ঢাকা, বাংলাদেশ ||
সোমবার
০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ||

কম্পিউটার ব্যবহার সহজ করতে উইন্ডোজের যেসব ফিচার জানা উচিত

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক

  ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:১১
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমানে কম্পিউটার আমাদের কাজ, যোগাযোগ, কেনাকাটা থেকে শুরু করে বিনোদনের ধরন পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। আজ ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ শুধু কাজের গতি বাড়ায় না, সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি চোখের চাপ কমাতে, মনোযোগ ধরে রাখতে এবং দৈনন্দিন কাজ আরও সহজ করতেও সাহায্য করে।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

অনেকেই জানেন না, উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমেই এমন কিছু ফিচার আছে যা খুব সহজে ব্যবহার করা যায় এবং যা ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে অনেক বেশি আরামদায়ক করে তোলে। নিচে তেমনই কয়েকটি দরকারি ফিচারের কথা তুলে ধরা হলো, যা বাংলাদেশের সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্যও সমানভাবে কার্যকর।

ডার্ক মোড চালু করুন

দীর্ঘ সময় উজ্জ্বল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখে চাপ পড়ে এবং ব্লু লাইটের কারণে ঘুমের সমস্যাও হতে পারে। ডার্ক মোড এই সমস্যার একটি সহজ সমাধান। এতে স্ক্রিনের সাদা ও উজ্জ্বল অংশগুলো গাঢ় রঙে পরিবর্তিত হয়, যা চোখের জন্য আরামদায়ক। অনেক ক্ষেত্রে এটি ব্যাটারির খরচও কমায়।

চালু করার নিয়ম

Settings খুলুন

Personalization > Colors

Choose your color বা Windows 11-এ Choose your mode

Dark নির্বাচন করুন

কাজ, পড়াশোনা বা বিনোদন— সব ক্ষেত্রেই ডার্ক মোড চোখকে তুলনামূলক স্বস্তি দেয়।

স্টার্ট মেনু নিজের মতো করে সাজান

উইন্ডোজের স্টার্ট মেনু এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যবহারবান্ধব। চাইলে এটি নিজের কাজের ধরন অনুযায়ী সাজিয়ে নেওয়া যায়।

Windows 10-এ

Settings > Personalization > Start > Choose which folders appear on Start

এখান থেকে File Explorer, Documents, Settings ইত্যাদি দেখাবেন কি না ঠিক করতে পারবেন।

ফুল-স্ক্রিন স্টার্ট মেনু চাইলে Settings > Personalization > Start > Use Start full screen

রঙ পরিবর্তনের জন্য Settings > Personalization > Colors

Windows 11-এ

Settings > Personalization > Start

এখান থেকে পিন করা অ্যাপ, সম্প্রতি ব্যবহৃত অ্যাপ বা ফোল্ডার দেখানোর নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

পিন করা অ্যাপ সরাতে Unpin from Start এবং নতুন করে যোগ করতে Pin to Start ব্যবহার করুন।

স্টার্ট বাটন বামদিকে নিতে Settings > Personalization > Taskbar > Taskbar behaviors।

এক স্লাইডেই পিসি বন্ধ করুন

চাইলে একটি শর্টকাট তৈরি করে খুব সহজে স্লাইড করে কম্পিউটার বন্ধ করা যায়।

পদ্ধতি

ডেস্কটপে রাইট-ক্লিক > New > Shortcut

নিচের কোডটি পেস্ট করুন : %windir%\System32\SlideToShutDown.exe

Next চাপুন এবং একটি নাম দিন। আইকনে রাইট-ক্লিক করে Properties > Change Icon থেকে পছন্দের আইকন বেছে নিন। এরপর শর্টকাটে ক্লিক করলেই স্লাইড করে কম্পিউটার বন্ধ করা যাবে।

Nearby Sharing দিয়ে দ্রুত ফাইল পাঠান

অন্য ডিভাইসে ফাইল পাঠাতে পেনড্রাইভ বা ইমেইলের ঝামেলা এড়াতে Nearby sharing ব্যবহার করা যায়। এটি একই নেটওয়ার্ক বা কাছাকাছি থাকা ডিভাইসের মধ্যে দ্রুত ফাইল শেয়ার করতে সাহায্য করে।

Windows 10-এ

Action Center খুলে Nearby sharing চালু করুন।

File Explorer, Photos বা ব্রাউজার থেকে Share অপশন ব্যবহার করুন।

Windows 11-এ

Start > Settings > System > Nearby sharing

এখান থেকে কোন ডিভাইসের সঙ্গে শেয়ার করবেন তা ঠিক করুন।

গ্রহণকারী ডিভাইস থেকে অনুমতি দিলেই ফাইল সেভ হয়ে যাবে।

মনোযোগ ধরে রাখতে Focus Assist ব্যবহার করুন

বারবার নোটিফিকেশন এলে কাজে মনোযোগ রাখা কঠিন হয়। Focus assist ব্যবহার করে ঠিক করে দিতে পারেন কখন কোন নোটিফিকেশন দেখবেন।

Windows 10-এ

Start > Settings > System > Focus assist

Off, Priority only বা Alarms only থেকে একটি বেছে নিন।

Windows 11-এ

Start > Settings > System > Focus assist

এখান থেকেও একইভাবে সেটিং পরিবর্তন করা যায়।

এতে কাজের সময় অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রেখে গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়।

