ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট দ্বৈরথকে বরাবরই বিশ্বের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচগুলোর একটি হিসেবে দেখা হয়। তবে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে দুই দলের সাম্প্রতিক লড়াই ঘিরে নতুন করে উঠে এসেছে অন্য এক আলোচনা—এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা কি ধীরে ধীরে ক্রীড়া সীমা ছাড়িয়ে রাজনৈতিক রূপ নিচ্ছে?
রোববারের ম্যাচে ভারতের একতরফা জয়ের পর আলোচনার কেন্দ্রে ছিল শুধু স্কোরলাইন নয়, বরং মাঠের বাইরের আচরণ ও পরিবেশ। টসের সময় দুই অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও সালমান আলি আগার মধ্যে কোনো করমর্দন হয়নি। ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের মধ্যেও দেখা যায়নি প্রচলিত সৌজন্য বিনিময়। এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়।
ম্যাচের আগে থেকেই ছিল নানা নাটকীয়তা। পাকিস্তান প্রথমে বাংলাদেশ ইস্যুতে এই ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত জানালেও শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থান থেকে সরে আসে। তবু উত্তেজনার আবহ কাটেনি। স্টেডিয়ামের বাইরে ছিল বাড়তি নিরাপত্তা, প্রবেশমুখ থেকে কয়েক ব্লক দূর থেকেই তল্লাশি শুরু হয়। শ্রীলঙ্কার বিশেষ টাস্কফোর্সের সশস্ত্র উপস্থিতি অন্য ম্যাচগুলোর তুলনায় দৃশ্যত বেশি ছিল।
তবে মাঠের ভেতরের পরিবেশে সরাসরি উত্তেজনার চেয়ে কৌতূহলই ছিল বেশি। দর্শকদের বড় অংশই নজর রাখছিলেন করমর্দন বা সৌজন্য বিনিময় হয় কি না—সেই ‘হ্যান্ডশেক ওয়াচ’-এ। টসের আগে ক্যামেরার সামনে দুই অধিনায়ক দাঁড়িয়ে থাকলেও কোনো আনুষ্ঠানিক সৌজন্য বিনিময় দেখা যায়নি।
অন্যদিকে মাঠের বাইরে সাবেক তারকাদের আচরণ ছিল ভিন্ন চিত্রের। সম্প্রচারে রোহিত শর্মা ও ওয়াসিম আকরামকে ট্রফি নিয়ে মাঠে হাঁটার সময় আন্তরিক অভিবাদন বিনিময় করতে দেখা যায়। মিডিয়া এলাকায় হরভজন সিং, মিসবাহ–উল–হক ও রমিজ রাজাকেও সৌহার্দপূর্ণ আলোচনায় ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়, যা দুই দেশের ক্রিকেট–সম্পর্কের ভিন্ন এক দিক তুলে ধরে।
মাঠের ক্রিকেট অবশ্য একপেশেই ছিল। ঈশান কিশানের ঝড়ো ইনিংসে ভর করে ভারত বড় সংগ্রহ গড়ে, পরে পাওয়ারপ্লেতে দ্রুত চার উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে ভারতের আধিপত্য আরও জোরালো হয় এই জয়ে।
তবে ম্যাচপরবর্তী আলোচনায় স্কোরের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় সম্পর্কের টানাপোড়েন। ভারতের অলরাউন্ডার অক্ষর প্যাটেল অবশ্য এই বিতর্ককে পাত্তা দিতে চাননি। তার ভাষায়, ‘আমরা এটিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে ভাবছি না। আমরা একটি দলের বিপক্ষেই খেলছি, মনোযোগ শুধু ক্রিকেটে।’
তবু বাস্তবতা হলো, দুই দলের দ্বৈরথ ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের ছায়া ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আচরণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আনুষ্ঠানিক সৌজন্য বিনিময়ের অনুপস্থিতিই যেন এই ম্যাচকে ভিন্ন মাত্রা দিচ্ছে। ক্রিকেট–সমর্থকদের একাংশের মতে, ক্রীড়ার চিরচেনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধীরে ধীরে রাজনৈতিক আলোচনার রূপ নিচ্ছে—যা খেলাটির স্বাভাবিক আবহকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
মন্তব্য করুন








