পারস্য উপসাগরে নাটকীয়ভাবে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সময় ফুরিয়ে আসছে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরান আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। অবশেষে ট্রাম্পের সেই স্বপ্নই পূরণ হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো অর্থবহ আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইরান।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের আগ্রহের কথা জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাঘচি। এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ।
এর আগে, এক দিনের সফরে ইস্তাম্বুলে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা ঘিরে তুরস্কের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন আব্বাস আরাঘচি। বৈঠক শেষে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হুমকির বিষয়ে তুরস্কের অবস্থানের প্রশংসা করেন তিনি।
ইরানি এই কূটনীতিক বলেন, ‘ইসরায়েলি সম্প্রসারণবাদের কোনো সীমা নেই। প্রতিটি আঞ্চলিক রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তার সমান।’
পরমাণু কর্মসূচি সীমিতকরণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে আরাঘচি বলেন, ‘আমরা অর্থবহ যে কোনো আলোচনায় অংশ নিতে আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করি। আমরা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত যদি তা সমান দৃষ্টিকোণ থেকে হয়, পারস্পরিক স্বার্থ ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে হয় এবং যদি তা ন্যায্যতার ভিত্তিতে হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করেনি এবং আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা নীতিতে এ ধরনের অস্ত্রের কোনো স্থান নেই। উত্তেজনা প্রশমন, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ইহুদিবাদী ষড়যন্ত্রকে নিষ্ক্রিয় করার লক্ষ্যে নেওয়া যে কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।’
ইরানি মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ‘মার্কিন সামরিক হামলা কোনো সমাধান নয়। অতীতে যুক্তরাষ্ট্র একবার সামরিক পদক্ষেপের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তারা তাদের কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। সেই কারণেই তখন তারা হুমকি ও চাপের পথ ছেড়ে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়েছিল।’
ইউরোপীয় ইউনিয়ন কর্তৃক আইআরজিসিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণার প্রসঙ্গে আঘারচি বলেন, ‘যদি আইআরজিসি আইএসআইএলের বিরুদ্ধে লড়াই না করত, তাহলে আজ ইউরোপের রাস্তায় সন্ত্রাসবাদের ভয়াবহ বাস্তবতা দেখা যেত। এই সিদ্ধান্তের জন্য তারা ভবিষ্যতে অনুতপ্ত হবে। ইইউ কর্তৃক আইআরজিসিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করা একটি গুরুতর কৌশলগত ভুল।’
মন্তব্য করুন








