সকাল মানেই ব্যস্ততা। অফিসে পৌঁছানোর তাড়া, বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানো, বাস বা যানবাহন ধরার চাপ- এই দৌড়ঝাঁপের মধ্যে অনেকের দিন শুরু হয় শুধু এক কাপ চা বা কফি দিয়ে। আবার কেউ কেউ ওজন কমানোর আশায় ইচ্ছাকৃতভাবেই নাশতা এড়িয়ে যান। তবে এই অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, যা অনেক সময় চোখে পড়ে না। পুষ্টিবিদদের মতে, সকালের নাশতা শুধু একটি খাবার নয়; এটি সারাদিনের শরীর ও মনের জ্বালানি। ইটিং ওয়েলে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পুষ্টিবিদ চার্লি রিফকিন জানান, নিয়মিত নাশতা না করলে শরীর ও মনে একাধিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।
সারাদিন ক্লান্তি ও মনোযোগের অভাব
সকালে খাবার না খেলে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি পায় না। এর ফলে অফিসের কাজ বা দৈনন্দিন কাজে মনোযোগ কমে যায়, দ্রুত ক্লান্তি অনুভূত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের তিন বেলার খাবারের মধ্যে সকালের নাশতাই হওয়া উচিত তুলনামূলকভাবে পুষ্টিকর। এতে শরীর সারাদিন কাজ করার শক্তি পায় এবং ঝিমুনি কমে।
মেজাজ খিটখিটে হয়ে ওঠা
খালি পেটে থাকলে শুধু শরীর নয়, মস্তিষ্কও প্রভাবিত হয়। এতে রাগ বাড়ে, মন খারাপ লাগে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও কমে যায়। নিয়মিত নাশতা করলে মস্তিষ্কে ‘সুখী হরমোন’ সেরোটোনিনের নিঃসরণ বাড়ে, যা মেজাজ ভালো রাখতে সহায়তা করে।
বারবার ক্ষুধা লাগা
অনেকে মনে করেন, নাশতা বাদ দিলে সারাদিন কম খাওয়া সম্ভব। বাস্তবে ঘটে ঠিক উল্টোটা। সকালে কিছু না খেলে শরীর দ্রুত শক্তির উৎস খুঁজতে শুরু করে। ফলে ভাজাপোড়া, ফাস্টফুড বা অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবারের প্রতি ঝোঁক বাড়ে। এতে ওজন বাড়ার পাশাপাশি শরীরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা
সকালে শরীরে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে। নাশতা না করলে এই হরমোনের মাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এর ফলে মানসিক চাপ, ঘুমের সমস্যা ও বিপাকক্রিয়ায় (মেটাবলিজম) গোলযোগ দেখা দিতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, সকালের নাশতায় পর্যাপ্ত প্রোটিন থাকলে কর্টিসলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়া
নিয়মিত নাশতা শরীরের কোষ ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে সচল ও শক্তিশালী রাখে। নাশতা বাদ দিলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। ফলে ভাইরাস সংক্রমণ বা অন্যান্য অসুখে সহজেই আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ব্যস্ত সকাল থাকতেই পারে। তবে তাই বলে শরীরের প্রয়োজন উপেক্ষা করা ঠিক নয়। সময় কম হলে ফল, ডিম, ওটস, দই কিংবা বাদামের মতো সহজ ও পুষ্টিকর খাবার দিয়ে দিন শুরু করা যেতে পারে।
মন্তব্য করুন








