ঢাকা, বাংলাদেশ ||
সোমবার
০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ||

ছবিতে প্রথম কী দেখলেন জানিয়ে দেবে আপনার মানসিক বৈশিষ্ট্য

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক

  ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:১০
ছবি: সংগৃহীত

মানুষের আচরণ ও ব্যক্তিত্বের পেছনে অবচেতন মনের বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন মনোবিজ্ঞানীরা। আমরা সচেতনভাবে অনেক কিছু ভাবি না, কিন্তু সেসব অনুভূতি ও চিন্তা অবচেতন মনে জমা থাকে। জীবনের অনেক সিদ্ধান্ত ও প্রতিক্রিয়া এই অবচেতন মন থেকেই আসে।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

বিশেষজ্ঞদের মতে, অবচেতন মনকে পুরোপুরি বোঝা সহজ নয়। তবে দৃষ্টিভ্রম বা অপটিক্যাল ইলিউশনভিত্তিক কিছু ছবি আমাদের মানসিক প্রবণতা সম্পর্কে ইঙ্গিত দিতে পারে। এমন একটি ছবিতে আপনি প্রথমে কোন প্রাণীটি দেখছেন, তার ওপর ভিত্তি করে কিছু ব্যক্তিত্ব বৈশিষ্ট্য অনুমান করা হয়।

নিচে দেওয়া হলো সম্ভাব্য ব্যাখ্যাগুলো।

বাঘ
প্রথমে বাঘ দেখলে আপনাকে উচ্চাভিলাষী ও দৃঢ় মানসিকতার মানুষ হিসেবে ধরা হয়। আপনার ইচ্ছাশক্তি প্রবল। বড় লক্ষ্য স্থির করতে পছন্দ করেন। তবে কখনও কখনও তাড়াহুড়া বা রাগ ক্ষতির কারণ হতে পারে।

ঈগল
ঈগল আগে চোখে পড়লে আপনি আত্মবিশ্বাসী, উদার ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন। সমাজে সম্মান পেতে চান এবং অন্যদের সাহায্য করতে আগ্রহী। আপনার উপস্থিতি অনেক সময় অন্যদের অনুপ্রাণিত করে।

কুকুর
কুকুর প্রথমে দেখলে আপনাকে বিশ্বস্ত, আন্তরিক ও বিচক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। সম্পর্ককে গুরুত্ব দেন। বিশ্লেষণী ক্ষমতা ভালো হওয়ায় ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে সাফল্য পেতে পারেন।

হাতি
হাতি আগে দেখলে আপনি ধৈর্যশীল ও জ্ঞানী স্বভাবের। পরিবার আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। অল্পতেই সন্তুষ্ট থাকতে পারেন, তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচনাবোধ কাজে লাগান। সমাজে সাধারণত সম্মান পান।

কাঠবিড়ালি
প্রথমে কাঠবিড়ালি দেখলে আপনি চটপটে, সচেতন ও কর্মঠ। পরিকল্পনা করে কাজ করতে পছন্দ করেন। উদ্যম ও আত্মবিশ্বাস আপনাকে এগিয়ে রাখে।

ব্যাঙ
ব্যাঙ আগে দেখলে আপনাকে শান্ত ও পর্যবেক্ষণশীল ধরা হয়। পরিস্থিতি বুঝে পদক্ষেপ নিতে পারেন। ধৈর্য ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা আপনার শক্তি।

মাছ
মাছ প্রথমে দেখলে আপনি কৌশলী ও সচেতন। অনেক সময় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন না। গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারেন, তবে মাঝে মাঝে অস্থিরতা কাজ করতে পারে।

কেন এমন কুইজ এত জনপ্রিয়

সাইকোলজিক্যাল টেস্ট বা অপটিক্যাল ইলিউশনভিত্তিক কনটেন্ট সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়। কারণ এগুলো শুধু বিনোদন দেয় না, নিজের ব্যক্তিত্ব নিয়ে ভাবার সুযোগও তৈরি করে। কেউ এগুলোকে মজার বিষয় হিসেবে নেন, আবার কেউ মনে করেন অবচেতন মন সত্যিই কিছু ইঙ্গিত দেয়।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, অস্পষ্ট বা দ্ব্যর্থবোধক ছবি দেখলে মস্তিষ্ক যে উপাদানটি আগে শনাক্ত করে, তা ব্যক্তির মানসিক অগ্রাধিকার বা প্রবণতার প্রতিফলন হতে পারে।

আপনি ছবিতে প্রথমে কী দেখলেন? মিল খুঁজে দেখুন এবং বন্ধুদের সঙ্গেও শেয়ার করে জানতে পারেন তাদের ফলাফল।

