ সতর্ক থাকুন - নির্ধারিত মাত্রার বেশি কখনোই ওষুধ গ্রহণ করবেন না - হারবাল বা আয়ুর্বেদিক বলে পরিচিত ওষুধও সবসময় নিরাপদ নয়, কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতিকর উপাদান থাকতে পারে - ওষুধের লেবেল ভালোভাবে পড়ে নিন। কারণ, অনেক ওষুধে একাধিক উপাদান থাকে এবং অজান্তেই অতিরিক্ত মাত্রা হয়ে যেতে পারে কিডনি আমাদের শরীরের নীরব কর্মী। এটি ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা অনেক সময় তার গুরুত্ব বুঝতে পারি না। কিন্তু দৈনন্দিন ছোট ছোট অভ্যাসই ভবিষ্যতে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। অযথা ওষুধ সেবন, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ এবং প্রয়োজনের বেশি পানি পান- এই তিনটি অভ্যাসে সচেতন পরিবর্তন আনলেই কিডনিকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা সম্ভব। সুস্থ থাকতে হলে কিডনির যত্ন নেওয়া এখনই শুরু করা উচিত। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং সচেতন জীবনযাপনই হতে পারে কিডনি সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সূত্র : দ্য ওয়াল
সাধারণ যে ৩ অভ্যাসেই ক্ষতি হচ্ছে কিডনির, জানালেন চিকিৎসক
সব সময় ক্ষুধা লাগার আছে কিছু সম্ভাব্য কারণ
আমাদের শরীর শক্তির জন্য খাবারের ওপর নির্ভরশীল। তাই কয়েক ঘণ্টা না খেলে ক্ষুধা লাগা স্বাভাবিক। তবে নিয়মিত খাবার খাওয়ার পরও যদি পেটে সব সময় ক্ষুধা লাগে, তাহলে এর পেছনে শারীরিক কোনো কারণ থাকতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় অস্বাভাবিক বা অতিরিক্ত ক্ষুধাকে বলা হয় পলিফেজিয়া। দীর্ঘ সময় ধরে এমন সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিচে সব সময় ক্ষুধা লাগার কয়েকটি সাধারণ কারণ তুলে ধরা হলো। ডায়াবেটিস আমরা যে খাবার খাই, তা থেকে তৈরি হয় গ্লুকোজ, যা শরীরের জ্বালানি। কিন্তু ডায়াবেটিস হলে এই গ্লুকোজ কোষে পৌঁছাতে পারে না। ফলে শরীর প্রস্রাবের মাধ্যমে গ্লুকোজ বের করে দেয় এবং আবার খাবার খেতে সংকেত দেয়। বিশেষ করে টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অনেক বেশি খেয়েও ওজন কমতে দেখেন। ডায়াবেটিসের অন্যান্য লক্ষণ  - অতিরিক্ত পিপাসা - বারবার প্রস্রাব - অকারণে ওজন কমে যাওয়া - ঝাপসা দেখা - কাটা বা আঘাত দেরিতে সারা - হাত-পায়ে ঝিনঝিন বা ব্যথা - অতিরিক্ত ক্লান্তি রক্তে শর্করা কমে যাওয়া হাইপোগ্লাইসেমিয়া হলো যখন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা খুব কমে যায়। এটি ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, তবে অন্য সমস্যাতেও হতে পারে। যেমন লিভারের প্রদাহ, কিডনি রোগ, অগ্ন্যাশয়ের কিছু টিউমার বা অ্যাড্রিনাল ও পিটুইটারি গ্রন্থির সমস্যা। তীব্র ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি মাতাল মনে হতে পারেন। কথা জড়িয়ে যেতে পারে বা হাঁটতে সমস্যা হতে পারে। অন্যান্য লক্ষণ - উদ্বেগ - হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক মনে হওয়া - ফ্যাকাশে ত্বক - কাঁপুনি - ঘাম - মুখের চারপাশে ঝিনঝিন অনুভূতি ঘুমের ঘাটতি পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এতে ক্ষুধা বেড়ে যায় এবং পেট ভরা অনুভূতি কমে যায়। ক্লান্ত থাকলে বেশি চর্বি ও ক্যালরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণও বাড়ে। ঘুমের ঘাটতির অন্যান্য প্রভাব - মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা - মেজাজের পরিবর্তন - অসাবধানতা - দিনের বেলায় তন্দ্রা - ওজন বৃদ্ধি মানসিক চাপ উদ্বেগ বা মানসিক চাপ থাকলে শরীর কর্টিসল নামের হরমোন নিঃসরণ করে। এতে ক্ষুধা বেড়ে যেতে পারে। চাপের সময় অনেকেই মিষ্টি বা চর্বিযুক্ত খাবার বেশি খেতে চান। এটি মস্তিষ্কের উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। অন্যান্য লক্ষণ - হঠাৎ রাগ - ক্লান্তি - মাথাব্যথা - ঘুমের সমস্যা - পেটের অস্বস্তি খাদ্যাভ্যাস সব খাবার সমানভাবে পেট ভরায় না। প্রোটিন ও আঁশসমৃদ্ধ খাবার ক্ষুধা কমাতে বেশি কার্যকর। যেমন চর্বিহীন মাংস, মাছ, ডাল, দুধ, ফল, সবজি ও পূর্ণ শস্য। বাদাম, মাছ ও সূর্যমুখী তেলে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং পেট ভরা রাখতে সহায়ক। অন্যদিকে পেস্ট্রি, সাদা পাউরুটি, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও ফাস্ট ফুডে পুষ্টি কম কিন্তু অস্বাস্থ্যকর চর্বি ও কার্বোহাইড্রেট বেশি। এগুলো খেলে দ্রুত আবার ক্ষুধা লাগতে পারে। খাবার ধীরে চিবিয়ে ও মনোযোগ দিয়ে খেলে তুলনামূলক কম খেয়েও পেট ভরা অনুভূতি পাওয়া যায়। