সবমিলিয়ে সংসার ছিল মাত্র ৬৫ দিনের। কিন্তু সেই স্বল্প দাম্পত্য জীবনের রেশ টেনে ১৩ বছর ধরে চলছে আইনি যুদ্ধ। একে অপরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতে করা হয়েছে মোট ৪০টি মামলা। অবশেষে সেই দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদের নির্দেশ দিয়ে স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
ব্যক্তিগত আক্রোশ ও রাগ মেটাতে আইনকে ব্যবহার করার প্রবণতাকে তীব্র ভাষায় নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। স্বামী ও স্ত্রী— দুজনকেই ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে একে অপরের বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা করতে না পারার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারপতি রাজেশ বিন্দল ও বিচারপতি মনমোহনের ডিভিশন বেঞ্চ রায়ে উল্লেখ করেন, এই মামলাগুলোর পেছনে কোনো বাস্তব আইনি উদ্দেশ্য নয়, বরং ছিল ব্যক্তিগত আক্রোশ ও প্রতিহিংসা।
রায়ে বিচারপতিরা বলেন, ওই দম্পতি মাত্র ৬৫ দিন একসঙ্গে ছিলেন। অথচ গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজেদের ক্ষোভ মেটাতে একে অপরের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মামলা করেছেন। আদালতের মতে, এ ধরনের আচরণ বিচারব্যবস্থার অপব্যবহার, তাই উভয়েরই জরিমানা হওয়া উচিত।
পর্যবেক্ষণে সুপ্রিম কোর্ট আরও জানান, ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে আদালতকে এভাবে ব্যবহার করা যায় না। এমনিতেই বিচারব্যবস্থার ওপর বিপুল মামলার চাপ রয়েছে। সেখানে এ ধরনের অপ্রয়োজনীয় ও বিদ্বেষমূলক মামলা বিচার নিষ্পত্তিকে আরও জটিল ও দীর্ঘ করে তোলে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে ওই দম্পতির বিয়ে হয়। বিয়ের মাত্র ৬৫ দিনের মাথায় স্বামী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে স্ত্রী বাপের বাড়ি ফিরে যান। এরপর থেকে তারা আলাদা থাকলেও আইনি লড়াই থামেনি। বছরের পর বছর ধরে একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে গেছেন দুজনই।
সুপ্রিম কোর্ট স্বামী ও স্ত্রী— দুজনকেই ১০ হাজার টাকা করে প্রতীকী জরিমানা করেন। ওই অর্থ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেটস অন রেকর্ডস অ্যাসোসিয়েশনে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে সংবিধানের ১৪২ নম্বর ধারায় প্রদত্ত বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে আদালত তাদের বিবাহবিচ্ছেদের নির্দেশ দেন। বিচারপতিরা বলেন, সম্পর্ক যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, সেখানে একসঙ্গে সংসার করার কোনো বাস্তব সম্ভাবনাই নেই।
রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে সুপ্রিম কোর্টে বিবাহবিচ্ছেদ ও বৈবাহিক অশান্তি সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আদালতের মতে, বৈবাহিক সম্পর্কে একবার ফৌজদারি মামলা দায়ের হলে সেই সম্পর্ক টিকে থাকার সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে যায়। তাই সম্পর্কের শুরুতেই ফাটল ধরলে আদালতে যাওয়ার আগে স্বামী-স্ত্রীকে বোঝাপড়া ও সমঝোতার পথে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিচারপতিরা।
মন্তব্য করুন