কম্পিউটার বা ল্যাপটপ শুধু ব্যবহার করলেই হয় না, সঠিকভাবে ব্যবহার করাটাই আসল বিষয়। উইন্ডোজের এই সহজ কিন্তু কার্যকর ফিচারগুলো কাজে লাগালে চোখের চাপ কমে, সময় বাঁচে এবং কাজের গতি বাড়ে। একটু সচেতনভাবে সেটিং বদলালেই দৈনন্দিন কম্পিউটার ব্যবহার আরও স্বাচ্ছন্দ্য ও কার্যকর হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র : asurion

মন্তব্য করুন

রাতে ওয়াইফাই বন্ধ রাখলে পাবেন যেসব উপকারিতা
বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাড়ি, অফিস, পড়াশোনা থেকে বিনোদন—সবখানেই ওয়াইফাই ব্যবহার হচ্ছে নিয়মিত। তবে অনেকেই এখন প্রশ্ন তুলছেন, সারাক্ষণ চালু থাকা ওয়াইফাই সিগন্যাল আমাদের ঘুম, স্বাস্থ্য, এমনকি ঘরের গাছপালার ওপর কোনো প্রভাব ফেলছে কি না।  বিশেষজ্ঞদের কিছু গবেষণা ও ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা বলছে, রাতে ঘুমানোর সময় ওয়াইফাই বন্ধ রাখলে কিছু সম্ভাব্য উপকার পাওয়া যেতে পারে। ঘুমের মান ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ভালো ঘুম সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম না হলে শরীরের স্বাভাবিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, মনোযোগ কমে যায় এবং মেজাজ খিটখিটে হতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গের সংস্পর্শে থাকলে ঘুমের গভীর স্তর কমে যেতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার RMIT University-এর একটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, রাউটারের কাছাকাছি ঘুমানো কিছু মানুষের মধ্যে অনিদ্রার অভিযোগ বেশি ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২.৪ গিগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সির সিগন্যাল গভীর ঘুমে প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া, ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন মেলাটোনিন উৎপাদনের সঙ্গেও তড়িৎচৌম্বক সিগন্যালের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়। রাতে ওয়াইফাই বন্ধ রাখলে শরীর স্বাভাবিকভাবে বিশ্রামে যেতে পারে, ফলে ঘুমের মান উন্নত হতে পারে। ভালো ঘুম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং মানসিক স্থিতি বজায় রাখতে সাহায্য করে। তড়িৎচৌম্বক বিকিরণ ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি ওয়াইফাই, মোবাইল ফোন ও ব্লুটুথ ডিভাইস থেকে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি তড়িৎচৌম্বক ক্ষেত্র নির্গত হয়। World Health Organization পূর্বে এই ধরনের বিকিরণকে সম্ভবত ক্যানসার সৃষ্টিকারী হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছিল। পরবর্তীতে International Agency for Research on Cancer আরও পর্যালোচনার সুপারিশ করে। যদিও অধিকাংশ গবেষণা মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর কেন্দ্রীভূত, তবুও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সার্বিক বিকিরণ কমানোই নিরাপদ পন্থা। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু এবং যারা তড়িৎচৌম্বক সংবেদনশীলতায় ভুগছেন বলে মনে করেন, তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা যেতে পারে। কিছু মানুষের মধ্যে মাথাব্যথা, অবসাদ, মনোযোগের ঘাটতি, চোখে চাপ বা ঘুমের সমস্যা দেখা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যদিও মূলধারার সংস্থাগুলো বলছে ওয়াইফাই বিকিরণ খুবই নিম্নমাত্রার, তবুও অপ্রয়োজনীয় সংস্পর্শ কমানো ক্ষতিকর নয়। পুরুষ প্রজননস্বাস্থ্য ও কোষগত প্রভাব কিছু গবেষণায় রেডিওফ্রিকোয়েন্সি বিকিরণের সঙ্গে শুক্রাণুর গতি ও গুণগত মানের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় শরীরের খুব কাছে ডিভাইস রাখা হলে তাপ ও বিকিরণের সম্মিলিত প্রভাবে কোষীয় পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হয়। এ ছাড়া, যেকোনো ধরনের বিকিরণ কোষের স্বাভাবিক সংকেত আদান–প্রদানে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। যদিও ওয়াইফাই অ-আয়নকারী বিকিরণ, যা এক্স–রের মতো