ঢাকা, বাংলাদেশ ||
মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ||

বিবিসির প্রতিবেদন

বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কেন তীব্র হচ্ছে ভারতবিদ্বেষী মনোভাব?

অনলাইন ডেস্ক
  ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৪৩
ছবি : সংগৃহীত

ছাত্র- জনতার অভুত্থানে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পেরিয়ে গেছে প্রায় দেড় বছর। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালগুলোতে এখনও আঁকা রয়েছে সেই সময়কার কিছু গ্রাফিতি। এগুলোর মূল বক্তব্য ছিল স্বৈরাচারবিরোধী রাজনৈতিক সচেতনতা, বৈষম্যবিরোধী দাবি-দাওয়া ইত্যাদি।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

ইদানীং পুরোনো দেয়ালচিত্রের পাশাপাশি অনেক দেয়ালে লেখা হয়েছে নতুন স্লোগান, নতুন রাজনীতির বার্তা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু দেয়ালে লেখা দেখা যায়, ‘দিল্লি না, ঢাকা’। কিন্তু এই স্লোগান কি সাধারণ ফিগার অব স্পিচমাত্র, নাকি এটি বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের নতুন পররাষ্ট্রনীতি সংগঠনের পেছনকার মনস্তত্ত্ব? বিবিসির বিশ্লেষণমূলক এক প্রতিবেদনে এমন প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন সৌতিক বিশ্বাস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একসময় গণতন্ত্রের আইকন হিসেবে বিবেচনা করা হলেও একসময় তিনি স্বৈরাচার হয়ে উঠেছিলেন। পরে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যান। শেখ হাসিনার পতনের পর নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। খবর অনুযায়ী, শেখ হাসিনা এখন দিল্লিতে নির্বাসনে আছেন, এবং ভারত বরাবরই তাকে ফেরত দিতে অনীহা প্রকাশ করে আসছে। এদিকে বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে ওই সহিংসতায় প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন।

এর মধ্যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে আয়োজিত হচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। দীর্ঘদিন সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়ায় একটা গোটা প্রজন্মের অনেকের কাছেই এটা হতে যাচ্ছে প্রথম ভোটের অভিজ্ঞতা। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার ফলে এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ।

বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, দেশের অন্যতম পুরোনো এই রাজনৈতিক দলটি একসময় জনসংখ্যার ৩০ শতাংশ ভোট পেত।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বিএনপি এখন আওয়ামী লীগের সেই ভোটব্যাংকটি হাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে ডানপন্থি রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী সম্প্রতি জোট বেঁধেছে অভুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের হাতে গড়ে ওঠে নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি, এনসিপির সঙ্গে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্যাম্পাসগুলোতে এখন দেখা যায়, তরুণ শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে রাজনীতি নিয়ে বিতর্ক করছেন। তবে এসব বিতর্ক এখন আর শুধু স্বৈরাচার বা নির্বাচন নিয়ে নয়। বরং বিতর্কের বিষয়বস্তুতে স্থান পেয়েছে সীমান্তের বাইরের বিষয়াদিও। তরুণদের দৈনন্দিন কথোপকথনে ‘হেজেমনি’ বা ‘আধিপত্য’ ইত্যাদি শব্দগুলো মূলত বাংলাদেশের ওপর প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রভাবকে নির্দেশ করে। মোশাররফ হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘তরুণ প্রজন্ম মনে করে ভারত বহু বছর ধরে আমাদের দেশে হস্তক্ষেপ করে আসছে। বিশেষ করে ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনের পর।’

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অবক্ষয়ে দিল্লির ভূমিকা দেশটির তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ভারতবিদ্বেষী মনোভাব সৃষ্টিতে ইন্ধন জুগিয়েছে। এর ফলে ভারত-বাংলাদেশের যে সম্পর্ক একসময় প্রতিবেশী কূটনীতির মডেল হিসেবে প্রশংসিত হতো, সম্প্রতি সেই সম্পর্ক তিক্ততরায় রূপ নিয়েছে।

লন্ডনের সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অবিনাশ পালিওয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশে গভীর ভারতবিরোধী মনোভাব এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রতিবেশী দেশের প্রতি কঠোর ও প্রতিকূল অবস্থানের কারণে দিল্লির প্রভাব এখন কমতে শুরু করেছে।’

শেখ হাসিনার শাসনামলে তার ধীরে ধীরে স্বৈরাচারী হয়ে ওঠা এবং এই বিষয়টিকে সমর্থন করার জন্য অনেকে দিল্লিকে দায়ী করেন এবং ভারতকে আধিপত্যবাদী প্রতিবেশী হিসেবে দেখেন। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচন এবং সেগুলোতে দিল্লির সমর্থনের কথা মানুষ ভুলে যায়নি। মোশাররফ বলেন, ‘ভারত কোনো চাপ বা প্রশ্ন ছাড়াই হাসিনার সরকারকে সমর্থন করেছে। মানুষ মনে করে গণতন্ত্রের এই ধ্বংসযজ্ঞে ভারতের সমর্থন ছিল।’

