অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে রীতিমতো ভাগ্যের সরাসরি সহায়তা পেলেন ২৫তম গ্রান্ড স্লামের আশায় থাকা নোভাক জোকোভিচ। জোকোভিচের প্রতিপক্ষ লরেঞ্জো মুসেত্তি দুই সেটে এগিয়ে থেকেও চোটের কারণে ম্যাচ ছেড়ে দিতে বাধ্য হওয়ায় সেমিফাইনালে উঠে যান নোভাক জোকোভিচ।
মুসেত্তি ম্যাচের প্রথম দুই সেট জিতে নেন ৬-৪, ৬-৩ ব্যবধানে। তবে তৃতীয় সেটের শুরুতে ব্রেক খাওয়ার পর তার ডান পায়ের ওপরের অংশে চোটের কারণে মেডিক্যাল টাইমআউট নেন ২৩ বছর বয়সী এই ইতালিয়ান। কিছুক্ষণ খেলার চেষ্টা করলেও ব্যথা বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত পঞ্চম গেমে ডাবল ফল্টের পর নেটের কাছে এসে ম্যাচ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
ম্যাচ শেষে হতাশ মুসেত্তি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি কেমন অনুভব করছি, তা ভাষায় বোঝানো কঠিন। ডান পায়ে অস্বাভাবিক কিছু টের পাচ্ছিলাম। আমি খুব ভালো খেলছিলাম বলেই খেলা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ব্যথা বাড়ছিল এবং সমস্যা কমছিল না।’
জোকোভিচও স্বীকার করেন, তিনি কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ার পথে ছিলেন। অন-কোর্ট সাক্ষাৎকারে ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, ‘আমি সত্যিই তার জন্য খারাপ লাগছে। সে আজ অনেক ভালো খেলছিল। সত্যি বলতে, আমি আজ রাতে বাড়ি ফেরার কথাই ভাবছিলাম।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘খেলাধুলায় এমন হয়। এটা আমার সঙ্গেও আগে হয়েছে। তবে আজ মুসেত্তিই জয় পাওয়ার যোগ্য ছিল, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’
দ্বিতীয় সেটের পর জোকোভিচ নিজেও পায়ের তলায় গুরুতর ফোসকার কারণে মেডিক্যাল টাইমআউট নেন। চলাফেরায় স্পষ্ট অস্বস্তি ছিল তার। পরে তিনি বলেন, ‘আমি খুব ভাগ্যবান। আজ বলটা ঠিকমতো ফিল করছিলাম না, ওর মান ও বৈচিত্র্যের কারণে।’
উল্লেখযোগ্যভাবে, এটি টানা দ্বিতীয় ম্যাচ যেখানে প্রতিপক্ষের চোটের কারণে সুবিধা পেয়েছেন জোকোভিচ। এর আগে চতুর্থ রাউন্ডে জাকুব মেনশিক পেটের চোটে নাম প্রত্যাহার করায় ওয়াকওভারে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিলেন তিনি।
এদিকে মুসেত্তির জন্য এটি নতুন নয়। গত বছর ফ্রেঞ্চ ওপেনের সেমিফাইনালেও একই ধরনের চোটে তাকে ম্যাচ ছাড়তে হয়েছিল, যেখানে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হন কার্লোস আলকারাজ।
সেমিফাইনালে জোকোভিচের প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জানিক সিনার। কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি বেন শেল্টনকে ৬-৩, ৬-৪, ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চারে ওঠেন।
মন্তব্য করুন








