বর্তমানে ওজন কমানো নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের ট্রেন্ড ঘুরে বেড়াচ্ছে। একদিন বলা হচ্ছে কার্বোহাইড্রেট পুরোপুরি বাদ দিন, আরেকদিন বলা হচ্ছে বিশেষ ডিটক্স চা খেলেই মেদ ঝরে যাবে। এই ভিড়ে কোনটি সত্যিই কার্যকর আর কোনটি কেবল সাময়িক উত্তেজনা, তা বোঝা কঠিন হয়ে যায়।
বলিউড অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়ার ফিটনেস প্রশিক্ষক সিদ্ধার্থ সিং জানিয়েছেন, দ্রুত ফলের আশায় শরীরের ক্ষতি করার কোনো মানে নেই। তার মতে, ২০২৫ সালে কিছু জনপ্রিয় ফিটনেস ট্রেন্ড এড়িয়ে চলাই ভালো। তিনি টেকসই ও স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিতে ওজন কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন।
নিচে তার উল্লেখ করা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হলো।
লো-কার্ব ডায়েট নয়, ক্যালোরি ঘাটতিতে জোর দিন
অনেকেই দ্রুত ওজন কমাতে কার্বোহাইড্রেট একেবারে বাদ দেন। এতে শুরুতে দ্রুত ওজন কমলেও দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সিদ্ধার্থ সিংয়ের মতে, নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীরের শক্তির জন্য কার্বোহাইড্রেট প্রয়োজন। হঠাৎ করে কার্ব কমিয়ে দিলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, তীব্র ক্ষুধা তৈরি হতে পারে এবং পরে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে।
তার পরিবর্তে তিনি ক্যালোরি ঘাটতি পদ্ধতির পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থাৎ শরীর যত ক্যালোরি পোড়ায়, তার চেয়ে সামান্য কম ক্যালোরি গ্রহণ করা। এতে ধীরে কিন্তু স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমে।
তিনি পরামর্শ দেন কার্বোহাইড্রেট পুরোপুরি বাদ না দিয়ে পরিমিত খেতে। পাশাপাশি খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ান ও সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।
ডিটক্স চা ও ক্লিনজিং পণ্য থেকে দূরে থাকুন
বাজারে বিভিন্ন ডিটক্স চা ও সাপ্লিমেন্টের প্রচার দেখা যায়। দাবি করা হয়, এগুলো শরীরের বিষাক্ত উপাদান দূর করে দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে।
সিদ্ধার্থ সিংয়ের ভাষায়, শরীরের নিজস্ব ডিটক্স ব্যবস্থা রয়েছে। লিভার ও কিডনি স্বাভাবিকভাবেই শরীর পরিষ্কার রাখে। কোনো বিশেষ চা বা সাপ্লিমেন্ট শরীরকে অতিরিক্ত ডিটক্স করতে পারে—এমন দাবির পেছনে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
এসবের পরিবর্তে তিনি পরামর্শ দেন—আঁশযুক্ত খাবার খেতে, প্রতিদিন পর্যাপ্ত প্রোটিন নিতে, নিয়মিত হাঁটতে এবং
পর্যাপ্ত ঘুমাতে।
এই মৌলিক বিষয়গুলোই দীর্ঘমেয়াদে ফল দেয়।
পর্যাপ্ত না ঘুমানো বড় ভুল
ব্যস্ত জীবনে অনেকেই ঘুম কমিয়ে দেন। কিন্তু ফিটনেসের ক্ষেত্রে এটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
প্রশিক্ষকের মতে, ঘুম কম হলে ক্ষুধা বাড়ে, শরীরের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ধীর হয় এবং চর্বি কমানোর গতি কমে যায়। ফলে ওজন কমানোর চেষ্টা ব্যাহত হয়।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা টানা ও ভালো ঘুম শরীরের গঠন ঠিক রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওজন কমানোর ক্ষেত্রে শর্টকাটের প্রলোভন অনেক। কিন্তু দ্রুত ফলের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুম—এই চারটি বিষয়ই স্বাস্থ্যকর ওজন কমানোর মূল ভিত্তি। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত প্রতিটি ট্রেন্ড অনুসরণ করার আগে নিজের শরীরের প্রয়োজন এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
সুস্থ জীবনযাপন কোনো অস্থায়ী প্রকল্প নয়, এটি একটি ধারাবাহিক অভ্যাস।
সূত্র : এনডিটিভি