বিরল খনিজ সম্পদ ও আটলান্টিকের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিতে গ্রিনল্যান্ডের দখল চায় যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষজ্ঞদের মত, অঞ্চলটি দখলে নিলে ভবিষ্যতে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী চীন ও রাশিয়াকে নৌপথে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া, আর্কটিক অঞ্চলটিতে বরফ গলতে থাকায় গ্রিনল্যান্ডের বিরল খনিজের প্রতিও বাড়তি নজর ট্রাম্পের।
ভেনেজুয়েলায় সফল অভিযানের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চোখ এখন গ্রিনল্যান্ডের দিকে। এরই মধ্যে অঞ্চলটি কেনার প্রস্তাবও দিয়েছে ওয়াশিংটন। যদিও তা প্রত্যাখ্যান করেছে আর্কটিক অঞ্চলটির প্রশাসন। কিন্তু ঠিক কী কারণে গ্রিনল্যান্ডের প্রতি তীব্র আকর্ষণ ট্রাম্পের তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিস্তর প্রশ্ন।
গ্রিনল্যান্ডে সাম্প্রতিক গবেষণা ও অনুসন্ধানগুলো স্পষ্ট করে দেখিয়েছে যে, বরফে আচ্ছাদিত এই দ্বীপটি পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক সম্পদের ভান্ডার। এখানে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস, বিরল খনিজ উপাদানের সমৃদ্ধ মজুদ, পাশাপাশি রত্ন ও স্বর্ণে ভরপুর শিলাস্তর রয়েছে। প্রশ্ন হলো কেন পৃথিবীর এত বিপুল সম্পদ শেষ পর্যন্ত এখানেই কেন্দ্রীভূত হলো?
লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়্যাল হলোওয়ের ভূতাত্ত্বিক ড. জোনাথন পল দ্য কনভার্সেশন-এ প্রকাশিত এক লেখায় ব্যাখ্যা করেছেন, কীভাবে গ্রিনল্যান্ডের এই খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদের আধিক্য দেশটির প্রায় ৪ বিলিয়ন বছরের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ভূতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রিনল্যান্ড একেবারেই ব্যতিক্রমী। এখানে ভূমি রূপান্তরিত হয়েছে মূলত তিনটি ভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্থাৎ পাহাড় গঠন, ভূত্বকের ফাটল সৃষ্টি এবং আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ।
দীর্ঘ সময় ধরে চলা পাহাড় গঠনের প্রক্রিয়ায় ভূত্বকে অসংখ্য ফাটল ও ভাঙনের জাল তৈরি হয়েছে, যেখানে স্বর্ণ, হীরা, রুবি ও গ্রাফাইটের মতো মূল্যবান খনিজ জমা হয়েছে। প্রায় ২০ কোটি বছর আগে আটলান্টিক মহাসাগরীয় অববাহিকা গঠনের সময় সংঘটিত রিফটিং বা ভূত্বক বিচ্ছেদের ফলে এমন পলিময় অববাহিকা তৈরি হয়, যা তেল ও গ্যাস সংরক্ষণের জন্য আদর্শ পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে, বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ বিরল খনিজ উপদান জমা করেছে, যেগুলোর ওপর আধুনিক উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ব ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা পুরু বরফের চাদরে ঢাকা। তবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে এই বরছর গলতে শুরু করলে, লুকিয়ে থাকা সম্পদগুলো ক্রমেই আরও সহজলভ্য হয়ে উঠবে। এতে করে এসব সম্পদ আহরণ বা লুণ্ঠন করা উচিত কি না- তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু এমন পদক্ষেপের পরিবেশগত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিতক মূল্য গ্রিনল্যান্ডের জন্য হতে পারে অত্যন্ত চড়া।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
মন্তব্য করুন