সূত্র : জি নিউজ

মন্তব্য করুন

সাধারণ যে ৩ অভ্যাসেই ক্ষতি হচ্ছে কিডনির, জানালেন চিকিৎসক
আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হলো কিডনি। পেটের দুই পাশে থাকা এই ছোট অঙ্গ প্রতিদিন নীরবে শরীরের জন্য বিশাল কাজ করে যায়। রক্ত থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত পানি ছেঁকে মূত্র তৈরি করা, শরীরের লবণ ও খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করা এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ হরমোন উৎপাদনে ভূমিকা রাখা; সবই কিডনির দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, আমরা না বুঝেই এমন কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস গড়ে তুলি, যা ধীরে ধীরে কিডনির ক্ষতি করে। সমস্যা হলো, কিডনির রোগ অনেক সময় প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনো লক্ষণ দেখায় না। ফলে যখন ধরা পড়ে, তখন পরিস্থিতি জটিল হয়ে যেতে পারে। তাই আগে থেকেই সতর্ক হওয়া জরুরি। ভারতের রুবি হল ক্লিনিকের ইউরোলজিস্ট ডা. ক্ষিতিজ রঘুবংশী জানিয়েছেন, আমাদের তিনটি সাধারণ অভ্যাস কিডনির ওপর নীরব ক্ষতি ডেকে আনছে। বিষয়গুলো জেনে রাখা প্রয়োজন। নিয়মিত পেইনকিলার খাওয়া মাথাব্যথা, কোমর বা শরীর ব্যথা, কিংবা মাসিকের সময়ের অস্বস্তিতে অনেকেই ইবুপ্রোফেন বা ন্যাপ্রোক্সেনের মতো ওষুধ খেয়ে থাকেন। এই ধরনের ওষুধকে বলা হয় নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগস, সংক্ষেপে (এনএসএআইডিএস)। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বা দীর্ঘদিন নিয়মিত এসব ওষুধ সেবন কিডনির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এনএসএআইডিএস কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে। এতে কিডনির স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়। যাদের আগে থেকেই কিডনি সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগ আছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত পেইনকিলার খেলে কিডনিতে প্রদাহ তৈরি হতে পারে, যা পরে স্থায়ী কিডনি বিকলের কারণ হতে পারে। একইসঙ্গে একাধিক ব্যথানাশক একসঙ্গে খাওয়া বা নির্ধারিত মাত্রার বেশি গ্রহণ করলে ক্ষতির সম্ভাবনা আরও বাড়ে। অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার অভ্যাস অনেকে মনে করেন, সাধারণ লবণের বদলে সি সল্ট বা হিমালয়ান লবণ ব্যবহার করলে তা স্বাস্থ্যকর। কিন্তু বাস্তবে সব ধরনের লবণেই মূল উপাদান সোডিয়াম ক্লোরাইড। তাই অতিরিক্ত পরিমাণে যেকোনো লবণই ক্ষতিকর। শরীরে বেশি সোডিয়াম গেলে রক্তচাপ বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কিডনির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়। কিডনিকে তখন অতিরিক্ত কাজ করতে হয়, যা ধীরে ধীরে তার কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লবণের ধরন বদলানোর চেয়ে প্রতিদিনের মোট লবণ গ্রহণ কমানোই বেশি জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে ৫ গ্রামের বেশি লবণ খাওয়া উচিত নয়। আমাদের দেশে অনেকেই অজান্তেই এর চেয়ে বেশি লবণ খেয়ে ফেলেন, বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিপস, আচার, ফাস্টফুড বা ভর্তা জাতীয় খাবারের মাধ্যমে। প্রয়োজনের বেশি পানি খাওয়া পানি শরীরের জন্য অপরিহার্য। তবে অনেকেই মনে করেন, যত বেশি পানি খাবেন তত ভালো। এই ধারণা সবসময় সঠিক নয়। দিনে ৬ থেকে ৭ লিটার পানি খাওয়া অধিকাংশ মানুষের জন্য প্রয়োজন নেই। বরং অতিরিক্ত পানি খেলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে যেতে পারে, যাকে বলা হয় হাইপোনাট্রিমিয়া। এতে মাথা ঘোরা, বমি ভাব, খিঁচুনি এমনকি গুরুতর জটিলতাও দেখা দিতে পারে। সাধারণভাবে একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে ২ থেকে ৩ লিটার তরল গ্রহণ যথেষ্ট। তবে গরম আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম, গর্ভাবস্থা বা অসুস্থতার ক্ষেত্রে প্রয়োজন বাড়তে পারে। তাই জোর করে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি না খেয়ে শরীরের তেষ্টা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী পানি পান করাই ভালো। পেইনকিলার নেওয়ার আগে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন - চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত ব্যথানাশক ওষুধ খাবেন না - কিডনি, লিভার, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগ থাকলে বিশেষ সতর্ক থাকুন - নির্ধারিত মাত্রার বেশি কখনোই ওষুধ গ্রহণ করবেন না - হারবাল বা আয়ুর্বেদিক বলে পরিচিত ওষুধও সবসময় নিরাপদ নয়, কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতিকর উপাদান থাকতে পারে - ওষুধের লেবেল ভালোভাবে পড়ে নিন। কারণ, অনেক ওষুধে একাধিক উপাদান থাকে এবং অজান্তেই অতিরিক্ত মাত্রা হয়ে যেতে পারে কিডনি আমাদের শরীরের নীরব কর্মী। এটি ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা অনেক সময় তার গুরুত্ব বুঝতে পারি না। কিন্তু দৈনন্দিন ছোট ছোট অভ্যাসই ভবিষ্যতে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। অযথা ওষুধ সেবন, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ এবং প্রয়োজনের বেশি পানি পান- এই তিনটি অভ্যাসে সচেতন পরিবর্তন আনলেই কিডনিকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা সম্ভব। সুস্থ থাকতে হলে কিডনির যত্ন নেওয়া এখনই শুরু করা উচিত। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং সচেতন জীবনযাপনই হতে পারে কিডনি সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সূত্র : দ্য ওয়াল
সাধারণ যে ৩ অভ্যাসেই ক্ষতি হচ্ছে কিডনির, জানালেন চিকিৎসক
সকালে ঘুম থেকে উঠে শরীরে ব্যথা করে কেন
অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠেই ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, কোমর ব্যথা, জয়েন্টে টান বা শরীর ব্যথার সমস্যায় ভোগেন। অনেক সময় আমরা এটিকে বয়স বা খারাপ ঘুমের দোষ দিই। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিনের কিছু সাধারণ অভ্যাসই এই অস্বস্তির বড় কারণ হতে পারে। কোশিস হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. Palleti Siva Karthik Reddy বলেন, সকালে শরীর ব্যথা বা শক্ত হয়ে থাকা শুধু বয়স বা অতিরিক্ত কাজের ফল নয়। অনেক সময় ভুল ভঙ্গি, রক্তসঞ্চালনের সমস্যা এবং পেশির সঠিক পুনরুদ্ধার না হওয়াই এর পেছনে কাজ করে। নিচে এমন পাঁচটি সাধারণ অভ্যাস তুলে ধরা হলো, যেগুলো ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর ব্যথার জন্য দায়ী হতে পারে এবং কীভাবে সেগুলো ঠিক করা যায়। ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানো উপুড় হয়ে ঘুমানো বা ঠিকমতো বালিশ ব্যবহার না করলে মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক অবস্থান নষ্ট হয়। এতে ঘাড়, কাঁধ ও পিঠে চাপ পড়ে এবং সকালে শক্ত ভাব বা ব্যথা তৈরি হতে পারে। জার্নাল অব ফিজিক্যাল থেরাপি সায়েন্সে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভুল ঘুমের ভঙ্গি দীর্ঘমেয়াদি মাংসপেশি ও অস্থিসন্ধির ব্যথার ঝুঁকি বাড়ায়। সমাধান : চিত হয়ে বা কাত হয়ে ঘুমান। এমন বালিশ ও ম্যাট্রেস ব্যবহার করুন যা মেরুদণ্ড সোজা রাখতে সাহায্য করে। ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ উঠে দাঁড়ানো অনেকে অ্যালার্ম বাজতেই হঠাৎ লাফিয়ে উঠে পড়েন। এতে পেশি ও জয়েন্টে হঠাৎ চাপ পড়ে। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের তথ্য অনুযায়ী, হঠাৎ নড়াচড়া শরীরে স্ট্রেস প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, যা পেশিতে টান ও শক্ত ভাব বাড়ায়। সমাধান : ঘুম থেকে উঠে ৩০ থেকে ৬০ সেকেন্ড সময় নিন। আগে ধীরে ধীরে উঠে বসুন। হাত, ঘাড় ও কোমর হালকা নড়াচড়া করুন, তারপর দাঁড়ান। সকালে পানি না খাওয়া রাতে দীর্ঘ সময় পানি না খাওয়ায় শরীর কিছুটা পানিশূন্য হয়ে পড়ে। পানিশূন্যতা পেশিতে খিঁচুনি ও জয়েন্ট শক্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। আমেরিকান জার্নাল অব ফিজিওলজিতে প্রকাশিত গবেষণা বলছে, হালকা পানিশূন্যতাও পেশির ব্যথা ও প্রদাহ বাড়াতে পারে। সমাধান : ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস পানি পান করুন। যাদের প্রায়ই পেশিতে টান ধরে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শে ইলেক্ট্রোলাইট গ্রহণ করতে পারেন। সকালে শরীর না নড়ানো বা স্ট্রেচিং না করা সকালে দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা কোনো ধরনের হালকা ব্যায়াম না করলে পেশি শক্ত হয়ে থাকতে পারে। জার্নাল অব অ্যাপ্লায়েড ফিজিওলজির গবেষণা অনুযায়ী, সকালে হালকা ডায়নামিক স্ট্রেচিং রক্তসঞ্চালন বাড়ায়, পেশির শক্তভাব কমায় এবং চলাচলের সক্ষমতা উন্নত করে। সমাধান : সহজ কিছু স্ট্রেচিং করতে পারেন, যেমন ক্যাট কাউ, বসে মেরুদণ্ড মোচড়ানো বা দাঁড়িয়ে সামনের দিকে ঝুঁকে শরীর প্রসারিত করা। খারাপ ঘুমের মান ও পর্যাপ্ত গভীর ঘুমের অভাব ঘুমের সময় শরীর নিজেকে মেরামত করে। পর্যাপ্ত গভীর ঘুম না হলে প্রদাহ বাড়তে পারে এবং ব্যথা অনুভূতির মাত্রা বৃদ্ধি পায়। স্লিপ মেডিসিন রিভিউস জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, খারাপ ঘুমের সঙ্গে শরীরে প্রদাহজনিত উপাদান বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে, যা ব্যথা বাড়াতে পারে। সমাধান : প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান ও উঠুন। ঘুমানোর আগে মোবাইল বা টিভির পর্দা এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ম্যাগনেশিয়াম বা মেলাটোনিন গ্রহণ করতে পারেন। কখন সতর্ক হবেন ডা. রেড্ডির মতে, মাঝেমধ্যে সকালে শক্তভাব থাকা স্বাভাবিক। তবে যদি ব্যথা এক ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হয়, জয়েন্টে ফোলা, অবশ ভাব বা ঝিনঝিনি থাকে, কিংবা ধীরে ধীরে ব্যথা বাড়তে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এ ধরনের উপসর্গ রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, ফাইব্রোমায়ালজিয়া, অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো জটিল সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। সকালের শরীর ব্যথা অনেক সময় আমাদেরই তৈরি করা অভ্যাসের ফল। ঘুমের ভঙ্গি ঠিক রাখা, ধীরে উঠে দাঁড়ানো, পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা স্ট্রেচিং এবং ভালো ঘুম নিশ্চিত করা - এই ছোট পরিবর্তনগুলোই বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। তবে ব্যথা যদি নিয়মিত ও দীর্ঘস্থায়ী হয়, সেটিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। কারণ সুস্থ দিনের শুরুই নির্ভর করে সুস্থ সকালের ওপর। সূত্র : দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
সকালে ঘুম থেকে উঠে শরীরে ব্যথা করে কেন
ওজন কমাতে কী কার্যকর জানাচ্ছেন তামান্না ভাটিয়ার ফিটনেস প্রশিক্ষক
বর্তমানে ওজন কমানো নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের ট্রেন্ড ঘুরে বেড়াচ্ছে। একদিন বলা হচ্ছে কার্বোহাইড্রেট পুরোপুরি বাদ দিন, আরেকদিন বলা হচ্ছে বিশেষ ডিটক্স চা খেলেই মেদ ঝরে যাবে। এই ভিড়ে কোনটি সত্যিই কার্যকর আর কোনটি কেবল সাময়িক উত্তেজনা, তা বোঝা কঠিন হয়ে যায়। বলিউড অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়ার ফিটনেস প্রশিক্ষক সিদ্ধার্থ সিং জানিয়েছেন, দ্রুত ফলের আশায় শরীরের ক্ষতি করার কোনো মানে নেই। তার মতে, ২০২৫ সালে কিছু জনপ্রিয় ফিটনেস ট্রেন্ড এড়িয়ে চলাই ভালো। তিনি টেকসই ও স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিতে ওজন কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন। নিচে তার উল্লেখ করা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হলো। লো-কার্ব ডায়েট নয়, ক্যালোরি ঘাটতিতে জোর দিন