আজ আকাশে চোখ রাখলেই দেখা যাবে ফেব্রুয়ারি মাসের পূর্ণিমা চাঁদ। হালকা শীতের এই পূর্ণিমা চাঁদকে বলা হয় ‘স্নো মুন’। বছরের এই সময়ে চাঁদকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ একটু বেশিই থাকে। কারণ, এ সময়ের রাতের পরিষ্কার আকাশে চাঁদের আলো আরও সুন্দরভাবে ধরা দেয় চোখে।
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে চাঁদ উজ্জ্বল থাকবে ও পূর্ণ দেখা যাবে। সূর্যাস্তের সময় চাঁদ দিগন্তের কাছে থাকলে সেটিকে সাধারণ সময়ের চেয়ে বড় আর উজ্জ্বল মনে হতে পারে।
ফেব্রুয়ারির পূর্ণিমার নাম ‘স্নো মুন’ এসেছে উত্তর আমেরিকার ইতিহাস থেকে। এই সময় সেখানে প্রচুর তুষারপাত হতো। আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলো প্রকৃতি দেখে পূর্ণিমার আলাদা আলাদা নাম দিয়েছিল। কোথাও একে বলা হতো বাতাসের চাঁদ, কোথাও কাকের চাঁদ; নামগুলো তাদের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে ছিল।
চাঁদ দেখতে খুব বেশি কিছু লাগে না। খালি চোখেই চাঁদের গায়ে হালকা আর গাঢ় অংশ দেখা যায়। তবে দূরবীন বা টেলিস্কোপ থাকলে চাঁদের গর্ত, পাহাড় আর উঁচুনিচু জায়গাগুলো আরও স্পষ্ট বোঝা যায়। ধীরে ধীরে চাঁদের রূপ বদলানোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে তার আলাদা সৌন্দর্য।
অনেকেই সুপারমুনের কথা শুনেছেন। যখন চাঁদ পৃথিবীর একটু বেশি কাছাকাছি আসে, তখন তাকে সুপারমুন বলা হয়। তখন চাঁদ সাধারণ পূর্ণিমার চেয়ে বড় ও উজ্জ্বল দেখায়।
আগামী বছরগুলোতেও বিভিন্ন নামে পরিচিত পূর্ণিমা দেখা যাবে। যেমন—পিংক মুন, ফ্লাওয়ার মুন, ব্লু মুন বা কোল্ড মুন। প্রতিটি নামের পেছনেই আছে ঋতু আর প্রকৃতির গল্প।
চাঁদপ্রেমীদের জন্য আরেকটি আকর্ষণ হলো চন্দ্রগ্রহণ। চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ পুরো অন্ধকার হয় না, বরং লালচে রং ধারণ করে। তাই একে অনেক সময় রক্তিম চাঁদও বলা হয়।
সব মিলিয়ে ফেব্রুয়ারির ‘স্নো মুন’ শুধু আকাশের একটি ঘটনা নয়। শহরের ব্যস্ততা হোক বা গ্রামের শান্ত রাত; কিছুক্ষণ আকাশের দিকে তাকালেই মনটা হালকা হয়ে যেতে পারে। চাঁদ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ব্যস্ত জীবনের মাঝেও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার সময় বের করে নেওয়া জরুরি।
সূত্র : সিএনএন
মন্তব্য করুন








