ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়া ইউরোপের সঙ্গে শান্তি চায় না। আমরা যে বিশ্বব্যবস্থার কথা জানি, তা ভেঙে গেছে। তবে আমি মনে করি এটি ফেরত আসবে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) প্যারিসের সায়েন্সস পো বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রিনল্যান্ডের নেতা জেন্স-ফ্রেডরিক নিলসেনের সঙ্গে একটি উন্মুক্ত অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়া শান্তি বা স্থিতিশীল সম্পর্ক চায় না। এ সময় ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ‘একসঙ্গে থাকা’র আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়াও তিনি বলেন, আমরা যে প্রচলিত বিশ্বব্যবস্থার কথা জানি, তা ভেঙে গেছে। তবে আমি মনে করি, এই ধারা আবারও ফিরে আসবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনায় জনগণের ওপর কী প্রভাব পড়েছে, সে বিষয়ে কথা বলেন গ্রিনল্যান্ডের নেতা নিলসেন। তিনি বলেন, সরকার হিসেবে আমরা যা মোকাবিলা করছি, তা হলো বাইরে থেকে পিছু হটানোর চেষ্টা করা। এবং আমরা জনগণকে আতঙ্ক থেকে সামলানোর চেষ্টা করছি।
অনুষ্ঠান শেষে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে একটি ‘কার্যকরী মধ্যাহ্নভোজে’ অংশ নেবেন ম্যাক্রোঁ।
এর আগে, প্রেসিডেন্ট দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ম্যাক্রোঁ ‘ইউরোপীয় সংহতি এবং ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি ফ্রান্সের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করবেন।’
এই বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ আর্কটিক দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি থেকে সরে আসেন। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল।
ম্যাক্রোঁর কার্যালয় জানায়, বৈঠকে ‘আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং গ্রিনল্যান্ডের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন’ নিয়ে আলোচনা হবে, যা ফ্রান্স ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সমর্থন দিতে প্রস্তুত।
রাশিয়ার হুমকি ও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রেক্ষাপটে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডেরিকসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের নেতা নিলসেন চলতি সপ্তাহে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা করছেন। এর অংশ হিসেবে তারা হামবুর্গ ও বার্লিনে বৈঠকের পর বুধবার প্যারিস সফরে করছেন।
চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দেন এবং তার বিরোধিতা করলে ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রিটেনসহ ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের কথাও বলেন। তবে গত সপ্তাহে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি থেকে সরে আসেন।
মন্তব্য করুন