অনেকেই দ্রুত ওজন কমাতে কার্বোহাইড্রেট একেবারে বাদ দেন। এতে শুরুতে দ্রুত ওজন কমলেও দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা দেখা দিতে পারে। সিদ্ধার্থ সিংয়ের মতে, নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীরের শক্তির জন্য কার্বোহাইড্রেট প্রয়োজন। হঠাৎ করে কার্ব কমিয়ে দিলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, তীব্র ক্ষুধা তৈরি হতে পারে এবং পরে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তার পরিবর্তে তিনি ক্যালোরি ঘাটতি পদ্ধতির পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থাৎ শরীর যত ক্যালোরি পোড়ায়, তার চেয়ে সামান্য কম ক্যালোরি গ্রহণ করা। এতে ধীরে কিন্তু স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমে। তিনি পরামর্শ দেন কার্বোহাইড্রেট পুরোপুরি বাদ না দিয়ে পরিমিত খেতে। পাশাপাশি খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ান ও সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন। ডিটক্স চা ও ক্লিনজিং পণ্য থেকে দূরে থাকুন বাজারে বিভিন্ন ডিটক্স চা ও সাপ্লিমেন্টের প্রচার দেখা যায়। দাবি করা হয়, এগুলো শরীরের বিষাক্ত উপাদান দূর করে দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে। সিদ্ধার্থ সিংয়ের ভাষায়, শরীরের নিজস্ব ডিটক্স ব্যবস্থা রয়েছে। লিভার ও কিডনি স্বাভাবিকভাবেই শরীর পরিষ্কার রাখে। কোনো বিশেষ চা বা সাপ্লিমেন্ট শরীরকে অতিরিক্ত ডিটক্স করতে পারে—এমন দাবির পেছনে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এসবের পরিবর্তে তিনি পরামর্শ দেন—আঁশযুক্ত খাবার খেতে, প্রতিদিন পর্যাপ্ত প্রোটিন নিতে, নিয়মিত হাঁটতে এবং পর্যাপ্ত ঘুমাতে। এই মৌলিক বিষয়গুলোই দীর্ঘমেয়াদে ফল দেয়। পর্যাপ্ত না ঘুমানো বড় ভুল ব্যস্ত জীবনে অনেকেই ঘুম কমিয়ে দেন। কিন্তু ফিটনেসের ক্ষেত্রে এটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। প্রশিক্ষকের মতে, ঘুম কম হলে ক্ষুধা বাড়ে, শরীরের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ধীর হয় এবং চর্বি কমানোর গতি কমে যায়। ফলে ওজন কমানোর চেষ্টা ব্যাহত হয়। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা টানা ও ভালো ঘুম শরীরের গঠন ঠিক রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  ওজন কমানোর ক্ষেত্রে শর্টকাটের প্রলোভন অনেক। কিন্তু দ্রুত ফলের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুম—এই চারটি বিষয়ই স্বাস্থ্যকর ওজন কমানোর মূল ভিত্তি। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত প্রতিটি ট্রেন্ড অনুসরণ করার আগে নিজের শরীরের প্রয়োজন এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। সুস্থ জীবনযাপন কোনো অস্থায়ী প্রকল্প নয়, এটি একটি ধারাবাহিক অভ্যাস। সূত্র : এনডিটিভি
ওজন কমাতে কী কার্যকর জানাচ্ছেন তামান্না ভাটিয়ার ফিটনেস প্রশিক্ষক
পেঁয়াজ কাটলেই চোখে পানি, বৈজ্ঞানিক উপায়ে কমান এই যন্ত্রণা
রান্নাঘরে পেঁয়াজ কাটতে গেলেই অনেকের চোখ দিয়ে পানি পড়তে শুরু করে। পেঁয়াজ ঝাল না, কেবল একটি সাধারণ সবজি। তবু কয়েক মিনিটের মধ্যেই চোখ জ্বলা, পানি পড়া, এমনকি নাক দিয়েও পানি ঝরতে থাকে।  প্রশ্ন হলো, কেন এমন হয়? আর এর কোনো কার্যকর সমাধান কি আছে? সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের Cornell University-এর গবেষকরা পেঁয়াজ কাটার সময় চোখে পানি আসার পেছনে নতুন একটি বৈজ্ঞানিক কারণ তুলে ধরেছেন। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Proceedings of the National Academy of Sciences জার্নালে। তাদের মতে, সঠিক ধরনের ছুরি ব্যবহার করলেই অনেকটা কমানো যেতে পারে এ সমস্যা। পেঁয়াজের কোন উপাদান চোখে পানি আনে পেঁয়াজ কাটার সময় এর কোষ ভেঙে যায়। তখন সালফারজাত কিছু যৌগ বের হয়ে আসে। এসব যৌগের মধ্যে সিন প্রোপানেথিয়াল এস অক্সাইড নামের একটি গ্যাস তৈরি হয়। এই গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে চোখে গেলে সমস্যার শুরু। নিউরোসায়েন্স ও জ্ঞান-বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ অ্যালিসিয়া ওয়ালফ জানান, এটি আসলে আবেগজনিত কান্না নয়। বরং চোখের সুরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া। চোখ নিজেকে রক্ষা করতেই পানি ছাড়ে। ঠিক কীভাবে চোখে জ্বালা শুরু হয় গ্যাসটি চোখের পানির সঙ্গে মিশে হালকা মাত্রার সালফিউরিক অ্যাসিড তৈরি করে। এতে চোখে জ্বালা ও অস্বস্তি হয়। তখন চোখ দ্রুত বেশি পরিমাণে পানি তৈরি করে ওই উত্তেজক পদার্থ ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করে। ধোঁয়া বা চোখে ধুলাবালি গেলে যেমন পানি পড়ে, এটিও তেমনই একটি প্রতিরক্ষামূলক প্রক্রিয়া। নতুন গবেষণা যা বলছে ২০২৫ সালের গবেষণায় আরও একটি বিষয় উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, পেঁয়াজ কাটার সময় কেবল গ্যাস নয়, ক্ষুদ্র তরল কণাও বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ভোঁতা ছুরি দিয়ে কাটলে পেঁয়াজ বেশি চাপে পড়ে এবং ভেতরের রস ছিটকে ওপরে উঠে আসে। সেই কণাগুলো সহজেই চোখে পৌঁছাতে পারে। গবেষণার সহলেখক সানিওয়ান জুং বলেন, ধারালো ছুরি ব্যবহার করলে পেঁয়াজের কোষ কম চাপে ভাঙে। ফলে কম পরিমাণে তরল কণা ছড়িয়ে পড়ে এবং চোখে পানি কম আসে। সহজ ভাষায়, ছুরি যত ধারালো হবে, চোখের পানি তত কম। সব পেঁয়াজ কি সমান প্রভাব ফেলে? না। সব পেঁয়াজে সমান পরিমাণ সালফার যৌগ থাকে না। সাধারণত পেঁয়াজের গোড়ার অংশে এসব উপাদান বেশি থাকে। এছাড়া কারও চোখ বেশি সংবেদনশীল হলে তার ক্ষেত্রে পানি বেশি আসতে পারে। আরেকটি অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি গবেষণায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। পেঁয়াজে কখনো কখনো ই কোলাই বা সালমোনেলার মতো ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। যদি ভোঁতা ছুরি ব্যবহার করা