বিশ্বাসঘাতকতার এই অনুভূতি সীমান্ত হত্যা, পানি বণ্টন বিরোধ, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এবং ভারতীয় রাজনীতিবিদ ও সংবাদমাধ্যমের উসকানিমূলক বক্তব্যের সঙ্গে মিশে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই ধারণা মজবুত করছে যে, ভারত বাংলাদেশকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে নয়, বরং নিজের অধীন হিসেবে হিসেবে দেখতে পছন্দ করে।

এর মধ্যে সম্প্রতি আইপিএল থেকে বাংলাদেশি ক্রিকেটার মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া এবং বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার ঘটনাও বাংলাদেশের মানুষের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

অবিনাশ পালিওয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সব ধরনের যোগাযোগের পথ খোলা রয়েছে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই যোগাযোগকে ইতিবাচক রাজনৈতিক ফলাফলে রূপান্তর করা বেশ চ্যালেঞ্জিং।’

গত মাসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকা সফর করেন এবং তখন তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন। পাশাপাশি ইসলামপন্থি দলগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করছে দেশটি। জামায়াতে ইসলামীর একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বিবিসিকে জানিয়েছেন, ভারতীয় কর্মকর্তারা গত এক বছরে অন্তত চারবার দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ বিবিসিকে বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার আমলের সঙ্গে এখনকার সময়ের বৈপরীত্য স্পষ্ট। গত ১৭ বছর ধরে ঢাকা ভারতের জন্য সবগুলো পথই উন্মুক্ত করে দিয়েছিল, যার মধ্যে ছিল নিরাপত্তা সহযোগিতা, ট্রানজিট, বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ। আর এখন কিছুই এগোচ্ছে না। না মানুষ, না মানুষের সদিচ্ছা।’

এ ছাড়া ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের পর দিল্লির প্রতিক্রিয়া মানুষের ক্রোধকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেক বাংলাদেশি আশা করেছিলেন ভারত তাদের বাংলাদেশ সম্পর্কিত নীতি পুনর্বিবেচনা করবে। তবে ভারত তাদের আগের সেই অবস্থান থেকে সরেনি। হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে এবং ভিসা ও বাণিজ্য বিধিনিষেধ কঠোর করেছে। এর ফলে ঢাকায় যে বার্তাটি পৌঁছেছে তা হলো বাংলাদেশিদের প্রতিবেশী হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না, এমনটাই মনে করেন কামাল আহমেদ।

দুই দেশের রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর বিষয়টিকে আরও খারাপ করেছে। যখন ভারতীয় রাজনীতিবিদরা বাংলাদেশি অভিবাসীদের ‘উইপোকা’ বলে সম্বোধন করেন অথবা বাংলাদেশকে ‘ইসরায়েলি পদ্ধতিতে শিক্ষা’ দেওয়ার কথা বলেন, তখন বাংলাদেশের মানুষের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া কেমন হবে তা সহজেই অনুমেয়। এর ফলে শুরু হয়েছে সাংস্কৃতিক পাল্টা আঘাত যেমন, ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক, আইপিএল সম্প্রচার স্থগিত করা। কামাল আহমেদ বলেন, ‘সংস্কৃতি, বাণিজ্য, সম্মান, কোনোটিই একতরফা বিষয় নয়। দুর্ভাগ্যবশত, ভারতের বর্তমান নেতৃত্ব একতরফাভাবে এটি চর্চা করছে।’

তবে ড. ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে ‘বহুমাত্রিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা রাজনীতির মতোই ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে টিকে আছে। প্রায় ২ হাজার ৫৪০ মাইল দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে বাণিজ্য প্রবাহের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। আমাদের ভাষা এক, আমাদের ইতিহাস এক।’

জনগণের প্রতিক্রিয়া যে কঠোর, তা স্বীকার করেন শফিকুল আলম । তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশিদের যদি জিজ্ঞেস করেন কেন তারা ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেননি, তবে অনেকে একই উত্তর দেন, শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসন এবং তাতে ভারতের সমর্থনের কারণে।’

শফিকুল আলমের মতে শেখ হাসিনার মতো কলঙ্কিত একজন, যিনি ছাত্র হত্যার দায়ে অভিযুক্ত, ভারতের তাকে আপ্যায়ন করার বিষয়টিও জনমনে ক্ষোভ বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনকেও আতঙ্ক সৃষ্টিকারী বলে সমালোচনা করেন।

অন্যদিকে, ভারত বলছে যে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংখ্যালঘু নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ এবং জমি দখলসহ ২ হাজার ৯০০টিরও বেশি সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলোকে মিডিয়ার অতিরঞ্জন বা রাজনৈতিক সহিংসতা বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আলী রীয়াজ বর্তমানে ড. ইউনূসের বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি মনে করেন দুই দেশের মধ্যকার এই ফাটল ভুল-বোঝাবুঝির চেয়েও গভীর। দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিরোধগুলো এই ক্ষতিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে আলী রীয়াজ পানি বণ্টনের কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি নদীর পানি নিয়ন্ত্রণ করেন, তবে সম্পর্কটি তাৎক্ষণিকভাবেই অসম হয়ে পড়ে।’

