আর্কটিক অঞ্চল ইস্যুতে ইউরোপে যুদ্ধের আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নরওয়ে ও পোল্যান্ড তাদের নাগরিকদের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলছে। নরওয়ে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে যে, রাশিয়া আক্রমণ করলে প্রয়োজনে তাদের বাড়ি-গাড়ি, নৌকা বা অন্যান্য সম্পদ সাময়িকভাবে সেনাবাহিনী নিয়ে নিতে পারে। এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য সান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রাজধানী অসলো থেকে হাজার হাজার নাগরিকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জাতীয় জরুরি অবস্থায় সেনাবাহিনীর দ্রুত কাজ করার জন্য বেসামরিক সম্পদ ব্যবহার করা হতে পারে। প্রায় ১৩ হাজার ৫০০টি এমন নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
তবে কর্মকর্তারা বলছেন, এটি নতুন কিছু নয়। অনেকের ক্ষেত্রেই আগের নির্দেশের নবায়ন মাত্র। এই আদেশ আগামী এক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
নরওয়ের সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটি এখন সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা পরিস্থিতির মুখে। রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ায় যুদ্ধ এবং সংকটের জন্য সামরিক ও বেসামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে। নরওয়ে আর্কটিক অঞ্চলে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ দেশ। কারণ, রাশিয়ার সঙ্গে তাদের স্থল ও সামুদ্রিক সীমান্ত রয়েছে।
একই রকম উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে পোল্যান্ডেও। মধ্য ইউরোপের দেশটির সরকার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বা বড় ধরনের সংঘাত হলে কীভাবে বেঁচে থাকতে হবে, সে বিষয়ে একটি নির্দেশিকা বিতরণ শুরু করেছে। এই হ্যান্ডবুক প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ পরিবারের কাছে পাঠানো হবে। এতে সামরিক হামলা, সন্ত্রাসবাদ, সাইবার আক্রমণ এমনকি পারমাণবিক ও রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের সময় কী করতে হবে, তা বলা আছে।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সোশ্যাল হ্যান্ডেল এক্স-এ দেওয়া বক্তব্যে জানিয়েছেন, আমরা ইতোমধ্যে ৪০ লাখ পরিবারের কাছে ‘নিরাপত্তা নির্দেশিকা’ বিতরণ করেছি। ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবেই পোল্যান্ড তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে মনে করছে।
এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ড দখল করে নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে আইসল্যান্ডের দিকেও নজর দিতে পারে। এসব মন্তব্য ও সামরিক তৎপরতার কারণে ইউরোপজুড়ে যুদ্ধের শঙ্কা আরও গভীর হচ্ছে।
মন্তব্য করুন