হয়, তাহলে ছিটকে পড়া কণার মাধ্যমে এসব জীবাণু রান্নাঘরে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পেঁয়াজ–সম্পর্কিত একটি বড় ই কোলাই প্রাদুর্ভাবের ঘটনায় ৩৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হন এবং একজনের মৃত্যু হয় বলে Centers for Disease Control and Prevention জানিয়েছিল। তাই বিষয়টি কেবল চোখের জ্বালা নয়, খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত। চোখে পানি কমাতে কী করবেন সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ধারালো ছুরি ব্যবহার করা। নিয়মিত ছুরি শান দিন। এতে পেঁয়াজ কম চাপ খাবে এবং কম কণা ছড়াবে। গবেষকরা পেঁয়াজ ঠান্ডা পানিতে ধোয়া বা ফ্রিজে রেখে কাটার মতো প্রচলিত পদ্ধতিও পরীক্ষা করেছেন। তবে এগুলো খুব একটা কার্যকর প্রমাণিত হয়নি। চোখে সুরক্ষা চশমা ব্যবহার করলে কিছুটা উপকার পাওয়া যেতে পারে। কেউ কেউ কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করলে তুলনামূলক কম পানি পড়ার অভিজ্ঞতা জানান। পেঁয়াজ কাটার সময় চোখে পানি আসা স্বাভাবিক একটি শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া। এটি আবেগের কান্না নয়, বরং চোখের সুরক্ষার অংশ। তবে নতুন গবেষণা বলছে, সঠিক ছুরি ব্যবহার করলেই এই অস্বস্তি অনেকটা কমানো সম্ভব। রান্নাঘরে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ধারালো ছুরি ব্যবহার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সঠিক পদ্ধতিতে কাটাকাটি করা জরুরি। ছোট একটি পরিবর্তন আপনার রান্নার অভিজ্ঞতাকে অনেক সহজ করে দিতে পারে। সূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট
পেঁয়াজ কাটলেই চোখে পানি, বৈজ্ঞানিক উপায়ে কমান এই যন্ত্রণা
ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য স্ট্রবেরি
বাংলাদেশের বাজারে এখন তাজা স্ট্রবেরি বিক্রি শুরু হয়েছে। শীতের মৌসুমে দেশীয় খামারের স্ট্রবেরি যেমন পাওয়া যাচ্ছে, তেমনি আমদানি করা ফলও অনেক সুপারশপ ও কাঁচাবাজারে দেখা যাচ্ছে।  দেখতে আকর্ষণীয় ও স্বাদে মিষ্টি হওয়ায় অনেকেই স্ট্রবেরি কিনছেন। তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে - এই ফলটি কি তাদের জন্য নিরাপদ? স্ট্রবেরি একটি পুষ্টিকর ফল। এতে কার্বোহাইড্রেট থাকলেও, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা পরিমিত পরিমাণে এটি খেতে পারেন। তবে কতটা খাবেন এবং কীভাবে খাবেন, সে বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি। ডায়াবেটিস এমন একটি অবস্থা, যেখানে অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না অথবা শরীর সঠিকভাবে ইনসুলিন ব্যবহার করতে পারে না। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই প্রেক্ষাপটে স্ট্রবেরি একটি ভালো বিকল্প হতে পারে, কারণ এটি কম ক্যালরিযুক্ত এবং এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। ডায়াবেটিসে স্ট্রবেরির উপকারিতা পুষ্টিগুণ যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (Food and Drug Administration)-এর তথ্য অনুযায়ী, মাঝারি আকারের প্রায় ৮টি স্ট্রবেরিতে প্রায় ১৭০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে। পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অনেকেরই উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা যায়। স্ট্রবেরিতে ফলেট নামের একটি বি ভিটামিনও রয়েছে। ফলেট কোষ বিভাজন, ডিএনএ তৈরি এবং শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ স্ট্রবেরিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। ভিটামিন সি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা কোষকে সুস্থ রাখতে, ক্ষত সারাতে এবং ত্বক ভালো রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া এতে অ্যান্থোসায়ানিন নামের একটি উপাদান রয়েছে, যা প্রদাহ কমাতে এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক গবেষণায় দেখা গেছে, স্ট্রবেরি একা বা অন্য খাবারের সঙ্গে খেলে রক্তে শর্করার প্রোফাইল উন্নত হতে পারে। এতে আঁশ বা ফাইবার রয়েছে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে বাড়তে সাহায্য করে। ফাইবার হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। এছাড়া স্ট্রবেরিতে ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে, যা টাইপ ২ ডায়াবেটিসে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি সাধারণভাবে স্ট্রবেরি নিরাপদ। তবে যেকোনো খাবারের মতোই পরিমিতি বজায় রাখা জরুরি। যারা খাবারের সঙ্গে ইনসুলিন নেন, তাদের স্ট্রবেরিকে মোট কার্বোহাইড্রেটের অংশ হিসেবে গণনা করতে হবে। প্রয়োজন হলে ইনসুলিনের মাত্রা সামঞ্জস্য করতে হতে পারে। কীভাবে খাদ্যতালিকায় যুক্ত করবেন স্ট্রবেরি সরাসরি ফল হিসেবে খাওয়া যায়, আবার বিভিন্ন খাবারের সঙ্গেও যোগ করা যায়। যেমন- স্মুদি, সালাদ, ওটস বা সিরিয়ালের ওপর টপিং হিসেবে বা ফলের সালাদে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ : এক কাপ তাজা স্ট্রবেরিতে প্রায় ১৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থাকে। তাই একবারে প্রায় এক কাপের মতো খাওয়া যেতে পারে। প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর চর্বির সঙ্গে খান : স্ট্রবেরির সঙ্গে বাদাম, দই বা সালাদে মিশিয়ে খেলে রক্তে শর্করার প্রভাব আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়। প্রসেসড রূপ এড়িয়ে চলুন : জ্যাম, সিরাপ বা অতিরিক্ত চিনি মেশানো স্ট্রবেরি এড়িয়ে চলা ভালো। সম্ভব হলে তাজা বা ফ্রোজেন স্ট্রবেরি বেছে নিন। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা পরিমিত পরিমাণে স্ট্রবেরি খেতে পারেন। এর কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স, আঁশ, ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। তবে প্রত্যেকের শারীরিক অবস্থা আলাদা। তাই খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনার আগে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ। সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চললেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সূত্র : মেডিকাল নিউজ টুডে
ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য স্ট্রবেরি
ভদ্র ও রুচিশীল পুরুষের ১০ সামাজিক শিষ্টাচার
কখনো কি ভেবেছেন, কিছু মানুষ সামাজিক অনুষ্ঠানে সবসময় ঠিকভাবে কথা বলতে ও আচরণ করতে জানেন কীভাবে? তারা জন্মগতভাবে এসব জানেন, এমন না। বরং সময়ের সঙ্গে তারা সামাজিক শিষ্টাচারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম আয়ত্ত করেছেন। আপনিও যদি নিজেকে আরও পরিণত, ভদ্র ও রুচিশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চান, তাহলে নিচের নিয়মগুলো মেনে চলা জরুরি। ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি সম্মান দেখান প্রত্যেক মানুষের একটি ব্যক্তিগত পরিসর, পার্সোনাল স্পেস বা কমফোর্ট জোন থাকে। খুব বেশি কাছে দাঁড়ানো বা অপ্রয়োজনে স্পর্শ করা অনেকের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। ভদ্র মানুষ জানেন, কথা বলার সময় কতটা দূরত্ব বজায় রাখতে হয়। লিফট, পার্টি বা অফিস মিটিং—যেখানেই হোক, অন্যের জায়গার প্রতি সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ। এটি ছোট একটি বিষয় হলেও অন্যের প্রতি আপনার সম্মানবোধ প্রকাশ করে। মন দিয়ে শোনার অভ্যাস গড়ে তুলুন অনুষ্ঠানে এমন কাউকে নিশ্চয়ই দেখেছেন, যিনি শুধু নিজের কথাই বলেন। এমন মানুষ না হওয়াই ভালো। ভালো আচরণের অন্যতম বড় গুণ হলো মনোযোগ দিয়ে অন্যের কথা শোনা। শুধু নিজের কথা বলার অপেক্ষায় না থেকে, অন্যের কথাকেও গুরুত্ব দিয়ে শুনুন। চোখে চোখ রেখে কথা বলা, মাঝেমধ্যে প্রতিক্রিয়া জানানো—এসব ছোট আচরণ আপনাকে আলাদা করে তুলবে। সময়ানুবর্তী হন সময়মতো উপস্থিত হওয়া শুধু অভ্যাস নয়, এটি অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি উপায়। কোনো কারণে দেরি হলে আগেই জানিয়ে দেওয়া উচিত। এতে অন্য ব্যক্তি প্রস্তুত থাকতে পারেন। সময়ের মূল্য দেওয়া একজন মানুষের চরিত্রের পরিচয় বহন করে। খাবার টেবিলে ভদ্রতা বজায় রাখুন ভালো টেবিল ম্যানার কখনো পুরোনো হয় না। ব্যবসায়িক ডিনার হোক বা বন্ধুর সঙ্গে আড্ডা; খাওয়ার সময় আচরণে সংযম থাকা জরুরি। ধীরে খাওয়া, অন্যের কথা বলার সময় মনোযোগ দেওয়া, মুখভর্তি খাবার নিয়ে কথা না বলা—এসব সাধারণ নিয়ম আপনাকে পরিণত ও রুচিশীল হিসেবে তুলে ধরে। সবার সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করুন একজন ভদ্র মানুষ জানেন, সামাজিক অবস্থান বা পেশা যাই হোক, প্রত্যেকেই সম্মানের যোগ্য। রেস্তোরাঁর কর্মী, অফিস সহকর্মী বা রাস্তায় দেখা কোনো অপরিচিত মানুষ—সবাইকে সৌজন্য দেখানো উচিত। একটি হাসি বা বিনীত আচরণ কারও দিনটিকে সুন্দর করে তুলতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পোশাক পরুন কোন অনুষ্ঠানে কী ধরনের পোশাক উপযুক্ত, তা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। বিয়ে, অফিস অনুষ্ঠান বা বন্ধুদের আড্ডা; প্রতিটি পরিবেশের আলাদা ড্রেস কোড থাকে। উপযুক্ত পোশাক কেবল আয়োজকের প্রতি সম্মানই দেখায় না, বরং আপনাকে আত্মবিশ্বাসীও করে তোলে। কথা বলার আগেই পোশাক আপনার সম্পর্কে একটি ধারণা তৈরি করে। ভুল হলে ক্ষমা চাইতে দ্বিধা করবেন না সবাই ভুল করে। কিন্তু ভুল স্বীকার করে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া বড় মনের পরিচয়। আমি ভুল করেছি এবং দুঃখিত—এই কয়েকটি শব্দ অনেক সম্পর্ক বাঁচাতে পারে। অহংকারের চেয়ে সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দেওয়া একজন ভদ্র মানুষের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সামাজিক পরিবেশে ফোন ব্যবহারে সংযম রাখুন বর্তমানে অনেকেই আড্ডা বা বৈঠকের মাঝেও মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকেন। এটি অসৌজন্যমূলক আচরণ হিসেবে ধরা হয়। যতটা সম্ভব সামাজিক পরিবেশে ফোন পকেটেই রাখুন। সামনে থাকা মানুষদের গুরুত্ব দিন। নোটিফিকেশন অপেক্ষা করতে পারে, কিন্তু সামনাসামনি সম্পর্ক নয়। উদার হন, শুধু অর্থ দিয়ে নয় উদারতা মানে শুধু অর্থ সাহায্য নয়। সময় দেওয়া, কাউকে শেখানো, প্রশংসা করা—এসবও উদারতার অংশ। একজন ভদ্র মানুষ অন্যের সাফল্যে আনন্দিত হন, প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ান এবং নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে কুণ্ঠাবোধ করেন না। উদারতা মানুষকে সম্মানিত করে। নিজের প্রতি সৎ থাকুন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের মতো থাকা। অন্যকে প্রভাবিত করতে গিয়ে অনেকেই নিজের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু প্রকৃত ভদ্রতা আসে আত্মবিশ্বাস ও স্বতন্ত্রতা থেকে। নিজের বৈশিষ্ট্য, আগ্রহ ও মূল্যবোধকে সম্মান করুন। ভান নয়, আন্তরিকতাই দীর্ঘস্থায়ী সম্মান এনে দেয়। রুচিশীল ও ভদ্র হওয়া মানে কেবল নিয়ম মেনে চলা নয়। এটি একটি মানসিকতা—যেখানে সম্মান, সংযম, সৌজন্য এবং আন্তরিকতা প্রধান। এই ১০টি সামাজিক শিষ্টাচার আপনার ব্যক্তিত্বকে আরও পরিণত ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারে। ছোট ছোট আচরণই বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। নিজেকে বদলাতে বড় পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের আচরণে সামান্য সচেতনতা যোগ করুন। দেখবেন, মানুষ আপনার উপস্থিতিকে আরও মূল্য দিচ্ছে।  সূত্র : বি স্পোক ইউনিট
ভদ্র ও রুচিশীল পুরুষের ১০ সামাজিক শিষ্টাচার
বছরের প্রথম বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণের দেখা পাবেন যেসব স্থান থেকে