সীমান্ত হত্যা এই ক্ষোভকে আরও তীব্র করেছে। ভারতীয় নীতিনির্ধারকরা বাংলাদেশিদের জীবনকে কীভাবে মূল্যায়ন করে তার মাপকাঠি হিসেবে এটিকে সেখা হয়।

সমালোচকদের মতে, হাসিনার পতনের পর এই ভারসাম্যহীনতা আরও প্রকট হয়েছে। অন্তবর্তী সরকারের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘ভারত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং বর্তমান সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি সুযোগ হারিয়েছে। আমরা বেশ কয়েকবার এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া ছিল কখনও ইতিবাচক ছিল, আবার কখনও নেতিবাচক।’

নির্বাচনি প্রচারণায় ভারতবিদ্বেষী সুর এখন কিছুটা স্তিমিত। কারণ, প্রতিটি রাজনৈতিক দলই জানে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে হবে। তবে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মেরামত দ্রুত বা বাহ্যিক কোনো পরিবর্তনের মাধ্যমে সম্ভব হবে না। শফিকুল আলম বলেন, ‘নির্বাচিত সরকার আসলেই সম্পর্কের পুনর্গঠন সহজ হবে, এমন না। পেছনের সমস্যাগুলো থেকেই যাবে।’

তবে এই ফাটল জোড়া লাগানো অসম্ভব নয় বলে মনে করেন আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় কোনো সম্পর্কই চিরস্থায়ী নয়, এই সম্পর্ক মেরামতের দায়ভার মূলত দিল্লির ওপর এবং এর জন্য তাদেরকে প্রতিবেশী দেশকে নিয়ন্ত্রণ করার অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

বিবিসিতে প্রকাশিত ‘Is Bangladesh's youth turning against India?’ শীর্ষক প্রতিবেদনের অনুবাদ করেছেন মুহাম্মাদ শাখাওয়াত হুসাইন।

