বর্তমানে কম্পিউটার আমাদের কাজ, যোগাযোগ, কেনাকাটা থেকে শুরু করে বিনোদনের ধরন পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। আজ ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ শুধু কাজের গতি বাড়ায় না, সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি চোখের চাপ কমাতে, মনোযোগ ধরে রাখতে এবং দৈনন্দিন কাজ আরও সহজ করতেও সাহায্য করে।
অনেকেই জানেন না, উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমেই এমন কিছু ফিচার আছে যা খুব সহজে ব্যবহার করা যায় এবং যা ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে অনেক বেশি আরামদায়ক করে তোলে। নিচে তেমনই কয়েকটি দরকারি ফিচারের কথা তুলে ধরা হলো, যা বাংলাদেশের সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্যও সমানভাবে কার্যকর।
দীর্ঘ সময় উজ্জ্বল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখে চাপ পড়ে এবং ব্লু লাইটের কারণে ঘুমের সমস্যাও হতে পারে। ডার্ক মোড এই সমস্যার একটি সহজ সমাধান। এতে স্ক্রিনের সাদা ও উজ্জ্বল অংশগুলো গাঢ় রঙে পরিবর্তিত হয়, যা চোখের জন্য আরামদায়ক। অনেক ক্ষেত্রে এটি ব্যাটারির খরচও কমায়।
চালু করার নিয়ম
Settings খুলুন
Personalization > Colors
Choose your color বা Windows 11-এ Choose your mode
Dark নির্বাচন করুন
কাজ, পড়াশোনা বা বিনোদন— সব ক্ষেত্রেই ডার্ক মোড চোখকে তুলনামূলক স্বস্তি দেয়।
উইন্ডোজের স্টার্ট মেনু এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যবহারবান্ধব। চাইলে এটি নিজের কাজের ধরন অনুযায়ী সাজিয়ে নেওয়া যায়।
Windows 10-এ
Settings > Personalization > Start > Choose which folders appear on Start
এখান থেকে File Explorer, Documents, Settings ইত্যাদি দেখাবেন কি না ঠিক করতে পারবেন।
ফুল-স্ক্রিন স্টার্ট মেনু চাইলে Settings > Personalization > Start > Use Start full screen
রঙ পরিবর্তনের জন্য Settings > Personalization > Colors
Windows 11-এ
Settings > Personalization > Start
এখান থেকে পিন করা অ্যাপ, সম্প্রতি ব্যবহৃত অ্যাপ বা ফোল্ডার দেখানোর নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
পিন করা অ্যাপ সরাতে Unpin from Start এবং নতুন করে যোগ করতে Pin to Start ব্যবহার করুন।
স্টার্ট বাটন বামদিকে নিতে Settings > Personalization > Taskbar > Taskbar behaviors।
চাইলে একটি শর্টকাট তৈরি করে খুব সহজে স্লাইড করে কম্পিউটার বন্ধ করা যায়।
পদ্ধতি
ডেস্কটপে রাইট-ক্লিক > New > Shortcut
নিচের কোডটি পেস্ট করুন : %windir%\System32\SlideToShutDown.exe
Next চাপুন এবং একটি নাম দিন। আইকনে রাইট-ক্লিক করে Properties > Change Icon থেকে পছন্দের আইকন বেছে নিন। এরপর শর্টকাটে ক্লিক করলেই স্লাইড করে কম্পিউটার বন্ধ করা যাবে।
অন্য ডিভাইসে ফাইল পাঠাতে পেনড্রাইভ বা ইমেইলের ঝামেলা এড়াতে Nearby sharing ব্যবহার করা যায়। এটি একই নেটওয়ার্ক বা কাছাকাছি থাকা ডিভাইসের মধ্যে দ্রুত ফাইল শেয়ার করতে সাহায্য করে।
Windows 10-এ
Action Center খুলে Nearby sharing চালু করুন।
File Explorer, Photos বা ব্রাউজার থেকে Share অপশন ব্যবহার করুন।
Windows 11-এ
Start > Settings > System > Nearby sharing
এখান থেকে কোন ডিভাইসের সঙ্গে শেয়ার করবেন তা ঠিক করুন।
গ্রহণকারী ডিভাইস থেকে অনুমতি দিলেই ফাইল সেভ হয়ে যাবে।
বারবার নোটিফিকেশন এলে কাজে মনোযোগ রাখা কঠিন হয়। Focus assist ব্যবহার করে ঠিক করে দিতে পারেন কখন কোন নোটিফিকেশন দেখবেন।
Windows 10-এ
Start > Settings > System > Focus assist
Off, Priority only বা Alarms only থেকে একটি বেছে নিন।
Windows 11-এ
Start > Settings > System > Focus assist
এখান থেকেও একইভাবে সেটিং পরিবর্তন করা যায়।
এতে কাজের সময় অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রেখে গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়।
কম্পিউটার বা ল্যাপটপ শুধু ব্যবহার করলেই হয় না, সঠিকভাবে ব্যবহার করাটাই আসল বিষয়। উইন্ডোজের এই সহজ কিন্তু কার্যকর ফিচারগুলো কাজে লাগালে চোখের চাপ কমে, সময় বাঁচে এবং কাজের গতি বাড়ে। একটু সচেতনভাবে সেটিং বদলালেই দৈনন্দিন কম্পিউটার ব্যবহার আরও স্বাচ্ছন্দ্য ও কার্যকর হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র : asurion
মন্তব্য করুন