উচ্চশক্তির নয়, তবুও সারাদিন বিভিন্ন উৎস থেকে বিকিরণ যুক্ত হলে মোট সংস্পর্শের পরিমাণ বেড়ে যায়। রাতে ওয়াইফাই বন্ধ রাখলে এই মোট সংস্পর্শ কিছুটা কমানো সম্ভব। বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও পরিবেশগত লাভ ওয়াইফাই রাউটার ২৪ ঘণ্টা চালু থাকলে অল্প হলেও বিদ্যুৎ খরচ হয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি বিদ্যুৎ বিল বাড়ায় এবং কার্বন নিঃসরণেও ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা বন্ধ রাখলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় এবং রাউটারের আয়ু বাড়তে পারে। এ ছাড়া, রাতে ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন ব্যবহারও কমে, যা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে। গাছপালার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব কিছু পরীক্ষামূলক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় তড়িৎচৌম্বক ক্ষেত্রের সংস্পর্শে থাকলে কিছু সংবেদনশীল উদ্ভিদের বীজ অঙ্কুরোদ্গম, পাতা বৃদ্ধি ও পুষ্টি শোষণে প্রভাব পড়তে পারে। যদিও এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন, তবুও অনেকে মনে করেন রাতে ওয়াইফাই বন্ধ রাখলে ঘরের গাছপালা তুলনামূলক স্বাভাবিক পরিবেশ পায়। রাতে যেভাবে ওয়াইফাই বন্ধ রাখবেন ম্যানুয়াল পদ্ধতি: ঘুমাতে যাওয়ার আগে রাউটারের সুইচ বন্ধ করে দেওয়া বা বিদ্যুৎ সংযোগ খুলে রাখা যায়। সকালে আবার চালু করতে হবে। টাইমার বা স্মার্ট প্লাগ ব্যবহার: টাইমার প্লাগ বা স্মার্ট প্লাগ ব্যবহার করে নির্দিষ্ট সময়ে রাউটার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ ও চালু করা যায়। অনেক রাউটারেই নির্দিষ্ট সময়সূচি সেট করার সুবিধা থাকে। রাউটারের অবস্থান পরিবর্তন: যদি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব না হয়, তবে রাউটার শোবার ঘর থেকে দূরে রাখা যেতে পারে, যেমন বসার ঘর বা করিডরে। রাতে ওয়াইফাই বন্ধ রাখা একটি ছোট কিন্তু সচেতন পদক্ষেপ। এটি ঘুমের মান উন্নত করতে, সম্ভাব্য তড়িৎচৌম্বক সংস্পর্শ কমাতে, বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে এবং ঘরের পরিবেশকে আরও স্বাস্থ্যকর রাখতে সহায়তা করতে পারে। যদিও এ বিষয়ে সব গবেষণার ফল একমত নয়, তবুও অপ্রয়োজনীয় এক্সপোজার কমানো একটি নিরাপদ অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। পরিবারের সবার সুস্থতা, ভালো ঘুম এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের জন্য রাতে কয়েক ঘণ্টা ওয়াইফাই বন্ধ রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। সূত্র: ইএমএফ এমপাওয়ারমেন্ট, টাইমস অব ইন্ডিয়া
রাতে ওয়াইফাই বন্ধ রাখলে পাবেন যেসব উপকারিতা
অপরিচিত নম্বর থেকে কলের প্রতারণা এড়ানোর সহজ উপায়
হঠাৎ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, ওমান বা অন্য কোনো দেশের অচেনা নম্বর থেকে কল আসছে? সাম্প্রতিক সময়ে অনেকেই এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। প্রযুক্তির সহজলভ্যতার সুযোগ নিয়ে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র এখন আন্তর্জাতিক নম্বর ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করছে।  ভুয়া চাকরির প্রস্তাব, লটারি জেতার খবর বা আকর্ষণীয় উপহারের লোভ দেখিয়ে তারা ব্যক্তিগত ও ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একবার এসব তথ্য পেয়ে গেলে ব্যাংক হিসাব বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। কেন আসে এসব কল সব আন্তর্জাতিক কলই যে প্রতারণার উদ্দেশ্যে আসে, তা নয়। বিদেশে থাকা আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিত কেউ কল করতে পারেন। তবে অচেনা নম্বর থেকে আসা অনেক কলের পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য থাকে। বর্তমানে ই-সিম ও অনলাইন সেবা ব্যবহার করে খুব সহজেই বিদেশি নম্বর সংগ্রহ করা যায়। ফলে দেশে বসেই বিদেশি নম্বর দিয়ে কল করা সম্ভব। অনেক ক্ষেত্রে নম্বরটি আন্তর্জাতিক হলেও কলটি স্থানীয়ভাবে পরিচালিত হয়। প্রতারকদের সাধারণ কৌশল প্রতারকরা নানা কৌশল ব্যবহার করে থাকে। কখনো শুধু মিসড কল দিয়ে রাখে, যাতে আপনি কৌতূহলবশত কল ব্যাক করেন। কখনো বারবার কল করে নিজেকে কুরিয়ার সার্ভিস, ব্যাংক বা নিয়োগ সংস্থার প্রতিনিধি পরিচয় দেয়। আবার কেউ লোভনীয় চাকরি বা বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়ার প্রলোভন দেখায়। এসব ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত হলো অচেনা নম্বর রিসিভ না করা এবং কল ব্যাক না করা। কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন অচেনা আন্তর্জাতিক নম্বর দেখলেই সতর্ক থাকুন। ভুলবশত কল রিসিভ করলে কোনো অবস্থাতেই ব্যক্তিগত তথ্য, ওটিপি, ব্যাংক তথ্য বা পাসওয়ার্ড শেয়ার করবেন না। কল শনাক্তকারী অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন, যা সন্দেহজনক নম্বর সম্পর্কে ধারণা দেয়। সন্দেহজনক নম্বর ব্লক ও রিপোর্ট করুন। হোয়াটসঅ্যাপ বা অনুরূপ অ্যাপে সাইলেন্ট আননোন কল সুবিধা চালু রাখুন। এছাড়া, ডু নট ডিস্টার্ব বা ডিএনডি সুবিধা চালু রাখলে অপ্রয়োজনীয় কল কমে। নম্বর দেখে কীভাবে বুঝবেন ফোন নম্বরের শুরুতে দেশের কোড থাকে। বাংলাদেশের কোড +৮৮০। এর বাইরে অন্য কোড থাকলে সেটি আন্তর্জাতিক নম্বর। যেমন +১, +৯২, +৯৮, +৬২, +৮৪ ইত্যাদি কোড দেখলে সতর্ক হওয়া উচিত। কিছু ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নম্বরে কল ব্যাক করলে অতিরিক্ত চার্জ কাটা যেতে পারে। আপনার নম্বর ফাঁস হয়েছে কি না যদি নিয়মিত একাধিক অজানা আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে কল আসে, তাহলে আপনার নম্বর কোনো ডেটা ফাঁসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন অ্যাকাউন্টগুলোর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন, টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু রাখুন এবং প্রয়োজনে মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। ডিজিটাল যুগে প্রতারণার ধরন বদলেছে, কিন্তু সচেতনতা থাকলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। অজানা আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে কল এলে হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেবেন না। প্রলোভনে পড়ে ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। সন্দেহ হলে কল কেটে দিন, নম্বর ব্লক করুন এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান। সামান্য সতর্কতাই আপনার অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখতে পারে। সূত্র:  ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
অপরিচিত নম্বর থেকে কলের প্রতারণা এড়ানোর সহজ উপায়
জেমিনি কি আপনার মেইল পড়ছে, বন্ধ করুন এ সেটিংস
প্রযুক্তি আজ আমাদের জীবনের সর্বত্র। তাই অনেকেরই মনে হতে পারে, জিমেইলে যুক্ত হওয়া নতুন এআই সহকারী বুঝি গোপনে ই-মেইল পড়ে ফেলছে। বিষয়টি কি সত্যি? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে প্রযুক্তি ও গোপনীয়তা বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং গুগলের প্রকাশ্য তথ্য বিশ্লেষণ করেছে রিডার্স ডাইজেস্ট। জিমেইল বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ই-মেইল সেবা। প্রায় ১৮০ কোটি মানুষ এটি ব্যবহার করেন। একাধিক ডিভাইসে সহজ ব্যবহার, যে কোনো জায়গা থেকে ই মেইল ব্যবস্থাপনা এবং বিনামূল্যের সেবা হওয়ায় জিমেইল অনেকের প্রথম পছন্দ। তবে সাম্প্রতিক এক পরিবর্তন ব্যবহারকারীদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। সম্প্রতি গুগল জিমেইলে বড় ধরনের একটি আপডেট চালু করেছে। এতে জেমিনি ৩ নামের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক মডেল যুক্ত করা হয়েছে, যা জিমেইলকে একটি সক্রিয় ব্যক্তিগত সহকারীতে রূপ দিচ্ছে। এই এআই ই-মেইল সংক্ষেপ করতে পারে, খোঁজার কাজ সহজ করে, করণীয় তালিকা বানায় এবং উত্তর লেখায় সাহায্য করে। তবে এসব সুবিধার পাশাপাশি তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জেমিনি কী জেমিনি হলো গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী। এটি ইতোমধ্যে