বর্তমানে ডেন্টাল ক্লিনিকে গেলে অনেক মানুষকেই দাঁতের সংবেদনশীলতা, এনামেল পাতলা হয়ে যাওয়া বা দাঁতের কিনারা ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ করতে দেখা যায়। একসময় এসব সমস্যা মূলত বয়স বাড়া বা দীর্ঘদিন দাঁতের যত্ন না নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে বর্তমানে এ সমস্যা একটু বেশিই বিস্তার লাভ করেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের দাঁতে ইতোমধ্যেই এনামেল ক্ষয়ের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে এবং এই সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ক্ষতির পেছনে রয়েছে কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস, যেগুলো আমরা সাধারণত ক্ষতিকর বলে মনেই করি না।
দাঁতের সুরক্ষাবলয় ‘এনামেল’ হঠাৎ নষ্ট হয় না। প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজ, যেমন কীভাবে দাঁত ব্রাশ করছি বা কী খাচ্ছি ও পান করছি, তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে দাঁতের ওপর। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন কিছু অভ্যাস সম্পর্কে, যেগুলো নীরবে দাঁত দুর্বল করে দিচ্ছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া
অনেকে মনে করেন, যত জোরে দাঁত ব্রাশ করা যাবে, দাঁত তত ভালোভাবে পরিষ্কার হবে। বাস্তবে বিষয়টি ঠিক উল্টো। শক্ত ব্রাশ বা বেশি চাপ দিয়ে ব্রাশ করলে দাঁতের এনামেল ধীরে ধীরে উঠে যেতে পারে।
শুরুর দিকে সমস্যা বোঝা না গেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দাঁত ঠান্ডা বা গরমে সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। মনে রাখবেন, একবার এনামেল ক্ষয় হলে তা আর আগের অবস্থায় ফিরে আসে না।
কার্বনেটেড পানীয়, লেবুজাতীয় জুস, চা, কফি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। এসব খাবার ও পানীয়তে থাকা অ্যাসিড ও চিনি দাঁতের এনামেল ধীরে ধীরে ক্ষয় করে।
নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করলেও, ঘন ঘন এসব পানীয় গ্রহণ করলে দাঁত পুরোপুরি সুরক্ষিত থাকে না। অ্যাসিডযুক্ত খাবার বা পানীয় খাওয়ার পর মুখে পানি দিয়ে কুলি করা দাঁতের ক্ষতি কিছুটা কমাতে সাহায্য করে।
লালা দাঁতের একটি প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। এটি মুখের ভেতরের অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ করে এবং দাঁত শক্ত রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু শরীরে পানির ঘাটতি হলে লালার পরিমাণ কমে যায়।
যারা কম পানি পান করেন বা অতিরিক্ত চা-কফি পান করেন, তাদের দাঁত অ্যাসিডের আক্রমণে বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা দাঁতের জন্য সহজ কিন্তু কার্যকর একটি অভ্যাস।
অনেকেই ঘরে বসে লেবুর রস, বেকিং সোডা বা চারকোল ব্যবহার করে দাঁত সাদা করার চেষ্টা করেন। এসব পদ্ধতি সাময়িকভাবে দাঁত উজ্জ্বল দেখালেও, দীর্ঘমেয়াদে দাঁতের এনামেল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এর ফলে দাঁত আরও সংবেদনশীল হয়ে যায় এবং ভবিষ্যতে সহজেই রং পরিবর্তন হতে পারে। দাঁত সাদা করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
অনেকের ধারণা, যেকোনো টুথপেস্টই দাঁতের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু বাস্তবে বেশিরভাগ সাধারণ টুথপেস্ট মূলত দাঁত পরিষ্কার ও সতেজতার দিকে বেশি নজর দেয়।
দৈনন্দিন অ্যাসিডিক খাবার ও পানীয়ের কারণে যখন এনামেল দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন দাঁতের অতিরিক্ত সুরক্ষা প্রয়োজন হয়। তাই টুথপেস্ট বেছে নেওয়ার সময় এনামেল সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
এনামেল ক্ষয় একটি নীরব সমস্যা। এতে হঠাৎ করে তীব্র ব্যথা বা বড় কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাস, যেমন অতিরিক্ত জোরে ব্রাশ করা, বারবার চা-কফি পান করা বা পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, ধীরে ধীরে দাঁতকে দুর্বল করে তোলে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একবার এনামেল নষ্ট হলে তা আর ফিরে আসে না। তাই প্রতিরোধই একমাত্র উপায়। নরম ব্রাশ দিয়ে আলতোভাবে দাঁত ব্রাশ করা, অ্যাসিডযুক্ত খাবারের পর কুলি করা এবং নিয়মিত পানি পান করার মতো সহজ অভ্যাসই দাঁতকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে পারে।
সুন্দর হাসি শুধু সাদা দাঁতের ব্যাপার নয়, এটি সুস্থ ও শক্ত দাঁতের প্রতিফলন। এখনই সচেতন হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দাঁতের সমস্যা এড়িয়ে চলা সম্ভব।
মন্তব্য করুন