মন্তব্য করুন

ইরানের ৩ ট্যাংকার জাহাজ আটক করল ভারত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত ইরানের তিনটি ট্যাংকার জাহাজ আটক করেছে ভারত। চলতি মাসেই এসব ট্যাংকার আটক করা হয়। অবৈধ তেল বাণিজ্য ঠেকাতে নয়াদিল্লি নজরদারি বাড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স। সূত্রটির মতে, ভারত চায় না যে তার সামুদ্রিক অঞ্চল জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের জন্য ব্যবহার হোক। এ ধরনের স্থানান্তরের মাধ্যমে তেলের প্রকৃত উৎস গোপন করা হয়, যা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত একটি পরিচিত কৌশল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির পর এই পদক্ষেপ নিল ভারত।  চলতি মাসের শুরুতে ওয়াশিংটন ঘোষণা দেয়, তারা ভারতীয় পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করবে। এর আগে নয়াদিল্লি রাশিয়ার তেল আমদানি বন্ধে সম্মত হয়েছিল বলে জানানো হয়। আটক জাহাজ তিনটি হলো স্টেলার রুবি, অ্যাসফাল্ট স্টার ও আল জাফজিয়া। সূত্র জানায়, এসব জাহাজ প্রায়ই তাদের পরিচয় বদলায়, যাতে উপকূলীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ফাঁকি দেওয়া যায়। জাহাজগুলোর মালিকরা বিদেশে অবস্থান করছেন বলেও জানা গেছে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া পোস্টে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ভারতের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত করার পর মুম্বাই থেকে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে তিনটি জাহাজ আটক করা হয়েছে। যদিও পোস্টটি পরে মুছে ফেলা হয়, সূত্র নিশ্চিত করেছে যে তদন্তের জন্য জাহাজগুলোকে মুম্বাইয়ে আনা হয়েছে। সূত্র জানায়, ভারতীয় কোস্ট গার্ড এখন সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য প্রায় ৫৫টি জাহাজ ও ১০ থেকে ১২টি বিমান মোতায়েন করেছে। এদিকে, মার্কিন বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ অফিস (ওএফএসি) গত বছর গ্লোবাল পিস, চিল-১ এবং গ্লোরি স্টার-১ নামের জাহাজগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়, যেগুলোর আইএমও নম্বর ভারত কর্তৃক আটক জাহাজগুলোর সঙ্গে মিল রয়েছে। তথ্য সংস্থা লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (এলএসইজি) তথ্য অনুযায়ী, আটক তিন ট্যাংকারের মধ্যে দুটি ইরানের সঙ্গে যুক্ত। আল জাফজিয়া ২০২৫ সালে ইরান থেকে জিবুতিতে জ্বালানি তেল বহন করেছিল এবং স্টেলার রুবি ইরানের পতাকাবাহী ছিল। অ্যাসফাল্ট স্টার মূলত চীনের আশপাশে চলাচল করত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকির কারণে অনুমোদনহীন তেল ও জ্বালানি সাধারণত বড় ছাড়ে বিক্রি করা হয়। এ ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীরা জটিল মালিকানা কাঠামো, ভুয়া নথি এবং সমুদ্রে পণ্য স্থানান্তরের মতো কৌশল ব্যবহার করে, যা আইন প্রয়োগকে আরও কঠিন করে তোলে।
ইরানের ৩ ট্যাংকার জাহাজ আটক করল ভারত
নির্বাচনে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী!
ভোট কেনার জন্য ভোটারদের টাকা দিয়েছিলেন এক প্রার্থী। কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয়নি। শেষমেষ ভোটের যুদ্ধে পরাজিত হয়েছেন। এরপরই ঘটালেন অদ্ভুত কাণ্ড! ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অবৈধভাবে দেওয়া টাকা ফেরত চাইতে শুরু করেছেন। রীতিমতো তালিকা নিয়ে বের হয়েছেন পরাজিত ওই প্রার্থীর স্ত্রী। এ ঘটনায় তোলপাড় পড়েছে নেটদুনিয়ায়। বইছে সমালোচনার ঝড়। ঘটনাটি ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের। জানা যায়, সম্প্রতি রাজ্যের পৌর নির্বাচনে মাঞ্চেরিয়াল মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের ৯ নম্বর ডিভিশন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রার্থী জাদি তিরুপতি। মাত্র ১৬ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন তিনি। অভিযোগ উঠেছে, ফল ঘোষণার পর গভীর হতাশায় পড়েন তিরুপতি ও তার পরিবারের সদস্যরা। যেসব ভোটার টাকার বিনিময়ে তাকে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা ফেরত চাইছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি প্রার্থীর স্ত্রী রূপা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছে সৃষ্টিকর্তার নামে শপথ পাঠ করাচ্ছেন। বলছেন, ‘শপথ করে বলুন ভোট দিয়েছেন কি না’। ভোট না দেওয়ার কথা স্বীকার করলে তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি তিন হাজার রুপি ফেরত নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হতেই সমালোচনার ঝড় শুরু হয়েছে। কারণ নির্বাচনে প্রার্থীদের পক্ষ থেকে ভোটারদের অর্থের প্রলোভন দেখানো নির্বাচনি বিধি ও গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থি। ঘটনাটি তেলেঙ্গানার স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে এবং নির্বাচনি স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। SWEAR ON GOD THAT YOU VOTED… OR PAY BACK! BJP candidate Jadi Tirupati, who lost in Mancherial Municipal Corporation Division 9, in the recently concluded Telangana Municipal polls decided that it is “pay back” time quite literally. His wife Roopa went to every house and… pic.twitter.com/N3Uqgml75D — Revathi (@revathitweets) February 14, 2026 সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া
নির্বাচনে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী!
জম্মু-কাশ্মীরে ৮ হাজার বেনামি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ
জম্মু ও কাশ্মীরে বেনামি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দিয়ে টাকা পাচারচক্রের পর্দা ফাঁস করল ভারতের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা। এই বেনামি অ্যাকাউন্টগুলো আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের অন্যতম ‘অস্ত্র’ বলে জানা গেছে। মূলত সাইবার প্রতারণার কাজে এই অ্যাকাউন্টগুলো ব্যবহার করা হচ্ছিল। তবে বিভিন্ন সন্ত্রাসীগোষ্ঠী রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে আর্থিক মদদ দেওয়ার জন্যও এই অ্যাকাউন্টগুলো ব্যবহার করতে পারে বরৈ আশঙ্কা করা হচ্ছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত তিন বছরে জম্মু ও কাশ্মীরে এমন আট হাজার বেনামি অ্যাকাউন্টের সন্ধান পেয়েছেন কর্মকর্তারা। ইতোমধ্যেই এসব অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের বরাতে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, এই বেনামি অ্যাকাউন্টগুলো সাইবার প্রতারণার জগতে ‘সবচেয়ে দুর্বল, কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লিংক’। কারণ এই অ্যাকাউন্টগুলোর সাহায্য না নিয়ে অপরাধের অর্থকে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বদলে ফেলা প্রায় অসম্ভব। এই ধরনের বেনামি ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোকে বলা হয় ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’। সাইবার প্রতারকরা সাধারণত নিজেদের নামে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন না। তারা অন্য কোনও তৃতীয় ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অপরাধের টাকা বিভিন্ন জায়গায় সরান। ধরা পড়ার ঝুঁকি এড়াতেই এই বেনামি অ্যাকাউন্টগুলো ব্যবহার করেন তারা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তিকে কিছু সুবিধা বা কমিশনের প্রলোভন দিয়ে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টকে এই অপরাধের কাজে ব্যবহার করেন প্রতারকেরা। জানা গেছে, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং অন্য বাহিনীগুলোকে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা। বেনামি অ্যাকাউন্টের বৃদ্ধি আটকাতে ও যাদের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করার জন্য ব্যাংকগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে জম্মু ও কাশ্মীরে বেআইনি আর্থিক লেনদেন রুখতে ব্যাপক অভিযান শুরু করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। তার ফলে হাওয়ালার মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন অনেকটাই আটকানো গেছে। তবে কর্মকর্তাদের শঙ্কা, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে ‘ডিজিটাল হাওয়ালা’র মতো কোনও নতুন মডেল চালু হয়ে থাকতে পারে।
জম্মু-কাশ্মীরে ৮ হাজার বেনামি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ
তারেক রহমানের শপথে আসছেন না মোদি, পাঠাচ্ছেন প্রতিনিধি
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি। নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। এতে অংশ নিতে প্রতিবেশী ভারতকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাংলাদেশ। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন না ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতের পক্ষ থেকে কে কে উপস্থিত থাকবেন তা জানিয়েছে নয়াদিল্লি। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষ থেকে অংশ নেবেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তার সঙ্গে যোগ দিতে পারেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বিড়লার অংশগ্রহণ ভারত ও বাংলাদেশের গভীর এবং স্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধায় আবদ্ধ প্রতিবেশী হিসেবে ভারত বাংলাদেশের তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি নির্বাচিত সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানায়, যার দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ জনগণের ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে।’ বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-কে রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানোর পর এই অগ্রগতি ঘটে। বিএনপি জানিয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য অনুষ্ঠানে অঞ্চলের আরও কয়েকজন নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আমন্ত্রিত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন, সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান। সূত্র: ইন্ডিয়া টিভি
তারেক রহমানের শপথে আসছেন না মোদি, পাঠাচ্ছেন প্রতিনিধি
বিবিসির প্রতিবেদন  / বিএনপি নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কেমন হবে?
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভূমিধস জয় শুধু একটি সরকার পরিবর্তনের ঘটনা নয়, এটি দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক সমীকরণে এক নতুন তাৎপর্যপূর্ণ মোড়। ঢাকার শাসন বদলালে নয়াদিল্লির নীতিও কি বদলাবে, নাকি অতীতের অবিশ্বাসই আবার ভবিষ্যতের রূপরেখা আঁকবে—এই প্রশ্ন এখন দুই দেশের নীতিনির্ধারক মহল থেকে সাধারণ নাগরিক পর্যন্ত সবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। নির্বাচন-পরবর্তী প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায়, এটি কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক রদবদল নয়; বরং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ভারতের প্রতিক্রিয়ায় সেই সতর্ক আশাবাদের ছাপই দেখা যায়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলায় দেওয়া অভিনন্দন বার্তা ছিল উষ্ণ, কিন্তু হিসেবি ‘গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকারের পাশাপাশি তিনি ‘বহুমাত্রিক সম্পর্ক’ জোরদারের ইঙ্গিত দেন। শব্দচয়ন ছিল কূটনৈতিকভাবে নিখুঁত: একদিকে নতুন সরকারের প্রতি স্বীকৃতি, অন্যদিকে অতীতের টানাপোড়েনকে সরাসরি স্পর্শ না করে ভবিষ্যতের দরজা খোলা রাখার কৌশল। এই ভাষাই বলে দেয়—দিল্লি এগোতে চায়, তবে সাবধানে। অবিশ্বাসের পটভূমি ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র নেতৃত্বাধীন গণ-আন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগ এবং ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক শীতল হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়াও সেই দূরত্বকে আরও বাড়িয়েছে। বাংলাদেশের অনেক নাগরিকের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে দিল্লি দীর্ঘদিন ধরে শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনকে সমর্থন করেছে। এই অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, পানিবণ্টন বিরোধ, বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের মতো পুরোনো অসন্তোষ। এরই ধারাবাহিকতায় ভিসা পরিষেবা প্রায় স্থগিত, সীমান্তবর্তী ট্রেন ও বাস যোগাযোগ বন্ধ, এমনকি ঢাকা-দিল্লি বিমান চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ভারতের জন্য এখন মূল প্রশ্ন—বিএনপি সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা হবে কি না তা নয়, বরং কীভাবে রাখা হবে। একদিকে তাদের নিরাপত্তাসংক্রান্ত ‘রেড লাইন’ যেমন বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপ বা উগ্রপন্থা রোধ করা জরুরি, অন্যদিকে বাংলাদেশকে ঘিরে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বক্তব্যের তীব্রতা কমানোও কৌশলগত প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি ও ভারতের জটিল ইতিহাস ভারতের কাছে বিএনপি অপরিচিত শক্তি নয়। ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পরপরই দুই দেশের সম্পর্ক দ্রুত শীতল হয়ে পড়ে। সে সময় ভারত উদ্বিগ্ন ছিল দুটি বিষয়ে—উত্তর-পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সম্ভাব্য সহায়তা এবং বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা। ২০০৪ সালে চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র জব্দের ঘটনা, যা ভারতের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর জন্য নির্ধারিত ছিল বলে অভিযোগ ওঠে, দিল্লির সন্দেহ আরও গভীর করে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও সম্পর্ক খুব একটা অগ্রসর হয়নি; টাটা গ্রুপের ৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা গ্যাসের মূল্য–বিতর্কে ভেস্তে যায়। এই অভিজ্ঞতা ভারতের নীতিনির্ধারকদের মনে বিএনপির প্রতি একটি দীর্ঘস্থায়ী সংশয় তৈরি করে, যার প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার আমলে দিল্লি উল্লেখযোগ্যভাবে ঢাকার দিকে ঝুঁকে পড়ে। শেখ হাসিনা–পর্ব: নিরাপত্তা বনাম রাজনৈতিক মূল্য শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে ভারত যে বিষয়গুলোকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে—সীমান্ত নিরাপত্তা সহযোগিতা, বিচ্ছিন্নতাবাদ দমন, যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, সেগুলোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়। তবে এই ঘনিষ্ঠতা রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশের ভেতরে বিতর্কিত ছিল। বর্তমানে শেখ হাসিনা দিল্লিতে নির্বাসনে আছেন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণহত্যার সহিংসতার অভিযোগে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত। তাকে প্রত্যর্পণে ভারতের অনীহা নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে একটি বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াতে পারে। পাকিস্তান ফ্যাক্টর: ভারসাম্যের পরীক্ষা বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সামনে আরেকটি সূক্ষ্ম ভারসাম্যের প্রশ্ন হলো পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক। শেখ হাসিনার পতনের পর ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্ক দ্রুত উষ্ণ হয়েছে—সরাসরি ফ্লাইট চালু, মন্ত্রী পর্যায়ের সফর, সামরিক সংলাপ এবং বাণিজ্য বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপে তা স্পষ্ট। ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্যা পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নয়, বরং সম্পর্কের ভারসাম্যহীনতা। নীতিনির্ধারকদের আশঙ্কা, যদি ঢাকার কূটনৈতিক ঝোঁক হঠাৎ করেই ইসলামাবাদের দিকে অতিরিক্তভাবে সরে যায়, তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত সমীকরণে নতুন উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও জনমত দুই দেশের সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো জনমত ও রাজনৈতিক বক্তব্য। ভারতীয় টেলিভিশন ও রাজনীতিকদের কিছু মন্তব্য বাংলাদেশে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। একইভাবে বাংলাদেশেও ভারতবিরোধী আবেগ রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে—জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে প্রতিবেশী কূটনীতিতে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ সামাল দেওয়া। নিরাপত্তা সহযোগিতা: সম্পর্কের ভিত্তি সব টানাপোড়েনের মধ্যেও নিরাপত্তা সহযোগিতা দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে স্থিতিশীল স্তম্ভ হিসেবে রয়ে গেছে। যৌথ সামরিক মহড়া, নৌ টহল, প্রতিরক্ষা সংলাপ এবং প্রতিরক্ষা ক্রয়ের জন্য ভারতের ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণসুবিধা—এসবই প্রমাণ করে যে কৌশলগত বাস্তবতায় দুই দেশ এখনও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি সরকার এই সহযোগিতা হঠাৎ করে প্রত্যাহার করবে—এমন সম্ভাবনা কম। অর্থনীতি ও ভূগোল: অবিচ্ছেদ্য বাস্তবতা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের একটি অবিচ্ছেদ্য দিক হলো ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা। ৪ হাজার ০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত, গভীর সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং বাণিজ্যিক নির্ভরশীলতা—এসবই সম্পর্ককে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথ থেকে দূরে রাখে। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার, আর ভারত এশিয়ায় বাংলাদেশের অন্যতম বড় রপ্তানি বাজার। এই বাস্তবতায় দীর্ঘস্থায়ী বৈরিতা উভয় পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর। কে এগিয়ে আসবে প্রথম? বর্তমান প্রেক্ষাপটে সম্পর্ক পুনর্গঠনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তারেক রহমান ইতোমধ্যে ‘বাংলাদেশ সবার আগে’—এই বার্তা দিয়ে কূটনৈতিক স্বাধীনতার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে দিল্লিও বাস্তববাদী যোগাযোগের দিকে ঝুঁকছে। তবে চূড়ান্ত প্রশ্ন রয়ে যায়—প্রথম পদক্ষেপ নেবে কে? অনেক বিশ্লেষকের মতে, বৃহত্তর শক্তি হিসেবে ভারতেরই উদ্যোগী হওয়া উচিত। আত্মবিশ্বাসী কূটনীতি, পারস্পরিক সম্মান এবং বাস্তববাদী সহযোগিতা—এই তিনটি উপাদানই নির্ধারণ করবে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের রূপরেখা। অতীতের অবিশ্বাস পুরোপুরি মুছে ফেলা কঠিন হলেও বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা ইঙ্গিত দিচ্ছে—একটি নতুন অধ্যায়ের সম্ভাবনা এখনও খোলা আছে। সম্পর্কের পুনঃসূচনা নির্ভর করবে কেবল কথার ওপর নয়, বরং পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে গৃহীত বাস্তব পদক্ষেপের ওপর।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কেমন হবে?
তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেলেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা আমন্ত্রণ পেয়েছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এ সংবাদ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ১৩টি দেশের সরকারপ্রধানদের শপথ অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্কের বেশিরভাগ সদস্য রাষ্ট্রের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় রয়েছে ভারত, চীন, সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ এবং ভুটান।  তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের নেতারা, বিশেষ করে এশিয়ার আঞ্চলিক শক্তিগুলো এবার ঢাকায় একত্রিত হচ্ছে। এ কারণে ১৭ ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানটি এখন কেবল একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়। এর মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্ব কীভাবে নিজেদের অবস্থান নির্ধারণ করে তার একটি প্রাথমিক পরীক্ষা হয়ে যাবে।  এনডিটিভির সঙ্গে কথা বলার সময় বিএনপির একজন মুখপাত্র ১৭ ফেব্রুয়ারিকে `বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের মাধ্যমে বিএনপি একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করবে। এ বিষয়ে হিন্দুস্তান টাইমসকে তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। তারা কোনো একক দেশকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতি চালু করবে না।
তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেলেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা
তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে মোদির যোগদানের সম্ভাবনা কম
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যোগদানের সম্ভাবনা কম। ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এ সংবাদ প্রকাশ করেছে।  পিটিআই শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে সফররত ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে মোদির দ্বিপাক্ষিক আলোচনার কথা রয়েছে। তবে ভারত তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাকে পাঠাতে পারে।   ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ভারতীয় পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করবেন একজন ঊর্ধ্বতন নেতা, তিনি সম্ভবত দেশটির উপরাষ্ট্রপতি অথবা পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে ভারত চায় না যে বাংলাদেশ অতি দ্রুত সম্পর্ক পুনর্স্থাপন করুক। এ ক্ষেত্রে তারা কিছুটা সময় নিতে চায়। তবে সুসম্পর্ক স্থাপনে দু’দেশই আগ্রহী।  সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আসতে পারেন। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্কের বেশিরভাগ সদস্য রাষ্ট্রের নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এ ছাড়া চীন, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মতো কিছু বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানদের এ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে দেখা যেতে পারে। শনিবার এ বিষয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্র নীতিতে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। তারা কোনো একক দেশকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতি চালু করবে না।
তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে মোদির যোগদানের সম্ভাবনা কম
১৫ বছরে ১৬ চুরি, নিশানা শুধু পুলিশের বাড়ি
টানা একাধিক চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন এক ব্যক্তি। অভিযোগ অনুযায়ী যিনি গত ১৫ বছর ধরে শুধু পুলিশ সদস্যদের বাড়িকেই নিশানা বানিয়ে করছিলেন চুরি। পুলিশ বলছে, ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকেই তিনি এ পথ বেছে নেন। মধ্যপ্রদেশের খণ্ডওয়া জেলার পুলিশ জানায়, আলিরাজপুরের বাসিন্দা দীপেশকে সাম্প্রতিক এক চুরির ঘটনার গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২০ জানুয়ারি খণ্ডওয়ার পুলিশ লাইনে কনস্টেবল করণপাল সিং ও সুরেশ খাটের বাড়িতে চুরি হয়। কয়েক লাখ টাকার গয়না ও নগদ অর্থ চুরি যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ৩০ হাজার রুপি ও কিছু গয়না উদ্ধার করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ঝাবুয়া, আলিরাজপুর ও ধার জেলায় অভিযান চালানো হয়। পুলিশ জানায়, ধরা এড়াতে অভিযুক্ত ঘন ঘন জায়গা পরিবর্তন করছিলেন তিনি। প্রযুক্তিগত নজরদারি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, তিনি বুরহানপুরের দিকে যাচ্ছেন। তাকে আটক করতে গেলে তিনি একটি বাড়ির ছাদ থেকে লাফিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এতে তার হাত ও পায়ে চোট লাগে। চিকিৎসার পর তাকে খণ্ডওয়ার আদালতে তোলা হলে বিচারিক হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। খণ্ডওয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহেন্দ্র তারনেকর এই গ্রেপ্তারকে বড় সাফল্য বলে উল্লেখ করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত আরও কয়েকটি চুরির কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের। স্টেশন হাউস অফিসার প্রবীন আর্যা জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে আলিরাজপুরে এক পুলিশ সদস্যের হাতে মারধরের শিকার হওয়ার পর থেকেই তিনি প্রতিশোধ নিতে পুলিশ কর্মীদের বাড়ি টার্গেট করতেন। তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, অভিযুক্ত চুরির আগে ফেরিওয়ালার ছদ্মবেশে পুলিশ লাইনের আশপাশে ঘোরাফেরা করে বাড়িগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতেন। এরপর রাতে সুযোগ বুঝে চুরি করতেন। এই ঘটনায় রমেশ ও ভুরালিয়া নামে দুই সহযোগীর খোঁজে তল্লাশি চলছে। পুলিশের দাবি, বিভিন্ন জেলায় অন্তত ১৬টি চুরির সঙ্গে তার যোগ থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি’র প্রতিবেদন।
১৫ বছরে ১৬ চুরি, নিশানা শুধু পুলিশের বাড়ি
টাইমের বিশেষ প্রতিবেদন / দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্বে তারেক রহমান কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবেন?