গুগলের বিভিন্ন সেবায় ব্যবহৃত হচ্ছে। গুগল সার্চে দেখা সারাংশ, লেখা বা ছবি তৈরি, এমনকি কোড বোঝার কাজেও জেমিনি ব্যবহৃত হয়। মানুষের মতো করে কথোপকথন করাও সম্ভব। ম্যাপস, ডকস ও জিমেইলের মতো অ্যাপেও জেমিনি যুক্ত রয়েছে। ২০২৫ সালে এটি গুগল নেস্ট ডিভাইসের ভয়েস সহকারী হিসেবেও ব্যবহৃত হতে শুরু করে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে জিমেইলের নতুন এআই সংস্করণ ধাপে ধাপে চালু হয়। আপনার ইনবক্সে জেমিনি কী করছে নতুন জিমেইলে সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন হলো এআই ইনবক্স। এখানে ই-মেইল শুধু সময় অনুযায়ী নয়, গুরুত্ব অনুযায়ী দেখানো হয়। জরুরি বার্তা, গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ বা করণীয় বিষয়গুলো আলাদা করে তুলে ধরা হয়। নতুন ফিচারগুলোর মধ্যে রয়েছে-  ই-মেইল সারাংশ: দীর্ঘ ই-মেইল থ্রেডের শুরুতেই সংক্ষেপে মূল কথা তুলে ধরা উত্তর লেখায় সহায়তা: আপনার লেখার ধরন অনুযায়ী উত্তর সাজেস্ট করা করণীয় তালিকা: ই-মেইল থেকে কাজ, বিল পরিশোধ বা মিটিং চিহ্নিত করা বিষয়ভিত্তিক গ্রুপ: একই প্রকল্প বা আলোচনার ই-মেইল একসঙ্গে দেখানো বেসিক জিমেইলে এসব সুবিধা বিনামূল্যে পাওয়া যায়। তবে আরও উন্নত এআই সুবিধা পেতে হলে অর্থের বিনিময়ে সাবস্ক্রিপশন নিতে হয়। তাহলে কি গুগল আপনার ই-মেইল পড়ছে গুগলের দাবি, কোনো মানব কর্মী আপনার ই-মেইল পড়েন না। তবে এআই সিস্টেম কাজ করতে হলে ই-মেইল দেখার অনুমতি লাগে। এটি নতুন কিছু নয়। আগেও জিমেইল টিকিট বা ভ্রমণ তথ্য থেকে ক্যালেন্ডার ইভেন্ট তৈরি করতে ই-মেইল পড়ত। তফাৎ হলো, এখন এআই ই-মেইলের অর্থ ও প্রসঙ্গ বুঝে কাজ করছে। এটি অনেকের কাছে অস্বস্তিকর লাগতে পারে। তবে গুগলের মতে, এটি নজরদারি নয়, বরং ব্যবহারকারীর সুবিধার জন্য করা হচ্ছে। ই-মেইল কি এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহার হচ্ছে গুগল জানায়, ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ই-মেইল এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হয় না। তবে ব্যবহারকারী যদি নিজের ইচ্ছায় ই-মেইল বা অন্যান্য তথ্য সার্চ বা বিশ্লেষণের জন্য ব্যবহার করেন, তখন সে তথ্য গুগলের সেবা উন্নত করতে কাজে লাগতে পারে। অর্থাৎ অনুমতি ছাড়া আপনার ই-মেইল দিয়ে এআই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে না। ই-মেইল স্ক্যান করে কি বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছে না। গুগল ২০১৭ সালেই ই-মেইল স্ক্যান করে বিজ্ঞাপন দেখানো বন্ধ করেছে। জিমেইলে দেখা বিজ্ঞাপন আসে ব্যবহারকারীর সার্চ হিস্ট্রি, ইউটিউব ব্যবহার বা অন্যান্য অনলাইন কার্যকলাপের ভিত্তিতে। আপনার তথ্য কতটা নিরাপদ যে কোনো অনলাইন সেবার মতোই এখানে ঝুঁকি একেবারে শূন্য নয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষভাবে তৈরি করা ক্ষতিকর ই-মেইল সারাংশ করতে গেলে এআই বিভ্রান্ত হতে পারে। তবে গুগল জানিয়েছে, তারা এসব ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করছে এবং ইতোমধ্যে বেশ কিছু ত্রুটি সমাধান করা হয়েছে। জিমেইলে জেমিনি কীভাবে বন্ধ করবেন চাইলেই আপনি জি-মেইলে এআই ফিচার বন্ধ করতে পারেন। ডেস্কটপে - জিমেইল খুলুন - উপরের ডান পাশে সেটিংস আইকনে ক্লিক করুন - সব সেটিংস দেখুন অপশনে যান - জেনারেল ট্যাবে স্মার্ট ফিচার বন্ধ করুন - সেভ চেঞ্জেস ক্লিক করুন মোবাইলে - মেনু আইকনে ট্যাপ করুন - সেটিংসে যান - ডাটা প্রাইভেসি নির্বাচন করুন - স্মার্ট ফিচার বন্ধ করুন কাজ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ই-মেইল হলে প্রশাসকের অনুমতি লাগতে পারে। আর কোথায় জেমিনি ব্যবহার হচ্ছে জিমেইলের বাইরেও জেমিনি রয়েছে। আলাদা অ্যাপ, গুগল সার্চ, ক্রোম ব্রাউজার এবং ভয়েসভিত্তিক লাইভ সার্চে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে। জেমিনি এআই জিমেইল ব্যবহারের অভিজ্ঞতা সহজ ও দ্রুত করতে সাহায্য করছে। তবে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন থাকা জরুরি। ভালো দিক হলো, ব্যবহারকারীর হাতে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। চাইলে এআই সুবিধা বন্ধ করে আগের মতো জি-মেইল ব্যবহার করা সম্ভব। তাই আতঙ্কিত না হয়ে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সেটিংস ঠিক করাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান।
