এপস্টেইন-কাণ্ডে স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদত্যাগ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে যে তিনি প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে মেয়ে এবং কূটনীতি সম্পর্কে চিঠি বিনিময় করেছিলেন।
স্লোভাক প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এক ভিডিও বার্তায় ঘোষণা করেছেন যে, তিনি মিরোস্লাভ লাজ্যাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। তিনি এ উপদেষ্টাকে কূটনীতি ও বৈদেশিক নীতিতে অভিজ্ঞতার এক অবিশ্বাস্য উৎস হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রভাবশালী এই অর্থদাতার সঙ্গে সম্পর্কিত ৩০ লাখ নথি প্রকাশের একদিন পরই এই পদত্যাগের বিষয়টি সামনে এলো।
যদিও নথিগুলোতে লাজ্যাকসহ অন্যদের কোনো অন্যায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবুও এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
২০১৮ সালের অক্টোবরে লাজ্যাক স্লোভাকিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ওই সময় তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে আসন্ন বৈঠক ও নারীদের বিষয়ে আলোচনা করেন।
এপস্টেইন মেসেজে একটি ছবি পাঠানোর পর লাজ্যাক বলেন, আপনি কেন আমাকে এই (নারীকেন্দ্রিক বিনোদনমূলক) খেলাগুলোতে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন না? আমি এই (ছবিতে পাঠানো) মেয়েটিকে চাই।
এ বিষয়ে এপস্টেইন বলেন, আমি আপনাকে এ (নারীকেন্দ্রিক বিনোদনমূলক) খেলাগুলোতে আমন্ত্রণ জানাব। আপনি তাদের দুজনকেই কাছে রাখতে পারেন, আমি তো অধিকারপ্রবণ ব্যক্তি নই। ইচ্ছে করলে তাদের বোনদেরকেও কাছে পাবেন।
২০১৭ সালের নভেম্বরে এপস্টেইনকে লেখা একটি ই-মেইলে লাজ্যাক জানান, একজন নারী চলচ্চিত্র প্রযোজককে সেই বছরের অস্কারের জন্য তার চলচ্চিত্রকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে তিনি (এপস্টেইন) যেন সাহায্য করেন।
স্লোভাক মিডিয়া অনুসারে, শুক্রবার ফাইলগুলো প্রকাশিত হওয়ার সময় লাজ্যাক প্রথমে এপস্টেইনের সঙ্গে নারীদের নিয়ে আলোচনা করার কথা অস্বীকার করেছিলেন। পরে তিনি বলেছিলেন যে রাজনৈতিকভাবে স্লোভাক প্রধানমন্ত্রী ফিকোর ক্ষতি এড়াতে তিনি পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
লাজচাক চারটি স্লোভাক সরকারে কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাবেক এ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি পশ্চিম বলকান অঞ্চলের জন্য ইইউর বিশেষ প্রতিনিধি ছিলেন।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের তদন্ত সম্পর্কিত ৩০ লাখের বেশি নথি প্রকাশ করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। প্রকাশিত নথির মধ্যে ২ হাজারের বেশি ভিডিও ও ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি রয়েছে। এটাই এপস্টেইন-সংক্রান্ত এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় নথি প্রকাশের ঘটনা।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) মার্কিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ এসব উপকরণে ‘ব্যাপক সংশোধন’ বা রিড্যাকশন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট অনুসরণ করতে গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় সাড়ে তিন লাখ পৃষ্ঠার নথি প্রস্তুত করেছে।
ব্লাঞ্চ আরও বলেন, এসব নথির মধ্যে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক পর্নোগ্রাফি এবং ‘এপস্টেইনের ব্যক্তিগত ডিভাইস থেকে জব্দ করা ছবি রয়েছে’।
তিনি জানান, মার্কিন বিচার বিভাগের সংগ্রহ কার্যক্রমের ফলে সম্ভাব্যভাবে প্রাসঙ্গিক হিসেবে ৬০ লাখেরও বেশি পৃষ্ঠা শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিচার বিভাগ ও এফবিআইয়ের ই-মেইল, সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপ, ছবি, ভিডিও এবং আইনের আওতায় বিভিন্ন তদন্ত ও মামলার সময় সংগৃহীত ও তৈরি করা নানা উপকরণ।’
যদিও নথিগুলোর বিশ্লেষণ এখনো চলমান, তবে প্রকাশিত ফাইলগুলোতে জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের পূর্বে অজানা আর্থিক সম্পর্ক এবং সামাজিক যোগাযোগের তথ্য সামনে এসেছে।
সূত্র : বিবিসি
মন্তব্য করুন








