ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যে সরকারের অবস্থান আরও স্পষ্ট করলেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি জানিয়েছেন, ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি সরকারের এবং এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সামগ্রিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি।
বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, কোনো দেশের নাগরিক অন্য দেশে গেলে তাদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়নের দায়িত্ব সরকারের। খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সমর্থকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে কি না—এই বিষয়গুলো বিবেচনা করেই সরকার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
তিনি জানান, সরকার মনে করে শুধু খেলোয়াড়দের নয়, বিশ্বকাপ-সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ঝুঁকি উপেক্ষা করে সবাইকে সেখানে পাঠানো হলে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, সেটিও সরকারের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে।
ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকে সরকার কেন এই অবস্থান নিয়েছে, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান আসিফ নজরুল। তার মতে, ক্রিকেটাররা বিষয়টি অনুধাবন করেছেন এবং সরকারের যুক্তিগুলো বুঝতে পেরেছেন।
আইসিসির ভূমিকা নিয়ে এখনও আশাবাদী সরকার। ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ আশা করছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নেবে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করবে।
তিনি আরও জানান, ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের আলোচ্য বিষয়গুলো ব্যক্তিগত এবং ক্রিকেটাররা চাইলে নিজেরাই সেগুলো গণমাধ্যমে জানাতে পারেন। সরকারের পক্ষ থেকে বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল সিদ্ধান্তের পেছনের বাস্তবতা তুলে ধরা এবং সেই প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করা।
সব মিলিয়ে, সরকারের অবস্থান স্পষ্ট—নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, আর সেই বিবেচনায় ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলার সিদ্ধান্ত থেকে তারা এখনও সরে আসেনি।
মন্তব্য করুন