জেমিনি কি আপনার মেইল পড়ছে, বন্ধ করুন এ সেটিংস
স্মৃতিকে আড়াল করে দিচ্ছে এআই!
আজকাল মোবাইল ফোনে ছবি তুললেই তা সঙ্গে সঙ্গে আরও সুন্দর, উজ্জ্বল আর নিখুঁত হয়ে ওঠে। অনেক সময় আমরা বুঝতেই পারি না, ছবিটা আসলে কতটা বাস্তব আর কতটা কৃত্রিম। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আমাদের ফোনের ক্যামেরায় এমনভাবে ঢুকে পড়েছে যে, স্মৃতিতে ধরে রাখার ছবিগুলোও আর আগের মতো থাকছে না। এতে যেমন কিছু সুবিধা আছে, আবার কিছু প্রশ্নও থেকে যায়। সাধারণ রঙ ঠিক করা থেকে শুরু করে এমন সব মুখের বৈশিষ্ট্য যোগ করা, যা আসলে ছবিতে ছিলই না। আজকের সময়ে এসে স্মার্টফোনই ঠিক করে দিচ্ছে আমাদের ছবি কেমন হবে। ফলাফল অনেক সময় চোখে পড়ার মতো সুন্দর হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে এতে আমাদের বাস্তবতা দেখার অভ্যাসও বদলে যেতে পারে। খবর বিবিসি আপনি কি কখনো মোবাইলে চাঁদের ছবি তুলেছেন? বেশিরভাগ সময়ই সেই ছবি ঝাপসা আসে। কিন্তু স্যামসাং গ্যালাক্সি ফোন ব্যবহার করলে আপনার অভিজ্ঞতা ভিন্ন হতে পারে। এসব ফোনের 100x স্পেস জুম ফিচারে চাঁদের ছবি এত পরিষ্কার আসে যে মনে হয় বড় ক্যামেরা দিয়ে তোলা। তবে এখানেই প্রশ্ন উঠে, এই ছবি কি পুরোপুরি বাস্তব? রেডিটে (সামাজিক সংবাদ সংকলন) এক ব্যবহারকারী বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। তিনি একটি ঝাপসা চাঁদের ছবি এডিট করতে দেন তার স্যামসাং ফোনে। ফোনটি সেই অস্পষ্ট ছবিকেই বদলে দিল পরিষ্কার, গর্ত আর ছায়া দেখা যায় এমন একটি চাঁদের ছবিতে। অথচ মূল ছবিতে এসব কিছুই ছিল না। স্যামসাং একে ‘টেইল এনহ্যান্সমেন্ট’ বলে। বাস্তবে ফোনটি এমন এক এআই ব্যবহার করছে, যা চাঁদ চিনে নিয়ে নিজের মতো করে চাঁদের বিস্তারিত যোগ করছে ছবিতে। সব ফোনে এত ভালো এআই না থাকলেও, আজকের প্রায় সব স্মার্টফোনেই ছবি তোলার সময় পেছনে কাজ করে জটিল সফটওয়্যার ও এআই। ছবি সেভ হওয়ার আগেই ফোন একসঙ্গে অনেক হিসাব করে ফেলে। এই প্রযুক্তির লক্ষ্য সাধারণত ছবি সুন্দর করা এবং ছবিকে বাস্তবতার কাছাকাছি নিয়ে আসা। কিন্তু অনেক সময় এআই এত বেশি কাজ করে যে, ছবিটি আমাদের নিজের চোখে দেখা দৃশ্যের চেয়ে আলাদা হয়ে যায়। তখন প্রশ্ন আসে, আমরা কি বাস্তবতা দেখছি, নাকি ফোনের বানানো একটি সংস্করণ মাত্র। এই পুরো প্রক্রিয়াকে বলা হয় কম্পিউটেশনাল ফটোগ্রাফি। ফোন শুধু আলো ধরে রাখে না, বরং ধরে নেয় উন্নত ক্যামেরা হলে ছবিটা কেমন হতো, তারপর সেই ধারণা অনুযায়ী ছবি তৈরি করে। অনেকে ভাবেন এআই বন্ধ করলে এই প্রক্রিয়া থেমে যায়। আসলে তা নয়। সাধারণ আলোতে ফোন একসঙ্গে একাধিক ছবি তোলে এবং সেগুলো মিলিয়ে একটি ছবি বানায়। এতে নয়েজ কমানো, রঙ ঠিক করা, আলো ও ছায়ার ভারসাম্য রাখা এবং ছবির ঝাপসা ভাব কমানোর কাজ করা হয়। আইফোনে ডিপ ফিউশন নামে একটি প্রযুক্তি আছে। এটি বিপুল সংখ্যক ছবি দেখে প্রশিক্ষিত এআই ব্যবহার করে ছবির ভেতরের জিনিস আলাদাভাবে প্রসেস করে। এতে ছবি খুব পরিষ্কার আসে। তবে অনেক ব্যবহারকারী বলেন, এতে কখনো কখনো ত্বক বা জিনিসপত্র কৃত্রিম ও প্লাস্টিকের মতো দেখায়। এই অতিরিক্ত প্রসেসিং পছন্দ না হওয়ায় কেউ কেউ পুরোনো ফোন ব্যবহার করছেন, আবার কেউ আলাদা ক্যামেরা নিচ্ছেন শুধু ছবি তোলার জন্য। তবে এই প্রযুক্তির ভালো দিকও আছে। আগে যে এডিটিং করতে পেশাদার দক্ষতা দরকার হতো, এখন ফোন নিজেই তা করে দিচ্ছে। সাধারণ ব্যবহারকারীরা সহজেই সুন্দর ছবি পাচ্ছেন। সমস্যা হলো, ফোন অনেক সময় ব্যবহারকারীর অজান্তেই সিদ্ধান্ত নেয়। কোন মুখ ভালো দেখাবে, কোন আলো ঠিক হবে, কোন মুহূর্তটি সেরা, এসব ঠিক করছে অ্যালগরিদম। ফলে প্রতিটি ব্র্যান্ডের ছবির আলাদা ধাঁচ তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে তৈরি অনেক ফোনে ডিফল্টভাবে বিউটি ফিল্টার চালু থাকে। এতে ছবিতে ত্বক মসৃণ করা, রঙ বদলানো এমনকি মুখের গঠনও বদলে যায়। কোথাও