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিছু ওষুধ ক্ষুধা বাড়াতে পারে। যেমন অ্যালার্জির অ্যান্টিহিস্টামিন, কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, স্টেরয়েড, কিছু ডায়াবেটিসের ওষুধ ও মানসিক রোগের ওষুধ। কোনো ওষুধ শুরু করার পর হঠাৎ ওজন বাড়লে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন। গর্ভাবস্থা গর্ভাবস্থায় অনেক নারীর ক্ষুধা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এটি শিশুর বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সাধারণত প্রথম তিন মাসে ১ থেকে ৫ পাউন্ড পর্যন্ত ওজন বাড়তে পারে। পরের মাসগুলোতে প্রতি সপ্তাহে গড়ে প্রায় ১ পাউন্ড করে ওজন বাড়া স্বাভাবিক। গর্ভাবস্থার অন্যান্য লক্ষণ - মাসিক বন্ধ হওয়া - ঘন ঘন প্রস্রাব - বমিভাব - স্তন ব্যথা বা আকার বৃদ্ধি থাইরয়েডের সমস্যা গলার সামনে প্রজাপতি আকৃতির থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এটি বেশি সক্রিয় হলে হাইপারথাইরয়েডিজম হতে পারে। এ অবস্থায় ক্ষুধা বাড়লেও ওজন কমে যেতে পারে। অন্যান্য লক্ষণ - দ্রুত হৃদস্পন্দন - উদ্বিগ্ন অনুভব - অতিরিক্ত ঘাম - পেশি দুর্বলতা - পানি খাওয়ার পরও পিপাসা ডায়েট সোডা অনেকে ক্যালরি কমাতে চিনিমুক্ত সফট ড্রিংক পান করেন। কিন্তু কৃত্রিম মিষ্টি মস্তিষ্ককে ক্যালরি আসছে এমন সংকেত দেয়। পরে শরীর ক্যালরি না পেলে ক্ষুধা বাড়তে পারে। এর সঙ্গে মাথাব্যথা, মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা ও ওজন বৃদ্ধি দেখা দিতে পারে। পানিশূন্যতা অনেক সময় তৃষ্ণাকে আমরা ক্ষুধা ভেবে ভুল করি। পর্যাপ্ত পানি না খেলে ক্ষুধা বেশি লাগতে পারে। পানিশূন্যতার লক্ষণ - মাথা ঘোরা - ক্লান্তি - কম প্রস্রাব বা গাঢ় রঙের প্রস্রাব খাবারের আগে এক গ্লাস পানি খেলে কম ক্যালরিতেই পেট ভরা অনুভূতি আসতে পারে। অতিরিক্ত ব্যায়াম ব্যায়াম করলে শরীর বেশি ক্যালরি পোড়ায় এবং বিপাকক্রিয়া বাড়ে। ফলে কিছু মানুষের ক্ষুধা বাড়তে পারে। নিয়মিত শরীরচর্চা করলে সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা জরুরি। সব সময় ক্ষুধা লাগা শুধু খাবারের অভ্যাসের বিষয় নয়, এর পেছনে শারীরিক বা মানসিক নানা কারণ থাকতে পারে। ডায়াবেটিস, থাইরয়েড সমস্যা, ঘুমের ঘাটতি, মানসিক চাপ কিংবা পানিশূন্যতা—সবই ক্ষুধা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক ক্ষুধা অনুভব করলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত ব্যায়াম সুস্থ জীবনযাপনের মূল চাবিকাঠি। সূত্র: ওয়েব এমডি
সব সময় ক্ষুধা লাগার আছে কিছু সম্ভাব্য কারণ
রাতে ওয়াইফাই বন্ধ রাখলে পাবেন যেসব উপকারিতা
বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাড়ি, অফিস, পড়াশোনা থেকে বিনোদন—সবখানেই ওয়াইফাই ব্যবহার হচ্ছে নিয়মিত। তবে অনেকেই এখন প্রশ্ন তুলছেন, সারাক্ষণ চালু থাকা ওয়াইফাই সিগন্যাল আমাদের ঘুম, স্বাস্থ্য, এমনকি ঘরের গাছপালার ওপর কোনো প্রভাব ফেলছে কি না।  বিশেষজ্ঞদের কিছু গবেষণা ও ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা বলছে, রাতে ঘুমানোর সময় ওয়াইফাই বন্ধ রাখলে কিছু সম্ভাব্য উপকার পাওয়া যেতে পারে। ঘুমের মান ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ভালো ঘুম সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম না হলে শরীরের স্বাভাবিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, মনোযোগ কমে যায় এবং মেজাজ খিটখিটে হতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গের সংস্পর্শে থাকলে ঘুমের গভীর স্তর কমে যেতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার RMIT University-এর একটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, রাউটারের কাছাকাছি ঘুমানো কিছু মানুষের মধ্যে অনিদ্রার অভিযোগ বেশি ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২.৪ গিগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সির সিগন্যাল গভীর ঘুমে প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া, ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন মেলাটোনিন উৎপাদনের সঙ্গেও তড়িৎচৌম্বক সিগন্যালের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়। রাতে ওয়াইফাই বন্ধ রাখলে শরীর স্বাভাবিকভাবে বিশ্রামে যেতে পারে, ফলে ঘুমের মান উন্নত হতে পারে। ভালো ঘুম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং মানসিক স্থিতি বজায় রাখতে সাহায্য করে। তড়িৎচৌম্বক বিকিরণ ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি ওয়াইফাই, মোবাইল ফোন ও ব্লুটুথ ডিভাইস থেকে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি তড়িৎচৌম্বক ক্ষেত্র নির্গত হয়। World Health Organization পূর্বে এই ধরনের বিকিরণকে সম্ভবত ক্যানসার সৃষ্টিকারী হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছিল। পরবর্তীতে International Agency for Research on Cancer আরও পর্যালোচনার সুপারিশ করে। যদিও অধিকাংশ গবেষণা মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর কেন্দ্রীভূত, তবুও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সার্বিক বিকিরণ কমানোই নিরাপদ পন্থা। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু এবং যারা তড়িৎচৌম্বক সংবেদনশীলতায় ভুগছেন বলে মনে করেন, তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা যেতে পারে। কিছু মানুষের মধ্যে মাথাব্যথা, অবসাদ, মনোযোগের ঘাটতি, চোখে চাপ বা ঘুমের সমস্যা দেখা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যদিও মূলধারার সংস্থাগুলো বলছে ওয়াইফাই বিকিরণ খুবই নিম্নমাত্রার, তবুও অপ্রয়োজনীয় সংস্পর্শ কমানো ক্ষতিকর নয়। পুরুষ প্রজননস্বাস্থ্য ও কোষগত প্রভাব কিছু গবেষণায় রেডিওফ্রিকোয়েন্সি বিকিরণের সঙ্গে শুক্রাণুর গতি ও গুণগত মানের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় শরীরের খুব কাছে ডিভাইস রাখা হলে তাপ ও বিকিরণের সম্মিলিত প্রভাবে কোষীয় পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হয়। এ ছাড়া, যেকোনো ধরনের বিকিরণ কোষের স্বাভাবিক সংকেত আদান–প্রদানে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। যদিও ওয়াইফাই অ-আয়নকারী বিকিরণ, যা এক্স–রের মতো উচ্চশক্তির নয়, তবুও সারাদিন বিভিন্ন উৎস থেকে বিকিরণ যুক্ত হলে মোট সংস্পর্শের পরিমাণ বেড়ে যায়। রাতে ওয়াইফাই বন্ধ রাখলে এই মোট সংস্পর্শ কিছুটা কমানো সম্ভব। বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও পরিবেশগত লাভ ওয়াইফাই রাউটার ২৪ ঘণ্টা চালু থাকলে অল্প হলেও বিদ্যুৎ খরচ হয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি বিদ্যুৎ বিল বাড়ায় এবং কার্বন নিঃসরণেও ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা বন্ধ রাখলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় এবং রাউটারের আয়ু বাড়তে পারে। এ ছাড়া, রাতে ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন ব্যবহারও কমে, যা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে। গাছপালার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব কিছু পরীক্ষামূলক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় তড়িৎচৌম্বক ক্ষেত্রের সংস্পর্শে থাকলে কিছু সংবেদনশীল উদ্ভিদের বীজ অঙ্কুরোদ্গম, পাতা বৃদ্ধি ও পুষ্টি শোষণে প্রভাব পড়তে পারে। যদিও এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন, তবুও অনেকে মনে করেন রাতে ওয়াইফাই বন্ধ রাখলে ঘরের গাছপালা তুলনামূলক স্বাভাবিক পরিবেশ পায়। রাতে যেভাবে ওয়াইফাই বন্ধ রাখবেন ম্যানুয়াল পদ্ধতি: ঘুমাতে যাওয়ার আগে রাউটারের সুইচ বন্ধ করে দেওয়া বা বিদ্যুৎ সংযোগ খুলে রাখা যায়। সকালে আবার চালু করতে হবে। টাইমার বা স্মার্ট প্লাগ ব্যবহার: টাইমার প্লাগ বা স্মার্ট প্লাগ ব্যবহার করে নির্দিষ্ট সময়ে রাউটার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ ও চালু করা যায়। অনেক রাউটারেই নির্দিষ্ট সময়সূচি সেট করার সুবিধা থাকে। রাউটারের অবস্থান পরিবর্তন: যদি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব না হয়, তবে রাউটার শোবার ঘর থেকে দূরে রাখা যেতে পারে, যেমন বসার ঘর বা করিডরে। রাতে ওয়াইফাই বন্ধ রাখা একটি ছোট কিন্তু সচেতন পদক্ষেপ। এটি ঘুমের মান উন্নত করতে, সম্ভাব্য তড়িৎচৌম্বক সংস্পর্শ কমাতে, বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে এবং ঘরের পরিবেশকে আরও স্বাস্থ্যকর রাখতে সহায়তা করতে পারে। যদিও এ বিষয়ে সব গবেষণার ফল একমত নয়, তবুও অপ্রয়োজনীয় এক্সপোজার কমানো একটি নিরাপদ অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। পরিবারের সবার সুস্থতা, ভালো ঘুম এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের জন্য রাতে কয়েক ঘণ্টা ওয়াইফাই বন্ধ রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। সূত্র: ইএমএফ এমপাওয়ারমেন্ট, টাইমস অব ইন্ডিয়া
রাতে ওয়াইফাই বন্ধ রাখলে পাবেন যেসব উপকারিতা
সকালে ব্রাশ করার আগে পানি পান করা কি ঠিক, জানুন চিকিৎসকের পরামর্শ
পানি আমাদের শরীরের প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ অংশ গঠন করে। এটি শুধু আমাদের পেট ভরায় না, বরং হজম, রক্ত সঞ্চালন, ত্বকের স্বাস্থ্য এবং শরীরের নানা কার্যক্রমের জন্য অপরিহার্য।  তাই সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে পানি খাওয়ার প্রচলন অনেক দেশেই রয়েছে। কিন্তু অনেকেরই প্রশ্ন থাকে, দাঁত মাজার আগে পানি খাওয়া কি ঠিক? এতে কি কোনো ক্ষতি হতে পারে? চলুন এই বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা যাক। অনেকেই মনে করেন, ঘুম থেকে উঠে মুখে থাকা লালা ও ব্যাকটেরিয়ার কারণে পানি খাওয়া ঠিক নয়। তবে এ ধারণা ভুল। বৈজ্ঞানিভাবে দেখা গেছে, সকালে পানি পান করলে লালার সঙ্গে থাকা ব্যাকটেরিয়া পেটে গিয়ে অ্যাসিডের সঙ্গে মিলিত হয়ে ধ্বংস হয়। ফলে দাঁত মাজার আগে পানি খাওয়া নিরাপদ। স্বাস্থ্যবিষক মার্কিন ওয়েবসাইট লিব্রেট জাপানি সংস্কৃতিতেও এটি সুপরিচিত যে, জাপানি মানুষ ঘুম থেকে উঠে দুই গ্লাস পানি পান করেন। এতে দেহ হাইড্রেট থাকে, হজম প্রক্রিয়া ঠিক থাকে এবং সারাদিন শরীর সতেজ থাকে। ডাক্তাররাও খালি পেটে সকালে পানি খাওয়ার পরামর্শ দেন। দাঁত মাজার আগে পানি খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা ইমিউনিটি শক্তিশালী করে: সকালে খালি পেটে পানি খাওয়া শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এটি রোগ বা জীবাণুর সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। হজম ও বাওয়েল স্বাস্থ্য বজায় রাখে: পানি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে এবং অন্ত্রের কার্যক্রম সচল রাখতে সাহায্য করে। সকালে পানি খাওয়া হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং বাওয়েল পরিষ্কার রাখে। মেটাবলিজম বৃদ্ধি পায়: পানি শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়াকে দ্রুত করে। ফলে আপনি সারাদিন আরও বেশি এনার্জি অনুভব করতে পারেন। মাথাব্যথা ও মাইগ্রেন কমায়: যাদের মাথাব্যথা বা মাইগ্রেন হয়, তাদের জন্য সকালবেলা খালি পেটে পানি পান উপকারী। এটি সিরদমি কমাতে এবং কোষ্ঠনাল সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে। ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: সকালে পানি খেলে পেটে পরিপূর্ণতা অনুভূত হয়, ফলে অযথা খাওয়ার প্রবণতা কমে। এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর রুটিন গড়ে তোলে। ত্বকের জন্য উপকারী: পানি শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে এবং মৃত কোষ দূর করে। ফলে ত্বক থাকে সতেজ ও উজ্জ্বল। নিয়মিত পানি পান করলে ত্বক নরম এবং হাইড্রেটেড থাকে। ডিটক্স এবং শরীরের কার্যকারিতা বৃদ্ধি: সকালে পানি খাওয়া শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে, যাকে আমরা ‘ডিটক্সিফিকেশন’ বলি। এটি লিভার এবং কিডনির কার্যকারিতা উন্নত করে। দাঁত মাজার আগে পানি খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি খালি পেটে পান করুন: ঘুম থেকে উঠে পানি পান করলে হজম প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সক্রিয় হয়। পরিমাণ: এক বা দুই গ্লাস পানি যথেষ্ট। অতিরিক্ত পানি খেলে পেট ভরে যেতে পারে এবং অস্বস্তি হতে পারে। শীতল বা রুম টেম্পারেচারের পানি: খুব গরম বা খুব ঠান্ডা পানি এড়ানো ভালো। রুম টেম্পারেচারের পানি সহজে হজম হয়। দাঁত মাজার পরে অন্যান্য পানীয়— যদি চা, কফি বা জুস খেতে চান, তা দাঁত মাজার পরে পান করা ভালো। কখন সাবধান হওয়া উচিত যদি কারও রক্ত পাতলা করার ওষুধ চলছে বা রক্তক্ষরণের সমস্যা থাকে, তাদের বেশি পরিমাণে পানি খাওয়ার আগে বা ওমেগা ৩ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এছাড়া যাদের স্টোমাক সংক্রান্ত সমস্যা বা অ্যাসিডিটি আছে, তারা পানির পরিমাণ ও সময় নিয়ে সতর্ক হতে পারেন। খাদ্যতালিকায় পানি যুক্ত করার সহজ উপায় - সকালে ঘুম থেকে উঠে এক বা দুই গ্লাস পানি খাওয়া - স্মুদি বা ওটসের সঙ্গে পানি ব্যবহার করা - সুপ বা হালকা জলযুক্ত খাবারে পানি অন্তর্ভুক্ত করা - চা বা কফির আগে পানি পান করা দাঁত মাজার আগে পানি খাওয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং এটি শরীরের জন্য অনেক উপকারী। খালি পেটে পানি পান করলে সারাদিন হাইড্রেশন বজায় থাকে, হজম ঠিক থাকে, মেটাবলিজম বাড়ে এবং ত্বক সতেজ থাকে। তবে বিশেষ কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। নিয়মিত পানি পান এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চললেই শরীর সুস্থ, সতেজ ও প্রাণবন্ত থাকে।
সকালে ব্রাশ করার আগে পানি পান করা কি ঠিক, জানুন চিকিৎসকের পরামর্শ
ক্যানসার নিয়ে নতুন গবেষণা, ফলাফলে চমক
ক্যানসারের চিকিৎসা সাধারণত ওষুধের ধরন, রোগের স্তর ও রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে ঠিক করা হয়। তবে নতুন এক গবেষণা বলছে, চিকিৎসা নেওয়ার সময়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এক্ষেত্রে। বিশেষ করে ইমিউনোথেরাপির ক্ষেত্রে দিনের কোন সময়ে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে, তা ফলাফলের ওপর বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে। সম্প্রতি গবেষকরা ফুসফুসের একই ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত ২১০ জন রোগীর ওপর একটি পরীক্ষা চালান। সবাই একই ধরনের ইমিউনোথেরাপি পান। পার্থক্য ছিল শুধু সময়ের। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী একদল রোগী বিকেল ৩টার আগে চিকিৎসা নেন, আরেক দল বিকেল ৩টার পরে। ফলাফল ছিল চমকপ্রদ। যারা সকালে চিকিৎসা নিয়েছেন, তাদের ক্যানসার গড়ে প্রায় পাঁচ মাস বেশি সময় নিয়ন্ত্রণে ছিল। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘প্রগ্রেশন ফ্রি সারভাইভাল’ (প্রগ্রেশন ফ্রি সারভাইভাল বা পিএফএস বলতে বোঝায় চিকিৎসা চলাকালীন এবং চিকিৎসার পর এমন একটি সময়কাল, যখন রোগী ক্যানসারের মতো কোনো রোগ নিয়ে বেঁচে থাকেন কিন্তু রোগটি আর বাড়ে না বা খারাপের দিকে যায় না।) শুধু তাই নয়, তারা গড়ে প্রায় এক বছর বেশি বেঁচে ছিলেন। গবেষণা শেষে দেখা যায়, সকালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের প্রায় ৪৫ শতাংশ তখনও জীবিত ছিলেন, যেখানে বিকেলে চিকিৎসা নেওয়া দলে এ হার ছিল প্রায় ১৫ শতাংশ। গবেষকেরা বহুদিন ধরেই শরীরের জৈব ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম নিয়ে কাজ করছেন। এই জৈব ঘড়ি আমাদের হরমোন নিঃসরণ, ক্ষুধা, ঘুম, শরীরের তাপমাত্রা, রক্তে শর্করার মাত্রা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সময়ের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিজ্ঞানীদের ধারণা, সকালে টি সেল নামের বিশেষ শ্বেত রক্তকণিকা বেশি সক্রিয় থাকে। এই কোষগুলো ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে ধ্বংস করতে সাহায্য করে। ক্যানসার কোষ সাধারণত এই টি সেলকে দুর্বল করে দেয়। ইমিউনোথেরাপির ওষুধ সেই বাধা দূর করে টি সেলকে সক্রিয় রাখে। ফলে যদি সকালে শরীরে বেশি সক্রিয় টি সেল উপস্থিত থাকে, তাহলে ওষুধের প্রভাবও বেশি হতে পারে। তবে সব বিশেষজ্ঞই এখনও সতর্ক অবস্থানে আছেন। কারণ, ইমিউনোথেরাপির ওষুধ শরীরে কয়েক সপ্তাহ সক্রিয় থাকে। তাহলে শুধু প্রথম ডোজের সময় এত বড় পার্থক্য কেন হবে, সে প্রশ্নের পূর্ণ উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। গবেষকরা বলছেন, বিষয়টি আরও বড় পরিসরে ও ভিন্ন দেশে পুনরায় পরীক্ষা করা প্রয়োজন। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সময়ভিত্তিক পরিবর্তন আনা সহজ নয়। হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সময়সূচি পুনর্গঠন করতে হবে। তাই নিশ্চিত প্রমাণ ছাড়া চিকিৎসা পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। তবে এই গবেষণা নতুন এক দিক উন্মোচন করেছে। আগে কিছু পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণায় মেলানোমা ও কিডনি ক্যানসারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। নতুন গবেষণাটি প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে ক্যানসার চিকিৎসায় শুধু কোন ওষুধ দেওয়া হচ্ছে তা নয়, কখন দেওয়া হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সার্কাডিয়ান মেডিসিন বা সময়ভিত্তিক চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা দ্রুত এগোচ্ছে। ক্যানসারের চিকিৎসায় সময়ের ভূমিকা থাকতে পারে, এমন ধারণা এখন আর কল্পনা নয়, বরং বৈজ্ঞানিক আলোচনার বিষয়। যদিও আরও গবেষণা প্রয়োজন, তবু প্রাথমিক ফলাফল বলছে, দিনের সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে ফল আরও ভালো হতে পারে। ভবিষ্যতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা পরিকল্পনায় রোগীর জৈব ঘড়িকেও গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। এতে ক্যানসার চিকিৎসা আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
ক্যানসার নিয়ে নতুন গবেষণা, ফলাফলে চমক
৩০ বছরের পর বাড়ে পেটের চর্বি
অনেকেই মনে করেন ডায়েট পরিবর্তন বা জিমে ঘাম ঝরালেই পেটের চর্বি কমবে। কিন্তু ৩০ বছরের পর পেটের চর্বি কমানো অনেক সময় কঠিন হয়ে ওঠে। ফ্রেমন্ট, ক্যালিফোর্নিয়ার বোর্ড-সার্টিফায়েড গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ও হেপাটোলজিস্ট ড. সৌরভ সেতি এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।  তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলছেন, অনেকেই ৩০ বছরের পর শরীরের পরিবর্তন লক্ষ্য করতে শুরু করেন। তিনি প্রশ্ন করেন, আপনার অভ্যাস অপরিবর্তিত থাকা সত্ত্বেও কি পেটের চর্বি বেড়েছে? পেটের চর্বি কমাতে এবং হজম ভালো রাখতে চাইছেন? খবর এনডিটিভি ফ্রেমন্ট-এর মতে, ৩০ বছরের পর শরীরে যে পরিবর্তনগুলো হয় তা হলো -  ওজন বৃদ্ধি: একই খাবারও বেশি পেটের চর্বি তৈরি করে ব্যায়ামের প্রভাব কমে: একই ব্যায়াম কম ফল দেয় পরিবর্তন স্পষ্ট হয়: মাঝে মাঝে ‘চিট ডে’ ওজন বাড়িয়ে দেয় ড. সেতি বলছেন, এটি এলোমেলো ঘটনা নয় অর্থাৎ, এই পরিবর্তনগুলোর পেছনে বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে। পেটের চর্বি বাড়ার কারণ ড. সেতি ব্যাখ্যা করেন, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পেশির পরিমাণ কমে। ৩০ বছর বয়সের পর প্রতি দশকে ৩-৮ শতাংশ পেশি হারানো স্বাভাবিক। এর ফলে বিপাকীয় হার (metabolism) কমে যায়। তিনি বলেন, ‘কেবল ১ কেজি পেশি কমলেও দৈনিক ক্যালোরি খরচ কমে যায়।’ পেশির পরিমাণ কমে গেলে গ্লুকোজ হজম ও চর্বি জমায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ড. সেতি বলেন, পেশি শরীরের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ গ্লুকোজ ব্যবহার করে। পেশি কমলে গ্লুকোজ রক্তে দীর্ঘ সময় থাকে এবং পেটের চর্বিতে জমা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এছাড়া, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা প্রতি দশকে প্রায় ৪-৫ শতাংশ কমে যায়। ফলে একই পরিমাণ কার্বোহাইড্রেটও রক্তে বেশি শর্করা (sugar spike) তৈরি করে এবং পেটের চর্বি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ৩০-এর পর হরমোনের পরিবর্তনও ঘটে। বৃদ্ধি হরমোন ও যৌন হরমোন যেমন টেস্টোস্টেরন বা ইস্ট্রোজেন কমে যায়, কিন্তু কর্টিসল বেড়ে যায়। এই পরিবর্তন পেটের গভীর চর্বি জমার জন্য সহায়ক। ফলে,  - ভিসেরাল ফ্যাট বা গভীর পেটের চর্বি দ্রুত জমে - অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের চারপাশে চর্বি জমে ইনসুলিন প্রতিরোধ (insulin resistance) এবং প্রদাহ বৃদ্ধি পায় - যাদের ফ্যাটি লিভার, প্রিডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিস আছে, তাদের জন্য ঝুঁকি বেশি বিপাক কমার প্রাথমিক লক্ষণ ড. সেতি জানান, - ওজন একই থাকলেও পেট বড় হয় - দুপুরে ক্লান্তি বা এনার্জি কমে যাওয়া - চিনি খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি - কার্বোহাইড্রেটের পরে ফোলাভাব - পেটের উপরের অংশে চর্বি জমা সমাধান ও করণীয় ড. সেতি বলেন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনধারার পরিবর্তন পেটের চর্বি কমাতে সাহায্য করে। তিনি কয়েকটি মূল পরামর্শ দিয়েছেন। প্রোটিনের পরিমাণ : দৈনন্দিন ওজন অনুযায়ী ১.২-১.৬ গ্রাম প্রতি কেজি স্ট্রেন্থ ট্রেনিং: সপ্তাহে ৩ বার বা তার বেশি প্রতিদিন হাঁটাহাঁটি: ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত ঘুম: ৭-৮ ঘণ্টা ড. সেতি বলেন, পেটের চর্বি কমানোর জন্য নিয়মিত পরিকল্পনা এবং ধারাবাহিক জীবনধারা অপরিহার্য।
