পৃথিবীতে মানুষ মূলত তিন অবস্থায় জীবনযাপন করে। প্রথমে মানুষ দুর্বল শিশু থাকে। এরপর আসে শক্তিময় যৌবন। শেষে আসে জীবনের পড়ন্ত সময়—বার্ধক্য। মুহাম্মদ (সা.) বয়স্কদের সম্মান দিতেন। তাদের অধিকার ও মর্যাদার বিষয়ে সোচ্চার ছিলেন। তিনি সাহাবিদেরও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ সুরক্ষা ও সম্মান দিতে আদেশ করেছেন।
বয়স্কদের সম্মান
বয়স্কদের সম্মান জানানো নৈতিক দায়িত্ব। এতে আল্লাহ খুশি হন। সওয়াব পাওয়া যায়। আবু মুসা আশআরি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন ‘নিশ্চয়ই বৃদ্ধ মুসলিমকে সম্মান করা, কোরআনের ধারক-বাহক ও ন্যায়পরায়ণ শাসকের প্রতি সম্মান দেখানো মহান আল্লাহর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮৪৩)
নবীজির চোখে উত্তম বৃদ্ধ কে?
দীর্ঘ জীবন পাওয়া আল্লাহর রহমত। দীর্ঘ জীবনকে অনাদর ও অবহেলায় কাটানো যাবে না। পাপে জড়ানো যাবে না। আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী জীবন চালাতে হবে। আবু বাকরা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘কোনো এক ব্যক্তি নবীজির (সা.) কাছে জানতে চাইলেন, উত্তম ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, যে দীর্ঘ জীবন পেয়েছে এবং তার আমল সুন্দর। সে আবার জানতে চাইল, মানুষের মধ্যে কে নিকৃষ্ট? তিনি বললেন, যে দীর্ঘ জীবন পেয়েছে এবং তার আমল খারাপ।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৩৩০)
বয়স্কদের সঙ্গে হাস্যরস
হাসান (রা.) বলেন, ‘একবার এক বৃদ্ধা নারী নবী (সা.)-এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর কাছে দোয়া করুন—যেন আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি। তিনি বললেন, শোনো, কোনো বৃদ্ধা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। বর্ণনাকারী বলেন, (তা শুনে) সে কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল। নবী (সা.) বললেন, তাকে বলো, তুমি বৃদ্ধাবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করবে না। আল্লাহতাআলা সব জান্নাতি নারী চিরকুমারী হিসেবে সৃষ্টি করবেন।’ (শামায়েলে তিরমিজি, হাদিস : ১৭৯)। কোরআনে আছে, আল্লাহ বলেন, ‘আমি তাদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করেছি। আর তাদেরকে করেছি কুমারী।’ (সুরা ওয়াকিয়া, আয়াত : ৩৬)
বৃদ্ধদের উৎসাহ দেওয়া
মানুষের মৃত্যুর বয়স নেই। যেকোনো সময় যে কারও মৃত্যু হতে পারে। মৃত্যুকে ভুলে থাকা যায়, কিন্তু মৃত্যু থেকে পালিয়ে বেড়ানো যায় না। দীর্ঘ জীবন পাওয়া আল্লাহর নেয়ামত, তাই জীবনকে আমল-ইবাদতে কাজে লাগাতে হবে। আল্লাহর পথে জীবন ব্যয় করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলার পথে যে লোক বুড়ো হয়েছে, তার জন্য কিয়ামতের দিন একটি আলোকবর্তিকা থাকবে।’ (সুনানে তিরমজি, হাদিস : ১৬৩৫)
যুদ্ধেও বৃদ্ধদের হত্যায় নিষেধাজ্ঞা
যুদ্ধে শত্রুপক্ষের প্রতি সহনশীলতা বা দয়া দেখানো যায় না। সেখানে জীবনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে সংগ্রাম করতে হয়। বিজয়ের জন্য লড়তে হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) যুদ্ধেও বয়স্কদের হত্যা করতে নিষেধ করেছেন। বুরাইদা বিন হুসাইব বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন কোনো যুদ্ধদল পাঠাতেন, তখন বলতেন—তোমরা বয়োবৃদ্ধকে হত্যা করবে না।’ (শরহু মাআনিল আসার : ৫১৮৪)
নামাজ সংক্ষেপের নির্দেশ
আবু মাসউদ (রা.) বলেন, ‘এক সাহাবি এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, আল্লাহর শপথ! আমি অমুকের কারণে ফজরের নামাজে অনুপস্থিত থাকি। তিনি (জামায়াতে) নামাজকে খুব দীর্ঘ করেন। আবু মাসউদ (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে উপদেশ দিতে গিয়ে সে দিনের মতো এতে বেশি রাগান্বিত হতে আর কোনো দিন দেখিনি। তিনি বলেন, তোমাদের মাঝে বিতৃষ্ণা সৃষ্টিকারী রয়েছে। তোমাদের মধ্যে যে কেউ অন্য লোক নিয়ে নামাজ আদায় করে, সে যেন সংক্ষেপ করে। কেননা, তাদের মধ্যে দুর্বল, বৃদ্ধ ও প্রয়োজনওয়ালা লোকও থাকে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭০২)
মন্তব্য করুন