ভ্রু বা চোখ ঠিকমতো না থাকলে এআই নিজেই তা বানিয়ে দেয়। এসব মূল দৃশ্যে ছিল না, সম্পূর্ণ কৃত্রিম সংযোজন। এটি শুধু ছবির সৌন্দর্যের বিষয় নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত এআই সম্পাদিত ছবি ও ভিডিও মানুষের স্মৃতি ও নিজের শরীর সম্পর্কে ধারণা বদলে দিতে পারে। কিছু ফিচার অবশ্য মানুষকে খুশি করতেই বানানো। যেমন গ্রুপ ছবিতে কারও চোখ বন্ধ থাকলে বা হাসি ঠিক না হলে, একাধিক ছবি থেকে ভালো অংশ নিয়ে একটি ছবি বানানো। এতে ছবিটি সুন্দর হয়, যদিও সে মুহূর্তটি বাস্তবে কখনো ঘটেইনি। যারা একেবারে বাস্তব মুহূর্তের ছবি দেখতে চান, তারা প্রো মোড বা আলাদা অ্যাপ ব্যবহার করে এআই প্রসেসিং কমাতে পারেন চাইলে। এসব ছবি হয়তো কম আকর্ষণীয় হবে, কিন্তু এতে বোঝা যায় ফোন সাধারণত ছবির সঙ্গে এআই দিয়ে কী করে। স্মার্টফোন ক্যামেরা এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বড় অংশ। এআই ছবি আরও সুন্দর ও পরিষ্কার করছে, এতে সন্দেহ নেই। তবে একই সঙ্গে এটি আমাদের স্মৃতি আর বাস্তবতার মাঝখানে একটি অদৃশ্য পর্দা বসিয়ে দিচ্ছে। কোনটা সত্য আর কোনটা কৃত্রিম, সেই সচেতনতা এখন ব্যবহারকারীরই দরকার। মাঝে মাঝে কাঁচা ছবির দিকে তাকালে হয়তো আমরা বাস্তবতাকে একটু কাছ থেকে দেখতে পারি।
স্মৃতিকে আড়াল করে দিচ্ছে এআই!
জিমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হয়েছে কি না, দেখে নিন
আজকাল জিমেইল শুধু ইমেইল পাঠানোর মাধ্যম নয়। এটি ব্যাংক নোটিফিকেশন, সামাজিক যোগাযোগের বার্তা, ক্লাউডে থাকা নথি, ফোন ব্যাকআপ, কন্টাক্ট ও ব্যক্তিগত তথ্য সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই জিমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হলে সমস্যার মাত্রা অনেক বড় হয়ে যেতে পারে।  অনেক সময় ব্যবহারকারী বুঝতেই পারেন না কেউ তাদের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে কি না। গুগলের নিরাপত্তা সেটিংস ব্যবহার করে খুব সহজেই এ ব্যাপারটি যাচাই করা যায়। তথ্য প্রযুক্তি হ্যাকড হয়েছে কি না যাচাই করবেন যেভাবে -প্রথমে কম্পিউটার থেকে আপনার গুগল অ্যাকাউন্টে লগইন করুন - এরপর Security ট্যাবে যান - Your Devices অপশনে ক্লিক করুন - Manage All Devices নির্বাচন করলে আপনার অ্যাকাউন্টে যেসব ডিভাইস ব্যবহার হয়েছে সবগুলো দেখা যাবে এই তালিকায় যদি কোনো অপরিচিত ডিভাইস বা সন্দেহজনক ডিভাইস দেখেন, সেটি নির্বাচন করে Sign Out করুন। যদি কোনো ডিভাইস চিনতে না পারেন, তাহলে Don’t Recognize Something অপশনে ক্লিক করে দ্রুত ব্যবস্থা নিন। অন্য কোথাও আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের প্রমাণ পেলে সাথে সাথে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা নিরাপদ। জিমেইল অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখার কিছু উপায় - টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বা 2FA চালু করুন, যাতে পাসওয়ার্ড ফাঁস হলেও কেউ সহজে ঢুকতে না পারে - একই পাসওয়ার্ড একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করবেন না - স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের সফটওয়্যার এবং নিরাপত্তা নিয়মিত আপডেট করুন - অচেনা ইমেইলের লিংক বা অ্যাটাচমেন্টে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন প্রয়োজনে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি ও সংরক্ষণ করুন জিমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হয়েছে কি না যাচাই করা খুব সহজ। গুগলের নিরাপত্তা টুল ব্যবহার করে আপনি সন্দেহজনক ডিভাইস দ্রুত শনাক্ত করতে পারবেন এবং প্রয়োজনে সেগুলো থেকে সাইন আউট করতে পারবেন। পাশাপাশি টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড এবং সচেতন ব্যবহার আপনার অ্যাকাউন্টকে দীর্ঘ সময় নিরাপদ রাখতে সাহায্য করবে।
জিমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হয়েছে কি না, দেখে নিন
নেটফ্লিক্সের এই ফ্রি সুবিধা অনেক সাবস্ক্রাইবারই জানেন না