বছরের প্রথম বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি)। আকাশের এই বিরল দৃশ্য ঘিরে বিশ্বজুড়ে রয়েছে আগ্রহ। তবে বাংলাদেশ থেকে এটি দেখা যাবে না। বাংলাদেশের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ৫৬ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে গ্রহণ শুরু হবে। এটি শেষ হবে রাত ৮টা ২৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে। এই গ্রহণ দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনা ও চিলি থেকে দেখা যাবে। এ ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের কিছু অংশ থেকেও এটি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। জানানো হয়েছে, গ্রহণ শুরু হবে অ্যান্টার্কটিকার একটি গবেষণা ঘাঁটির উত্তর-পশ্চিম দিকে দক্ষিণ মহাসাগর এলাকায়। শেষ হবে মরিশাসের ভিংট-সিনক দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে। মহাকাশে সূর্য ও চাঁদের অবস্থান পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন ধরনের গ্রহণ দেখা যায়। এর মধ্যে পূর্ণগ্রাস, বলয়গ্রাস ও আংশিক সূর্যগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া চন্দ্রগ্রহণও একটি পরিচিত জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা।
বছরের প্রথম বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণের দেখা পাবেন যেসব স্থান থেকে
দিনে মাত্র ৩০ মিনিটে দক্ষতা অর্জন করুন ইংরেজিতে
আমরা এমন একসময়ে বাস করছি, যেখানে সময় যেন সোনার মতো মূল্যবান। কাজ, পরিবার আর নিত্যদিনের ব্যস্ততার ভিড়ে নিজের জন্য আলাদা করে সময় বের করা কঠিন। কিন্তু সুখবর হলো, ইংরেজি শেখার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যাকরণের বই নিয়ে বসে থাকতে হয় না। প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট নিয়মিত চর্চাই আপনার ইংরেজির দক্ষতায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এটিকে আপনি মস্তিষ্কের ছোট একটি দৈনিক ব্যায়াম হিসেবে ভাবতে পারেন। সকালের চা খাওয়ার সময়, অফিসে যাওয়া-আসার পথে বা ঘুমানোর আগে কিছু সময় বের করলেই যথেষ্ট। চলুন আজ সহজ করে জেনে নিই কীভাবে প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে ইংরেজিতে দক্ষ হওয়া সম্ভব। কেন প্রতিদিন ৩০ মিনিটই যথেষ্ট ইংরেজি শেখা মানে একদিনে অনেক কিছু মুখস্থ করা নয়, বরং নিয়মিত অনুশীলন করা। যেমন গাছে প্রতিদিন অল্প পানি দিলে তা ভালোভাবে বেড়ে ওঠে, তেমনি প্রতিদিন অল্প সময় পড়াশোনা করলে ভাষা শেখাও সহজ হয়। শিক্ষা গবেষণায় দেখা গেছে, অল্প সময়ের মনোযোগী পড়াশোনা বেশি কার্যকর। একে বলা হয় ‘মাইক্রোলার্নিং’। এতে মস্তিষ্ক ছোট ছোট তথ্য ভালোভাবে গ্রহণ করে ও মনে রাখতে পারে। আরেকটি বড় সুবিধা হলো চাপ কম থাকে। যদি দুই ঘণ্টা পড়ার পরিকল্পনা ভেস্তে যায়, তখন হতাশা আসে। কিন্তু ৩০ মিনিট মিস হলে পরদিন আবার সহজেই শুরু করা যায়। তাই ব্যস্ত মানুষদের জন্য এই পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর। ৩০ মিনিটের কার্যকর রুটিন কীভাবে সাজাবেন অল্প সময়কে সঠিকভাবে ভাগ করাই হলো সাফল্যের চাবিকাঠি। পুরো ৩০ মিনিটকে কয়েকটি ছোট ভাগে ভাগ করুন। শুরুতে ৫ মিনিট হালকা অনুশীলন প্রথমেই কঠিন ব্যাকরণে ঝাঁপ দেবেন না। বরং ৫ মিনিট হালকা কিছু শুনুন বা পড়ুন। যেমন - একটি ছোট ইংরেজি পডকাস্ট শুনুন, ইউটিউবের ছোট ভিডিও দেখুন বা ফ্ল্যাশকার্ডে কয়েকটি শব্দ শিখুন। এতে আপনার মস্তিষ্ক প্রস্তুত হবে এবং নিয়মিত হওয়ার অভ্যাস গড়ে উঠবে। ১৫ মিনিট মনোযোগী হয়ে চর্চা এটি অভ্যাস গড়ার মূল অংশ। একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে মনোযোগ দিন। উদাহরণ- শব্দভান্ডার বাড়ানো: প্রতিদিন ৫টি নতুন শব্দ শিখুন এবং লিখে রাখুন ব্যাকরণ শেখা: একটি নির্দিষ্ট কাল শিখে ২টি বাক্য তৈরি করুন লিসেনিং: একটি ছোট অডিও ক্লিপ শুনে নতুন শব্দ লিখুন আগের দিনের শেখা বিষয়গুলোও একটু ঝালাই করে নিন। এতে মনে রাখা সহজ হয়। ১০ মিনিট ব্যবহারিক প্রয়োগ শুধু পড়লে হবে না, ব্যবহার করতে হবে। নিজের দিনের কাজ ইংরেজিতে বলা শুরু করুন।  ছোট একটি ডায়েরি লিখুন বা মোবাইলে নিজের কণ্ঠ রেকর্ড করুন। যখন আপনি কথা বলেন বা লিখেন, তখন ভাষা আরও দ্রুত আয়ত্তে আসে। শেষ ৫ মিনিট পুনরালোচনা দিনে যা শিখলেন, তা দ্রুত দেখে নিন। নতুন শব্দগুলো পড়ুন ও লিখে রাখা বাক্যগুলো বারবার পড়ুন। এই ছোট ধাপই শেখাকে স্থায়ী করে তোলে। সঠিক উপকরণ নির্বাচন জরুরি ইংরেজি শেখা যেন বিরক্তিকর না হয়। বড় ও জটিল বইয়ের বদলে ছোট ও বাস্তবধর্মী কনটেন্ট বেছে নিন। যেমন - ছোট খবরের প্রতিবেদন - সিটকমের ছোট ক্লিপ - ইউটিউব ভিডিও - ইংরেজি ব্লগ বাস্তব জীবনে ব্যবহৃত ইংরেজি শুনলে ও পড়লে ভাষা সহজে রপ্ত হয়। একসঙ্গে অনেক উৎস ব্যবহার না করে এক সপ্তাহে একটি উৎসে মনোযোগ দিন। প্রযুক্তির ব্যবহার বর্তমানে বিভিন্ন অ্যাপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ইংরেজি শেখাকে সহজ করেছে।  তবে একসঙ্গে অনেক অ্যাপ ব্যবহার না করে ১ বা ২টি বেছে নিয়ে নিয়মিত ব্যবহার করাই ভালো। ক্লান্তি এড়াতে করণীয় শুরুতে অনেক উৎসাহ থাকে, কিন্তু অতিরিক্ত চাপ নিলে দ্রুত ক্লান্তি আসে। তাই বেশি বেশি চেষ্টা না করে প্রতিদিন ৫০টি শব্দ মুখস্থ না করে ৫টি শব্দ শিখুন। পছন্দের ভিডিও দেখুন ও আপনার কাছে মজা লাগে এমন বিষয় পড়ুন। ভাষা শেখা আনন্দের হলে দীর্ঘমেয়াদে চালিয়ে যাওয়া সহজ হয়। পুরো দিনকে শেখার অংশ বানান। আর শুধু ৩০ মিনিটেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না। দিনের বিভিন্ন সময় ইংরেজিকে যুক্ত করুন। - অফিসে যাওয়ার পথে পডকাস্ট শুনুন - বাড়ির জিনিসে ইংরেজি লেবেল লাগান - খাবার সময় ছোট খবর পড়ুন - ঘুমানোর আগে ৫ মিনিট ইংরেজি পড়ুন এতে আলাদা সময় বের না করেও অনুশীলন হবে। সময় নয়, অগ্রগতি পরিমাপ করুন। শুধু সময় গোনা নয়, নিজের উন্নতি লক্ষ্য করুন। খেয়াল করুন- এই সপ্তাহে কতটি নতুন শব্দ ব্যবহার করেছেন। আগের চেয়ে সাবলীলভাবে লিখতে পারছেন কি না বা সাবটাইটেল ছাড়া ভিডিও কতটা বুঝতে পারছেন। ছোট ছোট সাফল্যগুলো লিখে রাখুন। এগুলোই আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে। দিনে ৩০ মিনিটে কতটা উন্নতি সম্ভব নিয়মিত চর্চা করলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পরিবর্তন টের পাবেন। ধীরে শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে অগ্রগতি স্পষ্ট হবে। একদিন বাদ গেলে কি তা বড় কোন সমস্যা? না। একটি দিন বাদ গেলে পরদিন আবার শুরু করুন। নিয়মিত থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট সময় দিলেই ইংরেজিতে দক্ষ হওয়া সম্ভব। দীর্ঘ সময় একটানা পড়াশোনার প্রয়োজন নেই। ছোট ছোট ধাপে নিয়মিত চর্চা করাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। প্রতিটি নতুন শব্দ, প্রতিটি ছোট বাক্য, প্রতিটি অডিও ক্লিপ ধীরে ধীরে আপনাকে সাবলীলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। মনে রাখবেন, নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা নয়, ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আজই আপনার ৩০ মিনিট ঠিক করুন। নিয়মিত চর্চা শুরু করুন। সময়ের সঙ্গে দেখবেন, ইংরেজি আর ভয়ের বিষয় নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক একটি অংশ হয়ে গেছে। সূত্র : ইংলিশ লার্নিং
দিনে মাত্র ৩০ মিনিটে দক্ষতা অর্জন করুন ইংরেজিতে
এই রোজায় কফি ও ধূমপান ছাড়তে মানুন চিকিৎসকের কিছু নিয়ম
রমজান শুরু হতে আর বেশি দিন নেই। আর মাত্র ৩ দিন। চিকিৎসকরা বলছেন, যারা নিয়মিত ধূমপান করেন বা দিনে কয়েক কাপ কফি পান করেন, তারা যেন হঠাৎ করে রোজার প্রথম দিন থেকে সব বন্ধ না করেন।  এতে মাথাব্যথা, খিটখিটে মেজাজ, দুর্বলতা ও মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রমজানকে শুধু এক মাসের সংযম হিসেবে না দেখে এটিকে খারাপ অভ্যাস বদলের দীর্ঘমেয়াদি সুযোগ হিসেবে নেওয়া উচিত। ধীরে ধীরে কমানো জরুরি, তবে কেন? চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হঠাৎ করে নিকোটিন ও ক্যাফেইন বন্ধ করলে শরীর ও মনে চাপ পড়ে। অনেকেই রোজার প্রথম কয়েক দিন তীব্র মাথাব্যথা, বিরক্তি, মাথা ঘোরা, উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা, হজমে গোলমাল ও কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার অভিজ্ঞতা পান। যারা আগে থেকে প্রস্তুতি নেন না, তাদের ক্ষেত্রে পারিবারিক সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। মেজাজের ওঠানামা ও দৈনন্দিন রুটিন বদলে যাওয়ার কারণে কর্মক্ষেত্রেও উৎপাদনশীলতা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। ৯ ধাপে ধীরে ধীরে অভ্যাস ছাড়ার পরিকল্পনা চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করলে রোজায় কষ্ট কম হবে এবং স্থায়ীভাবে ধূমপান বা অতিরিক্ত কফি ছাড়ার পথ তৈরি হবে। - প্রতিদিনের সিগারেটের সংখ্যা প্রথমে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কমিয়ে দিন। - খাবারের পর বা গাড়ি চালানোর সময়ের মতো নির্দিষ্ট অভ্যাসগত সময়ে ধূমপান বন্ধ করুন। - ঘুম থেকে উঠে প্রথম সিগারেট খাওয়ার সময় দেরি করুন। - ধীরে ধীরে দিনের বেলা ধূমপান বন্ধ রেখে কেবল সন্ধ্যার পর সীমিত রাখার অভ্যাস করুন। - প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি ব্যবহার করা যেতে পারে। - কফির পরিমাণ কয়েক দিন পরপর প্রায় ২৫ শতাংশ করে কমান। - বেশি গাঢ় কফির বদলে হালকা বা আংশিক ক্যাফেইনমুক্ত কফি বেছে নিন। - বিকেলের পর ক্যাফেইন গ্রহণ এড়িয়ে চলুন, এতে ঘুম ভালো হবে। - প্রতিদিন ২ থেকে আড়াই লিটার পানি পান করার অভ্যাস করুন, যাতে ডিহাইড্রেশন ও মাথাব্যথা কমে। ক্যাফেইন ও নিকোটিন ছাড়লে কী হয় পারিবারিক চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানান, যারা দিনে দুই কাপের বেশি কফি পান করেন, তারা যদি হঠাৎ বন্ধ করেন তাহলে মস্তিষ্কের রক্তনালী প্রসারিত হয়ে তীব্র মাথাব্যথা হতে পারে। সাধারণত এই উপসর্গ তিন থেকে পাঁচ দিন স্থায়ী হয়। অন্যদিকে, নিকোটিন বন্ধ করলে বিরক্তি, ঘুমের সমস্যা ও মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে আগেভাগে ধীরে ধীরে কমালে এসব সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। শারীরিক ব্যায়াম ও প্রস্তুতি চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা ধূমপানের ইচ্ছা কমাতে সহায়ক। রমজানের আগে দিনে ছয় থেকে আট ঘণ্টা সিগারেট না খেয়ে থাকার অনুশীলন করা যেতে পারে। শেষ কয়েক দিনে সিগারেটের সংখ্যা শূন্য থেকে তিনটির মধ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রাখা ভালো। শ্বাসতন্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, হঠাৎ ধূমপান বন্ধ করলে প্রথম দিকে কাশি ও কফ বেড়ে যেতে পারে। এটি শরীর সুস্থ হওয়ার ইতিবাচক লক্ষণ হলেও রোজার সময় কিছুটা অস্বস্তিকর হতে পারে। যাদের অ্যাজমা বা দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ আছে, তারা রমজানের আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে ওষুধ ও ইনহেলার ব্যবহারের পরিকল্পনা ঠিক করে নেওয়া উচিত। মানসিক প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তন এলে উদ্বেগ, ক্লান্তি ও মেজাজের ওঠানামা হতে পারে। তাই রমজানের আগে থেকেই নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য এবং নিয়মিত পানি পান শরীরকে নতুন রুটিনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। রমজান শুধু আধ্যাত্মিক সাধনার সময় নয়, এটি সুস্থ জীবনের নতুন সূচনা করারও সুযোগ। হঠাৎ করে সব অভ্যাস বন্ধ না করে পরিকল্পিত ও ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনলে রোজা রাখা সহজ হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে ধূমপান ও অতিরিক্ত ক্যাফেইন নির্ভরতা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব হবে। সচেতন প্রস্তুতি, চিকিৎসকের পরামর্শ ও দৃঢ় মনোভাবই পারে এই রমজানকে স্বাস্থ্যকর জীবনের মোড় ঘোরানো সময় হিসেবে গড়ে তুলতে। সূত্র: গল্ফ নিউজ
এই রোজায় কফি ও ধূমপান ছাড়তে মানুন চিকিৎসকের কিছু নিয়ম