রান্নাঘরের আলমারিতে (প্যান্ট্রি) রাখা শুকনো খাবারগুলো অনেক সময় আমরা দীর্ঘদিন ব্যবহার না করেই রেখে দিই। মেয়াদ শেষ হয়নি দেখেই ধরে নিই, সেগুলো নিশ্চিন্তে খাওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি সব সময় এমন নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক প্যান্ট্রি খাবারের স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে তা খাওয়ার উপযোগীও থাকে না।
তাই কোন খাবার কতদিন রাখা নিরাপদ এবং কখন সেগুলো ফেলে দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি। রিডার্স ডাইজেস্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী চলুন জেনে নেওয়া যাক যেসব খাবার আমরা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি দিন রেখে দিই রান্নাঘরে।
কুইনোয়া ও অন্যান্য পূর্ণ শস্য
কুইনোয়া বা ফরোর মতো পূর্ণ শস্যে প্রাকৃতিক তেল থাকে। তাপ, বাতাস ও আর্দ্রতার কারণে এই তেল নষ্ট হলে শস্য বাসি হয়ে যায়। ভালো শস্যে হালকা মিষ্টি গন্ধ থাকে বা একেবারেই গন্ধহীন হয়। স্যাঁতসেঁতে বা তেলের মতো গন্ধ পাওয়া গেলে তা আর ব্যবহার না করাই ভালো।
গুঁড়া মসলা
হলুদ, পাপরিকা বা জায়ফলের মতো গুঁড়া মসলা সাধারণত দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে স্বাদ ও ঝাঁঝ হারায়। পুরোনো মসলা খেলে সাধারণত ক্ষতি হয় না, তবে রান্নার স্বাদ নষ্ট হয়। হালকা গন্ধ বা স্বাদ পরীক্ষা করে মসলা ভালো আছে কি না বোঝা যায়।
বেকিং পাউডার ও বেকিং সোডা
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এগুলোর কার্যকারিতা কমে যায়। ফলে কেক বা পিঠা ঠিকভাবে ফুলে না। বেকিং সোডার সঙ্গে ভিনেগার বা বেকিং পাউডারের সঙ্গে গরম পানি মেশালে ফেনা উঠলে তা ব্যবহারযোগ্য বলে ধরা যায়।
শুকনো বিস্কুট
খোলা অবস্থায় বাতাস ঢুকলে এগুলো দ্রুত স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায়। এমনকি খোলা না হলেও সাধারণত ৯ মাসের মধ্যে স্বাদ হারাতে শুরু করে।
বাদাম ও বীজ
খোসা ছাড়ানো বাদামে তেল বেশি থাকায় এগুলো দ্রুত বাসি হয়ে যায়। ঘাসের মতো গন্ধ, তেলতেলে ভাব বা রঙের পরিবর্তন হলে বাদাম আর ভালো নেই। বেশি দিন রাখতে চাইলে ফ্রিজে রাখা ভালো।
সিরিয়াল
খোলা সিরিয়াল তিন মাসের মধ্যেই বাসি হতে পারে। সিল করা প্যাকেট এক বছর পর্যন্ত ভালো থাকে। বাদামযুক্ত সিরিয়াল তুলনামূলক দ্রুত নষ্ট হয়। বাসি সিরিয়াল সাধারণত ক্ষতিকর না হলেও স্বাদ ভালো থাকে না।
ক্যান্ডি
ক্যান্ডি সহজে নষ্ট হয় না, কারণ এতে পানির পরিমাণ কম। তবে ধরন অনুযায়ী স্বাদ ও গুণমান ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে।
চা ও কফি
চা এক বছরের মধ্যে ব্যবহার করা ভালো। সময় বেশি হলে এর তেল বাসি হয়ে যায়। কফি বিন বা গুঁড়া দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে খাওয়া উচিত। ইনস্ট্যান্ট কফি তুলনামূলকভাবে দুই মাস পর্যন্ত ভালো থাকে।
ব্রাউন সুগার
খোলা ব্রাউন সুগার বাতাসে শক্ত হয়ে যায়। বাতাস ঢুকবে না এমন পাত্রে রাখলে এটি নরম থাকে এবং বেশি দিন ব্যবহার করা যায়।
ক্যানজাত সবজি
ক্যানজাত খাবার দীর্ঘদিন নিরাপদ থাকলেও সময়ের সঙ্গে স্বাদ ও মান কমে। টকজাতীয় ক্যান খাবার সাধারণত এক থেকে দেড় বছর ভালো থাকে। কম টক সবজি পাঁচ বছর পর্যন্ত নিরাপদ থাকতে পারে। তবে ক্যান ফুলে গেলে, মরিচা ধরলে বা ফুটো হলে তা ফেলে দেওয়া উচিত।
অলিভ অয়েল
আলো ও তাপ অলিভ অয়েলের শত্রু। খোলা বোতল ছয় মাস পর স্বাদ হারাতে পারে। নিয়মিত ব্যবহার না হলে ছোট বোতল কেনা ভালো।
পূর্ণ শস্যের আটা
পূর্ণ শস্যের আটা দ্রুত বাসি হয়। ফ্রিজে আট মাস এবং ফ্রিজারে এক বছর পর্যন্ত ভালো থাকে। প্যান্ট্রিতে রাখলে এর মান দ্রুত কমে যায়।
আলু
আলু সাধারণত দুই মাস ভালো থাকে। অঙ্কুর বের হলে বা কালচে নরম দাগ পড়লে তা আর ব্যবহারযোগ্য নয়।
ব্রাউন রাইস
ব্রাউন রাইস পুষ্টিকর হলেও তেলের কারণে দ্রুত বাসি হয়। প্যান্ট্রিতে ছয় মাস এবং ফ্রিজারে এক বছর পর্যন্ত রাখা যায়।
রসুন
রসুন অন্ধকার ও ঠান্ডা জায়গায় তিন থেকে পাঁচ মাস ভালো থাকে। বেশি দিন রাখলে কোয়া শুকিয়ে যায় বা অঙ্কুর বের হয়, এতে মান কমে যায়।
রান্নাঘরে রাখা খাবার দীর্ঘদিন ভালো থাকবে, এমন ধারণা সব সময় সঠিক নয়। মেয়াদ শেষ না হলেও অনেক খাবারের স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই নিয়মিত প্যান্ট্রি পরীক্ষা করা, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা এবং পুরোনো খাবার আগে ব্যবহার করা জরুরি। এতে খাবারের অপচয় কমবে এবং পরিবার পাবে নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার।
মন্তব্য করুন