নেটফ্লিক্স আজও অনেক দর্শকের কাছে বিশেষ জায়গা দখল করে রেখেছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মাসিক খরচ বেড়েছে, পাসওয়ার্ড শেয়ার করা কঠিন হয়েছে, এমনকি কম দামের প্যাকেজে বিজ্ঞাপনও যুক্ত হয়েছে। তবুও একটু স্বস্তির খবর আছে। নেটফ্লিক্সের সাবস্ক্রিপশনের সঙ্গে এমন একটি ফ্রি সুবিধা আছে, যা অনেক গ্রাহকই জানেন না। এর জন্য আলাদা কোনো খরচ করতে হয় না, কিন্তু এটি আপনার বিনোদন ও বিনিয়োগ উভয়কেই সাশ্রয়ী করতে পারে। নেটফ্লিক্সের সাবস্ক্রিপশনের সঙ্গে থাকা ফ্রি সুবিধা কী অত্যন্ত অবাক হলেও সত্য, নেটফ্লিক্সের সাবস্ক্রাইবাররা মোবাইল গেম খেলতে পারেন। এটি কোনো ট্রায়াল বা ডেমো নয়। সব গেমই সম্পূর্ণ ফ্রি, এবং অনেক গেমের জন্য সাধারণভাবে অন্য প্ল্যাটফর্মে টাকা দিতে হয়। সবচেয়ে বড় কথা, এই গেমগুলোতে কোনো বিজ্ঞাপন নেই এবং ইন-অ্যাপ কেনাকাটা নেই। কিছু গেম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা ইন্টারনেট ছাড়া খেলাও যায়। ফলে ভ্রমণ বা নেট না থাকা অবস্থায় খুবই সুবিধাজনক। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, নেটফ্লিক্স এই সুবিধার ব্যাপারে খুব বেশি প্রচার করে না। অ্যাপের মধ্যে গেমগুলো লুকানো থাকে, আলাদা কোনো গেমিং অ্যাপ নেই। তাই অনেক সাবস্ক্রাইবার এ সম্পর্কে জানতেই পারেন না। এই সুবিধা নতুন না। নেটফ্লিক্স ২০২১ সালে গেমিং সেবা চালু করে। শুরুতে গেমের সংখ্যা কম এবং তুলনামূলকভাবে সাধারণ ছিল। সম্প্রতি নেটফ্লিক্স তাদের গেম লাইব্রেরি আপডেট করেছে। এখন এখানে কিছু জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজির গেম এবং পরিচিত গেম স্টুডিওর তৈরি শিরোনাম রয়েছে। নেটফ্লিক্সে কী ধরনের গেম আছে বর্তমানে নেটফ্লিক্সে ১২০-এর বেশি মোবাইল গেম পাওয়া যায়। এটি পিসি বা কনসোল গেমিংয়ের বিকল্প নয়, তবে ফ্রি বোনাস হিসেবে বেশ আকর্ষণীয়। কিছু জনপ্রিয় গেমের উদাহরণ- রেড ডেড রিডেম্পশন, সিভিলাইজেশন সিক্স, স্ট্রিট ফাইটার ফোর, মনুমেন্ট ভ্যালি ও মনুমেন্ট ভ্যালি টু, ডেড সেলস, ফুটবল ম্যানেজার (মোবাইল সংস্করণ), ফার্মিং সিমুলেটর, স্পিরিটফেয়ারার ও অক্সেনফ্রি সিরিজ।  অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে এই গেমগুলো কিনতে গেলে অনেক খরচ হতে পারে। সুবিধা যেহেতু সব সাবস্ক্রিপশনের সঙ্গে এই সুবিধা ফ্রি, তাই এটি বেশ লাভজনক। অনেক গেমের দাম সাধারণত কয়েক ডলার থেকে শুরু হয়। কিছু গেম কিনলেই যা খরচ হতো, তা এখানে বিনা খরচে পাওয়া যাচ্ছে। বিজ্ঞাপন বা ইন-অ্যাপ কেনাকাটার ঝামেলা না থাকার কারণে অভিজ্ঞতাও অনেক আরামদায়ক। সীমাবদ্ধতা কী পুরোপুরি সমস্যা নেই বলা যাবে না। কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। সব গেম স্থায়ী নয়। কিছু জনপ্রিয় গেম পরে সরিয়ে দেওয়া হয়। এটি মূলত মোবাইল গেম। টিভি বা কম্পিউটারে খেলতে হলে মোবাইল ফোনকে কন্ট্রোলার হিসেবে ব্যবহার করতে হয়। পূর্ণ কনসোল অভিজ্ঞতা চাইলে এটি কিছুটা সীমিত মনে হতে পারে। যেভাবে গেম খেলবেন মোবাইল বা ট্যাবলেটে নেটফ্লিক্স অ্যাপ খুলে গেমস বা মোবাইল গেমস বিভাগে যেতে হবে। পছন্দের গেম ডাউনলোড করে খেলতে শুরু করা যায়। টিভি বা কম্পিউটারে গেম খেলতে চাইলে স্ক্রিনে একটি কিউআর কোড দেখাবে। সেটি মোবাইল দিয়ে স্ক্যান করে ফোনকে কন্ট্রোলার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। নেটফ্লিক্স এখন শুধু সিনেমা ও সিরিজ দেখার প্ল্যাটফর্ম নয়। সাবস্ক্রিপশনের সঙ্গে থাকা ফ্রি গেমিং সুবিধা অনেকের অজানা হলেও এটি বাড়তি বিনোদনের সুযোগ দেয়। বাড়তি খরচ ছাড়াই জনপ্রিয় গেম খেলার এই সুবিধা নিঃসন্দেহে নেটফ্লিক্স ব্যবহারকারীদের জন্য একটি বড় আকর্ষণ। যারা ইতোমধ্যে সাবস্ক্রাইবার, তারা চাইলে আজই এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন। সূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট
নেটফ্লিক্সের এই ফ্রি সুবিধা অনেক সাবস্ক্রাইবারই জানেন না
আরও পড়ুন
আজ থেকে কমপ্লিট শাটডাউনে যাচ্ছে শাবি শিক্ষার্থীরা
ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করল চুয়েট
ভিজ্যুয়াল আকর্ষণ বাড়াতে নতুন ফিচার নিয়ে আসছে হোয়াটসঅ্যাপ
শাকসু নির্বাচনের দাবিতে ফের বিক্ষোভ