আজ হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন ডে বা বিশ্ব ভালেবাসা দিবস। প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি এ দিনটি উদযাপন করা হয়। আজ ভালোবাসা দিবস এসেছে ফাগুনের রঙে রাঙিয়ে। সে হিসেবে আজ দুটি দিবস—বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুন।
ভালোবাসা দিবস প্রেম, বন্ধুত্ব এবং প্রশংসা উদযাপনের একটি রঙিন উৎসবমুখর দিন। এ দিনে প্রেমিক-প্রেমিকা, বন্ধুবান্ধব, স্বামী-স্ত্রী, মা-সন্তান, ছাত্র-শিক্ষকসহ বিভিন্ন বন্ধনে আবদ্ধ মানুষেরা ভালোবাসা বিনিময় করেন। প্রিয়জনদের ফুল ও উপহার দেন। পছন্দের জায়গায় বেড়াতে নিয়ে যান।
রাজধানীসহ সারা দেশে বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করে ভালোবাসার মানুষগুলো। বাহারি রঙের পোশাক আর হাতে নরম সুন্দর ফুলের বন্ধনে রঙিন হয়ে উঠে দিনটি। কোথাও কোথাও আয়োজন করা হয় কনসার্টেরও।
ভালোবাসা দিবসের ইতিহাস নিয়ে একাধিক মত প্রচলিত আছে। তবে প্রচলিত প্রসিদ্ধ মত হলো, তৃতীয় শতাব্দীর রোমান সাধক সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের সম্মানে ভ্যালেন্টাইন ডে পালিত হয়। পরে বিশ্বের অনেক দেশে এটি পালন করা শুরু হয়।
কারও কারও ধারণা, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি অনুষ্ঠিত লুপারক্যালিয়ার রোমান উৎসব থেকে এটি উদ্ভূত হয়েছে। পঞ্চম শতাব্দীর শেষের দিকে পোপ গেলাসিয়াস লুপারক্যালিয়া এই উৎসব উদযাপনের সমাপ্তি ঘটান।
ব্রিটানিকার মতে, ২৭০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি খ্রিষ্টানবিরোধী রোমান সম্রাট গথিকাস আহত সেনাদের চিকিৎসার অপরাধে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মৃত্যুর আগে ফাদার ভ্যালেন্টাইন তার মেয়েকে একটি চিঠি লেখেন, সেখানে তিনি নাম সই করেছিলেন ‘ফ্রম ইওর ভ্যালেন্টাইন’। ভ্যালেন্টাইনের মেয়ে ও তার প্রেমিক মিলে পরের বছর থেকে বাবার মৃত্যুর দিনটিকে ভ্যালেন্টাইনে ডে হিসেবে পালন শুরু করেন।
১৪ ও ১৫ শতকের দিকে রোমান্টিক প্রেমের সঙ্গে দিবসটি যুক্ত হয়। ইংল্যান্ডে এ দিনটি তখন এমন একটি উপলক্ষ হয়ে উঠে, যেখানে দম্পতিরা তাদের প্রিয়জনদের ফুল ও শুভেচ্ছা কার্ড দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করেন।
ভ্যালেন্টাইন ডে সার্বজনীন হয়ে ওঠে ৪০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে। বাংলাদেশে দিবসটি প্রবর্তন করেন সাংবাদিক শফিক রেহমান। ১৯৯৩ সালে তার সম্পাদিত মাসিক পত্রিকা ‘যায়যায়দিন’ এ ১৪ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ‘ভালোবাসা সংখ্যা’ প্রকাশিত হয়। এরপর দিনটি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে।
মন্তব্য করুন