৩০ বছরের পর বাড়ে পেটের চর্বি
মাথাব্যথার ৭ সাধারণ ধরন
জীবনের কোনো না কোনো সময়ে আমরা সবাই মাথাব্যথার সমস্যায় পড়েছি। মাথাব্যথা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। এটি মাথায় ব্যথা, চাপ, টান বা ভারী অনুভূতির মাধ্যমে প্রকাশ পায় সাধারণত।  মাথাব্যথার ধরন অনেক রকম হতে পারে এবং এর লক্ষণ, তীব্রতা ও চিকিৎসাও ভিন্ন ভিন্ন হয়। তবে প্রশ্ন হলো, আপনার মাথাব্যথা কি সাময়িক কোনো সমস্যা, নাকি এটি কোনো গুরুতর অসুস্থতার ইঙ্গিত দিচ্ছে? খবর ডিগনিটি হেল্থ  চলুন মাথাব্যথার ৭টি সাধারণ ধরন জেনে নিই। চিন্তাজনিত মাথাব্যথা চিন্তাজনিত মাথাব্যথা বা টেনশন হেডেক সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এবং সাধারণত মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা থেকে হয়ে থাকে। এই ব্যথা সাধারণত মাথাজুড়ে হালকা থেকে মাঝারি চাপ বা যন্ত্রণার মতো অনুভূত হয়। অনেক সময় ঘাড়, কপাল বা কাঁধের পেশিতে ব্যথা বা শক্তভাবও থাকতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধেই এই মাথাব্যথা কমে যায়। সাইনাস জনিত মাথাব্যথা  সাইনাসে সংক্রমণ, অ্যালার্জি বা আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে সাইনাস জনিত মাথাব্যথা বা সাইনাস হেডেক হতে পারে। এতে গাল, কপাল বা নাকের চারপাশে গভীর ও স্থায়ী ব্যথা অনুভূত হয়। হঠাৎ মাথা নড়াচড়া করলে ব্যথা বাড়তে পারে। এর সঙ্গে নাক দিয়ে পানি পড়া, জ্বর বা মুখে ফোলাভাবও থাকতে পারে। এই ধরনের মাথাব্যথায় সাইনাসের ভেতরের জমে থাকা কফ পাতলা করার চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী ডিকনজেস্ট্যান্ট, অ্যান্টিহিস্টামিন বা নাকের স্প্রে ব্যবহার করা হয়। সাইনাসে সংক্রমণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক লাগতে পারে। অধিক শারীরিক পরিশ্রম জনিত মাথাব্যথা  অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের পর অধিক শারীরিক পরিশ্রম জনিত মাথাব্যথা বা এক্সারশন হেডেক দেখা দিতে পারে। দৌড়ানো, ভার উত্তোলন বা যৌন ক্রিয়ার পর এমন ব্যথা হতে পারে। সাধারণত মাথার দুই পাশে ধকধকে ব্যথা হয় এবং এটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। সাধারণ ব্যথানাশক ও বিশ্রাম নিলে উপশম পাওয়া যায়। মাইগ্রেন মাইগ্রেন একটি জটিল ও তীব্র মাথাব্যথা, যা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করতে পারে। এটি অনেক সময় পরিবেশ পরিবর্তন, মানসিক চাপ, ঘুমের ঘাটতি বা আবহাওয়ার কারণে শুরু হয়। ব্যথা ৩০ মিনিট থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। মাইগ্রেনে সাধারণত মাথার এক বা দুই পাশে তীব্র ধকধকে ব্যথা হয়। এর সঙ্গে মাথা ঘোরা, বমি ভাব, বমি, অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং আলো, শব্দ বা গন্ধে অস্বস্তি হতে পারে। অনেক সময় চোখের সামনে ঝাপসা দেখা বা আলো ঝলকানোর মতো লক্ষণও দেখা দেয়। হালকা মাইগ্রেনে সাধারণ ব্যথানাশক কাজ করলেও, দীর্ঘদিনের সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শে বিশেষ ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে। হরমোনজনিত মাথাব্যথা নারীদের মধ্যে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে মাথাব্যথা খুবই সাধারণ। মাসিক, গর্ভাবস্থা, মেনোপজ বা জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির কারণে ইস্ট্রোজেনের ওঠানামা হলে মাথাব্যথা হতে পারে। অনেক নারী মাসিকের সময় মাইগ্রেনের মতো তীব্র ব্যথায় ভোগেন। এই ধরনের মাথাব্যথায় ব্যথানাশক ওষুধের পাশাপাশি যোগব্যায়াম, বিশ্রাম, মানসিক চাপ কমানো এবং খাবারের ধরন পরিবর্তন উপকারী হতে পারে। ক্লাস্টার হেডেক ক্লাস্টার হেডেক তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। সাধারণত চোখের চারপাশে বা চোখের পেছনে তীব্র জ্বালাপোড়া বা সূচ ফোটানোর মতো ব্যথা হয়। একই পাশে চোখ দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হওয়া, মুখ লাল হয়ে যাওয়া বা চোখের পাতা ঝুলে পড়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়। এই ব্যথা দিনে একাধিকবার হতে পারে এবং কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। এটি নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে অক্সিজেন থেরাপি ও নির্দিষ্ট ওষুধ ব্যবহার করে এই ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। উচ্চ রক্তচাপজনিত মাথাব্যথা রক্তচাপ খুব বেশি বেড়ে গেলে এই ধরনের মাথাব্যথা হতে পারে। সাধারণত মাথার দুই পাশে ধকধকে ব্যথা হয়। এর সঙ্গে চোখে ঝাপসা দেখা, বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা নাক দিয়ে রক্ত পড়ার মতো লক্ষণ থাকতে পারে। এই অবস্থায় দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনলেই সাধারণত মাথাব্যথা কমে যায়। মাথাব্যথা খুবই সাধারণ সমস্যা এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি সাময়িক। একদিনের মধ্যে অনেক মাথাব্যথা নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে যদি মাথাব্যথা দুই দিনের বেশি স্থায়ী হয়, ক্রমেই তীব্র হয় বা নিয়মিত হতে থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিজের শরীরের লক্ষণগুলো বুঝে সময়মতো ব্যবস্থা নিলে মাথাব্যথার জটিলতা এড়ানো সম্ভব। নিয়মিত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত পানি পান এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন মাথাব্যথা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মাথাব্যথার ৭ সাধারণ ধরন
মূত্রথলি বা ব্লাডারে জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে যেসব খাবার ও পানীয়
মূত্রথলি বা ব্লাডার হলো বেলুনের মতো একটি অঙ্গ, যা আমাদের পেলভিক হাড়ের পেছনে অবস্থান করে। এটি মূত্রতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং শরীর থেকে বের হওয়ার আগে প্রস্রাব এখানে জমা থাকে। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমরা যা খাই বা পান করি, তার একটি অংশ কিডনির মাধ্যমে ছেঁকে প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে আসে। তাই খাবার ও পানীয়ের প্রভাব সরাসরি প্রস্রাব এবং মূত্রথলির ওপর পড়তে পারে। মূত্রথলির জ্বালা বলতে কী বোঝায় কিছু খাবার বা পানীয়ের প্রতি সংবেদনশীল হলে প্রস্রাব মূত্রথলিতে জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে। তখন মূত্রথলি স্বাভাবিকভাবে কাজ না করে নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন- - হঠাৎ তীব্র প্রস্রাবের চাপ অনুভব করা - ঘন ঘন প্রস্রাব লাগা - প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা - তলপেটে ব্যথা বা অস্বস্তি মূত্রথলির জ্বালা কি রোগের লক্ষণ বেশিরভাগ সময় মূত্রথলির জ্বালা কোনো জরুরি সমস্যা নয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি মূত্রনালির সংক্রমণ, দীর্ঘমেয়াদি ইন্টারস্টিশিয়াল সিস্টাইটিস বা খুব বিরল ক্ষেত্রে মূত্রনালি বা মূত্রথলির টিউমারের লক্ষণ হতে পারে। যদি জ্বর, কাঁপুনি, কোমরের নিচে বা পাশে ব্যথা কিংবা প্রস্রাবে রক্ত দেখা যায়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। যেসব খাবার ও পানীয় মূত্রথলিতে জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে অনেক সময় প্রতিদিনের পরিচিত কিছু খাবার ও পানীয়ই মূত্রথলির সমস্যার কারণ হয়। তবে কোনটি কার জন্য সমস্যা তৈরি করবে, তা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত যেসব খাবার ও পানীয় মূত্রথলির জ্বালা বাড়াতে পারে সেগুলো হলো- - ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়, যেমন কফি, চা ও এনার্জি ড্রিংক - কার্বনেটেড পানীয় বা সফট ড্রিংক - কৃত্রিম সুইটনারযুক্ত খাবার ও পানীয় - মদ্যপ পানীয় - অতিরিক্ত টক খাবার, যেমন লেবু, কমলা, টমেটো কিছু খাবার কাঁচা অবস্থায় সমস্যা করলেও রান্না করা হলে ততটা সমস্যা নাও করতে পারে। কোন খাবার সমস্যা করছে বুঝবেন কীভাবে মূত্রথলিতে জ্বালা সৃষ্টি করা খাবার শনাক্ত করার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো খাদ্য তালিকা বা ফুড ডায়েরি রাখা। যেভাবে করবেন - টানা তিন দিন আপনি কী খাচ্ছেন ও পান করছেন তা লিখে রাখুন - একই সঙ্গে প্রস্রাব সংক্রান্ত উপসর্গগুলো নোট করুন - কোনো খাবার খাওয়ার পর সমস্যা বাড়ছে কিনা মিলিয়ে দেখুন - নির্দিষ্ট কোনো খাবারের সঙ্গে সমস্যা মিললে সেটি কিছুদিন বাদ দিন এতে উপকার হলে সেটিই আপনার সমস্যার মূল কারণ হতে পারে। তবুও যদি সমস্যা বোঝা না যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। মূত্রথলির জ্বালা কমাতে কী করবেন - পর্যাপ্ত পানি পান করুন, তবে অতিরিক্ত নয় - মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন - পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত ব্যায়াম করুন - সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন - প্রয়োজনে পুষ্টিবিদের সহায়তা নিন মূত্রথলির জন্য তুলনামূলক নিরাপদ খাবার কলা, নাশপাতি, তরমুজ, ব্লুবেরি, শাকসবজি, ডাল, বাদাম, ভাত, ওটস, কুইনোয়া, ডিম, মাছ, মুরগি, দুধ ও হালকা চিজ, হারবাল চা ও স্বাভাবিক পানি। চিনি বা কৃত্রিম সুইটনার ছাড়া টকদই অনেক সময় উপকারী, কারণ এতে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালির স্বাস্থ্যে সাহায্য করে। মূত্রথলির জ্বালা একটি সাধারণ কিন্তু অস্বস্তিকর সমস্যা, যা অনেক সময় আমাদের দৈনন্দিন খাবার ও পানীয়ের সঙ্গে জড়িত। সবার শরীর এক রকম নয়, তাই একই খাবার একজনের জন্য ক্ষতিকর হলেও অন্যজনের জন্য নাও হতে পারে। নিজের শরীরের সংকেত বুঝে খাদ্যাভ্যাসে সচেতন পরিবর্তন আনাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। নিয়মিত পানি পান, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে মূত্রথলির সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