সতেরো বছর নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর গত বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান। ফিরে আসার সাত সপ্তাহ পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন। এখন বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী ‘টাইম’ তারেক রহমানকে নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, তার এই উত্থান বাংলাদেশ, দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্বরাজনীতিতে কীরূপ প্রভাব ফেলবে? সাময়িকীটি নিবন্ধে বলছে, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, তারেকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। গত জানুয়ারির শুরুতে টাইম ম্যাগাজিন তারেক রহমানের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছিল। সে সময় তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে নতুন করে গড়ে তোলা এবং সমাজে সৃষ্টি হওয়া বিভাজন দূর করার পরিকল্পনা তুলে ধরেছিলেন। টাইম তাকে প্রশ্ন করেছিল কী কী বিষয় অগ্রাধিকারপাবে? তিনি বলেছেন, ‘প্রথমত, আইনের শাসন নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। তৃতীয়ত, দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করা।' তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যে রাজনৈতিক কর্মসূচিই দিই না কেন, দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারলে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।’ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টাইমের বিশেষ সাক্ষাৎকার থেকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হলো—   জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা ২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হন। এ ছাড়া শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জনকে বিচারবহির্ভূতভাবে গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ক্ষত এখনো তাজা। হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার সেনাবাহিনী, আদালত, প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করেছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠন বড় চ্যালেঞ্জ হবে। ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষকে ঐক্যের বার্তা এবং প্রতিশোধ না নেওয়ার অঙ্গীকার করে আসছেন। নিজের এই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে এবং দেশে শান্তি বজায় রাখতে তাকে এখন নিরলসভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘প্রতিশোধ কিছুই ফিরিয়ে আনবে না। বরং যদি আমরা এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারি, তাহলে ভালো কিছু অর্জন করা সম্ভব।’ অর্থনীতির পুনর্গঠন হাসিনার শাসনক্ষমতার শেষ সময়ে বাংলাদেশ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতির একটি দেশ ছিল। ২০০৬ সালের ৭১ বিলিয়ন ডলার জিডিপি থেকে ২০২২ সালে ৪৬০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। তবে মূল্যস্ফীতি, বৈষম্য ও যুব বেকারত্ব বৃদ্ধির ফলে ক্ষোভ বাড়ে। বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও দুর্বল টাকা সাধারণ মানুষের বাস্তব আয় কমিয়ে দিচ্ছে। প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে, অথচ তরুণদের ১৩ দশমিক ৫ শতাংশই বেকার। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ায় আমদানি সীমিত হয়েছে, যা জ্বালানি সরবরাহ ও উৎপাদন খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। চার কোটির বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যে বাস করছে। বিএনপির একটি প্রধান প্রতিশ্রুতি হলো ‘ফ্যামিলি কার্ডের’ মাধ্যমে নারী ও বেকারদের মাসিক নগদ সহায়তা প্রদান। তবে এর অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তারেক রহমান ডিজিটাল অর্থনীতিতে তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করতে সংযোগ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাত উদারীকরণ এবং প্রবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের কথাও বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের ভাষা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতায় প্রশিক্ষণ দিতে পারি।’ ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির কারণে আঞ্চলিক শক্তি ভারত এবং প্রধান রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন অগ্রাধিকার পাবে। হাসিনার পতনের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়। তিস্তা নদীর পানিবণ্টনসহ বেশ কিছু বিষয়ে মতবিরোধ রয়েছে। বিএনপি ১৯৯৭ সালের জাতিসংঘ পানি কনভেনশনে স্বাক্ষরের কথা বলেছে, যাতে ‘ন্যায্য পানির প্রাপ্যতা’ নিশ্চিত করা যায়। তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা অবশ্যই প্রতিবেশী। তবে বাংলাদেশের স্বার্থই আগে।’ অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনও অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলেও আলোচনা সাপেক্ষে তা ১৯ শতাংশে নামানো হয়েছে। মার্কিন পণ্য আমদানির সুযোগ বাড়ানো এবং মার্কিন তুলা ব্যবহার করা তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তারেক রহমান বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আরও শুল্ক সুবিধা আদায়ের সম্ভাবনার কথাও বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা একে অপরকে সহায়তা করতে পারি।’ ইসলামপন্থার উত্থান নির্বাচনে বিএনপি ছাড়াও প্রধান সুবিধাভোগী হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। যাদের ওপর হাসিনা আমলের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। দলটি শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রাখলেও সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের ভাবমূর্তি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। খুব শীতে পিঠ ব্যথা করে, কারাগারে নির্যাতনের ফল: তারেক রহমানখুব শীতে পিঠ ব্যথা করে, কারাগারে নির্যাতনের ফল: তারেক রহমান তবে সমালোচকদের মতে, দলটির অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নারীর অধিকার নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। যদিও বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে, তবুও জামায়াত গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে থাকবে। তারেক রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সব দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে আমরা ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় না ফিরি।’ ছাত্র আন্দোলনের ভবিষ্যৎ হাসিনার পতন ঘটানো আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল ছাত্রদের হাত ধরে। পরবর্তী সময় তা ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। তবে নির্বাচনে ঐতিহ্যবাহী দলগুলোর আধিপত্যে অনেক তরুণ হতাশ। প্রাক্তন ছাত্রনেত্রী তাসনিম জারা বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি নতুন রাজনৈতিক বিকল্পের সম্ভাবনা আছে, তবে তা রাতারাতি আসবে না। স্থানীয় পর্যায়ে সৎ ও নীতিবান নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে।’ এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেছেন, ‘যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমাদের বড় দায়িত্ব রয়েছে।’
দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্বে তারেক রহমান কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবেন?