ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ে কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন শ্রমিক খনির ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিহতরা সবাই শ্রমিক। খনিটি অবৈধ বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অঞ্চলে অবৈধ খনিতে একের পর এক দুর্ঘটনার মধ্যে এটি সর্বশেষ ঘটনা।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) পূর্ব জৈন্তিয়া পাহাড় জেলার প্রত্যন্ত থাংস্কু এলাকায় সকাল ১০টায় ডিনামাইট বিস্ফোরণের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া তিনজন আসামের বাসিন্দা। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।
পূর্ব জৈন্তিয়া পাহাড় জেলার ডেপুটি কমিশনার মনীশ কুমার রয়টার্সকে জানান, সকাল ১০টার দিকের একটি অবৈধ খনিতে বিস্ফোরণটি ঘটে। এসব খনির সুড়ঙ্গ খুবই সরু হওয়ায় শ্রমিকদের হামাগুড়ি দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। এগুলো ‘র্যাট-হোল’ নামে পরিচিত।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একসময় ‘র্যাট-হোল’ খনন পদ্ধতি জনপ্রিয় থাকলেও প্রাণহানি ও পরিবেশগত ক্ষতির কারণে ২০১৪ সালে এই ধরনের খনন নিষিদ্ধ করে ভারত সরকার।
ডেপুটি কমিশনার জানান, পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছেন। তবে পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাবে খনির ভেতরে আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানো আপাতত সম্ভব হচ্ছে না। এ ঘটনায় অন্তত আটজন আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
খনিটির অবস্থান অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। রাজ্য ও ফেডারেল পর্যায়ের উদ্ধারকর্মীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে রাস্তার বাইরে কয়েক ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এরপরই অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
এদিকে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে সাংমা এক্সে দেওয়া পোস্টে জানান, এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
ফেডারেল সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে আসাম ও মেঘালয়ে অবৈধ র্যাট-হোল খননে কাজ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা কয়লা খনিতে নিহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, মেঘালয় সরকার ও পূর্ব জৈন্তিয়া পাহাড় প্রশাসনের সঙ্গে তার প্রশাসন নিবিড় সমন্বয়ে কাজ করছে। আসামের নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন তিনি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। নিহতদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় তহবিল থেকে ২ লাখ টাকা ও আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা অনুদান ঘোষণা করেছেন।
মন্তব্য করুন