মূত্রথলি বা ব্লাডারে জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে যেসব খাবার ও পানীয়
দৈনন্দিন অভ্যাস নীরবে দুর্বল করছে আপনার দাঁত
বর্তমানে ডেন্টাল ক্লিনিকে গেলে অনেক মানুষকেই দাঁতের সংবেদনশীলতা, এনামেল পাতলা হয়ে যাওয়া বা দাঁতের কিনারা ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ করতে দেখা যায়। একসময় এসব সমস্যা মূলত বয়স বাড়া বা দীর্ঘদিন দাঁতের যত্ন না নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে বর্তমানে এ সমস্যা একটু বেশিই বিস্তার লাভ করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের দাঁতে ইতোমধ্যেই এনামেল ক্ষয়ের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে এবং এই সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ক্ষতির পেছনে রয়েছে কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস, যেগুলো আমরা সাধারণত ক্ষতিকর বলে মনেই করি না। দাঁতের সুরক্ষাবলয় ‘এনামেল’ হঠাৎ নষ্ট হয় না। প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজ, যেমন কীভাবে দাঁত ব্রাশ করছি বা কী খাচ্ছি ও পান করছি, তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে দাঁতের ওপর। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন কিছু অভ্যাস সম্পর্কে, যেগুলো নীরবে দাঁত দুর্বল করে দিচ্ছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া অতিরিক্ত জোরে দাঁত ব্রাশ করা অনেকে মনে করেন, যত জোরে দাঁত ব্রাশ করা যাবে, দাঁত তত ভালোভাবে পরিষ্কার হবে। বাস্তবে বিষয়টি ঠিক উল্টো। শক্ত ব্রাশ বা বেশি চাপ দিয়ে ব্রাশ করলে দাঁতের এনামেল ধীরে ধীরে উঠে যেতে পারে। শুরুর দিকে সমস্যা বোঝা না গেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দাঁত ঠান্ডা বা গরমে সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। মনে রাখবেন, একবার এনামেল ক্ষয় হলে তা আর আগের অবস্থায় ফিরে আসে না। খাবার ও পানীয়তে অ্যাসিড ও চিনির প্রভাব কার্বনেটেড পানীয়, লেবুজাতীয় জুস, চা, কফি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। এসব খাবার ও পানীয়তে থাকা অ্যাসিড ও চিনি দাঁতের এনামেল ধীরে ধীরে ক্ষয় করে। নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করলেও, ঘন ঘন এসব পানীয় গ্রহণ করলে দাঁত পুরোপুরি সুরক্ষিত থাকে না। অ্যাসিডযুক্ত খাবার বা পানীয় খাওয়ার পর মুখে পানি দিয়ে কুলি করা দাঁতের ক্ষতি কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পানি না খাওয়ার প্রভাব লালা দাঁতের একটি প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। এটি মুখের ভেতরের অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ করে এবং দাঁত শক্ত রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু শরীরে পানির ঘাটতি হলে লালার পরিমাণ কমে যায়। যারা কম পানি পান করেন বা অতিরিক্ত চা-কফি পান করেন, তাদের দাঁত অ্যাসিডের আক্রমণে বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা দাঁতের জন্য সহজ কিন্তু কার্যকর একটি অভ্যাস। ঘরোয়া পদ্ধতিতে দাঁত সাদা করার ঝুঁকি অনেকেই ঘরে বসে লেবুর রস, বেকিং সোডা বা চারকোল ব্যবহার করে দাঁত সাদা করার চেষ্টা করেন। এসব পদ্ধতি সাময়িকভাবে দাঁত উজ্জ্বল দেখালেও, দীর্ঘমেয়াদে দাঁতের এনামেল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে দাঁত আরও সংবেদনশীল হয়ে যায় এবং ভবিষ্যতে সহজেই রং পরিবর্তন হতে পারে। দাঁত সাদা করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। টুথপেস্ট কি দাঁতের সুরক্ষায় কার্যকর অনেকের ধারণা, যেকোনো টুথপেস্টই দাঁতের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু বাস্তবে বেশিরভাগ সাধারণ টুথপেস্ট মূলত দাঁত পরিষ্কার ও সতেজতার দিকে বেশি নজর দেয়। দৈনন্দিন অ্যাসিডিক খাবার ও পানীয়ের কারণে যখন এনামেল দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন দাঁতের অতিরিক্ত সুরক্ষা প্রয়োজন হয়। তাই টুথপেস্ট বেছে নেওয়ার সময় এনামেল সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। এনামেল ক্ষয় একটি নীরব সমস্যা। এতে হঠাৎ করে তীব্র ব্যথা বা বড় কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাস, যেমন অতিরিক্ত জোরে ব্রাশ করা, বারবার চা-কফি পান করা বা পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, ধীরে ধীরে দাঁতকে দুর্বল করে তোলে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একবার এনামেল নষ্ট হলে তা আর ফিরে আসে না। তাই প্রতিরোধই একমাত্র উপায়। নরম ব্রাশ দিয়ে আলতোভাবে দাঁত ব্রাশ করা, অ্যাসিডযুক্ত খাবারের পর কুলি করা এবং নিয়মিত পানি পান করার মতো সহজ অভ্যাসই দাঁতকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে পারে। সুন্দর হাসি শুধু সাদা দাঁতের ব্যাপার নয়, এটি সুস্থ ও শক্ত দাঁতের প্রতিফলন। এখনই সচেতন হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দাঁতের সমস্যা এড়িয়ে চলা সম্ভব।
দৈনন্দিন অভ্যাস নীরবে দুর্বল করছে আপনার দাঁত